banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে সামনে রেখে প্রার্থীদের প্রচারনায় মুখর নরসিংদী সদর-১ আসন। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও প্রতিপক্ষ দল বিএনপি'র রয়েছে একাধিক প্রার্থী।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের তালিকায় রয়েছে বর্তমান এমপি ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল নজরুল ইসলাম হীরু, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব খান মন্টু ও নরসিংদী-২ (পলাশ উপজেলা) আসনের এমপি কামরুল আশরাফ খান পোটনের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে পোটন নরসিংদী-২ আসন থেকে ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলেও এই বছর আওয়ামী লীগে যোগ দান করেন।

নৌকার মাঝি হিসেবে নরসিংদী সদরের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা চাই কামরুল আশরাফ খান পোটনকে।

এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খাইরুল কবির খোকন ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর এলাহির নাম শোনা যাচ্ছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছে, নরসিংদী সদর আসনের বর্তমান এমপি পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল নজরুল ইসলাম হীরুকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নিবাচনে দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল সে দলের জন্য কাজ করবে ও এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখবে। কিন্তু হিরু সেটা পূরণে সম্পূর্ন ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি দলের ত্যাগী নেতা কর্মীদের দলীয় পদ ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে বিএনপি জামাতের লোকদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। ফলে সদর আসনটিতে সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা চান দলীয় সভানেত্রী যাতে আসনটি ধরে রাখতে নতুন নেতৃত্ব হিসেবে কামরুল আশরাফ পোটনকে সদর আসনে মনোনয়ন দেন। এতে বিভক্তির অবসান ঘটবে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে স্থানীয় বিরোধ, বিতর্ক ও জনপ্রিয়তা হারানোর কারণে আওয়ামী লীগ থেকে অনেকেই এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। তালিকায় রয়েছে বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রীরা। আর সেই তালিকায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (নরসিংদী-১) রয়েছেন।

‘৭৫ পরবর্তী নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম ভূইয়া বিডিনিউজআওয়ার কে জানান, নরসিংদী সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে দুইবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। ফলে তার কাছে আমাদের অনেক প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। দলীয় নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তিনি বিএনপি ও জামাতের নেতাদের দলে প্রবেশ করিয়ে টাকার পাহাড় বানিয়ে দিয়েছেন। এসব বিষয় নিয়ে তাকে বেশ কয়েকবার সতর্ক করা হলেও তিনি কোন কর্ণপাত করেননি। কারণ তিনি মুক্তিযোদ্ধা হলেও ’৭৫ পরবর্তী সময় থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরে ছিলেন এবং তার পরিবারের সবাই বিএনপি ও জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত।

আসন্ন নির্বাচনে সদর আসন থেকে কাকে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, যে দলের জন্য কাজ করবে তাকেই এই আসনে যুক্ত করা হোক। দল যদি মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে জনপ্রিয়তা যাচাই করে তাহলে ভালো প্রার্থী অবশ্যই পাবে। 

                                                               পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লেঃ কর্ণেল নজরুল ইসলাম হীরু      

নাম প্রকাশ না শর্তে সদরের এক নেতা জানান, ২০০৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপির এমপির মৃত্যুতে ওই আসনে উপ-নির্বাচন হয়। সেখানে বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে এলাকায় পোস্টার ছেটে ছিলেন নজরুল ইসলাম হীরু। এছাড়া তার পরিবারের অনেক সদস্য এখনও জামাতের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানান তিনি।

জেলা ছাত্রলীগ এর সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি প্রার্থী রেহানুল ইসলাম লেলিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাই আগামী নির্বাচনে যদি সদর আসনটি ধরে রাখতে হয় তবে হিরুকে পরিবর্তন করে কামরুল আশরাফ খান পোটনের মতো ক্লীন ইমেজের মানুষ হিসেবে সদর আসনে দরকার।

তিনি আরো জানান, মন্ত্রীর মদদে আংগুর মোল্লা নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আংগুর মোল্লার নামে মামলা হয়েছে। এছাড়া ছাত্রলীগ নেতা কেনি, নুর আলম, জুবায়ের আহাম্মেদ জুয়েলকে মন্ত্রীর ইশারায় মামলা দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নরসিংদীর সব পাঁচটি থানায় উন্নয়ন হলেও নরসিংদী সদর আসনে বর্তমান প্রতিমন্ত্রী তেমন কোন উন্নয়নের ছাপ লাগাতে পারেনি। কিন্তু কামরুল আশরাফ খান পোটনের আসন পলাশ উপজেলায় প্রায় ১৫০০ কোটি  টাকার উন্নয়ন কাজ হয়েছে। এছাড়া নির্যাতিত দল থেকে বঞ্চিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিভিন্ন সময় নানা ভাবে সহযোগীতা করেছেন স্থানীয় এই এমপি।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এস এম কাইয়ুম জানান, কেউ যদি প্রতিমন্ত্রী হিরু’র বিরুদ্ধে সোচ্ছার হয় তাকে প্রশাসনের মাধ্যমে মামলা, হামলা ও নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়।বিএনপি যুবদলের চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রতিমন্ত্রী হিরুর প্রত্যক্ষ মদদে দলীয় ত্যাগী নেতা কর্মীদের নির্যাতন ও হয়রানি করা হয়। প্রতিবাদ করাতে বারবার আমাকে সহ এমন অনেক কারা নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। জননেত্রী ও এই খবর জানেন।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের আহমেদ জুয়েল বলেন, দলের দুর্দিনের যারা ত্যাগী আওয়ামীলীগ ছিলেন- তারা আজ ক্ষোভে দলের সকল কর্মসূচী থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে।এমনকি শোক দিবসের অনুষ্টানেও প্রতিমন্ত্রীর ছত্র ছায়ায় ত্যাগী নেতাদের প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার মতো ঘটনা ঘটে।

নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভূইয়া বিডিনিউজআওয়ার কে বলেন, প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি সবার জানা। আওয়ামী লীগ ধ্বংসে তার সম্পূর্ন অবদান। দলের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতাদের তিনি মূল্যায়ন করেন না। ‘আওয়ামী লীগে এখন আর আওয়ামী লীগ নেই।’ জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও জামাতের লোক নিয়ে তিনি দলে ঢুকিয়ে নেতা বানাচ্ছেন। সাম্প্রতিক যুবলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের প্রতিটি কমিটিতে জামাত বিএনপির লোক স্থান পেয়েছে। দলের দুর্দিনে যারা কাছে ছিল তারা আজ দলের কোন কমিটিতে নেই। এমন চললে এই আসনটি হারাতে হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। আর সারা জীবন দল করে যদি এই আসন হারাতে হয় তাহলে সেটা সব থেকে বড় কষ্টের হবে বলে এই নেতা মনে করেন।

এ ব্যাপারে কামরুল আশরাফ খান পোটন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সদর বাসীর প্রত্যাশা সব সময় বেশি থাকে। সদরের ত্যাগী বঞ্চিত নেতাকর্মীরা আমাকে অনুরোধ করছে কিন্তু আমি মাননীয় নেত্রী  শেখ হাসিনা ও দল যদি সিদ্ধান্ত  দেয় তবে অবশ্যই সদরবাসীর জন্য কাজ করতে ইচ্ছুক।

অভিযোগের ব্যাপারে পানি সম্পদ মন্ত্রী কর্ণেল নজরুল ইসলাম হীরু’র সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি মোবাইলে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন রিপ্লাই দেননি।

ট্যাগ: