banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকারকে মরধরের অভিযোগ উঠেছে সভাপতি পদ প্রত্যাশী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালীর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনাটি শনিবার বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঘটে। অপরদিকে এঘটনার পরের দিন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে মাদক আসক্ত ও দুর্নীতিবাজ অ্যাখায়িত করে তার অপসারণ দাবী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়,জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থবার এডহক কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে সভাপতি পদের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু গত ১লা জুন উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক শহীদুল হক বাচ্চুকে এবং ২৪ জুন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালীকে ডিও লেটার দেন।

ডিও লেটার পেয়ে তপন চন্দ্র সরকার কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করেন এবং ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিবাবক প্রতিনিধি সদস্য ব্যক্তিদের মনোনীত করা হয়েছে। এখন শুধু সভাপতি পদে ৩ জনের নাম প্রস্তাব করে শিক্ষা বোর্ডে পাঠানোর পালা। এর মধ্যে দুই পক্ষে ডিও লেটার থাকায় প্রধান শিক্ষকে ওপর উভয় পক্ষই ১নং তালিকায় তাদের নাম দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। গত ৭ জুলাই শনিবার আব্দুস সালাম বাঙ্গালী লোকজন নিয়ে স্কুলে গিয়ে তর্কে জড়িয়ে প্রধান শিক্ষকে মারধর করে এবং খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয়।

অপরদিকে এঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা প্রতিবাদ না করে উল্টো ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকে মাদক আসক্ত ও দুর্নীতিবাজ অ্যাখায়িত করে তার অপসারণ দাবী করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করায় অভিবাবক ও সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাছির উদ্দিন বলেন,সালাম বাঙ্গালী সাহেব লোকজন নিয়ে স্কুলে আসলে প্রধান শিক্ষক তাদের সাথে বারান্দায় বসে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে সবাই অফিস কক্ষে যান এবং কিছুক্ষণ পর সবাই বের হয়ে চলে যান। তাকে যে মারধর করেছে বিষয়টি ওই সময়ে স্ট্যাফের কাউকে জানায়নি প্রধান শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তাদের আনীত অভিযোগের বিষয়টিও অপকটে স্বীকার করেছেন তিনি।

জয়কা সাতাশি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তপন চন্দ্র সরকার বলেন, ‘সভাপতি পদ প্রত্যাশী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বাঙ্গালী লোকজন নিয়ে বিদ্যালয় এলে তাদেরকে নিয়ে স্কুলগৃহের বারান্দায় বসে কথা বলতে থাকি এক পর্যায়ে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে অফিস কক্ষের ভিতরে নিয়ে রুমে দরজা বন্ধ করে মারধর করে খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় তারা।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমের মুটোফোনে বার বার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এসব অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সালাম বাঙ্গালীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 কেন্দুয়া