banglanewspaper

মনিরুজ্জামানঃ যান্ত্রিক জীবন থেকে মুক্তি পেতে স্কুল লাইফের চার বন্ধু মিলে হঠাৎ পরিকল্পনা করলাম আমরা নদী পাহাড়ের দেশে ঘুরতে যাব। যেই কথা সেই কাজ। যার যার মত অফিস থেকে ছুটি নিয়ে রাতেই টিকিট কেটে ইউনিকের বাসে উঠে পরলাম। যাত্রা শুরু কল্যাণপুর বাস কাউন্টার থেকে। রাত সাড়ে আটটার বসে উঠে পড়লাম। বাসটা ছিল নতুন তাই মোটামুটি আরাম দায়ক জার্নি দিয়েই শুরু করলাম।

আমরা চার বন্ধু জুবেরী, সঞ্জীব, জাহাঙ্গীর আর আমি মনির। দারুন মিল আমাদের পছন্দের। তাই এক কথাতেই সবাই রাজি আর শুরু হলো কোলাহল মুক্ত লোকালয় ছেড়ে অপরূপ রূপবতী নদী পাহাড়ের দেশ রাঙ্গামাটি।

 

গাড়িতে বেশ কিছুক্ষণ হই হুল্লোর পর সবাই অনেকটা ক্লান্ত কিছুটা ক্ষুধাও পেয়েছে, অবশেষে পৌছে গেলাম কুমিল্লার তাজমহল হোটেলের সামনে। আমাদের বাস রাতের খাবার জন্য একটা বিরতি দিল বিশ মিনেটের জন্য। কুমিল্লার বিখ্যাত রস মালায়ের স্বাদটাও মিছ করলাম না। খাবার শেষে বাসে উঠেই কানে হেড ফোন দিয়ে গান শুনতে শুনতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম জানি না।

 

হঠাৎ সূর্যের আলো চোখে পড়েই ঘুম ভেঙ্গে গেল। চোখ মেলতেই অবাক দৃষ্টিতে বেশ কিছুক্ষণ বিরামহীন দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়েই রইলাম। এ যেন সৃষ্টি কর্তার এক অপরূপ সৃষ্টি। যে নিজ হাতে গড়া তার এ সৃষ্টিশীল রং-তুলীতে আঁকা এক অন্য জগৎ। সত্যি চোখ ফেরানো দায়। কিছুটা ভয়ও এতো উপর দিয়ে বাস যাচ্ছিল নীভের দিকে তাকালে মনে হচ্ছিল যেন শূন্যে ভাসছি। বাসের জানালার ফাঁক দিয়ে তাকালে মাঝে মাঝে দেখা যাচ্ছে ছোট ছট দু একটা টংঘর। যাতে আদিবাসীরা পাহারী জীবন কাটায়। রাস্তা দিয়ে অনেক আদিবাসী হেটে যাচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের কাঁধে বাঁশের ঝুড়ি ঝোলানো, খাবারের সন্ধ্যানে তাদের এ যাত্রা।

 

অবশেষে রাঙ্গামাটি শহরে এসে পৌঁছলাম। প্রথমে একটা হোটেলে এসে রুম বুকিং দিয়েই বেড়িয়ে যাই সকালের খাবারের জন্য। সকালের নাস্তা সারতে সারতেই কথা হল একজন নৌকার মাঝি যাকে বলা যায় মাঝি কাম গাইড। দারুনভাবে সব দর্শনীয় যায়গায় বর্ণনা দিলেন তিনি। পড়ে গেলাম তার কথার প্রেমে। তার কথা মতই ঠিক করে ফেললাম তার ইঞ্জিন চালিত দোতলা নৌকা। সাথে নিলাম কিছু শুকনো খাবার আর পানি।

বেচে উঠার অনুভূতিটা সত্যিই চমৎকার। নদীর মাঝখান দিয়ে যাওয়া হল আমাদের যাত্রা। দুপাশ দিয়ে সাড়ি সাড়ি পাহাড় যেন আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। সে এক চমৎকার অনুভূতি।

 

একে একে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান চোখের সামনে হাতছানি দিচ্ছিল।। আমরা চার বন্ধু সবাই নৌকার দোতলা ছাদে চেয়ারে বসে দৃশ্যগুলো আত্মার প্রশান্তির খোরাক হিসেবে আত্মস্থ করতে লাগ্লাম।

আমাদের নৌকাটি প্রথমে থাম্ল শুভলং ঝর্না প্রান্তে। এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই ঝর্না। ঠিক যেন পাহাড়ের বুক চিড়ে এক স্বর্গীয় পানি আমাদের গা ছুঁয়ে যাচ্ছে। এতে আমরা নিজেদের গা আলতোভাবে ভিজিয়ে নিলাম। নিজ চোখে এই সৌন্দর্য না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। স্মৃতি হিসেবে বেশ কিছু ছবি তোলা হল। সবাই খুব উচ্ছ্বাসিত এই অপরূপ সৌন্দর্য দেখে।

 

এরপর আবার রওনা দিলাম এখানকার এক উপজেলা বরকলের উদ্দেশ্যে। চলবে.......।

ট্যাগ: