banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ঈদের পরও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নামে নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে প্রচারণার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুন রাতের আঁধারে উধাও করে দিচ্ছেন বলেও কিছু কিছু স্থানে খবর পাওয়া গেছে।

তবে আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পস্ট বলেছেন, দ্বন্দ্ব-বিভেদকারীকে নমিনেশন দেওয়া হবে না। এদিকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবার আর ২০১৪ সালের মতো কারো দায়িত্ব নিতে পারবেন না। তাই, নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করেই দলের মনোনয়ন পেতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ৪ টি দেশি-বিদেশী সংস্থা দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং বর্তমান সংসদ সদস্যদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন তৈরি করাচ্ছেন

সর্বশেষ ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৩১ টিতে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ। যাদের অনেকেরই জনপ্রিয়তা ছিল না। ছিল না, নেতাকর্মীদের সাথে ন্যুন্যতম যোগাযোগ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে এদের মাঝে বেশীর ভাগ এমপি। এদের মধ্যে থেকেই মন্ত্রী বেছে নেওয়া হয়। এখন শুরু হয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তোড়জোড়। আর আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিমধ্যেই কিছু সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে, যার একটি হলো, গত নির্বাচনে দল থেকে নির্বাচিত ২৩১ এমপির মধ্যে ৭৩ জনকে মনোনয়ন না দেওয়া ও অপরদিকে এমপি পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী এগিয়ে আছে ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌচেছে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বঞ্চিত হতে চলা ৭৩ এমপির মধ্যে অনেকেই বেশ প্রভাবশালী। আবার কয়েকজন আছেন বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী।

সাম্প্রদায়িকতা, দুর্নীতি, বিতর্ক, জনপ্রিয়তা হারানোর মতো কারণে অনেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। আবার অনেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন না বয়সের কারণে। এছাড়া নির্দিষ্ট আসনে অন্য কাউকে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ায়ও অনেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্য দলের হলেও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের নির্বাচন করেছেন অনেকে। আবার অনেকে স্বতন্ত্রভাবে (অনেকে আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রাথী) নির্বাচিত হলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এসব এমপিদেরও কেউ কেউ এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না।
বয়সের কারণে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না। অর্থমন্ত্রীর সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন তাঁরই ছোট ভাই আবুল কালাম আবদুল মোমেন।

এছাড়া বয়সের কারণে এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না শরীয়তপুর-২ আসনের সাংসদ শওকত আলী। ওই আসনে এবার এনামুল হক শামীম মনোনয়ন পেতে পারেন। একই কারণে মনোনয়ন পাচ্ছেন না ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেন। ২০০৮ সালে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রী ছিলেন।
ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে এবার মনোনয়ন পাচ্ছেন না এমপি মো. দবিরুল ইসলাম। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ ওঠায় দল থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ ও স্থানীয় বিরোধের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন লালমনিরহাট-১ আসনের এমপি মো. মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-২ আসনের এমপি নুরুজ্জামান আহমেদ এবং গাইবান্ধা-৩ আসনের এমপি ইউনুস আলী সরকার।

জনপ্রিয়তা হারানোয় মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন জয়পুরহাট-১ আসনের সামছুল আলম দুদু।

রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন পাচ্ছেন না বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। ২০০৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারেরই প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। বিভিন্ন কারণে বিতর্কিত রিয়াল এস্টেট ব্যবসায়ী রাজশাহী-৪ আসনের সাংসদ এনামুল হক মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের ছেলে সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি তানভীর ইমাম। তবে এবছর মনোনয়ন পাচ্ছেন না তিনি।
ছেলে শিরহান শরীফ তমালের গ্রেপ্তার হওয়াসহ নানা কারণেই বিতর্কিত ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ। পাবনা-৪ আসনের এই এমপি এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন না।

টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা হত্যা মামলার আসামি। স্বাভাবতই এবার মনোনয়ন বঞ্চিত থাকছেন তিনি।

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী ছিলেন মো. রেজাউল করিম হীরা। জামালপুর-৫ আসানের এই সাংসদ এবার মনোনয়ন বঞ্চিতই থাকছেন।

জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার আরিফ খান জয়। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি এবং ক্রীড়া উপমন্ত্রী। তবে এবার মনোনয়ন বঞ্চিতই থাকতে হবে তাঁকে।

রাজবাড়ী ২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিমের স্থলে মনোনয়ন পেতে পারেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রিয় নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু।

আওয়ামীগের বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রাথী হিসেবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বচনে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন হাজী মো. সেলিম। এবার হয়তো মনোনয়ন পেতেনে। তবে অসুস্থতার জন্যই তিনি মনোননয় বঞ্চিত হচ্ছেন।

সাংসদ এ কে এম রহমতুল্লাহ্ অবশ্য মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন ভিন্ন কারণে। তাঁর ঢাকা-১১ আসনের এবার অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। ওই আসনে ফারুক খান মনোনয়ন পেতে পারেন বলে কানাঘুষা চলছে।

সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদার বয়সের কারণে রাজনীতিতে তেমন সময়ই দেন না। তার বিরুদ্ধে মনিপুর স্কুল নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মূলতঃ মোহনা টেলিভিশনে বসেই তিনি সময় পার করেন। নেতা কর্মীদের সাথে নেই ন্যুন্যতম যোগাযোগ। তার আসন ঢাকা ১৫ তে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগের কেন্দ্রিয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। স্থানীয় জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হলে তার মনোনয়ন পাওয়া এক প্রকার নিশ্চিত।

২০০৯ সালের আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী রাজি উদ্দিন আহমেদ। নরসিংদী-৫ আসনের এই সাংসদ মনোনয়ন বঞ্চিতই থাকতে পারেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করে বিতর্কিত হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সাংসদ এবং মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। আগামী সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন না তিনি।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিভিন্ন অভিযোগ। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের ভিতর থেকেও তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী ভূমিকার অভিযোগ তুলেছে মনোহরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভূঁইয়া। তিনি অভিযোগ করেন, তাজুলের  বাবা এবং তার আপন মামা মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী বাহিনীকে সহযোগীতা করেছেন এবং মনোহরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর-বাড়ী পোড়ানোসহ বিভিন্ন নির্যাতন পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সংসদ সদস্য তাজুল ইসলামের আপন ছোট ভাই নজরুল ইসলাম জামায়াতের রোকন সদস্য। এই আসনে কে প্রার্থী হচ্ছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রিয় নেতা দেলোয়ার হোসেন ফারুক তরুণ প্রজন্মের কাছে অত্যাধিক জনপ্রিয়। এছাড়াও এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তার অংশগ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষের সাথেও রয়েছে তার গভীর সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত তরুণ প্রজন্মের এমপিদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে তার মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে গুঞ্জনকে সত্য বলেই আপাতত মনে হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে বিতর্কিত হয়েছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনের সাংসদ এম আবদুল লতিফ। আগামী সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত থাকছেন তিনি।
কক্সবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি। ইয়াবা ব্যবসায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। এবারের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন কারণে আরও অনেকেই মনোনয়ন পাচ্ছেন না। এরা হলেন আব্দুল মান্নান (বগুড়া-১), মো. হাবিবর রহমান (বগুড়া-৫), মোহা. গোলাম রাব্বানী (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১) মো. আব্দুল ওদুদ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), মো. শহীদুজ্জামান সরকার (নওগাঁ-২) মো. শফিকুল ইসলাম শিমুল (নাটোর-২), গাজী ম.ম. আমজাদ হোসেন মিলন (সিরাজগঞ্জ-৩), আ. মজিদ মন্ডল (সিরাজগঞ্জ-৫), মো. গোলাম ফারুক খন্দ. প্রিন্স (পাবনা-৫), ফরহাদ হোসেন (মেহেরপুর-১) আবদুর রউফ (কুষ্টিয়া-৪), সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন) (চুয়াডাংগা-১), মো. নবী নেওয়াজ (ঝিনাইদহ-৩ ), মো. আনোয়ারুল আজীম (আনার)(ঝিনাইদহ-৪), শেখ আফিল উদ্দিন (যশোর-১), রণজিত কুমার রায় (যশোর-৪), এ টি এম আব্দুল ওয়াহাব (মাগুরা-১), মো. কবিরুল হক (নড়াইল-১), মো. মোজাম্মেল হোসেন (বাগেরহাট-৪), মুহাম্মদ মিজানুর রহমান (খুলনা-২), মীর মোস্তাক আহমেদ রবি (সাতক্ষীরা-২), শওকত হাচানুর রহমান (রিমন) (বরগুনা-২), মো. মাহবুবুর রহমান (পটুয়াখালী-৪), আলী আজম (ভোলা-২), তালুকদার মো. ইউনুস (বরিশাল-২), বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ (বরিশাল-৫), বজলুল হক হারুন (ঝালকাঠি-১), অনুপম শাহজাহান জয় (টাংগাইল-৮), মো. ফরিদুল হক খান (জামালপুর-২), এ. কে. এম. ফজলুল হক (শেরপুর-৩), জুয়েল আরেং (ময়মনসিংহ-১ ), নাজিম উদ্দিন আহমেদ (ময়মনসিংহ-৩), মো. মোসলেম উদ্দিন (ময়মনসিংহ-৬), ডাঃ মোহাম্মদ আমানউল্লাহ (ময়মনসিংহ-১১), রেবেকা মোমিন (নেত্রকোনা-৪), মো. সোহরাব উদ্দিন (কিশোরগঞ্জ-২), মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ্ (ঢাকা-১৬), মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (নরসিংদী-১), বি, এম, মোজাম্মেল হক (শরীয়তপুর-১), মোয়াজ্জেম হোসেন রতন (সুনামগঞ্জ-১), মুহিবুর রহমান মানিক (সুনামগঞ্জ-৫), মো. আব্দুল মজিদ খান (হবিগঞ্জ-২), অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ (কুমিল্লা-৭), বেগম আয়েশা ফেরদাউস (নোয়াখালী-৬), এ. কে. এম শাহজাহান কামাল (লক্ষ্মীপুর-৩), মো. আবদুল্লাহ (লক্ষ্মীপুর-৪), মাহফুজুর রহমান (চট্টগ্রাম-৩), দিদারুল আলম (চট্টগ্রাম-৪), আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন (চট্টগ্রাম-১৫), আশেক উল্লাহ রফিক (কক্সবাজার-২) প্রমুখ। (তথ্য সূত্র-বিডিহটনিউজ)

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ১০০ সম্ভাব্য প্রার্থী যাদের নাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে তারা : এমপিদের মধ্যে রয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের জগলুল হায়দার, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (দিনাজপুর-২), নরুজ্জামান আহমেদ ( লালমনিরহাট-২), ড. শিরিন শারমীন চৌধুরী (রংপুর-৬), জুনায়েদ আহমেদ পলক (নাটোর-৩), মাহবুবুল আলম হানিফ (কুষ্টিয়া-৩), আনোয়ার আজিম আনার (ঝিনাইদহ-৪), কাজী নাবিল আহমেদ (যশোর-৩), নুরুন্নবী শাওন (ভোলা-৩), ড. আব্দুর রাজ্জাক (টাঙ্গাইল-১), ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল (ময়মনসিংহ-১০), নাজমুল হাসান পাপন (কিশোরগঞ্জ-৬), নাইমুর রহমান দুর্জয় (মানিকগঞ্জ-১), সাবের হোসেন চৌধুরী (ঢাকা-৯), সিমিন হোসেন রিমি (গাজীপুর-৪), ফারুক খান (গোপালগঞ্জ-১), নাহিম রাজ্জাক (শরিয়তপুর-৩), আনিসুল হক (বি.বাড়িয়া-৪), সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য তারানা হালিম, নূরজাহান বেগম মুক্তা, সাবিরনা আক্তার তুহিন, ফজিলাতুননেসা বাপ্পী, সানজিদা খানম, মেহেজাবিন খালেদ।

অন্যান্যদের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর হাতে এসেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন শফী আহমেদ (নেত্রকোণা-৪), ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন (চট্টগ্রাম-১৪), এ এইচ এম মাসুদ দুলাল (নারায়ণগঞ্জ-৩), বিশ্বনাথ সরকার বিটু (রংপুর-২), অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম (রংপুর-৩), ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন (গাইবান্ধা-৫), সাখাওয়াত হোসেন শফিক (বগুড়া-৭), ইঞ্জিনিয়ার আকতারুল আলম (নওগাঁ-২), মাহমুদ রেজা (নওগাঁ-২), কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর-৪), কুষ্টিয়া-৪ (খোকসা-কুমারখালী) আসনে মো. মিজানুর রহমান বিটু, অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুদু (পাবনা-৩), রফিকুল ইসলাম লিটন (পাবনা-৩), অ্যাডভোকেট এ বি এম আহসানুল হক আহসান (যশোর-৩), কামরুল হাসান বারী (যশোর-৫), সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১), পংকজ সাহা (মাগুরা-১), ড. ওয়াহিদুর রহমান টিপু (মাগুরা-২), শ্যামল দাস টিটু (নড়াইল-১), নিজাম উদ্দিন খান নিলু (নড়াইল), বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), আকতারুজ্জামান বাবু (খুলনা-৬), আব্দুল মালেক (পটুয়াখালী-২), জিয়াউল হক জুয়েল (পটুয়াখালী-২), শাহে আলম (বরিশাল-২), মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-১), এস এম মশিউর রহমান শিহাব (বরগুনা-১), মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর), অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), আলমগীর হাসান (নেত্রকোনা-৩), অজয় কর খোকন (কিশোরগঞ্জ-৫), গোলাম সরোয়ার কবীর (মুন্সীগঞ্জ-১), ইঞ্জিনিয়ার কাজী আবদুল ওয়াহিদ (মুন্সীগঞ্জ-২), ফয়সাল বিপ্লব (মুন্সীগঞ্জ-৩), পনিরুজ্জামান তরুন (ঢাকা-১), ড. আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), অ্যাডভোকেট মোল্লা আবু কাউসার (ঢাকা-৮), গোলাম রব্বানী চিনু (ঢাকা-১৩), ইকবাল হোসেন সবুজ (গাজীপুর-৩), অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবীর কাউসার (নরসিংদী-৫), শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-১), ড. আবদুস সোবহান গোলাপ (মাদারীপুর-৩), আনোয়ার হোসেন (মাদারীপুর-৩), দেলোয়ার হোসেন (মাদারীপুর-৩), ইকবাল হোসেন অপু (শরীয়তপুর-১), এ কে এম আজম খান (পিরোজপুর-১), এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩), মঈন উদ্দিন মঈন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২), মো: আলামিনুল হক আলামিন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫), সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন (চট্টগ্রাম-৬), মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), মঞ্জুরুল আলম শাহীন ও জহিরউদ্দীন মাহমুদ লিপটন (ফেনী-৩), সাইফুদ্দীন নাসির (ফেনী-২), এম এ মমিন পাটোয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১), নাফিউল ইসলাম নাফা (নীলফামারী-৪ ), রবিউল ইসলাম রবি (ঠাকুরগাঁও-৩) প্রমুখ। 

সূত্র: বাংলাদেশ সময়

ট্যাগ:

জাতীয়
আইজিপি ব্যাজ পেলেন ৭৪২ পুলিশ সদস্য

banglanewspaper

ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য ৭৪২ পুলিশ সদস্যকে পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজিপি ব্যাজ) দেওয়া হয়েছে। প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের জন্য দেওয়া এই ব্যাজ পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।

ব্যাজ পাওয়া কর্মকর্তাদের পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে এবার নিজ নিজ দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হবে এই ব্যাজ। ব্যাজ পদকের পাশাপাশি প্রত্যেককে আর্থিক পুরস্কারও দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, কর্মক্ষেত্রে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্বপালন, বাহিনীর মর্যাদা বেড়েছে এমন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহে আইজিপি ব্যাজে মনোনীত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের এই পদক দেওয়া হয়।

এছাড়া যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা বিধান, জনসেবামূলক কার্যক্রম, মামলার রহস্য উদঘাটন, ভালো পুলিশিং, সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি বাড়ানোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে অবদান রাখেন তাদের এই পদকের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

২০২০ সালে ভালো কাজের জন্য পুলিশ সুপার থেকে কনস্টেবল সমমর্যাদার ৪০১ জনকে ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’, ‘ডি’, ‘ই’ ও ‘এফ’—এই ছয় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ব্যাজ দেওয়া হচ্ছে। আর ২০২১ সালে অবদানের জন্য ব্যাজ পেয়েছেন ৩৪১ পুলিশ।

২০১৯ সালের ভালো কাজের জন্য ৫৯৫ জন, ২০১৮ সালে ৫০১ জন, ২০১৭ সালে ৩২৯ জন ও ২০১৬ সালে ২৮৮ পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ‘আইজিপি ব্যাজ’ পেয়েছিলেন।

এর আগে, রবিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ ২০২২ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি প্যারেডে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন।

অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের জন্য কর্মজীবনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ২৩০ সদস্য।

রবিবার পুলিশ সপ্তাহের প্রথম দিনে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫-২০ জনকে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। বাকিদের কাছে পদক পৌঁছে দেওয়া হবে।

ট্যাগ:

জাতীয়
২০২১ সালে ৩৮ গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার, নিহত ১২

banglanewspaper

দেশে ২০২১ সালে ৩৮ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই ১২ জনের মধ্যে চারজন খুন হয়েছেন। তবে এই হত্যা, নির্যাতন ও নিহতের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে কম।

রবিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস্ এর এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে তৈরি এই জরিপটি প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

বিলস এর তথ্য কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২১ সালে ৩৮ জন গৃহকর্মী নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এরমধ্যে ১২ জন নিহত, ২৪ জন আহত এবং দুজন আত্মহত্যা করেন। নিহতদের মধ্যে চারজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন এবং আটজনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

আহতদের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৫ জন, ছুরিকাঘাতের শিকার পাঁচজন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনজন, যৌন নিপীড়নের শিকার একজন এবং ধর্ষণপরবর্তী আত্মহত্যা করেন একজন। এছাড়া কর্মক্ষেত্রের বাইরে তিনজন গৃহশ্রমিক নিহত হন।

২০২০ সালে হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৪৪ জন গৃহশ্রমিক। যার মধ্যে ২০ জন নিহত, ২৩ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ ছিলেন।

ঢাকাসহ সারাদেশে যারা গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করেন তাদের ৯৫ ভাগেরও বেশি নারী। বিলস্ এর জরিপে দেখা গেছে, যারা হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তাদের বেশির ভাগের বয়স ১০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

জরিপের বিষয়ে সংগঠনটি বলছে, এই হিসাব দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ওপর নির্ভর করে করা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কারণ অনেক নির্যাতনের ঘটনায় অর্থ ও চাপের মুখে সমঝোতা করা হয়। গৃহকর্মী বা তাদের পরিবারের সদস্য অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ার কারণে মামলা মোকাদ্দমায় যেতে চান না বা যেতে সাহন পান না। অনেক সময় প্রভাবশীলরা নির্যাতনের ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ফেলেন।

গৃহশ্রমিক নির্যাতন প্রতিরোধে বিলস্ গৃহশ্রমিক কল্যাণ ও সুরক্ষা নীতিমালা ২০১৫ বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং গৃহশ্রমিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

ট্যাগ:

জাতীয়
আরও ১৪ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৯০৬

banglanewspaper

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু কিছুটা কমলেও শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। ভাইরাসটিতে আরও ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৯০৬ জন।

রবিবার বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, দেশে করোনায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ২২৩ জনের। আর মোট শনাক্ত হয়েছে ১৬ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৬ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ হাজার ৮৫৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩১.২৯ শতাংশ। গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৭৮২ জন। মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬১ জন।

মারা যাওয়া ১৪ জনের মধ্যে ছয়জন পুরুষ ও আটজন নারী। তারা সবাই মারা গেছেন হাসপাতালে। এর মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব একজন, চল্লিশোর্ধ্ব একজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন, ষাটোর্ধ্ব পাঁচজন, সত্তরঊর্ধ্ব একজন ও আশিঊর্ধ্ব দুজন।

বিভাগওয়ারী হিসাবে ঢাকা বিভাগের পাঁচজন, চট্টগ্রাম বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের একজন, বরিশাল বিভাগের একজন, সিলেট বিভাগে দুজন, রংপুর বিভাগের একজন ও ময়মনসিংহ বিভাগের দুজন।

২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হয়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। গত ২০ নভেম্বর দেশে প্রথমবারের মতো এবং ৯ ডিসেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো করোনায় মৃত্যুহীন দিন দেখে বাংলাদেশ। এছাড়া বাকি সব দিনই মৃত্যু দেখেছে বাংলাদেশ।

গত জুলাই-আগস্ট মাসে দেশে করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত চরম আকার ধারণ করে। গত ৫ আগস্ট দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ জন রোগী মারা যায়। গত ২৮ জুলাই সর্বোচ্চ শনাক্ত হয় ১৬ হাজার ২৩০ জন। তবে সেপ্টেম্বর থেকে তা কমতে শুরু করে। ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত ছিল।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অব্যাহতভাবে বাড়ছে সংক্রমণ। অতি সংক্রামক ধরন ওমিক্রনও ইতিমধ্যে দেশে শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্তদের বেশির ভাগ ওমিক্রনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ট্যাগ:

জাতীয়
২০২১ সালে সড়ক রেল নৌপথে নিহত ৮৫১৬

banglanewspaper

মহামারি করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিদায়ী বছর ২০২১ সালে দীর্ঘ ৮৫ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার কোনো কমতি ছিল না। বিগত বছরে এই তিন পথে সর্বমোট ৬২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮৫১৬ জন মারা গেছেন। সেই সঙ্গে ৯৭৫১ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত ‘বার্ষিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন-২০২১ প্রকাশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, বিদায়ী ২০২১ সালে ৫৬২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৭৮০৯ জন নিহত ও ৯০৩৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময় রেলপথে ৪০২টি দুর্ঘটনায় ৩৯৬ জন নিহত ও ১৩৪ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ১৮২টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন নিহত ও ৫৭৮ জন আহত এবং ৫৪৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। সড়ক, রেল, নৌপথে সর্বমোট ৬২১৩টি দুর্ঘটনায় ৮৫১৬ জন নিহত ও ৯৭৫১ জন আহত হয়েছে।

দুর্ঘটনা পর্যাআলোচনায় দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনা কবলে পড়েছেন ২৩৫০ জন চালক, ১৭১৫ জন পথচারী, ১০১৭ জন পরিবহন শ্রমিক, ৪৩০ জন ছাত্রছাত্রী, ১১১ জন শিক্ষক, ২৩৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১০৭৬ জন নারী, ৬৩৮ জন শিশু, ৪২ জন সাংবাদিক, ২৭ জন চিকিৎসক, ১৪ জন আইনজীবী ও ১৮ জন প্রকৌশলী এবং ১৬১ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা।

এসব সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ তুলে ধরে লিখিত বক্ত্যবে তিনি জানান, বেপরোয়া গতি, বিপদজনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, রেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, ছোট যানবাহন বৃদ্ধি, সড়কে চাঁদাবাজি, রাস্তার পাশে হাট-বাজার, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো এবং দেশব্যাপী নিরাপদ ও আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিবর্তে টুকটুকি, ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত রিকশা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিকশা নির্ভর গণপরিবহন ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হওয়ার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেপরোয়াভাবে বাড়ছে।

এসময় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সরকারের কাছে ১২ দফা সুপারিশ জানায় সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রগুলোতে প্রকাশিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হযয়েছে বলে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— বুয়েট দুর্ঘটনা গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. হাদিউজ্জামান, গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ আবদুল হক, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী নুর খান লিটনসহ প্রমুখ।

ট্যাগ:

জাতীয়
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক রক্তের’

banglanewspaper

ভোলা সদরের প্রায় আড়াইশ বছরের পুরনো একটি মন্দির পরিদর্শন করেছেন ভারতীয় দূতাবাসের সহকারী হাইকমিশনার রাজেশ কুমার রায়না। রবিবার সকালে ভোলা সদরের বাপ্তা করুনাময়ী কালীমাতার মন্দির (সর্বতীর্থ ধাম) পরিদর্শন এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।

ভোলা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও করুনাময়ী কালীমাতার মন্দির কমিটি আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে রাজেস কুমার রায়না বলেন, ভারতীয়দের কাছে বাংলাদেশের জনগণের ভালোবাসা অনেক। ভারত-বাংলাদেশ রক্তের সম্পর্ক। যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশের পাশে আছে ভারত।

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধুপ্রতীম দেশ। যেকোন প্রয়োজনে সবার আগে ভারত পাশে আছে। ১৯৭১ সালে ভারত বন্ধুর মতই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে। করোনাকালেও করছে। ভবিষ্যতেও করবে। এই দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক অবিনাশ নন্দী।

এর আগে গত শনিবার বিকালে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার ভারতের পক্ষ থেকে ভোলা পৌরসভাকে একটি লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স (আইসিইউ) হস্তান্তর করেন।

ট্যাগ: