banglanewspaper

মাগুরা প্রতিনিধ: মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মাঝাইল মান্দার তলা গ্রামের মালো পাড়ায় দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে মদ খাইয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সুদেব বিশ্বাস নামে এক বখাটে যুবকের বিরুদ্ধে।

এদিকে ঘটনাটি মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক ও ধর্ষিতার পরিবারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে স্থানীয় ইউপি মেম্বর ও সামাজিক নেতারা। জরিমানার টাকা আদায় নিয়ে নিয়ে বুবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, এলাকার বখাটে যুবক সুদেব বিশ্বাস গেল দূর্গার পূজার দশমীর রাতে মালো পাড়ার দশম শ্রেণী পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীকে নিজ ঘরে ডেকে এনে কৌশলে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৬ সেপ্টেম্বর মালো পাড়ার সামাজিক মাতবর শ্রীধাম বিশ্বাস ও শ্রীরাম চন্দ্র বিশ্বাস স্থানীয় মেম্বর আব্দুল হামিদকে ডেকে এনে সালিশ বসান। সালিশে অভিযুক্ত ধর্ষক সুদেবকে ১৫ হাজার ও ধর্ষণের শিকার স্কুল ছাত্রীর পরিবারকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সালিশ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মালোপাড়া মাতবরদের কাছে জরিমানার টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা আদায় নিয়ে ১৮ সেপ্টেমবর বুধবার দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। আহতের মধ্যে ৫ জনকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুদেব বিশ্বাস দীর্ঘ ধরে এলাকার নারীদের উত্যক্তসহ নানা অসামাজিক কাজের সাথে জড়িত। সে দূর্গার পূজার দশমীর রাতে মদ খাইয়ে এক স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে। এলাকাবাসী বখাটে সুদেবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।
যদিও সুদেব তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে গ্রাম্য মাতবর ও ইউপি মেম্বরের সালিশ বসিয়ে জমিরামানা আদায়ের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মাতবররা বলছেন, এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সালিশ বসিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করেছেন গ্রাম্য মাতবর।

এদিকে পুলিশ বলছে, ইউপি মেম্বর বা গ্রাম্য মাতবরদের এ ধরনের সালিশ করার এখতিয়ার নেই। তারা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। তবে স্থানীয় নাকোল ফাড়ি পুলিশ বা শ্রীপুর থানা পুলিশ এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

ট্যাগ: