banglanewspaper

এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় আমানতুল্লাহ ইসলামি একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে লোকচক্ষুর আড়ালে নির্বিঘ্নে চলছে প্রশংসাপত্র বাণিজ্য। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ প্রশংসাপত্র দেওয়ার নাম করে এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাগামহীন অর্থ।

প্রশংসাপত্র নিতে আসা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলার পর ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। একই সময়ে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের একেকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে বলে এসময় জানায় শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থী জানায়, কলেজে ভর্তির জন্য স্কুলে প্রশংসাপত্র নিতে আসলে প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মোঃ আসিরউদ্দিন আমার কাছে ৩০০ টাকা নিয়েছে। আমার সহপাঠীদের কারো কারো কাছে ১০০-২০০ টাকা করেও নিয়েছে। অতিরিক্ত অর্থের বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, 'এ বিষয়ে তুমি বেশি বক বক করিওনা, না হলে তোমার প্রশংসাপত্রে লাল কালি বসিয়ে দিব।'

বিষয়টি নিয়ে আমানতুল্লাহ ইসলামি একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজে কথা বলতে গেলে হিসাবরক্ষণের দায়িত্বে থাকা শিক্ষক মোঃ আসিরউদ্দিনের রুমে তালা ঝুলতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে আমানতুল্লাহ ইসলামি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শামসুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অবস্থান করছেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এই বিষয়ে আমানতুল্লাহ ইসলামি একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা বিদ্যালয়জীবনে শিক্ষার্থীদের শেষ চিহ্নটুকু নিয়ে বাণিজ্য করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ:

রংপুর
শ্বশুড়বাড়ি থেকে জামাইয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার

banglanewspaper

নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্বশুড়বাড়ি থেকে আলমগীর হোসন (৩২) নামে এক জামাইয়ের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৮) বিকেল ৫টার দিকে পৌর এলাকার উত্তরা আবাসনের বাঙ্গালী পট্টির ২৪/৭ নম্বর বাড়িতে। 

এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাশুড়ী আবেদা খাতুন ওরফে হাইজানীসহ ৩ জনকে থানায় নেয়া হয়েছে। নিহত আলমগীর হোসেন একই এলাকার তছিমুদ্দীনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইজিবাইক চালক। 

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নিহত আলমগীর হোসেন প্রায় দশ বছর পূর্বে একই এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে আতিকা পারভীনকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। কিন্তু আলমগীরের পরিবার এ বিয়ে মেনে না নেয়ায় শ্বশুড়বাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে আসছিল। 

ঘটনার দিন আলমগীর হোসেন ইজিবাইক চালিয়ে বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে শ্বশুড়বাড়িতে আসেন। এ সময় তার স্ত্রী পেশাগত কারণে উত্তরা ইপিজেডে অবস্থান করছিল। 

শ্বশুড় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এ সময় বাড়ির বাইরে ছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শোয়ার ঘরের বিছানায় গলাকাটা অবস্থায় আলমগীরকে দেখতে পায় তার শাশুড়ী। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। 

খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে আলমগীরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের স্ত্রী আতিকা পারভীন বলেন, বেশ কয়েকদিন ধরে স্বামী আলমগীর ঘুমের ঘোরে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছিলেন। এ ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে তিনি মনে করেন। তবে নিহতের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম আত্মহত্যার বিষয়টি সাজানো উল্লেখ করে এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। 

নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সৈয়দপুর সার্কেল) সারোয়ার আলম জানান, মরদেহের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের শাশুড়ীসহ ৩ জনকে থানায় নেয়া হয়েছে।
 

ট্যাগ:

রংপুর
স্ত্রীকে না পেয়ে এবার ফেসবুক লাইভে যুবকের আত্মহত্যা!

banglanewspaper

রাজধানীর ধানমণ্ডিতে চিত্রনায়ক রিয়াজের শ্বশুর মো. আবু মহসিন খানের ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে এমনই আরেক কাণ্ড ঘটালেন রংপুরের পীরগাছার এক যুবক। চাচা শ্বশুড়ের বাড়ি থেকে স্ত্রীকে আনতে না পেরে তিনি ফেসবুক লাইভে এসে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তার নাম ইমরোজ হোসেন রনি (৩০)। আত্মহত্যার আগে তিনি স্ত্রী, শ্বশুর, চাচা শ্বশুর ও ভায়রা এমদাদুল হককে দায়ী করেন।

শনিবার সকালে তিনি বিষপান করেন এবং রবিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের নিজ তাজ গ্রামের মৃত তৈয়ব মিয়ার একমাত্র সন্তান। এ ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, ইমরোজ হোসেন রনি (৩০) বিগত ৪ বছর পূর্বে ভালোবেশে বিয়ে করেন পার্শ্ববর্তী পশ্চিম হাগুরিয়া হাসিম গ্রামের দিনমজুর বাদল মিয়ার মেয়ে শামীমা ইয়াসমিন সাথীকে। বিয়ের পর তাদের আবু শাকিব রিশাদ নামে দুই বছরের সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি রনির কাছে দেনমোহরের ৫ লাখ টাকা ও শ্বশুর-শাশুড়ির ভরণ-পোষণ দাবি করে আসছিল তার স্ত্রী। এ নিয়ে কাউকে কিছু না বলে গত বুধবার পার্শ্ববর্তী রতনপুর গ্রামের চাচা মুকুল মিয়ার বাড়িতে চলে যান স্ত্রী সাথী। শনিবার সকালে তাকে আনতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন ইমরোজ হোসেন রনি।

লাইভে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী আমাকে না বলে তিন দিন আগে তার চাচা মুকুল মিয়ার বাড়িতে চলে যায়। আমি আনতে গেলে তারা আমার কাছে দেনমোহরের ৫ লাখ টাকা দাবি করে। আমি এখন ফেসবুক লাইভে এসে বিষপানে আত্মহত্যা করবো। আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্ত্রী, শ্বশুর, চাচা শ্বশুর ও ভায়রা এমদাদুল হক দায়ী। এ বলে একটি সাদা বোতলের মুখ খুলে বিষপান করেন রনি। এসময় তার সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। কিন্তু তার পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র বলেন, ওই যুক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে। লাশ ময়না তদন্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার কথা জানেন না বলে জানান তিনি।

ট্যাগ:

রংপুর
তিস্তার চরে সোনালী ধানের হাতছানি

banglanewspaper

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদীর ধারে জেগে ওঠা চরের উর্বর পলিমাটিতে বোরো ধান চাষ করছেন তিস্তাপারের কৃষক। এরই মধ্যে ধান গাছ থেকে শীষ বেরুতে শুরু করেছে। সবুজ ধান গাছে ভরে উঠেছে তিস্তার ধার। অল্প পরিশ্রম ও খরচে ধান গাছে সোনালী ধানের হাতছানি দেখে চাষিদের মুখে হাসি ফুটছে।

সরেজমিনে তিস্তার চর বেষ্টিত গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারি,গজঘন্টা, মহিপুর, এসকেএস বাজার, মর্ণেয়াসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কথা হয় উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর গ্রামের কৃষক ইলিয়াস হোসেন পটু ও দুদু মিয়ার সাথে।

তারা জানান, তিস্তার ধারে জেগে ওঠা চরের উর্বর পলিমাটিতে তিস্তাপারের বেশ কিছু কৃষক বোরো ধানের চাষ করছেন। তারা দুজনে চলতি বছর প্রায় ৪ একর  তিস্তার ধারে জেগে ওঠা চরের উর্বর পলিমাটিতে বোরো ধানের চাষ করছেন।

তারা বলেন, পৌষ মাসের প্রথম দিকে বীজ তলায় চারা গাছ তৈরির পর চারা গাছের বয়স ২৫-৩০ দিন হলেই তা তুলে নিয়ে হাল চাষ ছাড়াই চরের উর্বর পলিমাটির চরে রোপন করা হয়। নদীর পানি নিকটে হওয়ায় হাত সেচ দিয়ে ধান গাছ বড় হতে থাকে। এছাড়া এ আবাদে অধিক কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের প্রয়োজন হয়না। চৈত্র মাসে নদীতে পানি আসার আগেই বোরো ধান কর্তন করা যায় বলে জানান একাধিক কৃষক।

