banglanewspaper

আব্দুম মুনিব, কুষ্টিয়া: বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র তীর্থস্থান কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়া বাড়িতে আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিন ব্যাপী লালন স্মরণোৎসব। লালন একাডেমীর আয়োজনে ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় রোববার সন্ধায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে লালন শাহের ১২৬ তম তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান।

এ উপলক্ষে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়া আঁখড়াবাড়ী লালন মাজারকে সাজানো হয়েছে নতুন সাজে। রাতে সাদা, লাল, নীল আলোক সজ্জা, বিশাল তোরণ, মাজারের বাইরে বিস্তৃণ কালী নদীর ভরাটকৃত জায়গায় স্থাপিত লালন মঞ্চের সামনে বিশাল ছামিয়ানা টাঙ্গানো হয়েছে। আলোচনা মঞ্চের চারপাশ লালন মাজারের প্রধান রাস্তা জুড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা।

প্রেম, ভক্তি আর ভালোবাসার টানে লালন ভক্ত অনুসারীরা জীবনের মধ্যে নতুন জীবন খুঁজে পাওয়ার শিক্ষা নিয়ে লালনের আখড়া বাড়িতে আসতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যেই মূল মাজারে ফকির-বাউলরা আসন পেতে বসেছে।

রোববার সন্ধায় তিনদিন ব্যাপী লালন মেলা ও আলোচনা সভার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করবেন সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। লালন একাডেমীর সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী, সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম, কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান খান, কুমারখালী পৌর মেয়র সামছুজ্জামান অরুন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আবুল আহসান চৌধুরী। তিনদিন ব্যাপী এই উৎসবকে সার্থক করতে লালন একাডেমী তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছেন একাডেমীর সদস্য সচিব মোহাম্মদ আতিকুল মামুন। 

কোন দাওয়াতপত্র দিয়ে নয়, শুধু আত্মশুদ্ধি আর মিলন মেলায় শরীক হতে দেশ থেকে দেশান্তর থেকে ইতোমধ্যেই বাউল-ফকিরদের আনাগোনায় ভরে উঠেছে লালন মাজার। এই আয়োজনকে সার্থক করতে নিরাপত্তাসহ বিশেষ করে বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি সকল আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালন একাডেমীর সভাপতি ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান। 
 

ট্যাগ: