banglanewspaper

নিজ সংবাদ : র‌্যাবের গোয়েন্দা প্রধান আবুল কালাম আজাদের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে র‍্যাবের গোয়েন্দা প্রধানের লাশ ঢামেক মর্গে নেওয়া হয়। গতকাল দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

প্রসঙ্গত, গত ২৫ মার্চ সিলেটের শিববাড়িতে অভিযানের সময় বোমা বিস্ফোরণে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) গোয়েন্দা শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ গুরুত্বর আহত হন।

আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নেয়া হয়। পরে তাকে ঢাকায় সিএমএইচে এবং সেখান থেকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হয়।

পরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের ডাক্তারদের পরামর্শে তাকে আবার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ৫ মিনিটে চিকিৎসকরা আজাদকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবুল কালাম আজাদের প্রথম জানাজা বাদ জুমা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা র‍্যাব সদর দপ্তরে বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। পরে বনানীতে ঢাকা সামরিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের মনকষা গ্রামে লে.কর্নেল আবুল কালাম আজাদের বাড়ি। ৩৪তম বিএমএ লং কোর্সে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তিনি ৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন কর্মকর্তা। ২০০৫ সালে তিনি সিলেটের জালালবাদ সেনানিবাসে প্যারাট্রুপারের প্রশিক্ষণ নিয়ে প্যারাকোমান্ডো হিসাবে উত্তীর্ণ হন।

২০১১ সালের দিকে মেজর আজাদ হিসাবে র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক হিসাবে যোগ দেন। ২০১৩ সালের অক্টোবরে তিনি লে.কর্নেল পদে পদোন্নতি নিয়ে গোয়েন্দা শাখার পরিচালক হিসাবে নিয়োগ পান। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে জেএমবি, হরকাতুল জিহাদ ও হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের গ্রেফতারের ব্যাপারে লে. কর্নেল আজাদের অবদান রয়েছে।

র‌্যাব সূত্র জানায়, সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ লে. কর্নেল আজাদের পোস্টিং হয়। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে তার র‌্যাব থেকে বিদায় নেয়ার কথা ছিল। তার আগেই তিনি ২৪ মার্চ সিলেটের শিববাড়ির আতিয়া মহলে জঙ্গি অভিযানের খবর পেয়ে তিনি র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার উপ-পরিচালক মেজর আজাদকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে ছুটে যান।

ট্যাগ: