banglanewspaper

হলিউডি সিনেমা মানে কেবল টানটান উত্তেজনায় ভরা ধুন্ধুমার অ্যাকশন  নয়। মানবিক অনুভূতি আর সম্পর্কের আবগময় উপস্থাপন মাঝে মাঝেই দর্শককে ভাবুক করে। বিশেষ করে বন্ধুত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ কিছু উপভোগ্য সিনেমা। বন্ধু দিবস উপলক্ষে তুলে ধরা হচ্ছে সেরকমই ১০টি সিনেমার কথা।

১. ডেড পোয়েটস সোসাইটি

ওয়েলটন অ্যাকাডেমির ধরাবাঁধা নিয়মের বেড়াজালের ফাঁকে একটু শ্বাস নিতে টড, নক্স, জেরার্ড, চার্লি এবং আরও কয়েকজন বন্ধু মিলে গড়ে তোলে ‘ডেড পোয়েটস সোসাইটি’ নামের অন্যরকম এক গোপন ক্লাব। স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক জন কিটিং এর অনুপ্রেরণায় নতুন করে নিজেদের আবিষ্কার করতে শেখে এই কিশোররা। ‘কারপে ডিয়েম’ অর্থাৎ বর্তমানে বাঁচার প্রয়াসই তাদের মূলনীতি হয়ে দাঁড়ায়।

এমনই এক অসাধারণ বন্ধুত্বের গল্প নিয়ে ১৯৮৯ সালে মুক্তি পায় ‘ডেড পোয়েটস সোসাইটি’। জন কিটিং চরিত্রে রবিন উইলিয়ামস এবং ছাত্রদের ভূমিকায় ইথান হক, রবার্ট সিন লিওনার্ড, জশ চার্লসের অনবদ্য অভিনয় যে কোন দর্শককে আবেগপ্রবণ করে তুলতে বাধ্য।

২. ই.টি দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল

মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব হয়, বন্ধুত্বের বাঁধনে জড়ায় মানুষ আর পশুও। কিন্তু ভিনগ্রহবাসীর সঙ্গে বন্ধুত্ব? এমনই এক অভিনব গল্প নিয়েই নিজের আইকনিক সিনেমা `ই.টি দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’ তৈরি করেছিলেন বরেন্য নির্মাতা স্টিভেন স্পিলবার্গ।  

বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে কিছুটা গুটিয়ে যাওয়া এলিয়ট হঠাৎ করেই দেখা পেয়ে যায় ভিনগ্রহের এক বাসিন্দার। এলিয়টের একাকীত্ব ঘুচিয়ে দেয় ভিনগ্রহবাসী ই.টি। গড়ে ওঠে অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের সম্পর্ক। সরকারি বাহিনীর হাতে পড়লে ই.টির ভাগ্যে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই নেই, তাই তাকে রক্ষার জন্য দশ বছর বয়সী এক কিশোর একাই লড়ে যায়। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির গল্প কিশোর বয়সে নিজের কাল্পনিক বন্ধুর কথা ভেবেই লিখেছিলেন পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ। সে সময় শোনা গিয়েছিল, সত্যজিৎ রায় এই সিনেমার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছেন। এমনকি সিনেমার চিত্রনাট্যে ছিল সত্যজিতেরই অপ্রকাশিত গল্প ‘দ্য এলিয়েন’-এর ছায়া। সিনেমাটি বক্স অফিস মাতিয়ে দিয়েছিল, জিতে নিয়েছিল ৪টি অস্কারও।

৩. দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন

সিনেফাইল বা সিনেমার ঘোর ভক্তদের জন্য ইতিহাসের সর্বকালের সেরা সিনেমাগুলোর মধ্যে ১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য শশাঙ্ক রিডেম্পশন’-এর নাম থাকবেই। ২০ বছর ধরে এখনও সিনেমাটি ৯.৩ রেটিং নিয়ে দখল করে আছে ইন্টারনেট মুভি ডাটাবেইজ তথা ‘আইএমডিবি’-এর শীর্ষস্থান। মিথ্যে মামলায় ফেঁসে যাওয়ায় ব্যাঙ্কার অ্যান্ডি ডুফ্রেইন্সকে পাঠানো হয় শশাঙ্ক কারাগারে। কারাগারে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে আরও কয়েকজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর সঙ্গে। কয়েদীদের জন্য জেলখানার দুঃসহ জীবন সহজ করে তোলে তাদের বন্ধুত্ব। টিম রবিনস আর মরগান ফ্রিম্যান অভিনীত অ্যান্ডি ডুফ্রেইন এবং রেড চরিত্র দুটি যেন চিরকালই অমর বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে থাকবে সেলুলয়েডের ইতিহাসে।

৪. টয় স্টোরি সিরিজ

নিজের খেলনা পুতুলগুলো খুব বেশিই প্রিয় অ্যান্ডি নামের এক কিশোরের কাছে, বিশেষ করে ‘উডি’নামের কাউবয়টি। অনেকটা জাদুর বলেই অ্যান্ডির অনুপস্থিতিতে তার খেলনা পুতুলগুলো হয়ে ওঠে জীবন্ত। বড় হয়ে যাওয়ার পর অ্যান্ডি বাড়ির বাইরে রেখে আসে পুতুলগুলো। নিজেদের বন্ধুত্বের জোরে সমস্যার সমাধান করে এগিয়ে চলে তারা। ‘টয় স্টোরি’ সিরিজের অ্যানিমেটেড সিনেমা তিনটিতে পুতুলদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক এতটাই গভীরভাবে দেখিয়েছেন পরিচালক জন ল্যাসেটার যে সিরিজটি শেষ হবার পর তাদের আর একসঙ্গে দেখা যাবে না বলে অনেক ভক্তের চোখেই অশ্রু ঝরেছে। টম হ্যাঙ্কস, টিম অ্যালেনের মত তারকারা সিনেমায় বিভিন্ন চরিত্রের কণ্ঠদান করেছেন এবং এই কাজে তারা দেখিয়েছেন অনবদ্য দক্ষতা।

৫. হ্যারি পটার সিরিজ

জে.কে রাওলিং এর উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি ‘হ্যারি পটার’ সিরিজের প্রত্যেকটি সিনেমাই যেন চরিত্রগুলোর বন্ধুত্বের সম্পর্কটাকে করে তুলেছে আগের চেয়ে আরও বেশি জোরালো। হ্যারি পটার, রন উইসলি এবং হারমায়োনি গ্রেঞ্জার- তিন হগওয়ার্টস পড়ুয়া বন্ধু সবসময় এক সঙ্গে লড়ে গেছে অশুভ শক্তির বিপক্ষে। ডার্ক লর্ড ভোল্ডেমর্টের হাত থেকে রেহাই পাওয়া বিস্ময় বালক হ্যারি তার বন্ধুদের স্বার্থে নিজেকে প্রতিবার দাঁড় করিয়েছে মৃত্যুর মুখে, তবে কম যায়নি বাকি দুইজনের কেউই। ২০০১ থেকে শুরু, আর ২০১১ তে এসে সমাপ্তি- মাঝের ১০টি বছরে নির্মিত ‘হ্যারি পটার’ সিনেমাগুলো হ্যারি, রন এবং হারমায়োনির অবিচ্ছেদ্য বন্ধুত্বের নিদর্শন হয়ে রয়ে গেছে।  

৬. ও ব্রাদার, হোয়্যার আর্ট দাও

১৯৩০ এর মার্কিন ‘গ্রেট ডিপ্রেশন’ এর প্রেক্ষাপটে সিনেমাটির গল্প এগোয় তিন জেল পালানো কয়েদীকে নিয়ে। বহু কষ্টে সংরক্ষিত কিছু ডলার দিয়ে নিজের পরিবারকে আবার ফিরে পেতে চায় এভার্ট, সঙ্গী পিট আর ডেলমারের সহায়তায় এড়াতে চায় কর্তৃপক্ষের লোলুপ দৃষ্টি। সিক্রেট সোসাইটিগুলোর কূট চাল আর বিরোধী মেয়রের ষড়যন্ত্রকে ঠেকিয়ে তারা মুখোমুখি হয় কঠিন এক অভিযানের। ঐতিহাসিক পটভূমিতে বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহকে এক সঙ্গে এনে জোয়েল এবং ইথান কোয়েন ২০০০ এ নিয়ে আসেন ‘ও ব্রাদার, হোয়্যার আর্ট দাও’ সিনেমাটি। হোমারের মহাকাব্য ‘ওডিসি’ থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন জর্জ ক্লুনি, জন টরটুরো এবং টিম ব্লেইক নেলসন।

৭. দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস ট্রিলজি

পিটার জ্যাকসন পরিচালিত ‘দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস’ অনেকের মতে এখন পর্যন্ত নির্মীত সেরা ফ্যান্টাসি সিনেমা ট্রিলজি। চরম ক্ষমতার অধিকারী আংটিকে আবারও ডার্ক লর্ড সাওরনের হাত থেকে রক্ষা করতে দুঃসাহসী এক অভিযানে নামে নির্জন শায়ার অঞ্চলের হবিট ফ্রোডো ব্যাগিন্স। অভিযানে যোগ দেয় তার বন্ধু স্যাম, পিপিন এবং মেরি। ফ্রোডোকে সব অশুভ শক্তির হাত থেকে বাঁচাতে তিন বন্ধু আর তাদের সাথী গ্যান্ডালফ, বরমির, লিগোলাস, আরাগন রুখে দাঁড়ায় একসঙ্গে।

৮. দ্য পার্কস অফ বিয়িং আ ওয়ালফ্লাওয়ার

নতুন হাই স্কুলে এসে অচেনা মানুষদের মাঝে দুই সিনিয়র শিক্ষার্থীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে যায় ১৫ বছর বয়সী চার্লির। সমকামী প্যাট্রিকের কঠিন সময়ে ছায়ার মত সবসময় পাশে থাকে চার্লি আর স্যামের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা আরও গভীর হয় প্রণয়ে। স্টিফেন চবস্কির উপন্যাস অবলম্বনে ২০১২ সালে নির্মীত ‘দ্য পার্কস অফ বিয়িং আ ওয়ালফ্লাওয়ার’ একটি অনন্য বন্ধুত্বনির্ভর সিনেমা । টিনএজারদের নানা সমস্যা ও সেগুলো কাটিয়ে বড় হওয়ার পথে বাড়ানোয় বন্ধুর বাড়িয়ে দেওয়া হাত কতটা শক্তি যোগায় - তা তুলে ধরে এই সিনেমা। ‘হ্যারি পটার’ খ্যাত এমা ওয়াটসন এবং ‘পার্সি জ্যাকসন’ -এর অভিনেতা লোগান লারমানের অনবদ্য অভিনয় সিনেমাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

৯. টেন থিংস আই হেইট অ্যাবাউট ইউ

নব্বইয়ের দশকজুড়ে টিন রোমান্স কিংবা বন্ধুত্ব নিয়ে তেমন কোনো সিনেমা না হলেও ১৯৯৯ সালে গিল জাঙ্গার নির্মাণ করেন ‘টেন থিংস আই হেইট অ্যাবাউট ইউ’। এই সিনেমার মাধ্যমে খ্যাতির আলোয় আসেন বর্তমানের জনপ্রিয় অভিনেতা জোসেফ গর্ডন লেভিট এবং ‘ব্যাটম্যান: দ্য ডার্ক নাইট’-এ ‘জোকার’ চরিত্রটিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হিথ লেজার। স্কুলের সবচেয়ে সুন্দর মেয়ে বিয়াঙ্কাকে পাওয়ার জন্য ক্যামেরন বন্ধুত্ব করে ভবঘুরে প্যাট্রিকের সঙ্গে। সেখান থেকেই বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে প্যাট্রিক আর ক্যামেরন হয়ে ওঠে সবচেয়ে ভালো বন্ধু।

১০. ফেরিস বুয়েলারস ডে অফ

স্কুল পালাতে অদ্ভুত এবং মজার কিছু পরিকল্পনা করে ফেরিস বুয়েলারস। বন্ধু ক্যামেরন ফ্রেইয়ের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে দুজন, এমনকি নিজের প্রেমিকা স্লোয়ানের বাবা সেজে তাকে নিয়ে আসে তার স্কুল থেকে। স্কুল পালিয়ে দুর্দান্ত কিছু অভিযানের গল্প নিয়ে ১৯৮৬ সালে জন হিউ নিয়ে আসেন ‘ফেরিস বুয়েলার’স ডে অফ’। টিন অ্যাডভেঞ্চার সিনেমাটি সে সময় দারুণ জনপ্রিয়তাও পায়।

ট্যাগ: