banglanewspaper

এম, এ আহমদ আজাদ, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ): ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের বাইপাস রোডে সিলেট টু হবিগঞ্জ সড়কের নবীগঞ্জের ৫টি ষ্টেশনের যাত্রীদের সাথে হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বিরতিহীন বাসের অনিয়ম ও যাত্রী হয়রানি চরম আকার ধারন করেছে।অতীষ্ঠ যাত্রীরা অচিরেই বৃহৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রতিদিনই যাত্রী সাধারনের সাথে টিকেট ও সিটে বসা নিয়ে হেলপার,সুপারভাইজার ও বাসকাউন্টারের ম্যানাজারের ঝগড়া হাতাহাতি ও তর্কবির্তক হচ্ছে প্রতিদিন। এব্যাপারে বাস মালিক সমিতি ও জনপ্রতিনিধিদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন ভুক্তভোগী মহল।বিশেষ করে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যে কোন সময় বড় ধরনের বিস্ফোরন ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য যে,ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাইপাসে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় এক্সপ্রেস বিরতিহীন বাসের যাত্রী উঠানামার জন্য ষ্টেশন রয়েছে নবীগঞ্জের সীমান্তের শেরপুর,সৈয়দপুর বাজার,আউশকান্দি,পানিউমদা ও বাহুবলের পুটিজুরী বাজার রয়েছে। এসব ষ্টেশন থেকে প্রতিদিন শত শত যাত্রী ও ছাত্র-ছাত্রী বিভাগীয় শহর সিলেটে তাদেও প্রয়োজনে আসা যাওয়া করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,উল্লেখিত ষ্টেশনের যাত্রীরা সিলেট শহরের কদমতলী কাউন্টারে ষ্টেশনে গিয়ে টিকেট পেতে খুবই ঝামেলা  পোহাতে হয়। টিকেট চাইলেই ম্যানাজার সাহেব বলেন সব টিকেট শেষ।আব্দুল করিম নামে একজন কলেজ ছাত্র বলেন, আমরা আউশকান্দি ষ্টেশনের কোন ঠিকেট পাই না। টিকেট চাইলেই ম্যানাজার সাহেব বলেন “টিকেট শেষ আর যদি টিকেট পাই তাহলে বাম্পারের উপরে সিট”

শাহ মুনাঈম কবির বলেন, সিলেট কাউন্টারে আউশকান্দির টিকেট চাইলে এমন ভাবে থাকায় যেন অন্যগ্রহ থেকে এসেছি, হবিগঞ্জ সিলেট এক্সপ্রেস পরিবহনের ড্রাইভার হেলপারদের আচরন “সন্ত্রাসীদের মত”।

আলমগীর হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন আমরা যদি ভাগ্যক্রমে একটি সিট পাই তখন নাম্বার ৪০ থেকে ৫৮ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে। এর আগে কোনদিন সিট পাওয়া যায় না। এ নিয়ে প্রতিদিন কাউন্টারে ঝামেলা করতে হয়।
তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন,আমার কথা হলো আমরা  এসব ষ্টেশনের লোকজন কি টাকা দিয়ে সিট ক্রয় করি না।

কবি শহিদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ভাই বাস কাউন্ডারে অনিয়ম নিয়ে কয়েকদিন ঝামেলা করেছি। দিন দিন ওরা শেরপুর, সৈয়দপুর, আউশকান্দি, ও পানিউমদার যাত্রীদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে আসছে। এই পরিবহনের বিরুদ্ধে একটি গন আন্দোলন এখন সময়ের দাবী! আমাদের নেতারা ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই পরিবহনের বিকল্প পরিবহন ও লাইনে আনার দাবি জানাচ্ছি। গতকাল মঙ্গলবার সরজমিনে বাসে এ প্রতিবেদক অবস্থান করেন, এসময় দেখা যায়, রাত সাড়ে নয়টার বাস রাত ১০ টায় বাসটি ছাড়া হলো।  বাসে টিকেটদারী ১৫/২০ জন যাত্রী কিন্তু ৫৮সিটের বাসে বাকি সিট খালি। কিন্তু শেরপুর, সৈয়দপুর বাজার,আউশকান্দি বাজার ও পানিউমদা বাজারের কয়েকজন যাত্রী সামনের সিটে বসলে তাদের তুলে দিয়ে সুপারভাইজার সাবাজ মিয়া জানান এসব এলাকার যাত্রী সামনে বসা নিষেধ। সামনে বসলে তাদের চাকুরী থাকবে না। তখন কয়েকজন যাত্রী তীব্র প্রতিবাদ করলে এনিয়ে যাত্রীদের সাথে সুপারভাইজার ও হেলপারদের চরম তর্কবির্তক হয়। তবুও ঐ পাঁচটি ষ্টেশনের যাত্রীদের সামনে বসতে দেয়া হয়নি।

রাত সাড়ে ৯ টার বাস রাত ১০ টায় বাস ষ্টেশন ত্যাগ করলো। এসময় সব যাত্রী প্রতিবাদ করলেও চালক কোন কর্নপাত করেননি। এক পর্যায়ে যাত্রীরা উত্তেজিত হলে চালক জানালেন এটা মালিকের অনুমতি আছে দিনের শেষ বাসটি সময় মতো না ছাড়লে জরিমানা হবে না। এব্যাপারে  চালকের নাম জানতে চাইলে তিনি নাম প্রকাশ না করে বলেন ম্যানাজার সাব যদি আগের নাম্বারে টিকেট দেন আমরা সেখানে বসাবো। ম্যানাজারের সাথে কথা বলেন, এব্যাপারে ম্যানাজারের সাথে কথা বলার জন্য বাস কাউন্টারে গেলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে নিজের আসল নাম বলতে চাননি। তিনি বলেন, আমরা উপরের নির্দেশে এসব ষ্টেশনের যাত্রীদের সামনে বসতে দেই না। তাকে প্রশ্ন করা হয় এসব ষ্টেশনের য়াত্রীরা কি টাকা দিয়ে সিট ক্রয় করেন না। তিনি বলেন টাকা দিলেই সব হয় না। এ বিষয়ে ঝামেলা না করাই ভাল। আর না হয় “কোন দিন হবিগঞ্জী বিরতিহীন বাসের সিট পাবেন না”। প্রতিবাদকারী যাত্রীদেও তারা কালো তালিকা ভুক্ত করেন বলে কাউন্ডারে বসা শফিক নামে একজন জানান।

যাত্রী অভি আহমেদ পাভেল জানান, আমি সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে পানিউমদা আসার জন্য টিকেট কাউন্টারে গেলাম পানিউমদা যাব বল্লাম উনি আমাকে বলেন, আগে হবিগঞ্জের পেসিঞ্জার হোক তার পরে টিকেট পাবেন এখন জামেলা করবেন না।  আমি অনেক সময় দাড়ালাম কিন্তু টিকেট আমাকে দিতেছেন না তার পরে আমি বাধ্য হয়ে হবিগঞ্জের ভাড়া দিয়ে টিকেট কেটে পানিউমদা যাবো।  কেন এত অনিয়ম হয় হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস বিরতিহীন বাসে জানতে ছাই? শোনেছি হবিগঞ্জ বিরতিহীন বাস না কি শৃংখলা বদ্ধ পরিবহন সমিতি। তাদের বাসে এবং কাউন্টারের অনিয়ম কে দেখবে? যাত্রী আনোয়া হোসেন বলেন,আমিও বেজাল করছি আমার সাথে একজন অপারেশনের রোগী ছিলেন মিডিলে দুইটি সিটের জন্য অনেক অনুরুধ করেও লাভ হয়নি। পরে পুটিজুরির টিকেট কাটলাম সৈয়দপুর বাজার নেমে আসলাম। ম্যানেজারের সাথে তর্ক করতে গিয়ে জানলাম ম্যানেজার বলেন শেরপুর সৈয়দপুর ও আউশকান্দীর লোকের জন্য পিছনে ১০টি সিট বরাদ্দ আছে। 

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার সংসদ সদস্য এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, জনসাধারনের স্বার্থে পবিরহন চলাচল করে। আমার নির্বাচনী এলাকার পাঁচটি ষ্টেশনের যাত্রীদের সাথে যেসব অনিয়ম করা হচ্ছে আমি তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি দাবি করছি বিষয়টি মালিক সমিতির লোকজন দ্রুত সমাধান করবেন।
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সজিব আলী বলেন, ব্যাপারটি অতি গুরুত্বপূর্ন কিন্তু আমি কিছুই মন্তব্য করবো না। সব কিছু মালিক সমিতির সিন্ধান্ত। 

হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান চৌধুরী বলেন,যে পাঁচটি ষ্টেশনের কথা বলা হয়েছে সে গুলোর যাত্রীদের সামনের সিট দেয়া এটা ম্যানাজারের বানানো অতিরঞ্জিত কথা। যে বলেছে তার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো।  তিনি এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমাদের যে কোন অনিয়ম হলে আজই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
 

ট্যাগ: