banglanewspaper

বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে রোববার। দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকট কাটিয়ে উঠতে সীমান্ত ও রোহিঙ্গাসহ নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে এ বৈঠকে। এছাড়া দু’দেশের মধ্যে নিয়মিত নিরাপত্তা বৈঠক অনুষ্ঠানের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। আলোচনা হবে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন সেইনের বাংলাদেশ সফর নিয়েও।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানায়। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সকাল ১০টা থেকে এ বৈঠক শুরু হবে বলে জানা গেছে।
 
মায়ানমারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী উ থান্ট কিয়াওয়ের এ বৈঠক উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকা এসেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রোববারের বৈঠকে রোহিঙ্গা ও সীমান্ত ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে যে অনাস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে তা কাটিয়ে আস্থার সম্পর্ক স্থাপন করার বিষয়টি এ বৈঠকে গুরুত্ব পাবে। এছাড়া বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে ২০১১ সালে সই হওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন কার্যকর করা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশেষ কমিটি গঠনের ব্যাপারে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ।

এবারের বৈঠকে বাংলাদেশ পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক। তিনি ১৪ সদস্যের নেতৃত্ব দেবেন।

শুক্রবার মায়ানমারের প্রতিনিধি দল সিলেটের তামাবিল, জাফলং ও চা বাগানসসহ দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন। কয়েকটি সীমান্ত এলাকাও পরিদর্শন করবেন তারা।

শনিবার রাতে প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় ফিরে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিব পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন। দুপুর দেড়টায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে উ থান্ট কিয়াওয়ের বৈঠকের কথা রয়েছে।
সোমবার ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়বেন তারা।

ঢাকা সফরকালে মিয়ানমারের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

গত ১৮ জুন বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুন মাসের শুরুতে বাংলাদেশ সীমান্তে মায়ানমারের গুলিবর্ষণে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এক সৈনিক নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে বৈঠকে যোগ দিতে আসেনি মায়ানমার।

জানা গেছে, মায়ানমারের সঙ্গে এবারের নিয়মিত নিরাপত্তা বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। বৈঠকে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ, উপকূল দিয়ে জাহাজ চলাচল চুক্তি, সম্পূরক সীমানা প্রটোকল অনুসমর্থনসহ অন্যসব বিষয়ও স্থান পাবে। এছাড়া নিরাপত্তা ইস্যুতে সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বা কো-অরডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (সিবিএমপি) নিয়েও আলোচনা করা হবে।

নিয়মিত নিরাপত্তা বৈঠক বিষয়ে বাংলাদেশ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এর একটি খসড়া প্রস্তাব মায়ানমারকে পাঠিয়েছে। এটি মূলত দুই দেশের সীমান্ত ইস্যুগুলো নিয়ে একটি গাইডলাইন। এর মধ্যে সীমান্ত দিয়ে মাদক, নারী বা অস্ত্র পাচারসহ যাবতীয় অবৈধ কাজ চিহ্নিত করে তা প্রতিরোধের বিষয়গুলো সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া সীমান্তে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, অসুরক্ষিত স্থানগুলো চিহ্নিতকরণ, সমন্বিত পেট্রোলিং এবং গোয়েন্দা তথ্যের আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
 
এর আগে ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল দু’দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের সপ্তম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মায়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে। সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহিদুল হক।

ট্যাগ: