banglanewspaper

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তামাক সেবন তথা ধূমপান, জর্দা ও গুলের ব্যবহার প্রাণঘাতী নেশা। এছাড়া পরোক্ষ ধূমপানও অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

মঙ্গলবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২২’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য-‘তামাকমুক্ত পরিবেশ, সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ যা অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তামাক চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সেবন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ৩০০টি সিগারেট তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ কাটা পড়ছে। তামাক চাষ ও তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রতিবছর গড়ে ২ লাখ হেক্টর বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী তামাক চাষের কারণে শতকরা ৫ শতাংশ হারে বন ধ্বংস করা হচ্ছে। তামাকজনিত কারণে ১৯৭০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত ১৫০ কোটি হেক্টর (প্রধানত গ্রীষ্মমণ্ডলীয়) বন বিলুপ্ত হয়েছে, যা বার্ষিক ২০ শতাংশ গ্রিনহাউজ গ্যাস বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

গবেষণায় জানা গেছে, তামাক সেবনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগ যেমন: হৃদরোগ, ক্যান্সার, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে বছরে ৮০ লাখের বেশি ও বাংলাদেশে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাক ব্যবহারকে বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে এর ব্যবহার কমাতে ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ট্যোবাকো কন্ট্রোল’ (এফসিটিসি) প্রণয়ন করেছে। এফসিটিসি’র আলোকে ২০১৩ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫’-এর সংশোধন করা হয়েছে। জাতিসংঘ তামাককে উন্নয়নের হুমকি বিবেচনায় নিয়ে এফসিটিসির কার্যকর বাস্তবায়ন ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’ প্রণয়ন করেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুক্ত করেছে। সর্বোপরি, দক্ষিণ এশীয় স্পিকার্স সামিট ২০১৬-এ আমি আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছি। সে লক্ষ্যে আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের প্রয়োজন একটি সুস্থ-সবল জনগোষ্ঠী। এজন্য মানুষকে ধূমপান ও তামাকের ভয়াল নেশা থেকে দূরে রাখতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও তামাকজাত দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার ক্রমশ কমিয়ে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। তামাক সেবনের কোনো সুফল নেই মানুষের কাছে এই বার্তা নিয়ে যেতে হবে। এজন্য সরকার, বেসরকারি সংগঠনসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ।

তিনি ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২২’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

সূত্র : বাসস

ট্যাগ: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয়
‘আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার’ পেলো বাংলাদেশ

banglanewspaper

অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা ডি-৮ এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ ‘আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কার’ পেয়েছে। তুরস্ক প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান স্মরণে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সোমবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, অধ্যাপক ড. নাজমুদ্দিন এরবাকান ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি ড. ফাতিহ এরবাকান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন।

জর্জিয়া, তুর্কমেনিস্তান ও ডি-৮-এর দায়িত্ব পালনকারী তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মসয়ূদ মান্নান সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার হাতে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট ও চিঠি তুলে দেন।

ট্যাগ:

জাতীয়
বঙ্গবন্ধুর মতো অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবীর কোনো নেতা করতে পারেননি : প্রধানমন্ত্রী

banglanewspaper

বঙ্গবন্ধুর মতো অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবীর কোনো নেতা করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার শোকের মাস উপলক্ষে কৃষকলীগের স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা ছিল জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কিত ঘটনা। মানুষের ভালোবাসার টানে নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। অথচ তাকেই সপরিবারে হত্যা করা হলো।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার জীবনে ক্ষমতার কোনো লোভ ছিল না। তিনি দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগের নজির রেখে গেছেন।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শত কষ্টের পরও বঙ্গবন্ধু কোথাও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। পূর্ব বাংলার মানুষের কষ্ট তিনি সহ্য করতে পারেননি। ক্ষমতা, পদ-পদবীর লোভের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘বিএনপির সময় বাংলাদেশ দুর্নীতিতে এক নম্বরে ছিল। বিএনপির আমলে ভোটের অধিকারই ছিল না মানুষের। এখন তাদের কাছ থেকে নীতি কথা শুনতে হয়। যারা দেশটাকে সন্ত্রাসের দেশ, জঙ্গিবাদের দেশ, বাংলা ভায়ের দেশ বানিয়েছিল, তারা দেশের টাকা পাচার করেছিল। সেই টাকা আমরা ফিরিয়ে এনেছি।’

ট্যাগ:

জাতীয়
ইউরিয়ার দাম কেজিতে ৬ টাকা বাড়ল

banglanewspaper

দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া ইউরিয়া সারের দাম বেড়েছে। কেজি প্রতি এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা বেশি দরে।

বাড়তি দাম সোমবার (১ আগস্ট) থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানায় কৃষি মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১ আগস্ট) কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা দাম কেজিপ্রতি ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে এক কেজি ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২২ টাকায় বিক্রয় হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, এ দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতি কেজি সারে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ টাকা।

মন্ত্রণালয়ের মতে ডিএপি সারে শতকরা ১৮ শতাংশ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সেজন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে। এ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এক হিসেবে দেখা যায় ২০১৯ সালে ডিএপি ব্যবহার হতো ৮ লাখ টন, বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ১৬ লাখ টনের বেশি। তবে সে অনুযায়ী ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমেনি। ২০১৯ সালে ইউরিয়া ব্যবহার হতো ২৫ লাখ টন, যা বর্তমানে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন লাগছে।

ট্যাগ:

জাতীয়
ট্রেন কাউকে ধাক্কা দেয় না, অন্যরা এসে ধাক্কা খায়: রেলমন্ত্রী

banglanewspaper

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, রেল লাইনে যেসব দুর্ঘটনা হয়েছে তার জন্য রেল দায়ী নয়।

সোমবার ( ১ আগস্ট) সকাল ১১টায় গোপালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর দেশব্যাপী প্রদর্শনের শুভ সূচনা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, রেল লাইনে কোনো দুর্ঘটনা হলে দোষ রেলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। রেল কাউকে ধাক্কা দিতে যায় না। অন্যরা রেলের ওপর এসে ধাক্কা খায়। আরেকজন এসে রেলে ধাক্কা খাবে তার দায় রেলের ওপর দেওয়া হবে এটা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই জায়গাটিতে আমাদের একটু সচেতনার প্রয়োজন আছে।

রেলমন্ত্রী বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ও মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। কিন্তু রেল লাইনের যেসব দুর্ঘটনা ঘটেছে সেগুলো রেলের দুর্ঘটনা নয়। রেলের দুর্ঘটনা সেটাই যদি রেল লাইনচ্যুত হয়। যদি ট্রেন রেলপথ ছেড়ে কোনো বাড়িতে ঢুকে বা অন্য রাস্তায় চলে যায় তাহলে সেটা হবে রেল দুর্ঘটনা। এই জায়গাগুলো আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, রেলের যেসব গেট আছে সেগুলোর দায়িত্ব যারা রাস্তা করেছে তাদের নিতে হবে। রাস্তা করে তো তারা খালাস। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করবেন তারা। কোনো দুর্ঘটনা যাতে না হয় সেটা এককভাবে রেলের ওপরে না দিয়ে যৌথভাবে কীভাবে ‍নিশ্চিত করতে পারি, সেই ব্যবস্থা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। বাইরে থেকে যেন কোনোকিছু রেল চলার পথে অনিরাপদ করতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, খুলনার সঙ্গে মোংলার রেল যোগাযোগ ছিল না। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মোংলার পোর্টের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে রেলওয়ের মহাপরিচালক ডি এন মজুমদার, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মঞ্জুরুল আলম, পুলিশ সুপার আয়েশা সিদ্দীকা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান বক্তব্য রাখেন।

দুপুরে মন্ত্রী টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার সমাধি সৌধ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সেখানে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্টে শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

ট্যাগ:

জাতীয়
‘ঢাকা থেকে শিশুদের করোনার টিকা দেওয়া শুরু হবে’

banglanewspaper

ঢাকা শহর থেকে ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার (১ আগস্ট) কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার খুরশিদ আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ টিকা রয়েছে, তাতে দেশের সব শিশুদের টিকা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই ঢাকা শহরের একটি কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে টিকা দেওয়া শুরু করব। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে শিশুদের টিকা দেওয়া হবে।

ডা. খুরশিদ আলম বলেন, টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়েছে। স্কুল থেকে রেজিস্ট্রেশন করে টিকার পরিমাণ জানালে আমরা স্কুলে গিয়ে টিকা দিয়ে আসব। এটা বিশেষ টিকা, চাইলেই সবসময় পাওয়া যায় না।

তবে শিশুদের টিকাদান বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান তিনি।

ট্যাগ: