banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: আগস্ট মাস মানেই বাঙ্গালী জাতির কাছে শোকের মাস। এই মাসেই বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই দিনে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর এ ঘটনা এখনও ইতিহাসের কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। 

রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হয় জাতির জনকের ৪২তম শাহাদাত্বার্ষিকী। বাঙালি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে তাঁর শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। নৃশংস এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাস ভবনে। নৃশংস ওই ঘটনায় বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আরো যারা প্রাণ দিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের সদস্যদের সাথে বঙ্গবন্ধু

তারা হলেন- জাতির পিতার সহধর্মিণী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্নেল জামিল। খুনিদের বুলেটে সেদিন আরো প্রাণ হারান বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খানসহ অনেকে। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট আসে বাঙালির হৃদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে।

ধানমন্ডির প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা: এদিন রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ৩২ নাম্বারের বাসভবনে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলের শ্রদ্ধা জানাবে বিভিন্ন শ্রেনীর পেশার মানুষ। এরই মধ্যে আগষ্টের শুরুতেই বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি’ প্রাঙ্গনস্থল ও আশপাশে প্যান্ডেল দিয়ে ঘেরা হয়েছে। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

এদিন সকালে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে। তারপর সকলের শ্রদ্ধার জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হবে প্রতিকৃতিস্থলটি। যেখানে রাজনীতিক, সামাজিক, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। ফুল, ব্যানার, স্লোগান নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ছুটে আসেন বাঙ্গালী জাতির মহা নায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অনেকে ১৫ই আগষ্ট এ নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করেন। আবার অনেকে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত ৩২ নাম্বারের বাড়ির জাদুঘরে ঘুড়তে যান।

এছাড়া ধানমন্ডির বাড়ি প্রাঙ্গণে ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প, ফ্রি রক্ত সংগ্রহ, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজরিত বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন ও তার আত্মজীবনী নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই প্রদর্শনী করা হবে। এরই মধ্যে এসব অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। দলের নেতাদের তদারকিতে চলছে সব কিছু দেখ ভালের কাজ। প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে নিহত অন্য স্বজনদের সমাধিতে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেখানে দোয়া পাঠ ও মোনাজাত শেষে ছুটে যান গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায়। সেখানে ঙ্গবন্ধুর মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোআ মাহফিলে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

বাবা মায়ের সাথে বঙ্গবন্ধু

৩২ নাম্বার ঘিরে প্রশাসনের তদারকি: এরই মধ্যে ১৫ই আগষ্ট উপলক্ষে প্রশাসনের তদারকি শুরু হয়েছে। পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইনশৃংলা বাহিনীর সদস্যরা ধানমন্ডির ৩২ এর বাড়ির আশপাশে নিয়ন্ত্রয়ণ নিয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে। এমনকি বাড়ির পাশের লেকে ও পুলিশের একটি দল স্প্রিড বোর্ট নিয়ে টহল দিবে। পুরো এলাকায় সিসিটিভি দিয়ে তদারকি করা হবে বলে জানা গেছে। মিরপুর রোডের ‘শিশু মেলা থেকে সিটি কলেজ’ এর সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে নিবিঘ্নে মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পঅর্পণ করতে পারে।

এদিকে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাসত করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে তিনি বলেন, জাতীয় শোক দিবসের দিন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি এবং আশপাশ এলাকা, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, রাজধানীর বনানী কবরস্থান এলাকায় কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।

কালো ব্যাচ ধারণ: ১৫ আগষ্ট মানেই বাঙ্গালী জাতির বেদনার দিন। শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই দিন সকল শ্রেনী-পেশার মানুষ কালো ব্যাচ ধারণ করেন।

গরীব ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ: এই দিনে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ জুড়ে গরীব ও এতিমদের খাবার বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা নিজস্ব অর্থায়নে প্রতিটি থানা, উপজেলা, ওয়ার্ড ও গ্রামে এই খাবার বিতরণ করেন। এছাড়া সাধারণ মানুষও তাদের সাধ্যমত অবিসংবাদিত নেতা ও স্বাধীন বাংলার রুপকার বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। 

দোআ মাহফিল: বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের মৃত্যুতে দেশের মানুষ এই দিন বিশেষ দোআ মাহফিলের আয়োজন করে। মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ দোআ করে।

ফ্রি চিকিৎসা: ১৫ই আগষ্ট উপলক্ষে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরীবদের মাঝে চিকিৎসা সেবার আয়োজন করে। এছাড়া স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন বিনামূল্যে গরীব-দুস্থদের চিকিৎসা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে সরকারী বেসরকারী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা এই সেবা প্রদানে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা অগ্রগতি: বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে তা অনুমোদন দেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একুশ বছর পর ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৬ সালের ১৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তিন প্রধান আসামি বরখাস্তকৃত লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে গ্রেফতার করা হয়। একই বছরের ২ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহকারী (পিএ) এ এফ এম মোহিতুল ইসলাম এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় একটি এফআইআর করেন।

খুনিদের বিচারের হাতে ন্যস্ত করতে সংসদ ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে। ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি সিআইডি এই মামলায় ২০ জনকে অভিযুক্ত করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে চার্জশিট দাখিল করে এবং একই বছরের ১২ মার্চ ছয় আসামির উপস্থিতিতে আদালতে বিচার শুরু হয়। ২০০১ সালের ৩০ এপ্রিল অভিযুক্ত ১২ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিত করেন আদালত। পরবর্তীতে ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে দায়মুক্ত করা হয়। কিন্তু এখনও বঙ্গবন্ধুর ছয় খুনি বিদেশে পলাতক।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পলাতক ছয় খুনির মধ্যে দুই পলাতক আসামি নূর চৌধুরী কানাডায় এবং রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্টে অবস্থান করছেন। অপর চারজনের মধ্যে দু'জন ভারতে, একজন পাকিস্তানে এবং একজন আফ্রিকার উগান্ডায় রয়েছে বলে সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওয়াত আনা হবে।

বঙ্গবন্ধু ও ছোট ছেলে শেখ রাসেল

বেদনার জাদুঘর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর: ধানমন্ডির লেক সার্কাসের পশ্চিম পাশে ৩২ নম্বর রোডে গেলেই দেখা মিলবে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি। যেখানে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত স্বপরিবারে ছিলেন। বাড়ির প্রতিটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের সব চিহ্নগুলোকে সেভাবেই রেখে দেয়া হয়েছে। তার স্মৃতিগুলো ধরে রাখতেই বাড়িটিকে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রুপান্তরিত করা হয় ১৯৯৪ সালে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর থেকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের এই বাড়িটিতে বসবাস করা শুরু করেন। ১৯৬২ এর আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬’র ৬ দফা আন্দোলন, ৭০’র নির্বাচন ও ১৯৭১ এর অসহযোগ আন্দোলনসহ যুদ্ধের প্রথম উত্তাল দিনগুলোতে তিনি এ বাড়িতে বসেই সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিতেন। সাধারণ মানুষজন সব সময়ই তার কাছাকাছি যেতে পারতো। তিনি সবার দু:খ কষ্টগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। এই বাড়ি থেকেই পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে অসংখ্যবার গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি এখান থেকেই তার রাষ্ট্রীয় কর্ম পরিচালনা করে থাকতেন। এবং শেষ পর্যন্ত সেই ভয়াল দিন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে স্বপরিবারে এই বাড়িটিতেই প্রাণ দিতে হয়। ১৯৮১ সনে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। শেখ হাসিনা বাড়িটিকে জাদুঘরে রুপান্তরের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে ট্রাস্ট বাড়িটিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরে রুপান্তরিত করে। তাই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর আসলে বেদনারই জাদুঘর। বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরটিতে মূলত বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিষপত্র যেমন, চশমা, তামাকের পাইপ, জুতা, খাবার টেবিল, বিভিন্ন তৈজসপত্রসহ ব্যবহৃত জামাকাপড় রয়েছে।

এছাড়া তার বিভিন্ন সময়ের স্মৃতিবিজড়িত ছবি দিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়েছে। জাদুঘরটিতে গাইডেরও ব্যবস্থা রয়েছে, যিনি আপনাকে জাদুঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে এর ইতিহাসও তুলে ধরবেন। সপ্তাহের ছয়দিন সকাল ১০ থেকে ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত থাকে। ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের কোন টিকেট প্রয়োজন হয় না।

ট্যাগ:

বিশেষ সংবাদ
নাগরপুরে অবৈধভাবে এসিড ক্রয়-বিক্রির রমরমা ব্যবসা

banglanewspaper

মো. জসিউর রহমান (লুকন), নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলছে অবৈধভাবে এসিড ক্রয়-বিক্রির রমরমা ব্যবসা। 

সরেজমিনে দেখা যায়, সদর বাজারের বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলায় সরকার অনুমোদিত বিস্ফোরকের লাইসেন্স (এসিড ক্রয়) এর লাইসেন্স রয়েছে মাত্র ১টি। যারা কাজের জন্য বৈধভাবে এসিড ক্রয় ও ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু একটি অসাধু মহল কর্তৃপক্ষের নজরদারী এড়িয়ে হাজার হাজার লিটার দাহ্য এসিড ক্রয়-বিক্রয় এর সাথে জড়িত রয়েছে অনেকেই। 

গত ২২ আগস্ট, রবিবার, বিকেলে উপজেলার নাগরপুর বাজারে বেআইনী ভাবে এইসব এসিড ক্রয়-বিক্রয়ের সময় জড়িতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পূণীমা জুয়েলার্সের এসিড ব্যবহারের লাইসেন্স থাকলেও সকলেই কোন না কোন ভাবে ক্রয় করে এ বিস্ফোরক পদার্থ। 

টাঙ্গাইল জেলার কেমিক্যাল ব্যবসায়ী পাথরাইলের মা বাসন্তী জুয়েলার্সে এর জুরান রায়ের ছেলে চৈতন্য রায়, গত রবিবার নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে সালফার এসিড বিক্রিয়া এক পর্যায়ে উপজেলার মামুদনগরের হিরা লাল কর্মকারের ছেলে মনোরঞ্জন কর্মকার ও একই দোকানের আলিম এর কাছে ৫০ লিটারের ২টি গ্যালন সালফার বিক্রি করেন। পরে তারা এ ক্রয়-বিক্রয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ বৈধ দাবি করে। 

এসিড কেনা-বেচার লাইসেন্স এর কথা জিজ্ঞেস করলে, নানা রকম তালবাহান করে বলেন, এই এসিড পূর্নীমা জুয়েলার্সের স্বপন কুমার মন্ডলের কাছে বিক্রি করা। তবে ওই মূহুর্তে এসিড গুলো মনোরঞ্জন কর্মকারের দোকানে দেখা যায়। কথার একপর্যায়ে চৈতন্য রায় বলেন, ভাই আমার এসিড বিক্রির বৈধ লাইসেন্স আছে। তবে মনোরঞ্জন লাইসেন্সের আবেদন করেছে শুনেছি। ওদের কাছে বিক্রি করা আমার অন্যায় হয়েছে। ওরা ছাড়াও সকল ব্যাটারী ব্যবসায়ীও এসব এসিড আমার কাছ থেকে ক্রয় করে থাকে। এভাবে ব্যবসা না করলে তো আমি বিক্রি করার মত তেমন কোন লোক পাবো না। 

এ ব্যাপারে পূর্ণিমা জুয়েলার্সের প্রোপাইটার স্বপন কুমার মন্ডল এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমাকে তো ৫০ লিটার সালফার এসিড দিয়ে সে টাকা নিয়ে চলে গিয়েছে চৈতন্য দা। আমার কেনা এসিড আমার কাছেই আছে। ওনার বাকি এসিডের বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমাকে তো আর কোন এসিড আজ দেয়ার কথা না এগুলোর ব্যবহার করা শেষ হলে পরে প্রয়োজনমতো আমি কিনে নিব। তিনি আরো বলেন, বৈধভাবে এসিড ক্রয় ও ব্যবহারের লাইসেন্স রয়েছে আমাদের টাংগাইল জেলায় আমার সহ সর্বমোট ২ টি। আমি ভাই আর সরকারি নিয়ম মেনে সুনামের সাথে বৈধভাবে ব্যবসা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। অসৎ এসব ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে কে বা কারা জড়িত এ বিষয়ে আমার বলার কিছুই নেই। 

রবিবার বিকেলের সালফিউরিক এসিড কেনার বিষয়টি মনোরঞ্জন কর্মকার অস্বীকার করে বলেন, এসিড গুলো আমার দেকানের রেখেছে, এগুলো নিয়ে যাবে। আমার এগুলো কেনার লাইসেন্স নেই। তবে, লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছি।
এ বিষয়ে অপর এক এসিড ক্রেতা আলিম বলেন, আমি ভাই মনোরঞ্জন দা এর দোকানের কর্মচারী। আমি এসব এর কিছুই জানিনা। 

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার ফায়ারসার্ভিস কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, সালফিউরিক এসিড অতি দাহ্য পদার্থ। আমাদের উপজেলার স্বর্ণকার এস ব্যবহার করে। তবে আমার জানামতে, উপজেলায় ২ টি ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু এসব দাহ্য পদার্থও ক্রয় বিক্রয়ের লাইসেন্স এর বিষয়ে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তেমন কোনো তথ্য নেই। 

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিফাত-ই জাহান বলেন, অবৈধ কার্য্যক্রের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। বেআইনি ভাবে এসিড ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে যদি কেউ জড়িত থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

এলাকার সচেতন মহলের বলেন, অবৈধভাবে এসিড ক্রয়-বিক্রয় না হলে, ব্যাটারী ব্যবসায়ী, স্বর্ণকার সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা কোথা থেকে কিভাবে এসব মারাত্মক বিপদজনক দাহ্য এসিড পায়। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যে কোন সময় ঢাকার জুস কারখানার মত বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে নাগরপুরও।

ট্যাগ:

বিশেষ সংবাদ
ব্রিজ-ডাইভারসনের অভাবে নাগরপুর-সলিমাবাদ-চৌহালীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নারগপুর উপজেলার কাঠুরী চৌরাস্তায় ব্রিজ ও ডাইভারসনের অভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায় নাগরপুর-সলিমাবাদ-চৌহালীর সাথে। 

সরেজমিনে, UZHQ- সলিমাবাদ RHD রাস্তায় ৫৪ মি:চেইনইেৎ ১৫ মি: দীর্ঘ আরসিসি গাডার ব্রীজটির প্রক্কলিত মূল্য ১ কোটি ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৫ শত ৬৪ টাক। কিন্ত চুক্তি মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ২৭ হাজার ৯ শত ৫৭ টাকা ৯৬ পয়সা ধার্য্য করে টাঙ্গাইলের আমঘাট রোডের মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজ ১৫ নবেম্বর ২০২০ সালে কাজটি শেষ করার চুক্তিতে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে। 

পরে, টাঙ্গাইল- ৬ আসনের সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ তা অনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্ভোধন করেন।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কাজটি পেয়েই কোন ডাইভারশন নির্মান না করেই, ঐ স্থানের পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে বিক্রি করে দেয়। এলাকাবাসীর চাপের মুখে তারা কিছু মাটি ফেলে। 

তবে, নাগরপুর উপজেলার সহকারী প্রোকৌশলী মো. ময়নুল এর সাথে কথা বলে জানাযায়, কাজ চলাকালীন সময়ের জন্য একটি ৪০ মিটার ইট সোলিং এর ডাইভারসন তৈরী করে কাজটি শুরু কথা। 

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে বাঁশে সাকো ছাড়া কিছুই দৃশ্যমান হয়নি। উলেখ্য, এলাকাবাসী ও ভাড়ায় চালিত মোরসাইকেলের চালকেরা চাঁদা উঠিয়ে সাকোটি নির্মান করেছে।

এ বিষয়ে সড়ক ব্যবহারকারী আবু বকর বলেন, আমরা অসুস্থ রোগী নিয়ে সময় সময় চিন্তায় থাকি, বিকল্প রাস্তা না করেই পুরাতন ব্রিজটি ভেঙ্গে ফেলায়, আমরা চরম ভোগান্তির মধ্যে আছি। এই সমস্যা থেকে পরিত্রান চাই আমরা।

অপর পথচারী জুয়েল বলেন, কাজটির আগামী ২ মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শুরুই হয়নি। তার উপর কোন বিকল্প রাস্তা নেই, ফলে সময়, টাকা, পরিশ্রম দুইগুনেরও বেশি লাগছে।
পরিবহন শ্রমিকরা সকলে এক বাক্যে বলেন, ব্রিজটির কাজ শেষ না হওয়া এবং ডাইভারসন না থাকায়, আমাদের আয় কমে গেছে, যাত্রীদের খরচ বেড়েছে। মালামাল, রোগী নিয়ে বিরম্বনার শেষ নেই। দ্রুত ডাইভারশন করে যথা সময়ে ব্রিজের কাজটি শেষ হলে সকলে মঙ্গল হয়।

টাঙ্গাইলের আমঘাট রোডের মেসার্স আলিফ এন্টারপ্রাইজের মিন্টু এর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিদ্যুতের খুটি সরাতেই আমাদের ৩ মাস সময় লেগেছে। আমরা ডাইভারশন করার জন্য মাটি ফেলে ছিলাম কিন্তু বন্যায় ক্ষতি হয়েছে। গত ১ বছর সময়ে এর বাইরে তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি আর কোন কাজ করেছে বলে তিনি ইল্লেখ করতে পারেননি।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলার নির্বাহী প্রোকৌশলী মাহাবুব বলেন, আমরা ঠিকাদারকে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য চাপ দিচ্ছি। বর্তমানে বন্যার কারনে পাইলিং করা সম্ভব হচ্ছেনা। তাছাড়াও বন্যার আগে নির্ধারিত পাথর না পাওয়া এবং যথা সময়ে পাইলিং করতে না পারায় কাজটি পিছিয়ে গেছে। তবে, আশাকরি দ্রুতই কাজটি শেষ হবে।

ট্যাগ:

বিশেষ সংবাদ
সব রোজা রেখেছে শ্রীপুরের ৮ বছরের এতিম শিশু ইব্রাহিম!

banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর): এক হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য সে। এখন বয়স মাত্র ৮ বছর। পৃথিবীর কিছুই যখন বুঝতে পারেনা এমন বয়সে (২ বছর) মায়ের মৃত্যু। ভূমিহীন বাবা দিনমজুর হিসেবে মানুষের বাড়ী কাজ করে। নানার বাড়িতে টিনের ছাপড়ায় তাদের বসবাস। দরিদ্রতার চরম সীমায় থেকেও আল্লাহর হুকুম ভুলে যায়নি শিশুটি। নামাজ পড়ার সাথে সাথে গত বছরের ৩০ রোজাও রেখেছিল। এবারও এখন পর্যন্ত সবকয়টি (২৯) টি রোজা রেখেছে গাজীপুরের শ্রীপুরের এতিম শিশু মোঃ ইব্রাহিম। 

মোঃ ইব্রাহিম (৮) উপজেলার বরমী ইউনিয়নের পাইটালবাড়ী গ্রামের আব্দুল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র। সবকয়টি রোজা রেখে ইতিমধ্যে সে এলাকায় বিস্ময় শিশু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

ইব্রাহিম জানায়, রোজা রেখে তার দারুণ ভালো লাগছে। সব রোজা রাখতে পেরে সে খুব খুশি। কিছুটা কষ্ট হয়েছে। ক্ষুধা লেগেছে। তবু পবিত্র মাহে রমজান দারুণভাবে উপভোগ করছে ও। ওর কাছে সাহরি ও ইফতার খাওয়া অনেক আনন্দের বিষয়।

৩০ রোজা শেষ করে ঈদের নামাজ পড়বে বলেও জানান ইব্রাহিম । এজন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছে সে। [ads]

স্থানীয় হৃদয় খান জানান, আলহামদুলিল্লাহ। এই এতিম ছেলেটি এ পর্যন্ত সবকয়টি  রোজা রেখেছে। সবাই দোয়া করবেন শিশুটির জন্য।  আমাদের গ্রামে একজন গরীব দিন মুজুর ঘরে জন্ম তার। খুব অল্প বয়সে মা-কে হারায় সে। খুব কষ্ট হয় তাকে দেখলে। সে খুবই ভদ্র ও হাসিখুশি । 

শিশুর চাচা জহিরুল ইসলাম জানান, সাধ্য অনুযায়ী আমরা মাঝে মধ্যে তার খোঁজ খবর নিয়ে থাকি। তাদের থাকার জন্য ঘরের খুবই অভাব। সরকারি ভাবে তার পরিবারের জন্য কিছু করতে পারলে উপকৃত হতো।

শিশুটির বাবা আব্দুল মিয়া জানান, গত বছর প্রথম রোজা রাখতে শুরু করেছে এবং প্রথমবারই সবকটি রোজা রেখেছিল মা হারা ইব্রাহিম। এ বছরও ২৯টি রোজা হয়েছে। বাকি রোজাগুলোও (৩০টি) রাখবে বলে জানিয়েছে সে। ছোট মানুষ হওয়ায়  আমি না করলেও মানেনা সে। সকলে তার জন্য দোয়া করবেন। [ads]

শ্রীপুর পাকা জামে মসজিদের পেশ ঈমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মামুনুর রশীদ জানান, হাদিসে রয়েছে, রাসুল (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের শিশুর বয়স যখন ৭বছর হয় তখন থেকেই তাদেরকে নামাজের জন্য আদেশ করো এবং তার বিছানা আলাদা করে দাও। আর অন্যান্য ইবাদতের জন্য তাদেরকে উৎসাহিত করো।  সে ক্ষেত্রে শিশু ইব্রাহিমকে রোজা রাখতে উৎসাহ দেওয়াটা রাসুল (সাঃ) হাদিসেরই অন্তভুক্ত। তাই- শিশু ইব্রাহিম যেন রাসুলের আদর্শ নিয়ে বড় হতে পারে সেজন্য আল্লাহর দরবারে তার জন্য দেয়া করি।

ট্যাগ:

বিশেষ সংবাদ
স্বপ্নে করোনার ওষুধ পাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ধরা

banglanewspaper

ময়মনসিংহের নান্দাইলে স্বপ্নে পাওয়া করোনা ভাইরাসের ওষুধ আবিষ্কারের দাবিদার শাহিন মিয়া (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই সাথে ওই ব্যক্তির সহকারি তার পিতা জসিম উদ্দিনকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দন্ডপ্রাপ্তরা নান্দাইল উপজেলার খামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ মার্চ) শাহিন মিয়া খামারগাঁও গ্রামের মসজিদে জুমার নামাজ পড়ার আগে মুসল্লিদের সামনে হাজির হয়ে তার ওষুধ আবিষ্কারের কথা বলেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, তার আবিষ্কার করা ওষুধ মুসলমানরা খেলে করোনা ভালো হয়ে যাবে। আর অন্য ধর্মের কেউ খেলে নিশ্চিত মৃত্যু হবে।

তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে একটি চানাচুর কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে। সেখানে কাজ করার সময় স্বপ্ন দেখে বাড়িতে আসার পর ওষুধটি বানাতে সক্ষম হয় বলেও দাবি করেন। এ নিয়ে তিনি সরকারে সাথে চুক্তি করার অপেক্ষায় আছেন বলে জানান। এ ঘোষণার পর থেকেই শাহিনের বাড়িতে লোকজনের ভীড় বাড়তে থাকে।

বিষয়টি জানতে পেরে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহিম সুজন ঘটনাস্থলে যান। এসময় শাহীন মিয়া তার ওষুধ আবিষ্কার ও মসজিদে গিয়ে ওষুধের প্রচারণা চালানোর কথা স্বীকার করে। পরে সেখানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে শাহীনকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও তার পিতাকে জরিমানা করে।

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ জানান, ভন্ড কবিরাজ শাহিনকে রাতেই ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগ:

বিশেষ সংবাদ
করোনা রোগীর ফুসফুসের পরিণতি!

banglanewspaper

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস রোগীর ফুসফুসে মারাত্মক আঘাত হানে। ফলে রোগীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এমনকি হতে পারে মৃত্যু!

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে করোনাভাইরাসের হালকা লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। আবার অনেকের মাঝে এসব উপসর্গ নাও দেখা যেতে পারে। মাত্র ২০ শতাংশ রোগীকে হাসপাতালে নেয়া লাগে। এদের মধ্যে ১৪ শতাংশের অবস্থা হতে পারে গুরুতর। ছয় শতাংশ রোগীর অবস্থা হয় সংকটাপন্ন এবং তারা হারিয়ে ফেলতে পারেন ফুসফুসের কার্যক্ষমতা।

কোনো ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার ফুসফুসের অবস্থা কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়, তার একটি থ্রিডি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের বক্ষ সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. কেইথ মর্টম্যান। পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে ৩৬০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ছবিগুলো তোলা হয়।[ads]

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ছবিগুলো তোলার কয়েক দিন আগেও আগে ওই ব্যক্তির ফুসফুস একদম ঠিক ছিল। ডা. মর্টম্যান বলেছেন, রোগ (করোনাভাইরাস) তার ফুসফুসের বিরাট অংশ জুড়ে বিস্তার করেছে। ছবিতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, ঘাসের মেঘে (টিস্যুগুলো দেখতে ঘাসের মতো দেখাচ্ছে) ছেয়ে গেছে তার ফুসফুস। (হালকা হলদেটে) সবুজ ঘাসের মতো দেখতে এগুলো আসলে নষ্ট টিস্যু।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে জানা যায়, 'ওই ব্যক্তি কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হয়। সেখানে তার সামান্য জ্বর, সর্দি, কাশি ও একটু শ্বাসকষ্ট ছাড়া অন্য কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। তাকে ওই হাসপাতালে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে কৃত্তিম শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এতেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভর্তি করা হয় জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি (জিডব্লিউইউ) হাসপাতালে।'

ট্যাগ: