banglanewspaper

ওপার বাংলাঃসদ্যোজাত শিশুকন্যার মৃত্যু হয়েছে। তাকে কবর দিতে হবে। এই বলে বেঙ্গালুরুর হোসপেটে এক বেসরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে অটোয় চেপে বসে শিভারুদ্রা নামে এক ব্যক্তি। তার হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বাস্কেটে শিশুটিকে রাখা ছিল। 

অটোচালক ‘রমেশ হোসা অমরাবতী’র এই ঘটনাকে স্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। কিন্তু, কিছুদূর যাওয়ার পর রমেশ দেখেন চলন্ত অটো থেকেই শিভারুদ্রা বাস্কেটটিকে রাস্তার পাশে ফেলার চেষ্টা করছে। কিন্তু, কোনও কারণে শিভারুদ্রা তা থেকে বিরত থাকে। এরপর বাস্কেট থেকে শিশুকন্যার কান্নার আওয়াজ পান রমেশ। তিনি শিভারুদ্রাকে জিজ্ঞেস করেন, শিশুটির মৃত্যু হলে কাঁদছে কি করে? তার মানে শিশুটি বেঁচে আছে। কিন্তু, শিভারুদ্রা তর্ক জুড়ে দেয় বলে অভিযোগ।  

সন্দেহ হওয়ায় রমেশ কবরখানায় ঢোকার মুখেই অটো দাঁড় করিয়ে দেন।বাস্কেটের মধ্যে থাকা শিশুর মুখ দেখতে চান। কিন্তু, শিভারুদ্রা শিশুটির মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রেখেছিল বলে অভিযোগ। রমেশ কবরখানার সামনে থেকেই এক বন্ধুকে ফোন করে সাহায্য চান এবং অটো ঘুরিয়ে শিভারুদ্রাকে সঙ্গে করে ফের হাসপাতালের সামনে চলে আসেন। সেখানেই শিভারুদ্রাকে গণপিটুনি দিতেই বেরিয়ে আসে আসল সত্য। 

জানা যায়, কোপ্পালের গিনিগেরা গ্রামের মাল্লাম্মা নামে বছর ২২-এর এক তরুণী ওই বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুকন্যার জন্ম দেয়। মাল্লাম্মার স্বামী মারা গিয়েছে বলে দাবি করে শিভারুদ্রা। মালাম্মা শিভারুদ্রার বোন হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু, শিশুকন্যা নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা করছিল মাল্লাম্মা। তাই, তার সঙ্গে পরামর্শ করেই শিভারুদ্রা শিশুকন্যাটিকে কবর দিতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়েছিল বলে খবর। এদিকে, মালাম্মাও ঘটনার দিন সকালে হাসপাতাল থেকে ছুটি নিয়ে চলে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। শিশুকন্যাটিকে চাইল্ড কেয়ারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। মাল্লাম্মার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। 

ট্যাগ: