banglanewspaper

চতুর্থ প্রজন্মের মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ফোর জিকে ছাপিয়ে ফাইভ জি আসছে। প্রযুক্তিসমৃদ্ধ উন্নত দেশগুলোতে ফাইভ জি নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে চীন। দেশটির সরকার ফাইভ জির রূপরেখা ইতিমধ্যে তৈরি করেছে। ২০২০ সালে ফাইভ জি চালুর ঘোষণাও দিয়েছে। এদিকে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান প্রথম ফাইভ জি ফোন বাজারে আনার তোড়জোড় শুরু করেছে।

ফাইভ জির ছোঁয়া বাংলাদেশেও

এদিকে বাংলাদেশেও ফাইভ জি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরুর কাজ চলছে। সম্প্রতি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে ফাইভ জি নিয়ে কাজ শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ নিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত রূপকল্প ভিশন ২১ উদযাপন করব। দেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ওই দিনে আমরা বাংলাদেশে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক বাস্তবায়ন চাই। এজন্য বিটিআরসির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের প্রচলিত, টু জি, থ্রি জি এবং ফোর জির গতি ক্যাবল মাধ্যমে সরবরাহকৃত ইন্টারনেটের গতির চেয়ে কম। আমরা আশা করছি ফাইভ জি আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে।’ 

মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে উপলব্ধি করতে পেরেছি আমাদের ফোর জিতে ৫ থেকে ৭ মেগাবাইট গতি দিতে পারে। কিন্তু আমরা বার্সেলোনায় গিয়ে জেনেছি ফাইভ জি ৩.০৭ জিবিপিএস গতি দিতে সক্ষম। ভাবতে পারেন এই গতিতে যদি দেশজুড়ে আমরা মোবাইল ব্রডব্যান্ড পৌঁছাতে পারি তবে আমাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণার রূপান্তর ঘটবে।

বিশ্বের প্রথম ফাইভ জি চালু হবে চীনে
পঞ্চম প্রজন্মের টেলিকম পরিষেবা (ফাইভ জি) নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিস্তর গবেষণা চালাচ্ছে। এর মধ্যে এগিয়ে আছে চীন। ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বের প্রথম ফাইভ জি চালু হবে চীনে। এজন্য প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দেশটির সরকার। চীন সরকার আশা করছে ২০২০ সালের শুরুতে সে দেশে এটি চালু হবে। শুরুতেই ৪৩ কোটি জনগণকে ফাইভ জির আওতায় আনা হবে, যা সারা বিশ্বের ফাইভ জি সংযোগের এক-তৃতীয়াংশ।

গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ) এবং গ্লোবাল টিডি-এলটিই ইনিশিয়েটিভ (জিটিআই)-এর এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের তিনটি মোবাইল পরিষেবা সংস্থানই ফাইভ জি নেটওয়ার্কের পরীক্ষা চালাচ্ছে। কয়েক বছরের এই পরিকল্পনায় রয়েছে ফাইভ জি প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন এবং নেটওয়ার্কের কৌশল বের করা হবে। এর মাধ্যমে ২০২০ সালের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বড় পরিসরে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে চীনের।

চীনের সাংহাইতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেসে ফাইভ জি প্রযুক্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেস স্টেশনের ভিত্তিতে চীনের প্রাক-বাণিজ্যিক এবং বাণিজ্যিক উন্মোচন হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্মোচনের ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি। 

এ নিয়ে জিএসএমএ-এর অন্যতম কর্মকর্তা গ্র্যানরিড বলেন, ফাইভ জি প্রযুক্তিতে চীন নেতৃস্থানীয় পর্যায়ে থাকার পেছনে রয়েছে দ্রুত পরিকাঠামোগত পরিবর্তন আনতে তাদের সক্রিয় সরকারের উদ্যোগ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান এবং যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বেশ কয়েকটি উন্নত দেশ ফাইভ জি প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করে এগিয়ে আছে। তারাও আশা করছে ২০২০ সাল নাগাদ ফাইভ জি চালু করার।

 

ট্যাগ: bdnewshour24 ফাইভ জি