লক্ষীটারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মমিনুর ইসলাম রব্বানী বলেন, চরাঞ্চলে বোরো ধান চাষ করা চাষিদের সরকারি সহায়তা দেয়া হলে তারা উৎসাহিত হয়ে আরও বেশি বোরো ধান চাষ করবেন। তিনি এসব চাষিদের সরকারি সহায়তা দেয়ার দাবি জানান।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল আলম বলেন, তিস্তার জেগে ওঠা পলিমাটির চরে চলতি বছর ব্যাপক বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এ উপজেলার চরাঞ্চলের চাষীরা অনেক পরিশ্রমী। তারা আমাদের পরামর্শক্রমে চরের পলিমাটিতে বোরো ধান চাষ করে চালের অভাব অনেকাংশে দূর করেন।

ট্যাগ:

রংপুর
শৈতপ্রবাহে কাঁপছে উত্তরাঞ্চল, জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত

banglanewspaper

শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে রংপুরসহ গোটা উত্তরাঞ্চল। শৈত্যপ্রবাহ আর হিমেল বাতাসের কারণে অনুভুত হচ্ছে তীব্র শীত। এর প্রভাবে আবারও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাত্রা।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় উত্তরাঞ্চলের জেলা কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সর্বনিম্ন ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, আর সকাল ১০টায় লালমনিরহাটে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। যা সারাদেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রোববার রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ আবহাওয়া ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখ পর্যন্ত থাকবে।

এছাড়াও নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস, ডিমলায় ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস, রংপুরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং দেশের সর্বোত্তরের উপজেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের পুর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার (১ ফেব্রুয়ারি) দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে এবং সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়াও মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে।

এদিকে হাড় কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুর নগরীসহ জেলার আট উপজেলা ও বিভাগের নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড় জেলাসহ উত্তর জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে ছিন্নমুল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে চরমে। আর তীব্রশীত উপেক্ষা করে জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বের হওয়া নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছে বিপাকে। খরকুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে শীতার্ত মানুষ।

সন্ধ্যার পর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শীতে বোরো বীজতলা, ভুট্টা, আলু, সবজিখেতসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

তিস্তা নদী বেষ্টিত রংপুরের গঙ্গচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার বিভিন্ন চরের বাসিন্দারা জানান, দুদিন থেকে প্রচুর শীত আর কনকনে ঠান্ডা পড়েছে। কাউনিয়ার চর প্রাণনাথ গ্রামের আতাউর রহমান, চর চতুরা গ্রামের আব্দুল মমিন ও পীরগাছার চর ছাওলার এনায়েত মিয়াসহ বেশ কয়েকজন জানান, এর আগে এরকম শীত দেখা যায়নি। অন্য এলাকার চেয়ে তিস্তার পাড়ে প্রচুর শীত।

অন্যদিকে অব্যাহত তীব্র শীতের কারনে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দিনাজপুর এম রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভাগের আট জেলা হাসপাতাল এবং ৫৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ বেড়েছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। নিউমোনিয়া, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে রোগীরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা হাসপাতালে ভীড় করছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে।

রংপুরের সিভিল সার্জন ডা. হিরম্ব কুমার রায় জানান, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীরা বেশি ভর্তি হচ্ছেন। যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দিতে বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।

ট্যাগ:

রংপুর
‘কোরআন অবমাননায়’ যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দিল জনতা

banglanewspaper

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগে তুলে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে ওই লাশ পেট্রোল ও কাঠ দিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে উপস্থিত লোকজন।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মাগরিবের নামাজের আগে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ঘটে এ ঘটনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি করেছে। এদিকে ঘটনার পর যুবকের মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয়া হয়। আগুন নেভাতে গেলে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ধাওয়া করে সরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

স্থানীয়রা জানান, দু’জন ব্যক্তি আসরের নামাজের সময় মসজিদে ঢোকে। নামাজ শেষে তারা ‘মসজিদে অস্ত্র আছে’ বলে দাবি করে। এ সময় তারা কোরআন ফেলে দেয় ও অবমাননা করে। এমন অভিযোগে একজনকে ধরে পিটিয়ে হত্যা করে আগুনে পোড়ানো হয়। অপরজন পালিয়ে যায়।

বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, আসরের নামাজ শেষে বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দুই জন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি আসেন। মসজিদের খাদেম জুবেদ আলীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের একজন মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে কোরআন-হাদিসের বই রাখার তাকে অস্ত্র আছে বলে তল্লাশি শুরু করেন। এক পর্যায়ে মসজিদের সামনে থাকা ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদের প্রবেশ করে ওই ব্যক্তিকে এবং বারান্দায় থাকা অপর ব্যক্তিকে মারধর করেন। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষের ভেতরে ঢুকে তালা লাগিয়ে রক্ষার চেষ্টা করি। তবে মুহূর্তে শত শত লোকজন জড়ো হতে থাকে। আমি ও স্থানীয় রফিকুল ইসলাম প্রধান নামে এক ব্যক্তি পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত, ইউএনও কামরুন নাহার, উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল ও বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম নেওয়াজ নিশাতকে ফোন করে ঘটনাস্থলে আসতে বলি। এরই মধ্যে উত্তেজিত জনতা কারও কথা না শুনে পরিষদের দরজা-জানালা ভেঙে এক ব্যক্তিকে বাইরে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ নিয়ে লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের বুড়িমারী প্রথম বাঁশকল এলাকায় কাঠখড়ি ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেখানে ৫-৬ হাজার উত্তেজিত মানুষ ছিল, কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আমরা লোক দুই জনের সঙ্গে কথা বলার সময় পাইনি। তাই পরিচয় নেওয়া সম্ভব হয়নি। এমন কি তাদের ধর্ম সম্পর্কেও জানা সম্ভব হয়নি।

বুড়িমারী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন আফিজ উদ্দিন বলেন, আমি আসরের নামাজ শেষ করে বাইরে বের হয়ে যাওয়ার সময় দেখতে পাই খাদেম জুবেদ আলীকে দুই জন অপরিচিত ব্যক্তি সালাম দিয়ে হ্যান্ডশেক করে কথা বলছিল। এরপর তারা মসজিদের ভেতরে ঢুকে যায়। আমিও চলে যাই। পরে ঘটনার কথা এসে শুনেছি। কিন্তু বিস্তারিত কিছু জানি না।

জানতে চাইলে ওই মসজিদের খাদেম জুবেদ আলী বলেন, আমাকে র‌্যাব ও আর্মির পরিচয় দিয়ে বলা হয় যে, কোরআন শরীফ ও হাদিস রাখার তাকে নাকি অস্ত্র আছে। এ কথা বলে তাদের একজন খোঁজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সবকিছু তছনছ করেন। এসময় মসজিদের বাইরে অবস্থানরত হোসেন আলী (৩৫) নামে এক মুসল্লিসহ ৫-৬ জন মুসল্লি মসজিদে প্রবেশ করে দুই জনকে আটক করে বাইরে নিয়ে আসেন। মসজিদের বারান্দার সিঁড়িতে প্রথম দফায় তাদের মারধর করা হয়। পরে হাফিজুল ইসলাম মেম্বার এসে তাদেরকে নিয়ে যায়। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই যুবকের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) আবিদা সুলতানা বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে না যাওয়ার আগে কোনও মন্তব্য করতে পারছি না। তবে আপনি যা শুনেছেন, আমরাও তা শুনেছি।

জেলা প্রশাসক আবু জাফর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সেখান সার্বিক পরিস্থিতি এখনই বলার মতো নয়। শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। একজনকে মেরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এসব সার্বিক বিষয়ে সরজমিনে জানার জন্য ও পরিস্থিতি বোঝার জন্য ঘটনাস্থলের পথে রয়েছি।

ট্যাগ: