banglanewspaper

বিশ্বনাথ রায়, ফুলবাড়ী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: “মোর ত্রিশ বিঘা জমি আছিল (ছিল) বাহে। সউগ (সব) নদী গিলি (গিলে) খাইচে (খেয়েছে)। এবার ভিটা-টাও খাইল (খেলো)।” আহাজারি করতে করতে এ কথাগুলো বললেন, ধরলার ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হওয়া কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সোনাইকাজী গ্রামের মৃত- উমর উদ্দিনের ছেলে নুরল হক (৬০)।

শুধু নুরল হকের নয়, এ বছরের ভাঙ্গনে ওই গ্রামের মৃত নবাব আলীর ছেলে শাহাদত আলী, মৃত তমর উদ্দিনের ছেলে মিজানুল, মৃত কান্দুরা মামুদের ছেলে সামছুল হকেরসহ প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

সর্বগ্রাসী ভাঙ্গন গ্রাস করেছে আবাদি জমি, সুপারী বাগান, গাছপালা, বাঁশঝাড়সহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ ভেড়িবাঁধ। ভিটেমাটি হারিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে সরকারি রাস্তাসহ আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নিয়ে নিয়েছে ভাঙ্গন কবলিত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নবনির্মিত ২য় ধরলা সেতুর দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে সোনাইকাজী এলাকায় ধরলা নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ধরলা সেতুর এ্যাপ্রোচ সড়কে বাধা প্রাপ্ত হয়ে নদীর তীব্র স্রোতে সোজাসুজি সোনাইকাজী গ্রামে আঘাত হানছে। ফলে ওই গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন বেড়েই চলছে।

অব্যাহত ভাঙ্গনে সোনাইকাজী টু সাহেব বাজার ভেড়ীবাঁধের প্রায় ৩ কিমি ইতোমধ্যেই নদীতে চলে গেছে। সোনাইকাজী জামে মসজিদ, আবাদি জমি, সুপারি বাগান, গাছপালা, বাঁশঝাড়সহ এ বছরই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় ৫০টি পরিবারের বসতভিটা। বর্তমানে ওই গ্রামের ৪/৫টি বাড়ি শুধু ভাঙ্গনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে নদীর তীরে। আর নদী থেকে সামান্য দুরত্বে মারাত্মক ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে সোনাইকাজী টু ফুলবাড়ী কাঁচা রাস্তা, পাশের রামপ্রসাদ, প্রাণকৃষ্ণ ও পশ্চিম ধনিরাম গ্রাম, মরানদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কিছু গুরত্বপূর্ণ স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান।

ওই গ্রামের জয়নাল আবেদীন (৫০) কাশেম আলী(৪৫) জেলেখা বেওয়া (৬৫) জানান , গত এক মাস থেকে অন্যান্য সময়ের চেয়ে নদী বেশি ভাঙ্গছে । কয়েক দিনে বেশ কিছু বসতভিটা নদী গিলে খাওয়ায় অনেকেই বাড়ি সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে গেছে। তারা বলেন, সোনাইকাজী গ্রামতো নদীতে গেছে, ভাঙ্গন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা না নিলে অল্প দিনের মধ্যেই নদী তীরবর্তী রামপ্রসাদ, প্রাণকৃষ্ণ ও পশ্চিম ধনিরাম গ্রাম উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে ।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্রনাথ উরাঁও জানান, সোনাইকাজী এলাকার নদী ভাঙ্গন উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড হ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে । কিন্তু সরকারি উদ্যোগ ছাড়া স্থানীয়ভাবে এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

ট্যাগ: Banglanewspaper বিঘা জমি নদী গিলি খাইচে