banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: জার্মান আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তরুণদের কান্ডারি মেহেদী হাসান মুন্না। কিশোর বয়সে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমেই রাজনীতিতে আসেন। এক সময়ের তুখোড় এই ছাত্রলীগ নেতা বর্তমানে জার্মান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সততা ও রাজনৈতিক নিষ্ঠার কারণে তিনি এখন আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও নিবেদন প্রাণ। নম্র, ভদ্র, বিনয়ী, মার্জিত, শিক্ষিত এই তরুণ বিদেশের মাটিতে থাকলেও দেশের মানুষের প্রতি রয়েছে অঘাত ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চান এই নেতা।

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

আওয়ামী লীগের এই নেতার রাজনৈতিক হাতে খড়ি চাচার হাত ধরে। চাচা হাবিবুর রহমান মিজান ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের (লালমাটিয়া) বর্তমান কমিশনার। আওয়ামী লীগের চরম দুর্দিনে চাচার কাছ থেকে শিখেছেন কিভাবে হাল ধরতে সেটা। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে মুন্না তিন নাম্বার।

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

বড় বোন ব্যারিষ্টার নাজিয়া পারভিন, মেজো বোন সহকারী প্রফেসর ড. ফাতেমা শারমিন লাকি এবং ছোট বোন মেডিকেলে অধ্যায়নরত। ভাইদের মধ্যে মুন্না বড় এবং ছোট এডভোকেট মুনতাসির হাসান বর্তমানে ঢাকা বারের একজন আইনজীবি। বাবা রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বর্তমানে ব্যবসায়ী। তিনিও সিটি করপোরেশনের কমিশনার ছিলেন।

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

ছোট বেলা থেকে মুন্না বেড়ে উঠেছেন মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায়। ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় ২০০৩ ও ২০০৪ সালে বিএনপি জামায়াতের সাথে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। পরে তিনি দেশ ত্যাগ করেন। দেশ থেকে গ্রাজুয়েশন শেষ করে চলে যান প্রথমে লন্ডন। এরপর সেখান থেকে জার্মানিতে পাড়ি জমান। সেখানেই চকলেট কোম্পানি হারিভো’তে প্যাকেটিং ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন।

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

এছাড়া বর্তমানে তিনি জার্মান আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি জার্মান ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জার্মান যুবলীগের আহবায়ক ছিলেন।

মুন্না বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে কিছু কিছু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে অনেক সময় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এগুলো মধ্য উল্লেখযোগ্য চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি। আর এসব কারণে বিদেশের মাটিতে বাঙ্গালিদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। আমি বাঙ্গালিদের ভাবমূর্তি উজ্বল করার চেষ্টায় আছি। কখনও চাঁদাবাজি ও জালিয়াতি পছন্দ করি না। কারণ আমি আওয়ামী লীগ পরিবারের ছেলে। অনেক সময় আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমাকে নিয়ে কুৎসা লটানোর চেষ্টা করেন। বিভিন্ন সময় এমন বিড়ম্বনায় পড়েছি। কিন্তু কখনও আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরে আসিনি, সরব না।

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

জার্মানিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজিব ওয়াজেদ জয়সহ দেশ থেকে আমাদের মন্ত্রী এমপি আসলে সেখানে চেষ্টা করি উপস্থিত হবার। তাদের কাছ থেকে রাজনৈতিক আদর্শ শিখি। জার্মানিতে বাঙ্গালি তরুণরা সজিব ওয়াজেদ জয়ের আদর্শ ও কাজকে অনুসরণ করে। কখনও তরুণরা একত্রিত হলে তাদের আলোচনার মূল বিষয় থাকে তরুণ নেতা জয়কে নিয়ে। সে বাঙ্গালি তরুণদের কাছে তারুণ্যের অহংকার। আমি শেখ হাসিনার রাজনীতি করি, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক।’

তিনি বলেন, ‘এখন দেশ থেকে যেসব তরুণরা আসছে তারা রাজনীতিতে আসতে চান না। বিশেষ করে শিক্ষিত ছেলেরা কেউ রাজনীতিতে আসছে না। তারা ভয় পাই রাজনীতি। অনেকে বলছে রাজনীতি করলে নাকি তাদের মধ্যে ভেদাভেদ তৈরি হয়। দলের নেতাকর্মীরাই শত্রুতে পরিণত হয়। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্ম কাকে অনুসরণ করে বড় হবে, পথ চলবে, কাজ করবে? নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য সবাই ব্যস্ত। সবাই টাকার পেছনে ছুটছে। তাই তরুণরা বিদেশে এসে রাজনীতি করতে চান না।’

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

মুন্না বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু রাজনীতিতে এসেছেন; মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমাদের দেশে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পর থেকে রাজনীতি আর সেই সম্মানের জায়গায় নেই। নিজের স্বার্থ, ব্যক্তিস্বার্থ, নিজেদের স্বার্থের জন্য একেকজন এখন রাজনীতি করেন। আমাদের গর্ব আমাদের ভাষা। আমারা বাঙালি জাতি, আমাদের নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য আছে। কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্যে আমরা একটি সমৃদ্ধ জাতি। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেতে চাই।’

জার্মান আ.লীগের রাজনৈতিক কান্ডারি মুন্না

সুযোগ পেলে দেশের প্রতি কাজ করার ইচ্ছে কেমন জানতে চাইলে এই তরুণ নেতা বলেন, ‘আমি অনেক কিছু করি দেশের মানুষের জন্য তবে সেটা ঢাকঢোল পিটিয়ে না। গরীব দুস্থদের প্রতি আমি সব সময় দুর্বল। চেষ্টা করি তাদের সাহায্য করার। ইচ্ছে আছে তাদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করার; যা প্রতিনিয়ত নিয়ত চলবে। দেশে ফিরে রাজনীতিতে সম্পর্কক্ত হবার ইচ্ছে আছে; যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনরা হাত কে শক্তিশালী করতে পারি।’

ট্যাগ: Banglanewspaper আ.লীগ পরিবার দুর্নীতি