banglanewspaper

এম,এ আহমদ আজাদ,বাহুবল থেকে ফিরে: হবিগঞ্জের বাহুবলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের  ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন নিয়ে ত্রিমুখী টান টান উত্তেজনা। কড়া পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে উভয় পক্ষে থমথমে ভাব। দিনভর কখন ঘটে রক্ষক্ষয়ী সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর ঘটনা সেই উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন বাহুবলবাসী।  জাতীয় পাটি ও আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ নিয়ে সকাল থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সর্বক্ষন প্রশাসনের লোকজন ছিলেন তটস্ত। উপজেলা প্রশাসনের সর্বত্র ছিল আইন শৃংখলাবাহিনীর শর্তক প্রহরা। তিন পক্ষের টানটান উত্তেজনার মধ্যে বিকাল ৩টায় র‌্যাব ও পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ে মধ্যে সংরক্ষিত আসনের এমপি আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন করেন।

এদিকে বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন উক্ত ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান বয়কট করে তারা পাল্টা কর্মী সভার ডাক দেয়। একই স্থানে দুটি সভার কথা থাকলেও প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগ তাদের কর্মী সভা স্থান পরিবর্তন করেন। এদিকে আওয়ামী লীগ অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিলেও যুবলীগ, কৃষকলীগ ও মহিলা লীগ এবং জাতীয় পার্টির আহ্বায়কসহ একটি অংশের নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে যোগদান করে ভিত্তির প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বাহুবলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করা হলো না জাপা এমপি আব্দুল মুনিম চৌধুরীর। প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে গতকাল সোমবার বিকেলে স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করছেন সংরক্ষিত নারী এমপি কেয়া চৌধুরী। 

গতপরশু বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোঃ জসীম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশিষ কর্মকারের পরিচালনায় এ ভিত্তি প্রস্তর কাজের পরবর্তী আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী টেনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বশির আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অলিউর রহমান অলি, যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাহিদ আলী, কৃষকলীগ সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ডা. মোঃ আবুল হোসেন, ডেপুটি কমান্ডার মোঃ নূর মিয়া, উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এম এ জলিল তালুকদার, আলিফ সোবহান চৌধুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, ডিএনআই হাইস্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুর রেজ্জাক, বাহুবল মডেল প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ নূরুল ইসলাম নূর, সাধারণ সম্পাদক এম শামছুদ্দিন, উপজেলা মহিলালীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাহেলা বেগম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, জেলা ছাত্রলীগ নেতা আলা উদ্দিন, উপজেলা যুবলীগ নেতা ফজলুর রহমান ফজল প্রমুখ।

জানা যায়, গত দুদিন যাবৎ বাহুবল শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম উদ্বোধন নিয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের জাপা সাংসদ এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু ও  সংরক্ষিত আসনের এমপি আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া এর মধ্যে হুমকি ও পাল্টা হুমকি নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারন করে। এনিয়ে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচী গ্রহণ করে। উপজেলা পরিষদ হল রুমে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম ভিত্তিপ্রস্তর শেষে আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। কেয়া চৌধুরীর বিরোধী পক্ষ একই হল রুমে বাহুবল উপজেলা আওয়ামীলীগের ব্যানারে একটি কর্মী সভার ডাক দিয়ে শহরে প্রচার মাইকিং করে। অপর দিকে উপজেলা জাতীয় পার্টি উক্ত স্টেডিয়াম কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আলোচনা সভার ডাক দেয়। এ নিয়ে বাহুবল উপজেলা সদরে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। সচেতন মহল চরম উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে পড়েন। উপজেলা প্রশাসনও উক্ত উত্তেজনাকে সামনে নিয়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলে। 

অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত আসনের এমপি কেয়া চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত দাওয়াত কার্ডও বিলি করা হয় । কিন্তু কেয়া চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করায় ক্ষেপে যান নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের জাতীয় পার্টির এমপি মুনিম বাবু। তিনি অনুষ্ঠান স্থগিত করতে বাহুবল প্রশাসনকে চাপ দেন। বাধ্য হয়ে অনুষ্ঠান সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন। এরপরই বিষয়টি চাউর হয় সর্বত্র। শুরু হয় উত্তেজনার। এ নিয়ে গত  রবিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বসে বিশেষ বৈঠক। বৈঠকে দুই এমপিসহ জেলা প্রশাসন ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে জেলা প্রশাসক মণীষ চাকমা জানান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এমপি ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় তাকে ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন সোমবার কেয়া চৌধুরীকে প্রধান অতিথি করে যাতে বাহুবলের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ঊর্ধ্বতন মহলের এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে তিনি এমপি মুনিম বাবুকে অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  প্রহণের জন্য বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। তবে এমপি মুনিম বাবু কোনো মন্তব্য না করে বৈঠকস্থল ত্যাগ করেন। এর আগে রোববার বিকালে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বাহুবল উপজেলা  চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। শেষ পর্যন্ত সমাধানে আসেনি কোনো পক্ষ।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের গত ১৮ই এপ্রিল ইস্যুকৃত পত্র সূত্রে জানা যায়, সরকার উপজেলা পর্যায়ে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে ১৩১টি উপজেলা বাছাই করে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর প্রস্তাবে উক্ত প্রকল্পে বাহুবল উপজেলার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়। আগামী বছরের জুলাইয়ের মধ্যে এ স্টেডিয়ামের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক বরাদ্দ এসেছে ৪৩ লাখ টাকা। পরে উক্ত স্টেডিয়াম নির্মাণের লক্ষ্যে ঠিকাদার নিযুক্ত হয়। বাহুবলে-এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা উদ্যোগ নেয়। আজ সোমবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করে ক্রীড়া সংস্থা। 

এদিকে, গত শুক্রবার বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই তনয়ের বৌ-ভাত অনুষ্ঠান ছিল। এ অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জসীম উদ্দিন অংশ নেন। অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী ও বাহুবল উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই-এর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জসীম উদ্দিনকে ‘শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান বাতিল করার চাপ দেন। অন্যথায় পরিস্থিতি জটিল হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এমপি মুনিম বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এ অবস্থায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জসীম উদ্দিন। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার অনুষ্ঠানটি সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন উপজেলা প্রশাসন। বিষয়টি জানার পর বেঁকে বসেন কেয়া চৌধুরী এমপি। তিনি তার সমর্থকদের জানান তিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান করবেন। এতে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। অন্যদিকে এমপি কেয়া চৌধুরী সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তারা তাকে আশ্বস্ত করেন অনুষ্ঠান সঠিক সময়েই হবে। বিষয়টি নিয়ে তারা হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলাপ করেন। সরজমিন বাহুবল উপজেলার শিক্ষক শামীম আহমদ সঙ্গে আলাপকালে জানান, কেয়া চৌধুরী এমপি হওয়ার পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় প্রভাবশালী নেতা তার বিভিন্ন কাজে অসহযোগিতা করে আসছেন। আর জেলা আওয়ামী লীগের ক’জন নেতার সমর্থনে বাহুবল আওয়ামী লীগের একটি অংশও এমপি কেয়া চৌধুরীর সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে। এর জের হিসেবেই এমপি মুনিম বাবুর পক্ষে অবস্থান নিয়ে এ অনুষ্ঠান বাতিল করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চাপ দেন স্থানীয় নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন  আরো জানান, কেয়া চৌধুরী এমপি হওয়ার পর এলাকার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন। এতে তার বিপক্ষের নেতারা ঈর্ষান্বিত হয়ে বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। এদিকে বাহুবল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল হাই বলেন, বাহুবলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম কাজের ভিত্তির প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান হচ্ছে অথচ আমরা আওয়ামীলীগের কোন নেতা কর্মী জানি না। আমাদেরকে কোন দাওয়াত দেয়া হয়নি। আমরা পূর্বেই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে উপজেলা হল রুমে কর্মী সভার আহ্বান করি। পরে আমরা জানতে পারি উক্ত হল রুমে এমপি কেয়া চৌধুরীর একটি আলোচনা সভা রয়েছে। তিনি আরও বলেন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভায় আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনকে যথাযথ মূল্যায়ন না করায় আমরা উক্ত অনুষ্ঠান বর্জন করেছি। কেয়া চৌধুরীর অনুষ্ঠানের উপজেলা আওয়ামীলীগের কোন সম্পৃক্তা নেই। এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি কেয়া চৌধুরী প্রশাসন কিছু পক্ষপাতিত্বের কারণে আমার উন্নয়ন কাজ তিনি অন্যায় ভাবে জোরপূর্বক ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করছেন। তিনি বলেন সরকারি স্পষ্ট প্রজ্ঞাপন রয়েছে কোন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি উন্নয়ন কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করতে পারেন না। তিনি সরকারি প্রজ্ঞাপন বিরোধী কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন উক্ত স্টেডিয়ামের বরাদ্দের জন্য আমিই প্রথম জায়গা নির্ধারণ করে প্রস্তাব পাঠাই। আমার প্রতি অবিচার করা হচ্ছে। আমি বিষয়টিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করছি। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আজকে জাতীয় পার্টির কর্মসূচী থাকলেও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে জেনে আমরা সংঘাতে যাইনাই। জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

এ ব্যাপারে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী এমপি বলেন, আমি ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে সর্বপ্রথম বাহুবলে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের প্রস্তাব পাঠাই। সেই প্রস্তাবের আলোকেই স্টেডিয়ামের জায়গা নির্ধারণ করা হয়। আমি প্রতি অন্যায় আচরণ করি না। উর্ধ্বতন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীর নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করছি। উপজেলা আওয়ামীলীগ অনুষ্ঠান বর্জন করলেও এনিয়ে আমি কোন মন্তব্য না করে বলব আমি তাদের সাথে সব সময় পরামর্শ করেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এখানে উপজেলা আওয়ামীলীগের অনুষ্ঠান আয়োজনের কোন কারণ খোঁজে পাচ্ছি না।

উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক এম এ জলিল তালুকদার বলেন আমরা উন্নয়নে বিশ্বাসী। কোন প্রতিবন্ধকতা ও উন্নয়ন কাজে বাধাগ্রস্থ করাকে সমর্থন করি না। তাই আমাদের এমপি মুনিম বাবুর ডাকে সাড়া না দিয়ে আমরা উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান চৌধুরী টেনু বলেন, কিছু মানুষ কেয়া চৌধুরী উন্নয়নকে পাখা চোখে দেখছে। তাই তারা উন্নয়ন কাজে বাধা প্রদান করছে। আমরা এসব কুচক্রি মহলের বাধাকে উপেক্ষা করে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেছি। আগামীতে এরকম কাজে কেউ বাধা দিলে তাদেরকে প্রতিরোধ করা হবে।

নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃংখলা বাহিনীর টিম লিডার সহকারি পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমান বলেন, আমাদের কাছে নির্দেশনা রয়েছে আজকের অনুষ্ঠানে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন সংরক্ষিত আসনের এমপি কেয়া চৌধুরী। এখানে অন্য কোন পক্ষ আসার সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে এমপি কেয়া চৌধুরী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এলাকার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। কেউ যদি এ উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা না করেন তাহলে বুঝতে হবে তিনি সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টি করেন। আমার চেষ্টার ফলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বাহুবলে এ স্টেডিয়াম নির্মাণের বরাদ্দ দিয়েছে। সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশেই প্রশাসন আমাকে প্রধান অতিথি করেছে। আর এর প্রেক্ষিতেই রোববার এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। আমি কারো হুমকিতে ভীত নই। আমি মুক্তিযোদ্ধা কন্যা আমি সব কিছু মুখাবেলা করে জয় করতে জানি। কেয়া চৌধুরী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে উন্নয়ন কাজ করছে কেউ বাঁধা দিয়ে থামাতে পারবে না। যারা দেশ জাতির শ্রুত্রু তারাই উন্নয়ন কাজে বাঁধা প্রদান করে।কেয়া চৌধুরী বলেন, জাতীয় পাটির সাংসদ যতই ভয়ভীতি দেখান না কেন, ‘আমি আমার কাজ করব। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামের কাজের উদ্বোধন আমিই করেছি।’

বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই জানান, গতকাল বিকালে ইউএনও সাহেব আমাদের নিয়ে বসেছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি এমপি কেয়া চৌধুরীর সঙ্গে আমাকে ফোনে কথা বলিয়ে দেন। আমি উনাকে বলেছিলাম উপজেলার সকল নেতার সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য ২ দিন সময় দিতে। তিনি তাতে রাজি হননি। তাই আমরা অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করি নাই।  

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জসীম উদ্দিন বলেন, উক্ত অনুষ্ঠান নিয়ে আমরা চরম চাপে রয়েছি। তবে আমরা সব কিছু নিরপেক্ষতার সাথে করছি। এখানে প্রশাসন কোন রকম পক্ষপাতিত্ব করছে না। মাননীয় ক্রীড়া মন্ত্রী ও উপ মন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক আমরা এমপি কেয়া চৌধুরীকে দিয়েই স্টেডিয়াম কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান করছি। বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন জানান, দলীয় নেতাদের বিরোধের কারণে অনুষ্ঠানটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল। রোববার জেলা প্রশাসক স্যার এ নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতে সোমবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি মতে ভিত্তি প্রস্তুত অনুষ্ঠানটি হয়েছে।

ট্যাগ:

সিলেট
নদীতে ভাসছে ঢাবির ৫০ শিক্ষার্থী-বিসিএস ক্যাডারসহ শতাধিক মানুষ

banglanewspaper

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার এলাকায় বন্যার পানিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতাধিক শিক্ষার্থী আটকে পড়েছেন। তারা উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে আকুতি জানিয়েছেন।

জানা যায়, শনিবার (১৮ জুন) দুপুর দুইটার দিকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পুলিশ লাইন্স থেকে কপোতাক্ষ অনির্বাণ ট্যুরিজম বোট'' নামের লঞ্চে করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫ জন ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীসহ শতাধিক শিক্ষার্থী সিলেট শহরের দিকে রওনা করেন। কিন্তু রাত সাড়ে আটটার দিকে তারা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সংলগ্ন সুরমা নদীর চরে আটকা পড়েন।

সেখান থেকে ইউল্যাব এর শিক্ষার্থী মালিহা ওয়াদুদ জানিয়েছেন, সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজার বেড়ি বাঁধের সামনে বন্যার পানিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ জন শিক্ষার্থী, ৩৮তম বিসিএস ক্যাডার, মেডিকেল শিক্ষার্থীসহ ১১০ জনকে নিয়ে একটি বোট সকাল থেকে আটকা পড়ে আছে। সবার মোবাইলের চার্জ শেষ। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।

আটকে পড়া অপর এক শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে জানান, রাত হয়ে গেছে। এখানে খুব অন্ধকার। চারিদিকে পানি আর পানি। আমরা সেনাবাহিনীকে বলেছি। কিন্তু কেউ ঠিকমতো সাহায্য করতে পারছে না। প্রচুর বৃষ্টিও হচ্ছে। এই রাতে সবাই জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছি। জরুরি ভিত্তিতে আমাদের উদ্ধার করার আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা তাদেরকে উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। ওখানকার প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে।

ঢাবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল মনসুর জানান, তাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর একটি টিম কাজ করছে।

ট্যাগ:

সিলেট
সিলেটে জ্বালানি সংকট, বন্ধ হচ্ছে পাম্প

banglanewspaper

সিলেটের পাম্পগুলোতে কয়েকদিন ধরে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমদিকে তেল মজুদ থাকায় সংকট কিছুটা কম হলেও মজুদ ফুরিয়ে আসায় সিলেটজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার বেশিরভাগ পাম্পে মিলছে না অকটেন। একই চিত্র নগরীতেও। ফলে শতাধিক পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এদিকে দ্রুত জ্বালানি তেলের সংকট সমাধান না হলে লাগাতার ধর্মঘট পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সিলেটের পাম্প মালিকরা।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরের কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পগুলোতে অকটেন নেই। এ সময় অনেককে তেল না নিয়েই ফিরতে দেখা গেছে। কেউ কেউ আবার অকটেন না পেয়ে পেট্রোল নিয়ে যাচ্ছেন। চাহিদার তুলনায় পেট্রোলও মজুদ না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা মিটাতে পারছে না পাম্পগুলো।

সিলেট নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার সিএনজি ও নর্থ ইস্ট ওয়েল পাম্পের ম্যানেজার স্বপন কুমার দত্ত জানান, তিন চারদিন থেকে কোম্পানিগুলো অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। প্রথদিকে মজুদকৃত তেল দিয়ে সংকট কাভার করা গেলেও এখন মজুদও ফুরিয়ে গেছে। ফলে আমরা অকটেন সরবরাহ বন্ধ রেখেছি। এভাবে চলতে থাকলে পাম্প বন্ধ করে দিতে বলেও জানান তিনি।

পাম্প মালিকরা জানান, চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কম হওয়ায় বিভাগের ১১৪টি পেট্রোল পাম্প বন্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে নিরবচ্ছিন্ন রেলের তেলবাহী ওয়াগন না আসায় এবং সিলেটের গ্যাস ফিল্ডগুলোর খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্ঠি হয়েছে।

আগামী রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মধ্যে তেল সংকটের সমাধান না হলে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিষদের নেতারা। এর আগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের গত ২৭ ডিসেম্বর ধর্মঘটের ডাক দিলেও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ২৬ ডিসেম্বর ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন নেতারা।

সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১১৪টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে সিলেট মহানগরীতে ৪৫টি ও জেলায় ৭০টি পাম্প রয়েছে। বর্তমানে সিলেটে প্রতিদিন ১০ লাখ লিটারেরও বেশি জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর তুলনায় প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ লিটার তেল আসছে।

সূত্র আরও জানায়, তেল সরবরাহের জন্য প্রথম পর্যায়ে ২৪টি ওয়াগন দিলেও পরে তা কমিয়ে ২০টি করা হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জের রেল দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে বর্তমানে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত রেলের ২০টি ওয়াগন আসছে। শায়েস্তাগঞ্জে আসার পর ১০টি করে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এ কারণে তেল পরিবহণে বেশি সময় লাগছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউটরস এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমদ চৌধুরী জানান, আমাদের সমস্যার কথা একাধিকবার জেলা প্রশাসনকে জানালেও তারা আমাদের কথা রাখেননি। এমনকি তাদের আশ্বাসে আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। আমাদের কাছ থেকে জেলা প্রশাসক মহোদয় সময় নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থের কারণে সিলেটের গ্যাস ফিল্ডের খনি থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পূর্বে সাপ্তাহে ৩ রেক তেল আসলেও এখন আসে ১ রেক তেল। যা সিলেটের চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এতে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। সিলেটের চাহিদা সাড়ে ৫ লাখ লিটার তেল সিলেট বিভাগে। এর মধ্যে বর্তমানে সিলেট বিভাগের ১১৪টি পাম্পে বিতরণ করা হয় প্রায় ১লাখ লিটার তেল। 

তিনি আরও বলেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদন বন্ধ করে রেখেছে একটি চক্র। তেল বিক্রি না করায় এই গ্যাস ফিল্ড থেকে সরকারের প্রায় আড়াই থেকে ৩ কোটি টাকার তেল নষ্ট হচ্ছে।

ট্যাগ:

সিলেট
সাকিবকে হত্যার হুমকি: স্ত্রীর সহযোগিতায় গ্রেফতার মহসিন

banglanewspaper

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে হত্যার হুমকি দিয়ে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জে পালিয়ে ছিলেন মহসিন তালুকদার। লুকিয়ে ছিলেন জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের রনসি গ্রামের একটি বাড়িতে। ওই বাড়িটি তার ভায়রার। সেখান থেকেই আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বেলা সোয়া ১১টার দিকে র‌্যাব তাকে গ্রেফতার করে।

র‌্যাব-৯-এর জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ রাসেল বলেন, মহসিন সুনামগঞ্জে লুকিয়ে আছেন, এই খবর পেয়ে সোমবার রাতেই তিনটি দল জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নামে। সুনামগঞ্জে থাকা তার বিভিন্ন আত্মীয় ও পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব। সিলেট থেকে তার স্ত্রী ও ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে সুনামগঞ্জে আনা হয়। স্ত্রীও মহসিনকে ধরতে সহায়তা করেন। মঙ্গলবার সকালে একপর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন মহসিন।ওই ফোনের সূত্র ধরেই তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র‌্যাব। পরে রনসি গ্রামের ওই বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর মহসিনকে সিলেট র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

মহসিন তালুকদার সিলেট সদর উপজেলার শাহপুর তালুকদারপাড়া গ্রামের আজাদ বক্স তালুকদারের ছেলে। মহসিন একসময় ব্যবসা করলেও করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বেকার।

গত শনিবার রাত ১২টার দিকে তিনি তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে আসেন। সম্প্রতি কলকাতায় কালীপূজার একটি অনুষ্ঠানে সাকিবের উপস্থিতির কারণে তাকে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেন এই যুবক। এরপর রবিবার ভোর ছয়টার দিকে আবারও লাইভে এসে আগের ভিডিওর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাকিব আল হাসানকে জাতির উদ্দেশে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে গতকাল কলকাতায় পূজার আয়োজনে অংশ নেওয়া এবং এক ভক্তের মোবাইল ভাঙার বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে ভিডিও বার্তা দেন সাকিব।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে জালালাবাদ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) মাহবুব মোর্শেদ বাদী হয়ে মহসিন উদ্দিনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন।

সুনামগঞ্জ থেকে মহসিনকে গ্রেফতারের সময় র‌্যাব-৯-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আবু মুসা মোহাম্মদ শফিউর রহমান, র‍্যাবের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সামিউল আলম, র‌্যাবের সুনামগঞ্জ কোম্পানির কমান্ডার ফয়সল আহমদ, একই কোম্পানির জ্যেষ্ঠ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ রাসেল উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ:

সিলেট
লাউয়াছড়া ও মাধবকুণ্ড খুলছে আজ

banglanewspaper

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ৭ মাস বন্ধ থাকার পর আজ রবিবার (১ নভেম্বর) থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হচ্ছে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও কমলগঞ্জ উপজেলায় লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রেজাউল করিম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় ৭ মাস লাউয়াছড়া উদ্যান ও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটকদের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এখন আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটকরা আজ থেকে মাধবকুণ্ড ও লাউয়াছড়া যেতে পারবেন।

সরকারি নির্দেশে গত ১৯ মার্চ থেকে মৌলভীবাজারের বড়লেখায় অবস্থিত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের জন্য বন্ধ ছিল।  

ট্যাগ:

সিলেট
ধর্ষকদের ধরতে সিলেট সীমান্তে কড়া নজরদারি

banglanewspaper

সিলেট এমসি কলেজে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার মধ্যেই এ মামলায় প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জ থেকে সাইফুর ও হবিগঞ্জ থেকে অর্জুনকে গ্রেফতার করা হয়।  এদিকে ধর্ষকরা যাতে কোনোভাবে পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য সিলেটের সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে। 

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু হয়।  গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুনামগঞ্জের ছাতকে অভিযান চালানো হয়।  এ সময় গ্রেফতার হয় ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমান।  প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে হেফাজতে নেবে সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশ।

একই সময়ে হবিগঞ্জের মাধপুরের মনতোলা সীমান্ত এলাকায়ও অভিযান চালায় পুলিশ।  এ সময় গ্রেফতার হয় মামলার ৪ নম্বর আসামি আরেক ছাত্রলীগ নেতা অর্জুন লস্কর।  সেখান থেকে তাকে নেয়া হয় সিলেট পুলিশ সুপার কার্যালয়ে।

এদিকে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, সহযোগীসহ বাকি সবাইকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি আমরা।  ধর্ষণের অপর অভিযুক্তদের পালানো ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি জারি করা হয়েছে।

এদিকে গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা চলছে।  শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। 

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বামীকে নিয়ে এমসি কলেজে ঘুরতে গিয়েছিলেন ওই তরুণী।  সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সাইফুরসহ ছাত্রলীগের কয়েকজনের বিরুদ্ধে।  খবর পেয়ে ওই তরুণী ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে শাহপরান থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ৬ জনের নাম উল্লেখসহ ৯ জনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা করা হয়। এছাড়া শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগ নেতা সাইফুর রহমানের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে পাইপগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায়ও মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায়ও প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছে সাইফুরের নাম।  

ট্যাগ: