banglanewspaper

চা আর কফি- সারাবিশ্বে বহুল জনপ্রিয় দুটি পানীয়। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই যে কোনো একটি ছাড়া দিনটিই যেন ঠিকমতো শুরু হয় না। শরীর চাঙা করতে এদুটির জুড়ি না থাকলেও উভয় পানীয়েরই ভালো খারাপ দিক রয়েছে।

কফি বাদ দিয়ে চা খাওয়া শুরু করলে কী ঘটতে পারে- রিডার্স ডাইজেস্ট এ রকম ১১টি বিষয় তুলে ধরেছে।

দাঁত হতে পারে উজ্জ্বল

কফি পানের একটা খারাপ দিক হল এতে দাঁতে দাগ হয়। তাই চা খাওয়া শুরু করলে দাঁত আরও উজ্জ্বল হয়ে একজন ব্যক্তি হতে পারেন সুন্দর হাসির অধিকারী। বিশেষ করে যদি তা হয় গ্রিন টি।

একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকসের মুখপাত্র সোনিয়া অ্যাঞ্জেলোন বলেন, “চা খাওয়া শুরু করলে দাঁতে আর আগের মতো দাগ পড়বে না। যদিও লোকজন এ বিষয়টি নিয়ে তেমন চিন্তা করে না।”

কমতে পারে কোলস্টেরল

পরিশোধিত কফিতে ক্যাফেস্টল ও কাহওয়েল নামক উপাদান না থাকলেও এসপ্রেসো বা ফ্রেন্স প্রেসড কফির মতো অপরিশোধিত কফিতে তা থেকেই যায়। এ দুটি উপাদান রক্তে কোলস্টেরল এলডিএল লেভেল বাড়াতে পারে। আর এতে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই কফি বাদ দিয়ে চা খাওয়া শুরু করলে রক্তের কোলস্টেরলের মাত্রার উন্নতি ঘটতে পারে।

হতে পারে মাথাব্যথা

কফি বাদ দিয়ে চা খাওয়া শুরু করলে প্রাথমিক অবস্থায় মাথাব্যথার মতো বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অ্যাঞ্জেলোন বলেন, “বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এটা ঘটতে পারে।”

তবে পরিবর্তনের সাথে শরীর মানিয়ে নেওয়া শুরু করলে ধীরে ধীরে এ উপসর্গগুলো চলে যায়।

কমতে পারে বুক জ্বালাপোড়া

কফি পানে অন্ননালী ও পাকস্থলির মাঝের পেশিগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। আর তখন পাকস্থলি থেকে এসিড বেরিয়ে পড়ায় অস্বস্তির সুষ্টি হয়।

অ্যাঞ্জেলোন বলেন, “চায়ে খুব অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন থাকলেও চা পানে স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। কফিতে এমন কিছু আছে যার জন্য অনেকেরই বুক জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে।”

তাই কখনই খালি পেটে কফি খাওয়া উচিত নয়।

ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে কম

চায়ের চেয়ে কফিতে ক্যাফেইন বেশি থাকায় কফি পানে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। অ্যাঞ্জেলোন বলেন, “কম ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের উন্নতি ঘটতে পারে। কারণ ক্যাফেইনের কারণে নিদ্রাহীনতা হতে পারে।”

উত্তেজনা কমতে পারে

দৈনিক তিন থেকে চার কাপের বেশি কফি গ্রহণ করলে শরীর অনেক বেশি উত্তেজক হয়ে ওঠে।অ্যাঞ্জেলোন বলেন, “ক্যাফেইনের প্রতি স্পর্শকাতর লোকজন অতিরিক্ত কফি পানে অনেক সময় খিটখিটে হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত যেকোনো কিছুই খারাপ, সঠিক পরিমাণটাই গ্রহণযোগ্য।” চায়ে ক্যাফেইন কম থাকায় তেমন উত্তেজনার সৃষ্টি হয় না।

বাড়তে পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি

বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ টু ডায়াবেটিস রোধ করতে পারে কফি। তবে এর পেছনের কারণ এখনও খুঁজে পাননি গবেষকরা। অনেকে মনে করেন, কফি পানে শরীরে টেস্টোস্টেরন ও ইস্ট্রোজেন হরমোন বেড়ে যায় যা এ ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্তের ঝুঁকি কমায়। আর তাই কফি পান ছেড়ে দিলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সুফল নাও পাওয়া যেতে পারে।

পেশির সঙ্কোচন এড়ানো সম্ভব

কফিতে খুব অল্প পরিমাণে মিনারেল থাকলেও অতিরিক্ত কফি পানে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম শোষণ কঠিন হয়ে পড়তে পারে। আর এতে পেশির সংকোচন ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। তাই কফি বাদ দিয়ে চা পান শুরু করলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব।

মেজাজ চাঙা করতে সাহায্য করে কফি

ক্যাফেইনের জন্য হোক বা কফিপানের সময় গল্পগুজবের জন্যই হোক, গবেষণায় দেখা গেছে, কফি খেলে মেজাজ চাঙা গয়ে ওঠে এবং এতে অবসাদের ঝুঁকি কমে যায়। হার্ভার্ড পরিচালিত এক গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক কম পরিমাণে কফি পান করে তাদের চেয়ে দৈনিক দুই থেকে চার কাপ কফি গ্রহণকারীদের মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকি অর্ধেকের কম।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমতে পারে

গবেষণায় দেখা গেছে, কফিপানে লিভার ও কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে। আর চা পান এ দুটি ক্যান্সার ছাড়াও পাকস্থলি, স্তন, প্যানক্রিয়াসসহ আরো অনেক ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়।

অ্যাঞ্জেলোন বলেন, চা ও কফির মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো চায়ে প্রচুর পরিমাণে ইসিজিসি নামক এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

চা ও কফি উভয় পানীয়তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকলেও গ্রিনটিতে বেশি পরিমাণে ইজিসিজি রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপর্ণ ভমিকা পালন করে।

শরীরের আর্দ্রতা বৃদ্ধি

কফি আমাদের শরীরকে আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। আর চায়ে ক্যাফেইন কম থাকলেও তা আরও বেশি আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। শরীর আর্দ্র থাকলে আমাদেও ত্বক ভালো থাকে, পুরো শরীরের কার্যক্রম ভালো হয়।

ট্যাগ: banglanewspaper কফি চা