banglanewspaper

মনির হোসেন জীবন, নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘পুলিশ’ পরিচয় পাওয়ার পরই দুর্বৃত্তরা ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খানকে (৩৮) হত্যা করে এবং নিশ্চিহ্ন করতেই তার মরদেহ বস্তাবন্দি করে পুড়িয়ে ফেলে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার। আর এ খুনের ঘটনায় পেশাদার খুনিরা জড়িত বলে মনে করছে পুলিশের একাধিক সূত্র।

পুলিশ ইন্সপেক্টর হত্যাকান্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সবুর, ঢাকার স্পেশাল ব্র্যাঞ্চের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) পংকজ দত্ত গণমাধ্যমকে জানান, ‘চলতি মাসের ৮ই জুলাই ইন্সপেক্টর মামুন তার রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার মধ্য বাসাবোর বাসা থেকে বনানী এলাকায় এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেয়। পরবর্তীতে একটি চক্র তাকে নারী সংক্রান্ত ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করে বলে মামুনের পরিবার জানিয়েছে। তারপর থেকেই  মামুনের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।’

তিনি আরো জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চক্রটি নিজেদের রক্ষা করতে মামুনের ‘পুলিশ’ পরিচয় পাওয়ার পর তাকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতে বস্তাবন্দি করে পুড়িয়ে হত্যার পর লাশটি গাজীপুরের কালীগঞ্জের জঙ্গলে ফেলে গেছে। এ ব্যাপারে নিহতের বড় ভাই রাজধানীর সবুজবাগ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন।’

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দুপুরে নিখোঁজের দুই দিন পর গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার রায়েরদিয়া এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে ইন্সপেক্টর মামুনের বস্তাবন্দি পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু বকর মিয়া জানান, ‘মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রায়েরদিয়া রাস্তার পাশের একটি জঙ্গলে বস্তাবন্দি ‘পা’ বের হওয়া একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মরহেদটি আগুনে পোড়ানো এবং চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় প্রথমে তাকে সনাক্ত করা যাচ্ছিল না।

পরে তার এক বন্ধু পুলিশ ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খানের লাশ সনাক্ত করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।’

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নিহত মামুন ইমরান খান (৩৮) ঢাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) স্কুল অব ইনটেলিজেন্সে পরিদর্শক পদে দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ঢাকার নবাবগঞ্জের রাজরামপুর এলাকার মো. আজাহার আলীর ছেলে।

পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে মামুন ছিলেন ছোট। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। ২০০৫ সালে সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) যোগদান করেন তিনি। এরপর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেন। সেখান থেকে ফেরার আগেই ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় তার ভাইয়ের সঙ্গে থাকতেন। চলতি বছরের শেষ দিকে তিনি আবারও মিশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তার সঙ্গে কারো শত্রুতা আছে এমন কিছু কখনো বলেননি।

ট্যাগ: Banglanewspaper পুলিশ পরিচয় ইন্সপেক্টর মামুন পুড়িয়ে হত্যা