banglanewspaper

দেশি বিদেশি নামি দামি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি চক্রকে আটক করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেসটিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। চক্রটি দেশের প্রথম শ্রেনির জাতীয় পত্রিকায় চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন দিয়ে অভিনব পদ্ধতিতে চাকরি প্রতাশীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১৩ সদস্যকে আটক করে সিআইডি।

আটককৃতরা হলেন, সানলাইট গ্রুপে ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আদনান তালুকদার ওরফে আল আমিন (৪০), সানলাইট গ্রুপের ডাইরেক্টর খন্দকার মো. আলমগীর ওরফে মাসুম (৪২) ও মো. জহুরুল হক ওরফে মো. শাহজাহান মিয়া (৪২), সৈয়দ সাহরিয়ার সোহাগ ওরফে মো. আবু শাফি তালুকদার শাফিন, প্রতিষ্ঠানটির গণসংযোগ কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ ওরফে মো. সবুজ মিয়া (৩২), মো. রহমত উল্লাহ সৌরভ ওরফে মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. হাফিজুর রহমান আল মামুন ওরফে মামুন লস্কার, মো. ইনছান আলী, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. নাদিম উদ্দিন, মো. মেহেদী হাসান, মো. হানিফ কাজী, মো. মামুনুর রশিদ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম।

তিনি জানান, ‘চক্রটি দেশের প্রথম শ্রেনির জাতীয় পত্রিকায় চোখ ধাঁধানো বিজ্ঞাপন দিত। তারপর আবেদনকারীদের ডেকে এনে সু কৌশলে ইন্টারভিউ নিত। পরে চাকরি হয়ে গেছে জানিয়ে নির্ধারিত তারিখে যোগদানের তারিখও জানিয়ে দিত তারা। এসময় চাকরি পাওয়াদের সিকিউরিটি মানি, পেনশন স্কিম এবং ব্যক্তিগত গাড়ি দেওয়ার নামে ৩ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে জমা নিত। পরে নির্ধারিত তারিখে কর্মস্থলে যোগদান করতে এলে আগে থেকে তাদের অফিস তালা দিয়ে সরে পড়তো।’

মোল্লা নজরুল জানান, এই চক্রটি ২০১৩ সাল থেকে এই পর্যন্ত ফরচুন গ্রুপ অব কোম্পানিজ, রেক্সন গ্রুপ অব কোম্পানিজ, ইস্টার্ন গ্রুপ অব কোম্পানিজ, কেয়া গ্রুপ অব অব কোম্পানিজ, নেক্সাস গ্রুপ অব কোম্পানিজ, সানলাইট গ্রুপ অব কোম্পানিজ, ম্যাক্স ভিশন গ্রুপ অব কোম্পানিজ নামে বহু মানুষকে প্রতারিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেবার নামে প্রায় ৫০ জনের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল তারা। প্রতারণার শিকার হয়ে পল্টন থানায় ভূক্তভোগিরা একটি মামলা করে। মামলার সূত্র ধরে সিআইডি বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

ট্যাগ: banglanewspaper চাকরি