banglanewspaper

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চৌধুরীবাজার গাউছিয়া সুন্নিয়া কুতুবশাহ আলিম মাদ্রাসার সুপার ও কুলাউড়া রেলওয়ে জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আইয়ুব আনসারীর বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মাদ্রাসাকে পুঁজি করে বিভিন্ন প্রতারণার মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের পাহাড়। মাদ্রাসার বর্তমান ম্যানেজিং কমিটি বিগত দিনের হিসাব চাইতেই বেরিয়ে এসেছে থলের বিড়াল। নিজের অনিয়ম, ভূয়া বাউচার এবং হিসাব নিকাশে আকাশ পাতাল গরমিল ধরা পড়ায় নিজেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটি হিসাব চাইলে ২০০৩ সাল থেকে ২০১৫ বছরের টাকার কোন সুষ্ঠ হিসাব দেখাতে পারেনি তিনি। ওই ১২ বছরে মাদ্রাসার আয় হওয়াতো দূরের কথা ঋণ দেখিয়েছেন কয়েক লক্ষ টাকা। ওই ১২ বছর মাদ্রাসার সুপার ভর্তুকি দেখিয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার কাছ থেকে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩ লক্ষ টাকা করে আনতেন। এছাড়াও এলাকার ধানশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে চাদা আদায় করে ডুকিয়েছেন নিজের পকেটে। মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন না দিয়ে ভূয়া টাকা উত্তোলনের সই দেখিয়ে শিক্ষকদের টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

রমজান মাসে দারুল ক্বেরাতের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এছাড়াও বিদেশে আদম পাচারের নামে হাতিয়ে নিয়েছেন অনেক যুবকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা। তার ওই ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত অনেক যুবক। এদিকে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মাদ্রাসার দপ্তরি রইছ উদ্দিন কর্তৃক নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে। এসময় ছাত্রী আত্মচিৎকার দিয়ে কৌশলে রুম থেকে বের হয়ে যায়। তাৎক্ষণিক ছাত্রী বিষয়টি মাদ্রাসার সুপার ও সহ-সুপারকে অবগত করলেও তারা এ ব্যাপারে  কোনো গুরুত্ব দেননি।

পরবর্তীতে ছাত্রী বিষয়টি পরিবারের কাছে অবগত করলে তার পরিবারের স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্টু বিচার দাবি করেন। গত ১৭ জানুয়ারি ম্যানেজিং কমিটির সভায় এ অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করে অভিযুক্ত দপ্তরি ও সহ-সুপারকে মাদ্রাসা থেকে সাময়িক বহিস্কার করলে বিষয়টি তাৎক্ষণিক চাউর হয়ে যায়।

সুপারের ইন্দনে মাদ্রাসার সহ-সুপারের পক্ষ নিয়ে বহিরাগতরা সভাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা এবং কমিটির সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হামলা করার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সভাটি মূলতবি ঘোষনা করা হয়। সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি সকাল ১১টায় বিগত মুলতবি সভা আহবান করেন মাদ্রাসার সুপার আইয়ুব আনসারী।

সভা শুরু হতে না হতেই আবার বহিরাগতরা এসে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে হামলা চালায় ও কর্তৃপক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব কুতুবশাহ (বাচ্চা পীর) সহ কমিটির সবাইকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তারা হামলার চেষ্টা করে। এসময় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আইয়ুব আনসারী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে নীরবতা পালন করেন। তার এ নীরবতায় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সহ অন্যান্য সদস্যরা সুপারের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে এ পরিস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি সভাস্থল থেকে বেরিয়ে এসে উত্তেজিতদের শান্ত করেন। কমিটির পক্ষ থেকে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব কুতুবশাহ (বাচ্চা পীর) জানান, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা আমার একটা স্বপ্ন ছিল। অনেক ত্যাগ-তীতিক্ষা ও কষ্টের ফসল হলো এই প্রতিষ্ঠানটি। এতদ অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণের জন্য আমি এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি সকলের সহযোগিতা নিয়ে।

কিন্তুু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমার সরলতার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসার সুপার আইয়ুব আনসারী বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে এ পর্যন্ত দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যার কোন সঠিক হিসাব তিনি ম্যানেজিং কমিটিকে দিতে পারছেন না। বিগত ১২ বছর মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যায় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে প্রতিমাসে সর্বনিন্ম ৩ লক্ষ টাকা করে নিতেন।

বর্তমানে ম্যানেজিং কমিটি মাদ্রাসার হিসাব চাওয়ার কারণে উল্টো তিনি বিভিন্ন ছলচাতুরী ও কূটকৌশলের মাধ্যমে এলাকা ও ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে মাদ্রাসাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। মাদ্রাসার সুপারের পদ ব্যবহার করে আমার ছোটভাই (শ্যালক) সহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী করে আমেরিকায় পাঠানোর নামে হাতিয়ে নিয়েছেন ১৩ লক্ষ টাকা।

এ ব্যাপারে মাওলানা আইয়ুব আনসারী জানান, সম্প্রতি মাদ্রাসার দপ্তরি রইছ উদ্দিনকে নিয়ে যে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তা বিভিন্ন মাধ্যমে ফ্লাস হয়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বিগত দিনের অডিট রিপোর্টে হিসাব-নিকাশের ব্যাপারটি সচছ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী করে আমেরিকায় পাঠানোর ব্যাপারে তিনি জানান, মূলত বাচ্চাপীরের ছোটভাই (শ্যালক) আমার ভগ্নিপতির সাথে চুক্তি করেছিল। আমি এর মধ্যস্থতায় ছিলাম। পরে আমার ভগ্নিপতি আমেরিকায় পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরৎ দিয়েছে।

ট্যাগ:

সিলেট
সিলেটে জ্বালানি সংকট, বন্ধ হচ্ছে পাম্প

banglanewspaper

সিলেটের পাম্পগুলোতে কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমদিকে তেল মজুদ থাকায় সংকট কিছুটা কম হলেও মজুদ ফুরিয়ে আসায় সিলেটজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বেশিরভাগ পাম্পে মিলছে না অকটেন। একই চিত্র নগরীতেও। ফলে শতাধিক পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দ্রুত জ্বালানি তেলের সংকট সমাধান না হলে লাগাতার ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিলেটের পাম্প মালিকরা।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরের কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে অকটেন নেই। এ সময় অনেককে তেল না নিয়েই ফিরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার অকটেন না পেয়ে পেট্রোল নিয়ে যাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় পেট্রোলও মজুদ না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছে না পাম্পগুলো।

সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার সিএনজি ও নর্থ ইস্ট ওয়েল পাম্পের ম্যানেজার স্বপন কুমার দত্ত জানান, তিন চারদিন থেকে কোম্পানিগুলো অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। প্রথদিকে মজুদকৃত তেল দিয়ে সংকট কাভার করা গেলেও এখন মজুদও ফুরিয়ে গেছে। ফলে আমরা অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছি। এভাবে চলতে থাকলে পাম্প বন্ধ করে দিতে বলেও জানান তিনি।

পাম্প মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কম হওয়ায় বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নিরবচ্ছিন্ন রেলের তেলবাহী ওয়াগন না আসায় এবং সিলেটের গ্যাস ফিল্ডগুলোর খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্ঠি হয়েছে।

আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে তেল সংকটের সমাধান না হলে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদের নেতারা। এর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গত ২৭ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২৬ ডিসেম্বর ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন নেতারা।

সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টি ও জেলায় ৭০টি পাম্প রয়েছে। বর্তমানে সিলেটে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর তুলনায় প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল আসছে।

সূত্র আরও জানায়, তেল সরবরাহের জন্য প্রথম পর্যায়ে ২৪টি ওয়াগন দিলেও পরে তা কমিয়ে ২০টি করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জের রেল দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে বর্তমানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত রেলের ২০টি ওয়াগন আসছে। শায়েস্তাগঞ্জে আসার পর ১০টি করে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে তেল পরিবহণে বেশি সময় লাগছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও তারা আমাদের কথা রাখেননি। এমনকি তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। আমাদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্বে সাপ্তাহে ৩ রেক তেল আসলেও এখন আসে ১ রেক তেল। যা সিলেটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সিলেটের চাহিদা সাড়ে ৫ লাখ লিটার তেল সিলেট বিভাগে। এর মধ্যে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে বিতরণ করা হয় প্রায় ১লাখ লিটার তেল। 

তিনি আরও বলেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে একটি চক্র। তেল বিক্রি না করায় এই গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার তেল নষ্ট হচ্ছে।

ট্যাগ:

সিলেট
সাকিবকে হত্যার হুমকি: স্ত্রীর সহযোগিতায় গ্রেফতার মহসিন

banglanewspaper

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকি দিয়ে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে পালিয়ে ছিলেন মহসিন তালুকদার। লুকিয়ে ছিলেন জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসি গ্রামের একটি বাড়িতে। ওই বাড়িটি তার ভায়রার। সেখান থেকেই আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-৯-এর জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ রাসেল বলেন, মহসিন সুনামগঞ্জে লুকিয়ে আছেন, এই খবর পেয়ে সোমবার রাতেই তিনটি দল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে। সুনামগঞ্জে থাকা তার বিভিন্ন আত্মীয় ও পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সিলেট থেকে তার স্ত্রী ও ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সুনামগঞ্জে আনা হয়। স্ত্রীও মহসিনকে ধরতে সহায়তা করেন। মঙ্গলবার সকালে একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন মহসিন।ওই ফোনের সূত্র ধরেই তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‌্যাব। পরে রনসি গ্রামের ওই বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর মহসিনকে সিলেট র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মহসিন তালুকদার সিলেট সদর উপজেলার শাহপুর তালুকদারপাড়া গ্রামের আজাদ বক্স তালুকদারের ছেলে। মহসিন একসময় ব্যবসা করলেও করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বেকার।

গত শনিবার রাত ১২টার দিকে তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসেন। সম্প্রতি কলকাতায় কালীপূজার একটি অনুষ্ঠানে সাকিবের উপস্থিতির কারণে তাকে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেন এই যুবক। এরপর রবিবার ভোর ছয়টার দিকে আবারও লাইভে এসে আগের ভিডিওর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাকিব আল হাসানকে জাতির উদ্দেশে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে গতকাল কলকাতায় পূজার আয়োজনে অংশ নেওয়া এবং এক ভক্তের মোবাইল ভাঙার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ভিডিও বার্তা দেন সাকিব।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে জালালাবাদ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে মহসিন উদ্দিনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

সুনামগঞ্জ থেকে মহসিনকে গ্রেফতারের সময় র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুসা মোহাম্মদ শফিউর রহমান, র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম, র‌্যাবের সুনামগঞ্জ কোম্পানির কমান্ডার ফয়সল আহমদ, একই কোম্পানির জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:

সিলেট
লাউয়াছড়া ও মাধবকুণ্ড খুলছে আজ

banglanewspaper

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজাউল করিম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ৭ মাস লাউয়াছড়া উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এখন আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকরা আজ থেকে মাধবকুণ্ড ও লাউয়াছড়া যেতে পারবেন।

সরকারি নির্দেশে গত ১৯ মার্চ থেকে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল।  

ট্যাগ:

সিলেট
ধর্ষকদের ধরতে সিলেট সীমান্তে কড়া নজরদারি

banglanewspaper

সিলেট এমসি কলেজে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যেই এ মামলায় প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ থেকে সাইফুর ও হবিগঞ্জ থেকে অর্জুনকে গ্রেফতার করা হয়।  এদিকে ধর্ষকরা যাতে কোনোভাবে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সিলেটের সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু হয়।  গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জের ছাতকে অভিযান চালানো হয়।  এ সময় গ্রেফতার হয় ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে হেফাজতে নেবে সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশ।

একই সময়ে হবিগঞ্জের মাধপুরের মনতোলা সীমান্ত এলাকায়ও অভিযান চালায় পুলিশ।  এ সময় গ্রেফতার হয় মামলার ৪ নম্বর আসামি আরেক ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন লস্কর।  সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।

এদিকে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সহযোগীসহ বাকি সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি আমরা।  ধর্ষণের অপর অভিযুক্তদের পালানো ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে।

এদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা চলছে।  শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী।  সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সাইফুরসহ ছাত্রলীগের কয়েকজনের বিরুদ্ধে।  খবর পেয়ে ওই তরুণী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে শাহপরান থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৯ জনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করা হয়। এছাড়া শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়ও মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায়ও প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছে সাইফুরের নাম।  

ট্যাগ:

সিলেট
এমসি কলেজে বেড়াতে আসা স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে গণধর্ষণ

banglanewspaper

সিলেটের এমসি কলেজে বেড়াতে আসা দম্পতিকে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করেছে। পরে ওই তরুণীকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে আসেন দক্ষিণ সুরমাার শিববাড়ি এলাকার এ দম্পতি। রাত ৯টার দিকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত স্বামীসহ স্ত্রীকে পার্শ্ববর্তী একটি ছাত্রাবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্বামীকে আটকে রেখে মারধর করে স্ত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে ছাত্রলীগ কর্মী রবিউল, তারেক, রনি, সাইফুর, মাহফুজসহ কয়েকজন। 

খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রাবাস থেকে তাদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

এদিকে, লোমহর্ষক এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন ধর্ষণের শিকার তরুণীর স্বামী। 

এর আগে গতরাত ২টার দিকে এমসি কলেজের ওই ছাত্রাবাসে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের ঘটনার জড়িত ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমানের রুম থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল সংখ্যক দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি লম্বা দা, একটি ছুরি, দুটি জিআই পাইপ উদ্ধার করে নগরীর শাহপরাণ থানা পুলিশ। 

অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন শাহপরাণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গণধর্ষনের ঘটনার পর রাতেই এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সাইফুর রহমানের রুম থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

ট্যাগ: