banglanewspaper

শাফিউল কায়েস: প্রথমে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; তার জন্মের ফলেই হয়তো আমারা পেয়েছি আজ স্বাধীনতা এবং সুন্দর লাল সবুজের  পতাকা, সাথে বাংলাদেশ নামক একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।

১০ জানুয়ারি, সালটা ঠিক স্মরণ হচ্ছে না টিভিতে ব্রেকিং নিউজে লেখা আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। এই দিনটি সম্পর্কে জানতে খুব আগ্রহ হলো তারপর নেট থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানলাম।

একটা আর্টিকেলে দেখলাম হাইলাইট করে লেখাঃ 

"নেতা হিসাবে নয়, ভাই হিসাবে আমি আমার দেশবাসীকে বলছি, আমাদের সাধারণ মানুষ যদি আশ্রয় না পায়, খাবার না পায়, যুবকরা যদি চাকরি বা কাজ না পায়, তাহলে আমাদের এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে, পূর্ণ হবে না।" 

এই বক্তব্য অংশ বাংলার নেতা ১০ জানুয়ারি  ১৯৭২ সালে দিয়ে ছিলেন।এই উক্তিটি আলোচনায় আনার উদ্দেশ্য হলো,আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেকারদের জন্য অনেক কর্ম সংস্থান তৈরি করে দিলেও এখনো অনেক যুবক বেকার হয়ে আছে দেশে।তাই বলে আমাদের স্বাধীনতা ব্যর্থ? না।আমাদেরকে বেকারত্ব দূর করতে হবে ।না হলে অবশেষে নেতার কথা সত্য হবে।"

আর বাংলার নেতা বঙ্গবন্ধু'র কথার সাথে কোটা'র বিষয় অনেকটা মিলে যাচ্ছে।যেখানে অনেক যুবকের সরকারি চাকরিতে যোগ্যতা থাকার পরও হারাচ্ছে তাদের অপার সুযোগ।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী,দেশের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সকল স্বপ্ন বাস্তবায়ন করছেন ।আশা করছি কোটা'র বিষয়টি অনেক গভীর ভাবে দেখবেন সাথে বাংলার শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্ট রাখবেন। এখন দেশে একটা সবচেয়ে আলোচিত চলমান ইস্যু "কোটা সংস্কার চাই"এই বছরের প্রথম দিকে কোটা আন্দোলন চললে; কোটা সংস্কারের ব্যবস্থা নিবেন বলে জানিয়েছিলেন।

কোটা সংস্কার বিষয়ক ব্যবস্থা না নেওয়ায়:

বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে। আবার তারা কোটা সংস্কারের আন্দোলন করলে, কোটা বিরোধীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নানা ভাবে প্রতিবাদ করে; ফলে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী রক্তাক্তসহ গুরুতর আহত হন।

আমি বড় কোন কলামিস্ট নই, তাই আমার লেখা সংক্ষিপ্ত হওয়া শ্রেয়। আমার থেকে ভালো বোঝেন আপনারা; আপনারা তো দেখতেছেন সব খবর নিয়মিত পত্রিকার পাতায় ও মিডিয়াতে। কোনটা ঠিক আর বেঠিক সেটি আপনারা বেশি ভালো বোঝেন।

"কোটা পদ্ধতি নিপাত যাক, মেধাবীরা সুযোগ পাক।"

"কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই"

"বঙ্গবন্ধু'র বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নেই"

"পিতার কোটা যদি সন্তানেরা পায়!

তবে, জাতির পিতার কোটা কেন

পুরো বাঙালি জাতি পাবে না?"

কত স্লোগান? কত মিছিল? দিনের পর দিন আর কত চলবে এভাবে?

৫৬% কোটা , ৪৪% মেধা দিয়ে আজ যুদ্ধ করতে হচ্ছে  সরকারি চাকরিতে। কেন এত বৈষম্য! মুক্তি চায় সাধারণ শিক্ষার্থী, অধিকার চায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।কেন বেলা শেষে খালি হাতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরতে হবে? দেশের কর্ণধার, দেশ রত্ন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি একমাত্র পারেন কোটা সংস্কারের সুষ্ঠ সমাধান দিতে।

৬ জুলাই দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবনির্মিত একাডেমিক ভবন উদ্বোধন শেষে আইনমন্ত্রী বলেন,"প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছেন কোটা পদ্ধতির সংস্কার করা হবে। তিনি যা বলেন তাই করেন। আর বিএনপি-জামায়াত কুচক্রী মহল রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হওয়ার পর দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বন্ধ রাখার জন্য এ বিষয়টিকে ইস্যু করে গন্ডগোল বাঁধানোর চেষ্টা করছে।"

আশা রাখছি, দেশ রত্ন শেখ হাসিনা তার দেয়া কথা রাখবেন। দেশের শিক্ষা মাতা, হিসাবে শিক্ষার্থীদের  সমস্যাগুলো গ্রহণ করবেন; এর একটা ভালো ফলাফল দিবেন।আপনার কাছে ছাড়া তারা কোথায় মাথা তুলে  দাঁড়াবে! বিপরীত দলকে কোটা সংস্কার বিষয়ে ভালোমন্দ মন্তব্য করার সুযোগ না দিয়ে; এর একটা সমাধান সব থেকে  নিরীহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হয়। তারা কোটা সম্পূর্ণ বন্ধের কথা বলেনি, তারা শুধু চেয়েছে এর সংস্কার। কোটা একটি দেশের প্রয়োজন; যারা পিছিয়ে আছে তাদেরকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু মেধার থেকে কোটা পরিমাণ বেশি থাকলে আসলে সেটি বৈষম্য হয়ে যায়।দিনের পর দিন সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথ, মাঠেঘাটে নামছে তাদের অধিকার ফিরে পাওয়ার আশায়।

আমি কোন সরকার বিরোধী কথা বলছি না। আর যদি আমার লেখা পড়ে তাই মনে হয় তাহলে, আপনাদের ধারণা ভুল হবে।হয়তো বা এই আনন্দোলন অনেকটা রাজনীতির দিকে গড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে,রক্তাক্ত ও হয়েছে,যদি এই আন্দোলন করা যুক্তিযুক্ত না হয় তাহলে শিক্ষার্থীদেরকে রক্তাক্ত না করে তাদেরকে  ফিরে যেতে দিন  আপন নীড়ে।

প্রথম আলো পত্রিকার মতামত বিভাগে প্রকাশিত  আনিসুল হকের লেখা কোটা বিষয়ক কলাম "কোটা পদ্ধতি সংস্কার করুন, বিলোপ নয়" 

তিনি সেখানে বলেছেনঃ

"কোটা পদ্ধতির সংস্কার নিয়ে আপনার বক্তব্য কী? 

আমি কোটা পদ্ধতির সংস্কার চাই। 

কিন্তু আমি কোটা পদ্ধতির বিলোপ চাই না। নারী কোটা থাকতে হবে। উপজাতি কোটা থাকতে হবে। প্রতিবন্ধী কোটা থাকতে হবে। জেলা কোটা থাকাও ভালো। এটাকে বলা হয় ইতিবাচক বৈষম্য। সমাজের কোনো একটা অংশ পিছিয়ে থাকলে তাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এ ধরনের কোটা পদ্ধতির দরকার হয়। যেমন আমাদের জাতীয় সংসদের নারীদের জন্য আসন সংরক্ষিত আছে। 

তবে ৫৫ শতাংশ কোটা কিছুতেই সমর্থনযোগ্য নয়।মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা সম্মান করি, ভালোবাসি, তাঁদের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা আমরা সব সময়ই করে যাব।"

"সরকারকে বুঝতে হবে, জনগণ কী চায়, তরুণসমাজ কী চায়। এই তরুণসমাজ অবশ্যই স্বাধীনতার পক্ষে, মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানোর পক্ষে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে। এরা যখন কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেমেছে, তখনো এদের মুখে ছিল জয়বাংলা স্লোগান, হাতে ছিল বাংলাদেশের পতাকা, বুকের সামনে ধরা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি। আজকের বাংলাদেশে খুবসংখ্যক তরুণই পাওয়া যাবে, যারা পরাজিত পাকিস্তানের বাতিল হয়ে যাওয়া রাজনীতি বা মূল্যবোধের পক্ষে থাকতে পারে। কাজেই যারা কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিয়োজিত, তাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ভাবা খুবই আত্মঘাতী ভুল ভাবনা হবে"---আনিসুল হক।

আমি অধিকারের কথা বলছি,

আমি সত্যের কথা বলছি।সাথে বলছি কোটা সংস্কারের কথা। বলছি না কোটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে।বাংলাদেশের সকল মেধাবী শিক্ষার্থী'র ভাষা কোটা সংস্কার হোক, বিলোপ নয়! একজন মধ্যবিত্ত পরিবারে শিক্ষার্থী কিভাবে পড়াশুনা করে সেই গল্পগুলো অপরিচিত হলেও  সকলের জানা। এই সব কষ্টের গল্প হারিয়ে যায় সাগরের অতলে শুনবার মত কেউ নেই।

ঘরে মা, অসুস্থ বোনের বিবাহ নিয়ে চিন্তা, বাবা নেই অনেক আগেই না ফেরার দেশে চলে গেছে। অনেক কষ্ট করে পড়াশুনা করে যদি কোটার কাছে হেরে যায়;তাহলে এ ব্যাথা অসহ্যকর।পকেটে নাই টাকা, তবুও চাকরির সন্ধানে ছুটে, বারবার ভাইভাবোর্ড থেকে মুখে কালো মেঘের ছাপ নিয়ে ঘরে ফিরতে হয়।

কিন্তু কেন? সেই ছেলেটা চাকরি পাওয়ার জন্য উপযুক্ত ছিলো কিন্তু বাবার হেরে গেছে কোটার কাছে, তার পরের সময়ের নির্মমতায় বারবার ব্যর্থতার শিকার হয়ে তাকে ফিরতে হয়েছে ঘরে।

সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমাদের ছেলে-মেয়েরা পড়াশুনা করেছে, চাকরি করেছে। পড়ার মাঝে গ্যাপ দিয়ে চাকরি করে আবার পড়াশুনা করেছে।" “একবার গ্রাজুয়েশন হয়েছে, কিছু দিন চাকরি করেছে, স্টুডেন্ট লোন নিয়েছে, সেটা শোধ দিয়েছে আবার ভর্তি হয়েছে মাস্টার্স ডিগ্রি করেছে। আবার সেই লোন শোধ দিয়েছে। এইভাবে পড়েছে। পড়াশুনা করা অবস্থায়ও ঘণ্টা হিসেবে কাজ করেছে, পার ঘণ্টা একটা ডলার পেত, সেটা দিয়ে তার চলত।” "প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে আমি ‘টাকার অভাবে’ একমাত্র ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পড়াতে পারেনি"

একজন অভিবাবকের কাছে সন্তানের মনের আশা পূরণ করতে না পারাটা কতটা বেদনাদায়ক;শুধু সেই অভিবাবকরা বোঝেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বুঝতে পেরেছেন।এটাই স্বাভাবিক ,এটাই সময়ের কথা।

অতঃপর, সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক আনিসুল হকের কন্ঠের সাথে বলতে চাই "কোটা পদ্ধতির সংস্কার করুন, বিলোপ নয়"

 

শাফিউল কায়েস

শিক্ষার্থী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ, ঢাকা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: Banglanewspaper কোটা বিলোপ নয় হোক সংস্কার