banglanewspaper

যারা ভারেতে ঘুরতে বা চিকিৎসার জন্য যেতে চান তারা সাধারণত ট্রেনে করেই বেশি সংখ্যক লোক যেতে ইচ্ছুক আর সেটা কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকেই বাংলাদেশের ৮০% লোক যাতায়াত করে বিভিন্ন গন্তব্যের দিকে যেমন হাওড়া টু চেন্নাই, হাওড়া টু দিল্লি, হাওড়া টু আগ্রা, হাওড়া টু গোয়া ইত্যাদি। আসুন জেনে নেই কিভাবে যাবেন এবং ট্রেনের ও প্লেনের বিস্তারিত আপডেট তথ্য।

যারা খুলনা বিভাগে বসবাস করেন যেমন- যশোর, নড়াইল, খুলনা, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর ও অন্যান্য অঞ্চলের মানুষ বেনাপোল বর্ডার দিয়ে বেশি যাতায়াত করে বা করতে ইচ্ছুক তাদের কে প্রথমে যা করতে হবে তবে বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ ই বেনাপোল বর্ডার দিয়ে যাতায়াত করে কারণ সহজ ও সময় কম লাগে।খুলনা থেকে কিভাবে ও কখন যাবেন?
...................................................... 
কখন যাবেন এটা নির্ভর করবে আপনার বা আপনাদের উপর। কারণ আপনি যদি আগে থেকে ট্রেনের টিকিট কোন পরিচিত এজেন্ট এর মাধ্যমে কাটিয়ে রাখেন তাহলে ওই এজেন্ট এর কাছ থেকে ১ দিন আগে ট্রেনের সময় সুচি জেনে নিবেন।

ধরুন, আপনি আগস্ট মাসের ৮ তারিখ রাত ১১:৪৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে চেন্নাই ( মাদ্রাজ ) এর উদ্দেশ্য নিয়ে ট্রেনে যাত্রা শুরু করবেন। আপনার ট্রেনের নাম Kolkata chennai মেইল যা রাত ১১:৪৫ মিনিটে ছাড়বে।

আপনি যদি খুলনা থেকে শুরু করেন তাহলে প্রথমে খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস স্ট্যান্ডে সকাল ১০ টায় এসে খুলনা টু কুস্টিয়া যাওয়ার অনেক বাস পাবেন। আপনি "গড়াই পরিবহণ" এ যশোর যাওয়ার টিকিট কেটে উঠবেন। গড়াই পরিবহণ এর সার্ভিস অন্য বাসের তুলনায় ভালো। ১ ঘণ্টা পর পর বাস ছাড়ে ওখান থেকে যশোর এর উদ্দেশ্য নিয়ে মানে যশোর তারপর কুষ্টিয়া যায়।

বাস যদি সকাল ১০ টায় চালু করে তাহলে যশোর মনিহারের ওখানে পৌঁছাতে ১২ টার মত বেজে যাবে মানে ২ ঘণ্টা লাগে। খুলনা থেকে যশোর মনিহার ৬২ কি.মি.।

বিঃদ্রঃ অন্যদের ক্ষেত্রে যেখান থেকেই আসেন না কেন আগে যশোর মনিহারের কাছে আসতে হবে তারপর বেনাপোলের দিকে তবে অনেক জেলা থেকে সরাসরি বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবহণ আসে।

যাইহোক এবার যশোর মনিহারের ওখানে নেমে একটা ইজিবাইক ভাড়া করে নিবেন। প্রতি জন ১০ টাকা করে নিবে। ৭০/৮০ টাকা দিয়ে রিজার্ভ করে নিলে ইজিবাইক ওয়ালা আপনাকে বেনাপোলের বাসের কাউন্টার এর ওখানে নিয়ে যাবে সরাসরি মানে যেখান থেকে বেনাপোল যাওয়ার বাস ছাড়ে মুলত যায়গার টির নাম বাস টার্মিনাল নামে পরিচিত। তবে আপনি ১০ টাকা দিয়েও ইজি বাইকে আসতে পারবেন কারণ ৫ মিনিটের মধ্যে ইজি বাইকে লোক হয়ে যায়। যশোরে মুলত একটা ইজি বাইকে ৮ জন করে নিয়ে থাকে। এবার ইজিবাইক থেকে নেমে টিকিট কেটে নিবেন বা বাসে সিট থাকলে উঠে পড়বেন। সিট না থাকলে পরের বাসের জন্য অপেক্ষা করে সিট নিয়ে বসে পড়ুন তবে আশা করি সিট পেয়ে যাবেন। যশোর মনিহার থেকে বেনাপোল বাসের কাউন্টারে যেতে ১২/১৫ মি সময় লাগে।

যশোর টার্মিনাল থেকে বেনাপোল বাস স্ট্যান্ড ৩২ কি.মি.। আর ভাড়া নিবে ৫৫ টাকা করে প্রতি জন। সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ৩০ মি থেকে ১ ঘণ্টা ৪৫ মি। তারমানে দুপুর ২:৪৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন। বাস থেকে নেমে হেটে যেতে ২০/২৫ মিনিটস লাগে বেনাপোল মুল গেটে যেতে যদি লাগেজ বা ব্যাগ বেশি থাকে তাহলে একটা ইজিবাইক ভাড়া করে গেটে যাবেন, ভাড়া নিবে ২০/২৫ টাকা। প্রায় ১ কিমি. এর কাছাকাছি তাই ভ্যানে বা ইজি বাইকে যাবেন। প্রতি জন ৫ টাকা করে ভাড়া নিবে আর রিজার্ভ করলে ২৫ টাকা দিলেই ছেড়ে দিবে।

তারমানে খুলনা থেকে ১০ টায়, তারপর ১২ টায় যশোর তারপর যশোর টারমিনাল থেকে বেনাপোল ২ টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে মানে আরো ৩০ মিনিটস বেশি ধরে ৩:১৫ মিনিটে পৌঁছে যাবেন।

এবার বেনাপোলে গিয়ে আগে যে কাজ করবেন তা হলো ওখানে সোনালি ব্যাংকে যাবেন। প্রতি জনের ভ্রমণ বাবদ ৫০০ টাকা করে ট্যাক্স ফি জমা দিয়ে ট্যাক্সের রিসিপ্ট কপি নিবেন। কপিতে উল্লেখ করা থাকবে ৫০০ টাকার কথা, এই টাকা আপনাকে দিতেই হবে এটাকে ভ্রমণ ট্যাক্স বলা হয়। এই ভ্রমণ ট্যাক্স আপনি আগের দিনও সোনালী ব্যাংকে জমা দিয়ে রাখতে পারেন তবে জেনে নিবেন কোন শাখা ভ্রমণ ট্যাক্স নিয়ে থাকে তাহলে একটা ঝামেলা থেকে রেহাই পেয়ে যাবেন।
তবে বেনোপোল থেকে দিতে গেলে একটু ভিড় থাকে। আপনি নিজে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিয়ে রিসিপ্ট কপি নিয়ে নিবেন আর যদি ঝামেলা মনে করেন তাহলে ওখানে দালাল পাবেন যারা এই কাজ করার জন্য আপনার পিছে লেগে থাকবে, ওদের কে দিয়ে করিয়ে নিলে পাসপোর্ট প্রতি ৪০/৫০ টাকা দেওয়া লাগে তবে নিজেরা করাই বেটার, কোন ঝামেলা নেই শুধু ভিড় থাকলে ২০/২৫ মি দেরি হবে এই আর কি।

তাহলে কাজ প্রায় শেষ, খাড়ান এখনো ঢের বাকি আছে। এবার ওই ট্যাক্স রিসিপ্ট আপনার ব্যাগে রেখে দিন বা পকেটে রাখতে পারেন যদি ইমিগ্রেশন অফিসার দেখতে চাই তাহলে দেখাবেন। যখন মুল গেটের ভিতরে প্রবেশ করবেন। তবে ট্যাক্স এর রিসিপ্ট কপি পাসপোর্ট বই এর ভিতরে রাখাই বেটার তাতে দেখতে চাইলে সহজে দেখে নিতে পারবে।

তবে কারো কাছে পাসপোর্ট দিবেন না, ভিতরে গেলে পুলিশ ও দালাল পাবেন, ওদের কাছে দিতে পারেন তবে সাথে যাবেন বা কাছাকাছি দাঁড়াবেন। আর না চাইলে নিজেই লাইনে দাড়িয়ে সব কাজ করতে পারবেন তাতে হয়তো ৩০ মি সময় লাগতে পারে।

তাহলে এবার মূল গেটের দরজায় আসুন, সাথে সাথে দুই / এক পুলিশ বা দালাল আপনাকে বলবে যে ভাই পাসপোর্ট এ সিল লাগানো লাগবে? যদি তাদের কাছে দেন তাহলে ৫/৭ মি পরে এসে আপনাকে পাসপোর্ট দিয়ে বলবে আপনার কাজ শেষ, এবার আপনার ব্যাগ বা লাগেজ স্ক্যান করে ছেড়ে দিবে আর আপনি কোন লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি গেট থেকে বের হয়ে যেতে পারবেন মানে বাংলাদেশের বর্ডার পার হওয়ার আগে ইমিগ্রেশনের অফিসার আপনার পাসপোর্ট আর ভিসা চেক করে আর Passport এ Departure Seal মেরে দেই। এটা একটু দেখে নিবেন Departure Naki Arraival seal মেরে দিলো কারণ যাওয়ার সময় Departure Seal হবে। এই ছাড়া আর কিছু নেই, এর জন্য প্রতি পাসপোর্ট এ ১০০ টাকা নিবে যিনি আপনাকে করে দিবেন তা না হলে নিজেরা লাইনে দাঁড়িয়ে একটু অপেক্ষা করে চেক করে নিতে পারবেন, কোন টাকা লাগবে না।

(এই সব কাজ করতে আপনার হায়েস্ট ৩:১৫ টা বা ৩:৪৫ বেজে যেতে পারে মানে আপনি ইন্ডিয়ার মুল গেটের এরিয়াতে লাইনে ৩:৪৫ টার মধ্যে দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন।)

এবার আসুন ভারতের মূল এরিয়ার গেট শুরু যেখানে ইন্ডিয়ান অফিসার আপনাদেরকে লাইনে দাড় করিয়ে সবার হাতে একটা করে ছোট কাগজ বা ফর্ম দিবে ওটা হাতে বা পকেটে রাখবেন। এক এক করে ভিতরে ইন করবেন আর নরমাল অফিসাররা আপনার পাসপোর্ট দেখে ছেড়ে দিবে তারপর আপনি আপনার ব্যাগ ও লাগেজ নিয়ে সামান্য হেটে সামনে একটা গলির ভিতর দিয়ে যাবেন, কয়েক সেকেন্ড যাওয়ার পর ভারতের বড় একটা রুমে প্রবেশ করে দেখতে পাবেন অনেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। ওখানে ২/৩ জন অফিসার চেক করছে এক এক জন করে যেমন ভারতী রুপি বা ডলার আছে কিনা? আপনার কাছে ডলার ও বাংলা টাকা ছাড়া আর যেন কিছু না থাকে।

আপনার কাছে যত ডলার থাকবে তাই বলবেন আর না থাকলে বলবেন যে বাংলাদেশি টাকা ছাড়া আর কিছু নেই আর কি উদ্দ্যেশ্য নিয়ে ভারতে যাচ্ছেন সেটা বললেই হবে। ওখানে তেমন ঝামেলা নেই, তবে চেক করে যদি রুপি পাই সব রেখে দিবে সেই সাথে ধমক তো আছেই। কারণ আপনাকে টাকা চেঞ্জ করে রুপি নিতে হবে ওদের ফাইনাল ইমগ্রেশনের চেকাপ ও ছবি তুলে রাখার পর।

এবার ওই রুম থেকে বের হলেই ফাকা যায়গা ও গরুর খোয়াড়ের মত পাকা বাসের অনেক বেড়া দেখতে পারবেন যা দিয়ে সিরিয়াল মেইন্টেইন করে আপনাদেরকে সারিবদ্ধভাবে লাইনে দাড়াতে সাহায্য করবে। তবে ওখানে পা দেওয়ার সাথে সাথে ১/২ জন লোক এসে আপনার কাছে ওই কাগজ বা ফর্মটা চাইবে যেটা ইন্ডিয়ার মুল গেটে ইন করার সময় সবার হাতে একটা করে দিয়েছিল। যে কোন একজন কে দিয়ে ফিলাপ করিয়ে নিন। মুলত ওটা ফিলআপ করতে হবে, এই কাজটা করার জন্য ৬/৭ জন লোক ওখানে থাকে তারা দ্রুত লিখে দিবে আপনার নাম, পাসপোর্ট নং, ইন্ডিয়ার কোথায় যাবেন ইত্যাদি ওদেরকে ১০ টাকা করে দিতে হয় প্রতি পাসপোর্ট এর জন্য। আর সাইনের যায়গা নিজের পাসপোর্টে যেভাবে আছে সেভাবেই করে রাখবেন।

আপনার কাজ শেষ এবার আপনি ওই ফর্মটা হাতে নিয়ে পাশেই বাসের বেড়া আছে ওই লাইনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে সামনে আগাতে থাকুন। একটু একটু করে আগাতে আগাতে আপনি একটা বিল্ডিং এর মধ্যে প্রবেশ করলেন তারপর একটা রুমের মধ্যে। ওখানে ইমিগ্রেশনের মুল অফিসাররা কয়েকটা পিসি নিয়ে বসে আছে, আপনি লাইনে দাঁড়িয়ে পাসপোর্ট দিবেন। ওরা পাসপোর্ট নিয়ে কম্পিউটার থেকে চেক করবে আর আপনার একটা ছবি তুলে রাখবে, ছবি তোলার সময় চশমা খুলে তারপর সোজা হয়ে ক্যামেরার দিকে তাকাবেন বা ওরা যে ভাবে বলবে সেই ভাবে তাকাবেন।

অফিসাররা আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে কি জন্য যাচ্ছেন যদি মেডিকেল ভিসা হয় তাহলে বাংলাদেশের ডা: এর প্রেস্ক্রিপশন ও এপোয়েন্টমেন্ট লেটার দেখতে চাইবে তবে আপনার কথা বলার ধরণ ওদের ১০০% রিয়েল মনে হলে আর দেখবে না, যান যান বলে ছেড়ে দিবে আর পাসপোর্ট টাও পকেটে ঢুকিয়ে নিবেন।
ওই রুম থেকে বের হয়ে ১ মিনিট হেটে সামনে গেলেই ৩ টা মানি এক্সচেঞ্জ ঘর দেখতে পারবেন যারা বাংলাদেশি টাকা বা ডলার ভাঙিয়ে রুপি দেওয়ার জন্য বসে আছে। আপনি রেট জিজ্ঞেস করে নিবেন ১০০ টাকায় কত রুপি দিবে, সেই অনুযায়ী অপেক্ষা করে টাকা দিয়ে ইন্ডিয়ান রুপি বুঝে নিবেন।
১০০ টাকা= ৮৩ রুপি দিচ্ছে (০৬/০৩/১৭ পর্যন্ত রেট ছিল)
তবে এর কাছাকাছি বা বেশি ও পেতে পারেন।

আপডেটঃ এখন আর রুপির কোন ঝামেলা নেই তাই ২০০০/৫০০ রুপির নোট দিলে তা সহজেই নিতে পারেন। মানে চেন্নাই বা যেখানে যাবেন তা সহজেই ভাঙ্গিয়ে নিতে দোকান বা হোটেল থেকে।

রুপি আর পাসপোর্ট পকেটে রাখবেন যাতে নিরাপদ থাকে। এবার ফাইনালি গেট পার হওয়ার সময় দারোয়ান আর একবার চেক করে দেখে ছেড়ে দিবে। আপনি এবার ইন্ডিয়ার মুল রাস্তায় পা দিলেন যেখানে অনেক দোকান ঘর, অটো, কার দেখতে পারবেন মানে যাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন তারা সবাই কলকাতার বাসিন্দা। এই সমস্ত কাজ করতে আপনার ৪:৩০ এর বেশি বাজবে না। মানে ওদের এরিয়াতে পিচের রাস্তায় যখন পৌছেবেন তখন বিকেল ৪:৩০ বেজে যাবে।

বি:দ্র: টাইম টু টাইম উল্লেখ করছি কারণ বেনাপোল দিয়ে ভোর ৬ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত মানুষ আসা যাওয়া করতে পারে। সন্ধ্যা ৬ টা বাজার সাথে সাথে গেট অফ মানে কেউ আর বর্ডার পার হতে পারবে না, আবার ভোর ৬ টা বাজার কয়েক মিনিট আগে গেট খুলে থাকে।

ওদের এরিয়াতে প্রবেশ করার পর অনেক অটো, কার এবং প্রচুর দোকান দেখতে পারবেন। এবার একটা অটোতে উঠে পড়ুন, একটা অটোতে ৫ জন করে বসে মানে পিছনে ৩ জন আর ড্রাইভারের দুই পাশে দুই জন মোট ৫ জন হলে ছেড়ে দিবে বনগাও রেল স্টেশন পর্যন্ত। প্রতিজনের ভাড়া ৩০ রুপি করে নিবে, ওরা রুপি কে টাকা বলে থাকে তবে যে রুপি নিছেন ওটাই ওদের টাকা কলকাতা তো তাই। যদি রিজার্ভ করে নিতে চান তাহলে ১৫০ টাকা দিলে ওরা সাথে সাথে ছেড়ে দিবে আর ২০ মিনিট পর "বনগাও" রেলস্টেশন এ গিয়ে নামিয়ে দিবে। যে রাস্তা দিয়ে যাবেন তা মূলত যশোহর রাস্তা নামেই লেখা দেখতে পারবেন আর রাস্তার দুই ধারে বিশাল বিশাল গাছ দেখা যাবে। বেনাপোল থেকে বনগাও ৮ কি.মি.। আপনি ১৫০ বা ৩০ রুপি দিয়ে অটো থেকে নেমে রেলের টিকিট কাউন্টারের ঘরের কাছে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে শিয়ালদাহ স্টেশন পর্যন্ত টিকিট কেটে নিন। মূলত এই বনগাঁও স্টেশন হচ্ছে লোকাল ট্রেন স্টেশন। এখান থেকেই ট্রেন ছেড়ে শিয়ালদাহ পর্যন্ত যাতায়াত করে যা প্রায় ৯০ কিমি. দূরে।

বনগাও থেকে শিয়ালদাহ স্টেশন পর্যন্ত ভাড়া নিবে প্রতি জনের কাছ থেকে ২০ রুপি করে। সময় লাগবে ২ ঘন্টার একটু বেশি মানে আপনি বেনাপোল থেকে ৫:৩০ এর দিকে পৌছেলেন বনগাও রেল স্টেশন আর শিয়ালদাহ স্টেশনে পৌছেলেন রাত ৭:৩০ থেকে ৮ টার দিকে। বনগাও থেকে শিয়ালদাহ স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৯০ কি.মি.।

এবার ট্রেন থেকে নেমে একটু হেটে গেলে অনেক অটো পাবেন, একটা অটো নিবেন আর বলবেন হাওড়া স্টেশনে যাবেন। ওখান থেকে প্রায় ৪ কি.মি. দূরে হাওড়া স্টেশন, ভাড়া মোট ৭০/৮০ রুপি নিবে তবে অনেকের কাছ থেকে ৮০/১০০ রুপি ও নিতে পারে সেটা আপনি ভাড়া ঠিক করে নিবেন এবং সময় লাগবে মাত্র ১৫/২০ মি। হাওড়া স্টেশনের মুল গেটের ভিতর প্রবেশ করে আপনাকে নামিয়ে দিবে। ব্যাস, আপনি হাওড়া স্টেশনে পৌছে গেলেন রাত ৮ টা বা ৮:৩০ মিনিটে।
হাওড়া স্টেশনে মোট ২৩ টা প্লাটফর্ম মানে ২৩ টা ট্রেন আলাদা ভাবে আসা যাওয়া করার ব্যবস্থা আছে। তাই যারা আগে কখনো যান নি তাদের কাছে একটু ভয় বা তালগোল লাগতে পারে আর হাজার হাজার মানুষ দেখতে পাবেন হাওড়া স্টেশনে। ভয়ের কিছু নেই, ট্রেন যেখানে দাড় করানো আছে মানে ওই সময় কোন ট্রেন ছেড়ে যাবে ওটাই একটা প্লাটফর্ম, একটু উপরের দিকে তাকালেই দেখতে পারবেন ২২ বা ২১ বা অন্য ডিজিটাল প্লেটে লাল আলোতে লেখা আছে ওগুলো প্লাটফর্ম এর নম্বর। যদি আপনি উপরে তাকিয়ে দেখেন ২২ লেখা আছে তাহলে আপনি ২২ নং প্লাটফর্ম এ দাঁড়িয়ে আছেন। ২৩ দেখলে মনে করবেন ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছেন।

** এখন আপনি আপনার ট্রেন কিভাবে পাবেন?
আপনাকে যে টিকিট দিয়েছে মানে এজেন্টের মাধ্যমে কাটিয়ে নিছেন সেটাতে ট্রেনের নাম, নম্বর, সিট নম্বর, টিকিটের দাম, আপনার নাম ও কোথায় যাবে ট্রেনটি তার বিস্তারিত দেওয়া থাকবে তবে কোন প্লাটফর্ম এ ট্রেন টি পাবেন বা উঠবেন তা দেওয়া থাকে না। প্লাটফর্ম এর নাম্বার হেল্প সেন্টার বা তথ্য অফিস থেকে জেনে নিবেন পাশেই ১৮/১৯ নম্বর প্লাটফর্ম এর শুরুর দিকে একটু ভিতরে হেটে গেলেই পেয়ে যাবেন। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করুণ যে চেন্নাই এর ট্রেন কোন প্লাটফর্ম থেকে ছাড়বে, ওরা সিরিয়াল দেখে আপনাকে বলে দিবে প্লাটফর্ম এর নাম মানে ২২/২৩ নম্বর। তবে চেন্নাই এর ট্রেন ২২ বা ২৩ নম্বর প্লাটফর্ম থেকেই ছাড়ে। আমাদের ট্রেন ২৩ নম্বর থেকে ছেড়েছিল।

তাছাড়া প্রতিটি ট্রেন ছাড়ার ২০ মিনিট আগেই দেখবেন নোটিশ বোর্ডের মত আছে প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে। আপনার প্লাটফর্ম যদি ২৩ নম্বর হয় তাহলে ২৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাবেন আর ওখানে গিয়ে বসে সময় কাটাবেন কারণ আপনার ট্রেনটি ওখানে আসবে ঠিক ছাড়ার ৩০/৪০ মি আগে। যখন ই আসবে তখন ই ট্রেনের লোকজন প্রতিটি বগির দরজায় প্যাসেঞ্জারের নাম ও ট্রেন নম্বর দেওয়া সম্বলিত একটি পেপারস আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিবে। আপনি ট্রেনে উঠার আগে একটু চেক করে নিবেন মানে চোখ বুলিয়ে দেখবেন যে ওখানে আপনার নাম ও ট্রেন নম্বর দেওয়া আছে কিনা যদি না থাকে তাহলে কিন্তু উঠে লাভ নেই কারণ সিট ছাড়া আপনাকে যেতে দিবে না আর আপনি যেতেও পারবেন না। যদিও এরকম ভুল সাধারনত কখনো হয় না তবুও চেক করেই উথবেন। আর আপনাকে কিন্তু অনলাইন টিকিট দিবে যে কোন এজেন্ট আর ইন্ডিয়ার ট্রেনের টিকিট এখন অনলাইন হয়ে গেছে যদিও ট্রেন স্টেশনে গিয়ে কিনলে মুল টিকিট পাবেন তবে ভয়ের কিছু নেই কারণ অনলাইনে ই টিকিট দিয়ে থাকে সো নো টেনশন।

আপনার বগি নম্বর টিকিটে লেখা থাকবে সেটা দেখে ট্রেনের বগি খুঁজে উঠতে হবে। যদি এসির টিকিট কাটেন তাহলে বগি B1, B1, B3, A1, A2, A3 এদের মধ্যে কোন একটা হতে পারে তারপর ও দেখে উঠবেন। আর যদি স্লিপারের টিকিট হয় মানে নন এসি তাহলে S1, S2, S3 ,S4, S5. S6 এরকম যে কোন একটা হবে। এসি বগিতে ৬৪ টি সিট থাকে আর ৮ টা রুম থাকে। প্রতি রুমে ৮ জন করে শুয়ে ,বসে আরামে যেতে পারবে। প্রতি বগির এমাথায় ২ টা টয়লেট এবং ওমাথায় ২ টা টয়লেট থাকে আর মুখ, হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও থাকে।

এবার ট্রেনে তো উঠে পড়লেন। এবার আপনি আপনার সিট নম্বর খুঁজে সিটে বসে পড়ুন আর মাল জিনিস একদম নিচে রেখে দিন কোন সমস্যা হবে না তবে লাগেজ বা ব্যাগ গুলো আগে থেকে তালা বা লক সিস্টেম করে রাখা অনেক ভালো। কারণ সাবধানের মাইর নেই।

হাওড়া থেকে চেন্নাই ১৬৬৩ কি.মি.। সময় লাগে ২৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট যদি চেন্নাই কলকাতা মেইল ট্রেনে যান আর যদি করোমন্ডল এক্সপ্রেসে যান তাহলে ২৬ ঘণ্টা ১০ মি সময় লাগবে। ওদের ট্রেন শিডিউলিং এ যে টাইম দেওয়া থাকবে সেই টাইমে ছাড়বে, নো লেট।

এবার ট্রেন তো ছেড়ে দিল যথাসময়ে। রাতে কিছু খাওয়া দাওয়া করে নিতে পারেন। আপনি আপনার সিটে বসেই পেয়ে যাবেন সমস্ত খাবার-দাবার। আপনার কাছে এসে জিজ্ঞেস করবে কি খাবেন, আপনার কিছু জানা না থাকলে জিজ্ঞেস করবেন যে i want to eat ruti or rice with chicken or Egg Vuna or etc। আপনাকে জিজ্ঞেস করবে Veg or Non Veg এখানে Veg মানে ভেজিটেবলস। আপনি যদি ভেজ রিলেটেড কিছু খেতে চান তাহলে জিজ্ঞেস করবেন Plz tell me what type of veg. item? ওরা আপনাকে একটা একটা করে বলে যাবে দামসহ। যাইহোক আপনার অর্ডার নেওয়ার সময় আপনার সিট নম্বর আর কোথায় নামবেন সেটা জিজ্ঞেস করে ওদের খাতায় টুকে রাখবে।

তারপর ২৫/৩০ মি পর এসে একটা প্যাকেটে ভরে আপনার খাবার দিয়ে যাবে সাথে ছোট্ট করে এক গ্লাস পানিও পাবেন যা অন টাইম প্লাস্টিড গ্লাসে দিবে। এবার খাওয়া দাওয়া করে প্যাকেট ময়লা ফেলার জায়গাতে ফেলে আসুন। বাথরুমের/ওয়াশরুমের পাশেই ওই প্যাকেট গুলো ফেলে রাখবেন, ওরা সময় মতো এসে নিয়ে যাবে। এবার একটা ঘুম দেন আরাম করে।

পরের দিন ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে কিছুক্ষন হাটা চলা করতে পারেন মানে আপনার বগি থেকে অন্য বগিতে একটু আসা যাওয়া এই আর কি। ভোরবেলাতে উঠে ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখতে পারবেন চারিদিকে শুধু ফাকা বিল আর পাহাড়। মাঝে মাঝে লোকারণ্য দেখতে পারবেন।

এবার নাস্তা করার পালা, সকালের নাস্তা কি খাবেন? তারজন্য আবার লোক এসে লিস্ট নিয়ে যাবে আর ৮ টার পর পর ই আপনার কাছে সকালের নাস্তা চলে আসবে। এভাবে খাওয়ার পর নিচে বসে আশেপাশেরর লোকের সাথে কিছুক্ষণ গল্পগুজব করে সময় কাটাতে পারেন। তারপর ১০ টার দিকে আবার খাবারের লোক আসবে আর জিজ্ঞেস করবে দুপুরে কি কি খাবেন তার লিস্ট নিয়ে চলে যাবে। ঠিক ১ টার পর পর ই আপনার খাবার চলে আসবে।

এরপর একই ভাবে দুপুরের খাবার খাবেন + রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়বেন। ভোর ৪ টা থেকে ৪ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে স্টেশন পৌঁছাবে আর ওটাই লাস্ট স্টেশন। আপনার ব্যাগবুগ নিয়ে ধিরে ধিরে ট্রেন থেকে নেমে পড়ুন। এরপর নেমে ২/৩ মিনিট অপেক্ষা করে সামনের দিকে আগাতে থাকুন, কোন দিকে আগালে টেম্পু/ট্যাক্সি পাওয়া যাবে সেটা মানুষ এর আগানো দেখলেই বুঝতে পারবেন।

যাইহোক আপনি চাইলে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভোর হলে রওনা দিতে পারেন তবে চেন্নাই তে কোন সমস্যা নেই, আপনি ওই সময় অটোতে করে বা ট্যাক্সিতে করে হোটেলে যেতে পারবেন।

এবার আসুন ট্যাক্সি নাকি অটোতে করে হোটেলে যাবেন? যেহেতু আপনি নতুন তাই Prepaid Taxi ভাড়া করতে পারেন মানে ট্রেন থেকে নামার পর একটু সামনে আগালেই ছোট ছোট ২/৩ টা বুথ ঘরের মত আছে ওখানে গিয়ে আপনার গন্তব্য বললে কত ভাড়া নিবে সেটার একটা স্লিপ দিবে আর ড্রাইভার আপনার সাথে থেকে আপনাকে গাড়িতে উঠিয়ে হোটেলে নামিয়ে দিবে মানে ১০০% নিরাপদ যেহেতু একটা সিস্টেমেত ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন।
আর এক প্রকার ট্যাক্সি যা প্রাইভেট কার নামেই পরিচিত, এদেরকে ভাড়া করে হোটেলে যেতে পারেন কোন সমস্যা বা ভয়ের কিছু নেই, ওদের ভাড়া ৫০/১০০ রুপি কম হবে কিন্তু নিরাপদ।

অথবা একটা অটো ভাড়া করে সরাসরি গ্রীমস রোডে চলে আসবেন, ঠিক এপোলো হাসপাতালের কাছেই। মাত্র ১৩০/১৫০ রুপি নিবে। ৪ জন পর্যন্ত যেতে পারবেন।

কোথায় যাবেন?
আপনি যদি Apollo or Sangkara Nethralaya হাসপাতালে ডা: দেখাতে যান তাহলে চেন্নাই ট্রেন স্টেশন থেকে অটো বা কারে করে Greams Road যাবেন, ওখানে ৮৫% বাংগালী পাবেন, বাংগালী হোটেল পাবেন, এক কথায় হাতের কাছে সব ই পাবেন আর এই গ্রীমস রোডের পাশেই এপোলো হাসপাতাল এবং ১ কি.মি. দুরেই বিখ্যাত সংকরনেত্রালয় হাসপাতাল। ট্রেন স্টেশন থেকে মাত্র ২০/২৫ মিনিট সময় লাগবে। আপনি অটো ওয়ালাকে বলবেন I want to go to greams road, Beside of apollo hospital তাহলে অটোওয়ালা বুঝে যাবে।

কোন হোটেলে উঠবেন?
হোটেল নাম: Hotel Residency
ভাড়া: ৬০০ রুপি ( ২ জন থাকতে পারবেন)
ভাড়া: ৮০০ রুপি ( ৩ জন থাকতে পারবেন থ্রি বেড)
হোটেল টাইপ: ৩ স্টার ( মিডিয়াম কিন্তু পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন)
একদম গ্রীমস রোডের মেইন রাস্তা থেকে ২ মিনিট ভিতরের দিকে হেটে গেলেই পেয়ে যাবেন।
হোটেল নাম: Hotel Classical
ভাড়া: ৬০০ রুপি ( ২ জনের জন্য)
ভাড়া: ৮০০ রুপি ( ৩ জনের জন্য)
লিফট আছে, হোটেল টি ৪ তলা বিশিষ্ট আর উপরের হোটেলের একটু সামনে গেলেই পেয়ে যাবেন, একই রাস্তা একই পাশে।

চেন্নাই স্টেশন থেকে ভেলর ( CMC )কিভাবে যাবেন?
চেন্নাই রেল স্টেশন নেমে লোকাল ট্রেনের কাউন্টার থেকে ১৮ রুপি দিয়ে টিকিট কাটবেন আর যেতে মাত্র ৩ ঘন্টার মত লেগে যাবে। আপনাকে ভেলরের Katpadi JN এ নামতে হবে। এরপর একটা অটো ভাড়া করে সরাসরি CMC Hospital এর মেইন গেটে নামিয়ে দিতে বলবেন। কাটপাডি স্টেশন থেকে মাত্র ২৫/৩০ মিনিট লাগে আর ভাড়া নিবে ১৫০/১৮০ রুপি।

এবার হাসপাতালের মেইন গেটে নেমে ভাড়া দিয়ে রাস্তার বিপরীত দিকে তাকিয়ে দেখেন শত শত দোকান, হোটেল ইত্যাদি পাবেন। আপনার পছন্দ মত একটা হোটেল ঠিক করে উঠে পড়ুন। তবে ৫০০/৬০০ রুপির মধ্যে ভাল মানের হোটেল রুম পাবেন। আর চাইলে ৩০০/৪০০ টাকার রুমে থাকতে পারবেন তবে তা খারাপ না।

চেন্নাই থেকে বাসে করে ভেলর (CMC) কিভাবে যাবেন?
চেন্নাই স্টেশনে নেমে একটা অটো ভাড়া করে সরাসরি কোয়েমবেডু (KOYAM BEDU ) বাস স্ট্যান্ডে যেতে হবে। অটো ভাড়া নিবে ২০০/২৩০ রুপি আর গিয়ে দেখবেন সরকারি বাস আছে প্রচুর, বাস দেখলেই বুঝবেন। গাড়ির লোকের কাছে শুনে নিন কোন বাস ভেলর বাস স্ট্যান্ড যাবে আর সেই বাসে উঠে পড়ুন। ভাড়া মাত্র ৮১ রুপি আর ভাড়া গাড়ির মধ্যেই নিয়ে থাকে, আলাদা পস মেশিন থেকে টিকিট দিবে আপনাকে। আর একটা একই বাস আছে কিন্তু ভাড়া ১০১ রুপি করে রাখে সেটা আপনি পেলে উঠবেন না পেলে উঠবেন না।
এরপর ভেলর বাস স্ট্যান্ড নামবেন আর কোথাও নামার দরকার নেই যেহেতু আপনি নতুন।

এবার একটা অটো ভাড়া করে নিন মাত্র ৫০/৬০ রুপি নিবে তবে নতুন হলে ৮০ রুপিও নিতে পারে। যাইহোক ভাবখানা দেখাবেন যে আপনি নতুন না, আর অটোওয়ালাকে বলবেন যে I want to go to CMC main gate, Kitna rupee অথবা What's the cost/fare? এবার উঠে পড়ুন আর ১২/১৫ মিনিটের মধ্যে CMC মেইন গেটে নামিয়ে দিবে। নেমে ভাড়া দিয়ে রাস্তার বিপরীতে তাকিয়ে দেখুন শত শত দোকান, লোকজন আর হোটেল আছে।
আপনাকে আগে হোটেল খুঁজতে হবে এবং ফ্রেশ হয়ে তারপর সময় থাকলে বাইরে একটু ঘুরাঘুরি করে নিতে পারেন। হোটেল ভাড়া ৩০০ থেকে শুরু করে ১২০০ রুপির মধ্যেই পেয়ে যাবেন। তবে ৫০০/৬০০ রুপির মধ্যে হলে ভালো মানের হোটেল পাবেন এবং রান্না করার সব কিছু পাওয়া যায়। কিছু হোটেল আছে হোটেল ভাড়ার সাথে এক্সট্রা গ্যাস বিল রাখবে আর বাইরে থেকে হাড়ি, পাতিল, কড়াই ইত্যাদি ভাড়া পাওয়া যাবে প্রতিদিনের জন্য। ১০ রুপি করে হাড়ি, কড়াই ভাড়া পাওয়া যায়, যদি ১০ দিনের বেশি থাকার দরকার হয় তাহলে কিছু কিছু জিনিস কিনে নিতে পারেন আর আসার সময় ব্যাগে করে আনবেন।

হাওড়া থেকে কিভাবে ভেলরে (CMC) যাবেন?
এতোক্ষন বলেছি হাওড়া থেকে কিভাবে চেন্নাই যেতে হয় এবং চেন্নাই থেকে কিভাবে ভেলরে যাওয়া যায় কিন্তু এখন বলবো সরাসরি ভেলর কিভাবে যাবেন কারণ অনেকেই যত ঝামেলা কম হবে তত তার সুবিধা। চেন্নাই থেকে ১৪০ কি.মি. দূরে ভেলর তবুও চেন্নাই হয়ে অনেকে যায় কিন্তু সবাইতো আর যেতে চাইবে না কারণ আপনার যদি চেন্নাই সিটিতে কোন কাজ বা দরকার না হয় তাহলে অযথা ওখানে নেমে আবার কেন কষ্ট করে ভেলর যাবেন?
মুলত অনেকে সরাসরি ভেলরের ট্রেন না পাওয়াতে চেন্নাই এর ট্রেনে যেয়ে থাকে আবার অনেকে শখে গিয়ে থাকে--- ওই যে মাদ্রাজ বলে কথা একটু পা না দিলে কেমন হয়ে যায় এই আর কি।
 

যাইহোক ভেলরে জাওয়ার প্রতিদিনের ট্রেন আছে একটি আর সাপ্তাহিক ট্রেন আছে ৩/৪ টি যা প্রতি সপ্তাহে একদিন/Duidin করে চলে। ম্যাক্সিমাম ট্রেন হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে যেমন:

১। Howra YPR express 
এটি প্রতিদিন রাত ৮ টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে আর পৌঁছায় রাত ২ টায়। সময় লাগে: ২৯ ঘণ্টা ২৫ মিনিট। পৌঁছাবে: Katpadi Junction আর এখানে নেমে একটা অটো নিলে ২০/২৫ মিনিট লাগে CMC এর মেইন গেটে পৌঁছাতে। মুলত এই ট্রেনটি সরাসরি ভেলর হয়ে বেংগালুর পর্যন্ত যেয়ে থাকে। কিন্তু আপনাকে ভেলরের Katpadi Station নেমে যেতে হবে।

ভাড়ার তালিকা:
এসি 3A tier: ২৭০৭ টাকা
এসি 2A tier: ৩৭৯০ টাকা
নন এসি স্লিপার: ১২৮০ টাকা
২। TVC express (ট্রেন নং: ২২৬৪২)
এটি প্রতি সপ্তাহের মংগলবার ছাড়ে রাত ১১ টা ৫ মিনিটে আর পৌঁছায়: ভোর ৬ টা ৫ মিনিটে আর সময় লাগে: ৩১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। ট্রেনটি হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ে।
ভাড়ার তালিকা:
নন এসি স্লিপার: ১৩১০ টাকা
3A tier AC: ২৭৮০ টাকা
2A tier AC: ৩৯২৫ টাকা
৩। GHY BNC express (ট্রেন নং: ১২৫১০)
এটি প্রতি সপ্তাহে ৩ দিন ছাড়ে যেমন সোমবার, মংগলবার এবং বুধবার। রাত ১ টা ৫ মিনিটে ছাড়ে আর পৌঁছাবে: ভোর ৬ টা ৩৫ মিনিটে। সময় লাগে: ২৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। হাওড়া থেকে ১৭৯২ কি.মি. ভেলরের কাটপাডি স্টেশন পর্যন্ত।

ভাড়ার তালিকা:
নন এসি স্লিপার: ১২০৫ টাকা
3A tier AC: ২৮২৮ টাকা
2A tier AC: ৩৯৪৫ টাকা
এই হলো ভেলরে জাওয়ার সমস্ত ট্রেনের বিস্তারিত যা হয়তো আপনার দরকার হতে পারে। বিডি থেকে যারা যায় ম্যাক্সিমাম রাতের ট্রেনে যেতে পছন্দ করে।
তাহলে রাতের ট্রেনে উঠে খাওয়া দাওয়া করে নিন। খাওয়া দাওয়া বাবদ ১৪০ রুপির মত খরচ যাবে এর বেশি নয় তবে ভেজিটেবল কিছু খেলে ৬০ রুপির মধ্যে হয়ে যাবে। যাইহোক খাওয়া দাওয়া শেষ হলে একটা শান্তির ঘুম দিন।

পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে সকালের নাস্তা করে নিবেন। একই ভাবে দুপুরের, রাতের খাবার খেয়ে নিবেন এতে করে দুপুরে ১২০ এবং ১২০ সব মিলে ২৪০ + সকালে ৬০ = ৩০০ রুপির বেশি নয়।

আপনার ট্রেন কিন্তু রাত ২ টায় কাটপাডি স্টেশনে নামিয়ে দিবে। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনি যেহেতু নতুন তাই টিকিট কাটবেন এমন ট্রেনের যে ট্রেন ভেলরের Katpadi Station এ ভোরবেলা গিয়ে পৌঁছাবে। তাহলে আপনার জন্য সহজ হবে কারণ রাতে গিয়ে হোটেল খোজাখুঁজি ঝামেলার। তারপরও গেলে কোন সমস্যা নেই কারণ ভেলরে বাটপারের সংখ্যা খুব খুব কম তাই নিশ্চিন্ত মনে ঘোরাঘুরি করতে পারেন বা যেতে পারেন।

অটোবাইক ভাড়া করে নিবেন তাতে ১৫০/২০০ রুপি পর্যন্ত নিতে পারে, CMC মেইন গেটে যেতে সময় লাগবে: ২৫/৩০ মিনিট। এবার অটো থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে দিন তারপর মেইন গেটের বিপরীত দিকে মানে রাস্তার ওই পারে যাবেন আর হোটেল খুঁজবেন। বিভিন্ন রকমের হোটেল আছে তবে অনেক কমে পাবেন হোটেলের রুম গুলো। -BDindi Traverra। 

ট্যাগ:

ভ্রমণ
ঢাকার কাছাকাছি জনপ্রিয় কয়েকটি পর্যটন স্পট

banglanewspaper

ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে যাওয়ার সুযোগ হবে না সবার। যারা ঢাকা থাকবেন তারা চাইছেন আশপাশে কোথাও থেকে ঘুরে আসবেন। কম সময়ে পরিবার নিয়ে ঢাকার কাছাকাছি ঘোরা যায় এমন অনেক সুন্দর জায়গা আছে। যেখানে আপনি একদিনে ঘুরে আসতে পারবেন। ঢাকার অদূরে জনপ্রিয় কয়েকটি টুরিস্ট স্পট সম্পর্কে জানুন—

লালবাগ কেল্লা

পুরান ঢাকার লালবাগে অবস্থিত লালবাগ কেল্লা। মোঘল আমলে স্থাপিত এই দুর্গটি একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থলও এটি। পুরান ঢাকার ভিড় ঠেলে কেল্লার সদর দরজা দিয়ে ঢুকলেই চোখে পড়ে পরী বিবির মাজার। এখানে আছে দরবার হল, নবাবের হাম্মামখানা। আছে শাহী মসজিদ। রয়েছে একটি জাদুঘরও। সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে এটি।

আহসান মঞ্জিল

নামে হয়তো আহসান মঞ্জিলকে অনেকেই জানেন। কিন্তু পুরান ঢাকার যানজটের কথা চিন্তা করে অনেকেই ওদিকে পা বাড়ান না। তবে এই ফাঁকা ঢাকায় একবার ঢু মারতে পারেন আহসান মঞ্জিলে। ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে মোঘল আমলের ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আহসান মঞ্জিল। খোলা থাকে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।

পানাম নগর

সোনারগাঁ একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল পানাম নগর। উনিশ শতকের প্রথম দিকে এটি বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ইংরেজরা এটিকে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে মূলত ঢাকাই মসলিন কাপড়ের কেনাবেচার জন্য। এ ছাড়াও মুঘল আমলে এই এলাকায় বেশ কিছু ব্রিজ নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়। এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ এখনো আপনার জন্য অপেক্ষা করে আছে পানাম নগরে।

পদ্মা রিসোর্ট

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানা সংলগ্ন পদ্মার বিস্তৃত চরজুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ নিদর্শন পদ্মা রিসোর্ট। এ রিসোর্টে দিনদিন পর্যটন বাড়ছে। পদ্মা রিসোর্ট দেখলে মনে হবে চরে যেন সেন্টমার্টিন দ্বীপ জেগে আছে। সাড়ে তিন শ শতাংশ জমির বিশাল বিস্তৃত চরে প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য নিয়ে পদ্মা রিসোর্টের কটেজগুলো (কুড়েঘর) নির্মাণ করা হয়েছে। নদীরপাড় সংলগ্ন পদ্মা নদীঘেরা চরের মধ্যে কুড়েঘর ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পদ্মা রিসোর্টকে মনোমুগ্ধকর করে রেখেছে।

ড্রিম হলিডে পার্ক

ড্রিম হলিডে পার্ক ঢাকার পাশেই নরসিংদী জেলায় অবস্থিত অন্যতম থিম পার্ক। পরিবার পরিজনদের সারাদিন হৈচৈ আর আনন্দে মাতামাতি করতে অথবা পিকনিকের আয়োজন করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এখান থেকে। রাতে থাকার জন্যও রিসোর্টে রয়েছে সুব্যবস্থা।

নিকলী হাওর

খোলামেলা পরিবেশে স্নিগ্ধ প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে ঘুরে আসতে পারেন কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর থেকে। ঢাকা থেকে বাসে বা ট্রেনে যেতে পারেন কিশোরগঞ্জ শহরে, সেখান থেকে সিএনজিতে করে নিকলী ঘাট। ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে ঘুরে দেখুন হাওর। মনে রাখবেন, বর্ষার শেষ দিকে হাওর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

আড়িয়াল বিল

ঢাকার খুব কাছেই মুন্সিগঞ্জের এক ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল আড়িয়াল বিল। এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ আগ্রহ। বিলের পানিতে পা ডুবিয়ে চমৎকার একটা দিন পার করতে পারেন।

মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি

ঢাকা থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়ে বামে রূপগঞ্জ উপজেলা। একটু সামনেই রূপসী বাসস্টেন থেকে সিএনজি করে মুড়াপাড়া জমিদার বাড়ি।

বাংলার তাজমহল

২০০৮ সালে সোনারগাঁয়ে আগ্রার তাজমহলের আদলে নির্মিত হয় ‘বাংলার তাজমহল’। বিভিন্ন স্থানে বসানো টাইলস, বিদেশি ডায়মন্ড পাথর, গম্বুজের ওপরে ব্রোঞ্জের তৈরি চাঁদ-তারায় দৃষ্টিনন্দন এ তাজমহল।

ট্যাগ:

ভ্রমণ
কক্সবাজারের আকাশে রোমাঞ্চকর প্যারাসেইলিং

banglanewspaper

আকাশে উড়ে পাহাড়, সমুদ্র দেখার সাধ কার না মনে জাগে! আজন্ম লালিত এই সাধ পূরণ করা সম্ভব প্যারাসেইলিংয়ের মাধ্যমে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যটকদের কাছে প্যারাসেইলিংয়ের কদর অনেক। বাংলাদেশে প্যারাসেইলিং করে রোমাঞ্চর অভিজ্ঞতা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং করা যায়। বেশ কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার ভ্রমণ আসা পর্যকটরা প্যারাসেইলিংয়ের আনন্দ নিচ্ছেন।

কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে সৈকতের হিমছড়ি দরিয়ানগর পয়েন্টে মেরিন ড্রাইভের দক্ষিণ পাশের সৈকতে প্যারাসেইলিং করা হয়। দুইটি প্রতিষ্ঠান সেখানে পর্যটকদের জন্য প্যারাসেইলিংয়ের আনন্দ উপভোগের সুযোগ দিচ্ছেন। সেখানে গেলেই চোখে পড়বে প্যারাসুটে চড়ে মানুষ আকাশে উড়ছে। নিচে উত্তাল সমুদ্র।

প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্যারাসেইলিংয়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে দরিয়ানগরে ভিড় করেন পর্যটকরা। এ আনন্দ পেতে ব্যয় করতে হবে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

একটি প্যারাসুটে বেঁধে দেওয়া হবে আপনাকে, একটি স্পিড-বোট আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে সমুদ্রে, আর সেই তীব্র গতিতে আপনি ঠিক একটা ঘুড়ির মতই উড়তে থাকবেন।

পাখির মতো সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে বেড়ানোর একমাত্র উপায় প্যারাসেইলিং। রোমাঞ্চকর এ প্যারাসেইলিং এর স্বাদ নেওয়ার সবচেয়ে সুন্দর স্থান হলো সৈকত। বর্তমানে দরিয়ানগরে দুইটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্যারাসেইলিং করার ব্যবস্থা আছে।

প্যারাসেইলিং করার কয়েকটি প্যাকেজ আছে। খরচ পড়বে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা। ২০০০ টাকার রাইডে আপনি শুধু আকাশে উড়তে পারবেন। ২৫০০ টাকার রাইডে আপনি আকাশেও উড়তে পারবেন আবার নামার সময় সমুদ্রের পানিতে হালকা পা স্পর্শও করতে পারবেন।

৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত আপনি প্যারাসেইলিংয়ের মাধ্যমে পাখির মতো আকাশে উড়তে পারবেন। ৩০০-৫০০ ফুট পর্যন্ত উপরে ভেসে বেড়াবেন।

১২ বছরের নিচে, দুর্বলচিত্তের মানুষ কিংবা হার্টের রোগী ছাড়া সবাই নিশ্চিন্তে প্যারাসেইলিং করতে পারেন। তবে আপনার যদি উচ্চতা ভীতি থাকে তবে প্যারাসেইলিং না করাই ভালো।

প্যারাসেইলিং করার আগে অবশ্যই উড্ডয়নকারীকে একটি বন্ডে সই করতে হয়। বন্ডে লেখা থাকে প্যারাসেইলিংয়ের সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় নেবে না সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। তাই কিছুটা ঝুঁকি নিয়েই আপনাকে এই উপভোগ করতে হবে।

যদিও যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা দুর্ঘটনার জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকে প্যারাসেইলিং রাইড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। এজন্য একটি স্পিডবোট, একটি জেট স্কি রেডি থাকে আপদকালীন সময়ের জন্য।

প্যারাসেইলিংয়ের সময় হাতে মোবাইল ফোন, চোখে চশমা না রাখাই ভালো। আকাশে ওড়ার রোমাঞ্চকর এই দৃশ্য ধারণ করতে চাইলে বডি মাউন্টেড অ্যাকশন ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেলফি স্টিকের মাধ্যমে ফোনে ভিডিও ধারণ না করাই ভালো। হাত থেকে ফসকে সাগরে আপনার ফোনের সলিল সমাধি হতে পারে।

ট্যাগ:

ভ্রমণ
নিকলী হাওর ভ্রমণের খুঁটিনাটি

banglanewspaper

“বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি তাই পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে চাই না আর” কবি জীবনানন্দ দাশের উক্তির সঙ্গে মিলে বলতে হয় যে প্রকৃতির অকৃত্রিম, অনাবিল ও অফুরন্ত সৌন্দর্যের লীলাভূমি বাংলাদেশ। এর প্রতি পরতে পরতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পাহাড়, নদী ও হাওরের নির্মল উজ্জ্বলতা। এমনই এক অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত স্থান কিশোরগঞ্জের নিকলী হাওর।

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় অবস্থিত এই হাওর সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বর্ষাকালে হাওরের দখিনা বাতাসে নৌকার ভেসে চলা, দ্বীপের মত গড়ে ওঠা ঘরবাড়ির সৌন্দর্য এক অপরূপ দৃশ্যপট তৈরি করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে রূপ পাল্টিয়ে ভিন্ন সাজে সেজে ওঠে পুরো হাওর এলাকা। জ্যোৎস্না রাতে নিকলী হাওরের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে যায়। হাওরের তরতাজা মাছের স্বাদ পেতে, স্বচ্ছ পানির খেলা দেখতে, দ্বীপের বুকে ভেসে থাকা ছোট ছোট গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে ঘুরে আসতে পারেন নিকলী হাওর।

উপযুক্ত সময়

হাওরের পানির রূপ দেখতে হলে নিকলী ভ্রমণের উপযুক্ত সময় জুলাই থেকে আগস্ট মাস। বর্ষাকালে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো সবচেয়ে উপভোগ্য। হাওরের ভিন্ন রূপ দেখার জন্য যেকোনো সময় যেতে পারেন।

নিকলী যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে বাস কিংবা ট্রেন দুই ধরনের যানবাহনই ব্যবহার করতে পারবেন নিকলী হাওরে যাওয়ার জন্য। তবে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব কিংবা আশেপাশের এলাকা থেকে সিএনজি করে যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে ট্রেনে যাওয়ার উপায়: ঢাকা থেকে ট্রেনে গিয়ে একদিনে ঘুরে আসা সম্ভব নিকলী হাওর। এ জন্য আন্তঃনগর এগারো সিন্ধু ট্রেনে উঠতে হবে। এই ট্রেন বুধবার বন্ধ থাকে। সপ্তাহের ৬ দিনই কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সকাল ৬টায় ছেড়ে বিমানবন্দর, টঙ্গী, নরসিংদী ও ভৈরব স্টেশন হয়ে কিশোরগঞ্জ পৌঁছায়। শ্রেণি অনুসারে ট্রেনের টিকেট ভাড়া ১২৫-২৫০ টাকা। ট্রেনে গেলে সকাল ১১ টার মধ্যে গচিহাটা স্টেশনে পৌঁছানো সম্ভব। স্টেশন থেকে ইজিবাইকে জনপ্রতি ভাড়া নেবে ৩৫ টাকা। রিজার্ভ সিএনজি নিলে ৩০০-৩৫০ টাকা ভাড়া নেবে। এতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা। একদিনে ভ্রমণ করে ফেরার সময় বাসে আসতে হবে।

ঢাকা থেকে বাসে নিকলী ভ্রমণের উপায়:

বাসে নিকলী হাওরে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঢাকার গোলাপবাগ, শনির আখড়া, সাইনবোর্ড থেকে যাতায়াত কিংবা অনন্যা সুপার সার্ভিস বাসে উঠতে হবে। প্রতিদিন ভোর ৫.৩০ মিনিট থেকে ১৫ মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায়। বাস ভাড়া জনপ্রতি ১৯০-২২০ টাকা। বাসে আসলে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি স্টেশনে আসতে সময় লাগবে সাড়ে তিন ঘণ্টা, সেখান থেকে সিএনজি রিজার্ভে ভাড়া খরচ হবে ৩৫০-৪০০ টাকা এবং নিকলী যেতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট। কিশোরগঞ্জ বা ভৈরব থেকেও রিজার্ভ সিএনজি নিয়ে যাওয়া যায় নিকলী হাওরে। এতে সময় ও ভাড়া খরচ হবে কম।

খাবার ব্যবস্থা:

নিকলী হাওরে ভাল মানের খাবার হোটেল আছে। এর মধ্যে হোটেল সেতু, ক্যাফে ঢেউ সবচেয়ে ভাল। হাওরের তাজা মাছ ও লোভনীয় অনেক খাবার দিয়ে পেট ভরে খেতে পারবেন এসব হোটেলে।

কীভাবে ঘুরবেন:

হাওরের সৌন্দর্য দেখতে হলে অবশ্যই আপনাকে নৌকা ভ্রমণ করতে হবে। নৌকা ভ্রমণ করার জন্য ছোট বা বড় নৌকা ভাড়া করতে পারেন। ছোট নৌকায় ঘণ্টায় ভাড়া ৪০০-৫০০ আর বড় নৌকায় ঘণ্টায় ভাড়া নিবে ৭০০-৮০০। নৌকায় ভাসতে ভাসতে হাওরের চারপাশের মনোমুগ্ধকর রূপ দেখতে দেখতে প্রথমে যাবেন ছাতিরচর গ্রামে। বর্ষায় পানি বেশি থাকে বিধায় হাওরে গোসল করতে পারেন। তবে নিরাপত্তার জন্য লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়া ভাল। জলাবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চলে যান মনপুরায়। আধো ভাসমান চরে কিছুক্ষণ সময় কাটান। উন্মুক্ত হাওরে শেষ বিকেলের চমৎকার দৃশ্য দেখতে পুনরায় ফিরে আসেন নিকলী বেড়িবাঁধে। ফিরে আসার জন্য কটিয়াদি বাস স্টেশন থেকে সন্ধ্যার বাসে উঠে পড়ুন।

থাকতে হলে করনীয়

নিকলী তে খুব ভাল মানের আবাসিক হোটেল নেই। রাত থাকতে হলে আপনাকে কিশোরগঞ্জ সদরে চলে আসতে হবে। চাইলে নৌকায় বা ক্যাম্পিং করে রাত কাটাতে পারেন। এতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রাখতে হবে।

নিকলীর আরও কিছু দর্শনীয় স্থান:

গুরই শাহে জামে মসজিদ, নিকলী বেড়িবাঁধ, পাহাড় খার মাজার, গুরই প্রাচীনতম আখড়া।

ট্যাগ:

ভ্রমণ
বিশ্ব পর্যটন দিবস আজ

banglanewspaper

আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস। কভিড-১৯ মহামারির ধাক্কায় সবচেয়ে বিপর্যস্ত খাত হিসেবে অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়ে এ বছর পালিত হচ্ছে দিবসটি। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে ‘পর্যটন ও গ্রামীণ উন্নয়ন’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটলে ১৯৭০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্ব পর্যটন সংস্থা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করে জাতিসংঘ। তবে সংস্থাটি পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করে ১৯৭৪ সালে। সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনে ১৯৮০ সালে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা এ বছর বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামীণ উন্নয়নে পর্যটন’কে অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে পর্যটন শিল্পের বিকাশে অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।’ একই সাথে বিশ্ব দরবারে দেশের পর্যটন শিল্পকে কার্যকরভাবে তুলে ধরার উপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের স্বতস্ফুর্তভাবে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য বাংলাদেশের অন্যতম এজেন্ডা ‘গ্রাম হবে শহর’ যা এ বছর জাতিসংঘ বিশ্ব পর্যটন সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত প্রতিপাদ্যের সাথে অত্যন্ত সংগতিপূর্ণ। পর্যটন বিশ্বে শ্রমঘন এবং সর্ববৃহৎ শিল্প হিসেবে স্বীকৃত।’ 

ট্যাগ:

ভ্রমণ
করোনাকালে বিনামূল্যে বিশ্বভ্রমণ!

banglanewspaper

করোনাভাইরাস প্রায় গোটা বিশ্বকে কবজা করার পর ভ্রমণের ইচ্ছা শুধু যেন স্বপ্নই হয়ে উঠেছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক দেশ নিজস্ব সীমান্ত বন্ধ করেছে। দেশের মধ্যেও ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি দেখা গেছে। প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে লকডাউনের ফলে কার্যত গৃহবন্দি থাকতে হয়েছে। শুধু মানুষ নয়, প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ যাত্রীবাহী বিমান আকাশে উড়তে পারেনি। এমন জরুরি পরিস্থিতিতে জনপ্রিয় অনেক শহর ও অঞ্চল বিনামূল্যে ভার্চুয়াল ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।

যেমন চীনের প্রাচীর বরাবর হাঁটার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পেরুর বিখ্যাত মাচুপিচু পর্বত নিজের মতো করে আবিষ্কার করা যাচ্ছে। জর্দানের পেত্রা দেখে মুগ্ধ হওয়াও সম্ভব অথবা নেদারল্যান্ডসের টিউলিপবাগানের দৃশ্য উপভোগ করা যাচ্ছে। প্রকৃতিপ্রেমীরা অনেক জাতীয় পার্কের রূপ দেখতে পাচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের বিখ্যাত ইয়োসেমাইট ঘুরে দেখা যাচ্ছে।

বিশ্বের প্রায় দুই হাজার ৫০০ মিউজিয়াম নিজস্ব ভার্চুয়াল দরজা খুলে দিয়েছে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষ বসার ঘর থেকেই মঙ্গল গ্রহে টহল দিতে পারছে। গ্রিস নিজস্ব পর্যটন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। অতিথিরা ভার্চুয়াল জগতে গ্রিসের মানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাচ্ছে। ভবিষ্যতে পর্যটন আরও বেশি করে স্থানীয় পর্যায়ে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে বলে একটা প্রত্যাশা জেগে উঠছে। সূত্র : ডয়চে ভেলে

ট্যাগ: