banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে লিখিত বক্তব্যের বাইরে প্রায় সময়ই রসিকতা করে বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেও তার হাস্যরসে মাতলো শিক্ষার্থীরা। কখনও মুচকি হাসি, কখনও অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা। বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন প্রয়োজন।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন অনুষদের ডিনদের সুপারিশে ৬১জনকে পিএইচডি, ৪৩জনকে এমফিল এবং ১৭ হাজার ৮৭৫জনকে গ্র্যাজুয়েট হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এরপর ৯৪টি স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত ৮০জনকে পদক প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৬১ সালে আমি ম্যাট্রিক পাস করেছি, তাও থার্ড ডিভিশনে। আই এ পাস করেছি, এটাতোও এক সাবজেক্টে অর্থাৎ লজিকে রেফার্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হতে আসলাম, তখন ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটা পর্যন্ত আমাকে দেওয়া হল না। বন্ধু, বান্ধব অনেকে ভর্তি হল।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে প্রায় সময়ই পরিশিলীত বাংলার সঙ্গে কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষা মিলিয়ে কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

আবদুল হামিদ বলেন, ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ব থাকতে হবে ছাত্রদের হাতে। কোনো বয়স্কের হাতে নেতৃত্ব থাকলে এর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে না। বাবা ছাত্রনেতা আর ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এটা কোনো রাজনীতি হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্ররাজনীতির হারানো অতীত ফিরিয়ে আনতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। তাদেরকে নেতা বানাতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র তাদের হাতেই নেতৃত্ব দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় অছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া হয় এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এদিকে সমাবর্তন উপলক্ষে শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় অনুষ্ঠানস্থলে আসতে থাকেন। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়া কালো গাউন আর সমাবর্তন ক্যাপ পরে এসেছেন। জীবনের স্মরণীয় মুহ‍ূর্তকে ফ্রেমবন্দি করছেন তারা।

ট্যাগ: