“হারে রেরে রেরে আমায় ছেড়ে দেরে দেরে”

পাহাড়ি এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যে আমরা সত্যি বিমোহিত।

আগ্রহ বেড়ে যায় নদী ঘেড়া পাহাড় বরকল উপজেলা দেখার জন্য। অবশেষে আমাদের নৌকাটি এসে বরকলে থামল। আমরা সবাই দৌড়ে উঠে পড়লাম পাহাড়ে চূড়ায়। সেখানে পাহাড়ী বেশ কিন্তু দোকান, লক্ষ্য করা গেল। আমরা মোটামুটি অনেক কেনাকাটা করলাম। এর ভেতর উল্লেখযোগ্য খাদি ফতুয়া , লুঙ্গি, গামছা ইত্যাদি।

এরপর চলে আসলাম আর একটি পাহাড়ে, পাহাড়ের নামটি একটু অন্যরকম প্যাদা-টিংটিং। পূর্বেই ফোন করে আমাদের দুপুরের খাবারের জন্য অর্ডার দেয়া হয়েছিল।

সারাদিন দৌড়ানো আর হই-হুল্লোর পর খাবার টেবিলের সামনে বসতেই আর দেরী সইছিলনা। মনে হচ্ছিল যে সব খাবার একাই সাবার করে ফেলি খাবারের আইটেমগুলো ছিল অসাধারণ। এর মধ্যে ছিল ব্যাম্বো চিকেন, ফিস ফ্রাই, ডাল এবং ভাজি।প্রত্যেকটি খাবারই ছিল চমৎকার।

নদীর টাটকা মাছ দিয়ে এই চাপিলা ফ্রাই, বাঁশের মধ্যে রান্না করা চিকেন সত্যি অসাধারণ।

কাবার পরে বসলাম ওদের বাংলোতে শেষে পরিবেশন করা হল আনারস। যা খেয়ে মনে হচ্ছিল অমৃত খাচ্ছি। সত্যি পাহাড়ী আনারসের মজার অন্যরকম।

খাবার শেষে আবার যাত্রা শুরু বৌদ্ধ বিহার আর প্রাচীন রাজার বাড়ি উদ্দেশ্যে। সেখানে এসে রাজাদের বাড়ির ঐতিহ্য দেখে বিমোহিত হই। পুরো ভ্রমণটা ইঞ্জিন চালিত দোতলা নৌকায় করে চলে গেলাম আবার রাঙ্গামাটি শহরে। সেখান থেকে আবার জাহাঙ্গির নগরের এক বন্ধুর মাধ্যমে সরকারী গাড়ি পেয়ে যাই। আর সেটাতে করেই রওনা হই রাঙ্গামাটির বিশেষ আকর্ষণ সেই ঝুলন্ত ব্রিজের উদ্দেশ্যে।

অবশেষে পৌছালাম সেই অপরূপ সৌন্দর্য ঘেড়া ঝুলন্ত ব্রীজের প্রান্তে। সত্যিই এ যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। দুটো পাহাড়কে এক করে দাঁড়িয়ে আছে এই ঝুলন্ত সেতুটি।

রাঙ্গামাটির ঐতিহ্যের বাহক এটী।

অবশেষে প্রচুর টাইট শিডিউল শেষে রাতের গাড়িতে রওনা হলাম আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।