banglanewspaper

আদিকাল থেকেই বৃষ্টির সাথে আমাদের প্রেম। বৃষ্টি আমাদের প্রথম প্রেমিক, প্রথম প্রেমিকা। বাঙ্গালীর অনেক রোমান্টিক স্মৃতির সাক্ষী এই বর্ষা। বর্ষা নিয়ে কত গল্প, ছড়া, কবিতা, গান আছে তার কোন হিসেব নেই। নগর জীবনে ছুটে চলা ব্যস্ত মানুষটাও বর্ষার দিনে আকাশের দিকে তাকায়। তাকিয়ে একবারের জন্যে হলেও তার প্রিয় বর্ষার গানটি গুনগুন করে। আর কে না জানে বর্ষা উদযাপনে প্রধান উপকরণ বর্ষার গান। আমরা তাই সবসময়ের প্রিয় দশটি বর্ষার বাংলা গান উপস্থাপন করলাম। চলুন একটু গুনগুন করে আসি।

১) আজি ঝরঝর মুখর বাদল দিনে- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একজন অসাধারণ বর্ষা প্রেমিক ছিলেন। তিনি ১০০ টিরও বেশি বর্ষার গান লিখেছেন। তাই বাদল দিনের গানের তালিকা করতে গেলে সেখানে স্বাভাবিকভাবেই কবি গুরুর লেখা গান সংখ্যা গরিষ্ঠের আসন পেয়ে যায়।
বর্ষার দিনে কাজে কারো মন বসে না, এই চিরন্তন সত্য দিয়েই গানটির শুরু।
“আজি ঝর ঝর মুখর বাদলদিনে
জানি নে, জানি নে কিছুতেই কেন মন লাগে না ।”


২) বর্ষা-শিরোনামহীন
‘শিরোনামহীন’ তরুণদের কাছে অনেক জনপ্রিয় একটি ব্যান্ড। ‘বর্ষা’ গানটি ২০০৬ সালে বের হওয়া তাদের ২য় এ্যালবাম “ইচ্ছেঘুড়ি” থেকে নেওয়া। গানটির কথা ও সুর চমৎকার। বর্ষার দিনে শোনার মতই একটি গান।
“মেঘলা কবেকার স্মৃতিময় বাতায়ন,
বলে যায় তোমায় অনব ভালবাসি।”
গানের এই লাইন দুটি শ্রোতার মনে হাহাকার ছড়িয়ে দেয়।


৩) এই মেঘলা দিনে একলা– হেমন্ত মুখোপাধ্যায়
হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গানটি অনেক পুরনো একটি গান। কিন্তু এতদিন পরেও গানটির আবেদন কিছু মাত্র কমেনি। এভারগ্রিন বৃষ্টির গানের তালিকায় গানটি পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছে। আপনি যদি গানটি আগে শুনে না থাকেন, তবে আজই শুনে নিন। গানের প্রথম চারটি লাইনই বৃষ্টির দিনে যে কাউকে উদাস করে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট।
“এই মেঘলা দিনে একলা
ঘরে থাকে না তো মন,
কাছে যাব কবে পাব
ওগো তোমার নিমন্ত্রণ।”


৪) বৃষ্টির গান- জলের গান
একটু ভিন্ন ধরণের বাদ্য যন্ত্র, গানের কথা, সুর নিয়ে “জলের গান” বর্তমানে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাদের গানে পাওয়া যায় সোঁদা মাটির গন্ধ, টাপুর টুপুর বৃষ্টির সুর। যে ব্যান্ডের নাম “জলের গান” বৃষ্টি নিয়ে তাদের গান থাকবে না, তা তো হয় না। ‘বৃষ্টির গান’ জলের গানের গাওয়া বৃষ্টি নিয়ে জনপ্রিয় একটি গান। গানটিতে চমৎকার বাঁশির সুর যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

৫) এই বৃষ্টি ভেজা রাতে- আর্টসেল
আর্টসেল তরুণদের নিকট তুমুল জনপ্রিয় একটি ব্যান্ড। বৃষ্টি নিয়ে তাদের এই একটি গানই আছে এবং গানটি তার অসাধারণ লিরিকের জন্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। গানটির প্রেক্ষাপট বৃষ্টি ভেজা রাত আর সেই চিরন্তন আক্ষেপ। এই বর্ষায় আপনজন পাশে না থাকার বেদনা।
“এই বৃষ্টি ভেজা রাতে তুমি নেই বলে
সময় আমার কাটে না।” 


৬) এমন দিনে তারে বলে যায়- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বর্ষার দিনে এই গানটি গুনগুন করে বহু বর্ষা প্রেমিক, বহু রবীন্দ্র প্রেমিক। গানটি না শুনে শুধু গানের কথাও যদি কেউ পড়ে, সে এই গানের প্রেমে পড়তে বাধ্য। এই গানটি যারা শুনেছে নিচের চারটি লাইন তাদের খুবই আপন হয়ে উঠেছে।
“তাহাতে এ জগতে ক্ষতি কার
নামাতে পারি যদি মনোভার!
শ্রাবণ বরিষনে একদা গৃহকোণে
দু কথা বলি যদি কাছে তার
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার।”


৭) বৃষ্টি-রাগা (এলিটা)
গানটির শুরুতেই এক পশলা বৃষ্টি এসে আপনাকে ভিজিয়ে দিবে। এরপর খুব দারুণ একটি সুর দিয়ে শুরু হবে গানটি। বাংলাদেশে গায়িকাদের মধ্যে এলিটা করিম অন্যতম। তার ‘বৃষ্টি’ নিয়ে এই গানটি জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কোরাস শুনলেই গানটি আপনার পছন্দের বর্ষার গানের তালিকায় নিয়ে ফেলবেন এটি নিশ্চিত।
“বৃষ্টি ভেজা এই বেলায় আমি তো স্বাধীন
রংধনু রঙের মেলায় এলো নতুন দিন।”


৮) চলো বৃষ্টিতে ভিজি- হাবিব
এই গানের টাইটেলটি এক জীবনে আমরা কতবারই না উচ্চারণ করেছি। যখনই আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি নেমেছে কাছের মানুষকে বলেছি, ‘চলো বৃষ্টিতে ভিজি।’
গানটিতেও প্রকাশ পেয়েছে ঠিক একই আকুলতা, একই আবেদন। গানটি হুমায়ুন আহমেদের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত সিনেমা ‘আমার আছে জল’ থেকে নেওয়া। গানটির প্রথম দুইটি লাইন যে কাউকে নস্টালজিক করে দিতে বাধ্য।
“বাদলা দিনে মনে পড়ে ছেলেবেলার গান
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এলো বান”

৯) এপিটাফ- অর্থহীন 
বৃষ্টির দিনে ফেসবুকে একটু ঘোরাফেরা করলেই এই গানের লাইনগুলো স্ট্যাটাস হিসেবে পাওয়া যাবে। যে গানের প্রথম দুটি লাইন
“বৃষ্টি নেমেছে আজ আকাশ ভেঙ্গে
হাঁটছি আমি মেঠোপথে” 

সে গান বৃষ্টির দিনে প্রিয় কেনই বা হবে না। ‘অর্থহীন’ ব্যান্ডের গানগুলো অনেক দিন থেকেই শ্রোতাদের কাছে জনপ্রিয় আর ‘এপিটাফ’ তাদের মধ্যে অন্যতম।

১০) যদি মন কাঁদে-শাওন
‘যদি মন কাঁদে’ গানটি জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের লেখা। হুমায়ূন আহমেদের ছিল অসম্ভব রকমের বর্ষা প্রেম। তার অনেক লেখাতেই বৃষ্টি এসেছে। যতটুকু জানা যায় নুহাশ পল্লীতে বসেই এই গানটি লিখেছিলেন তিনি এবং এক বর্ষার রাতেই সেটি গেয়ে শোনায় শাওন। গানটি শুনলে একে তো বৃষ্টি অনুভব করা যায় সাথে সাথে হুমায়ূন ভক্তরা হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে নেয়।

গানের তালিকা করতে গিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি সকল বয়সের পছন্দের এবং সকল ধরণের গান রাখতে। আশা করি ভাল লাগবে আপনাদের। তো আর দেরি না করে সাজিয়ে ফেলুন আপনার প্লে লিস্ট।
“যদিও তখন আকাশ থাকবে বৈরি
কদম গুচ্ছ হাতে নিয়ে আমি তৈরি ।।
উতলা আকাশ মেঘে মেঘে হবে কালো
ছলকে ছলকে নাচিবে বিজলী আরো
তুমি চলে এসো, চলে এসো
এক বরষায়……………”

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খান গোলমরিচ ও লবঙ্গ

banglanewspaper

নতুন ধরন ওমিক্রনের কারণে আবার বাড়ছে করোনার প্রকোপ। এছাড়া এমনিতে শীতে নানা রোগ-বালাই দেখা দেয়। এর কারণ শীতকালে বিভিন্ন জীবাণু সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে অনেকের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর এই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আপনার রান্নাঘরেই আছে দুটি এমন মসলা, যার কার্যকারিতা অনেক বেশি। মসলা দুটি হলো গোলমরিচ ও লবঙ্গ।

গোলমরিচের যত গুণ

গোলমরিচ স্বাদের জন্যও যেমন এটি খেতে পারেন, তেমনি এর অনেক গুণ শরীরকে নানা সমস্যার হাত থেকে বাঁচায়। কোন কোন সমস্যা থেকে বাঁচাতে পারে এই মশলা, আসুন জেনে নিই-

* রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে ডায়াবিটিসের সমস্যা কমে।

* কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমাতে পারে এটি।

* ত্বকের নানা সমস্যাও কমাতে পারে এই মশলা।

* বাতের ব্যথা কমিয়ে দিতে পারে এটি।

কীভাবে খাবেন গোলমরিচ: রান্নায় গোলমরিচ গোটা বা গুঁড়ো মিশিয়ে দিতে পারেন। চা বা কফির সঙ্গেও খেতে পারেন এটি। তাতেই যথেষ্ট উপকার হবে। তাছাড়া স্যালাডেও মিশিয়ে দিতে পারেন এই মশলা।

লবঙ্গের গুণাগুণ

গোলমরিচের মতো এত বেশি মাত্রায় ব্যবহার না হলেও লবঙ্গর ব্যবহারও নেহাত কম নয়। এই মশলাটির সুগন্ধের জন্য এটি অনেকে এমনিই খান। আসুন জেনে নিই এর গুণাগুণ-

এতে ভরপুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দিতে এর জুড়ি নেই।

* ক্যানসারের মতো রোগ প্রতিহতও করতে পারে এটি।

* ডায়াবিটিসের আশঙ্কাও কমায় এই মশলা।

* হাড় মজবুত করতে পারে এটি।

* দাঁত বা মাড়ির সমস্যাও কমাতে পারে এই মশলার রস।

কীভাবে খাবেন লবঙ্গ: চা বা কফিতে মেশাতে পারেন। জল ফুটিয়ে তার মধ্যে লবঙ্গ দিয়ে আস্তে আস্তে খেতে পারেন। ভাত রান্নার সময়ে তার মধ্যে লবঙ্গ দিতে পারেন। তাতে ভাতে সুন্দর গন্ধ হবে। তাছাড়া সেই ভাত শ্বাসযন্ত্রেরও উপকার করবে। এর বাইরে অন্য রান্নায় লবঙ্গ মেশানোর রাস্তা তো রয়েছেই।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
এক বছরের বেশি টেকে না পরকীয়া প্রেম: গবেষণা

banglanewspaper

বিশ্বজুড়ে বিয়ের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যাও। দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার এই সিদ্ধান্তের পেছনে অনেক ক্ষেত্রেই দায়ী পরকীয়া প্রেম। কিন্তু সুখী সংসারে ফাটল ধরানো সেই পরকীয়া প্রেমের স্থায়িত্বও খুব একটা বেশি নয়। গবেষণা বলছে, বেশির ভাগ পরকীয়াই বড়জোর এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়।

সম্প্রতি এক গবেষণায় এমনি তথ্য তুলে ধরেছেন মিসৌরি স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর অ্যালিসিয়া ওয়াকার। দীর্ঘ আট বছর পরকীয়া প্রেম নিয়ে গবেষণার পর তিনি তার গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

দ্য ইকোনমিক টাইম ও স্ট্যাটিস্টা ডট কমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রফেসর অ্যালিসিয়া ওয়াকারের গবেষণা অনুযায়ী, পরকীয়া প্রেম দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে অশান্তি ডেকে আনাসহ বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনায় গড়ালেও খুব কম ক্ষেত্রেই এটি পরিণতি পায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পরকীয়া প্রেম টেকসই হয় না। শতকরা ৫০ শতাংশের বেশি পরকীয়া প্রেম বড়জোর এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা এক বছর তিন মাস বা তার কিছু বেশি সময় পর্যন্ত টেকে। দুই বছরের বেশি স্থায়ী হয় শতকরা ৩০ শতাংশ পরকীয়া প্রেম। বিবাহ বন্ধন পর্যন্ত গড়ায় মাত্র পাঁচ শতাংশের কম সম্পর্ক।

গবেষণায় আরও বলা হয়, ব্যক্তিগত জীবনে একঘেয়েমি থেকেই পরকীয়ায় জড়ান বেশির ভাগ মানুষ। নিঃসন্তান দম্পতির চেয়ে যাদের সন্তান আছে তারাই পরকীয়া প্রেমে বেশি জড়ান।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১০ পেশার মানুষ বেশি পরকীয়া প্রেমে জড়ায়। এর মধ্যে সবার ওপরে রয়েছে সামাজিক কাজ করে এমন পেশার মানুষরা। তারপরই আছে শিল্প ও বিনোদন অঙ্গনের মানুষরা। এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্র, আইন পেশা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, চিকিৎসাক্ষেত্র, মার্কেটিং, সাংবাদিকতা, ফিন্যান্সের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও উচ্চবিত্তরা পরকীয়া প্রেমে বেশি জড়ান। তবে রাজনীতিবিদরা এই তালিকার ওপরের সারিতে নেই।

এছাড়া পরকীয় প্রেমে জড়ানো শীর্ষ ১০ দেশের তালিকা করেছেন প্রফেসর অ্যালিসিয়া ওয়াকার। এই তালিকায় সবার ওপরে আছে থাইল্যান্ড। এই দেশটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধেকের বেশি বিবাহিত মানুষ জানিয়েছেন, তাদের পরকীয়া সম্পর্ক আছে। থাইল্যান্ডের পরের স্থানেই আছে ডেনমার্ক। এরপর জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নরওয়ে, স্পেন, ফিনল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।

তবে প্রফেসর অ্যালিসিয়া ওয়াকার তার গবেষণায় শুধু পরকীয়া প্রেমের কুফল সম্পর্কেই তুলে ধরেননি। বরং পরকীয়া প্রেমের কিছু সুফলও আছে বলে জানিয়েছেন। তিনি তার গবেষণায় জানান, পরকীয় প্রেম অনেক সময়ই পারিবারিক জীবনে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, পরকীয়া প্রেমে জড়ালে দম্পতির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রী নিজেদের দাম্পত্য জীবনে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো ভালোভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারেন এবং তা দূর করারও সুযোগ পান।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
হাঁটাচলায় ঝুঁকি কমে ক্যানসার ও হৃদরোগের

banglanewspaper

সচেতন হতে হবে খাওয়া-দাওয়া আর খানিকটা চালচলনে। বড় ধরনের পরিবর্তন না এনেই সুস্থ থাকা যায়। শারীরিক নানা ধরনের ব্যায়াম করে শরীরকে বশে রাখা যায়। কষ্টের ব্যায়াম না করে সহজ উপায় হল হাঁটা। টানা ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটলে রক্তে চলমান চর্বি ফুরিয়ে আসে।  তাই অফিস থেকে বাড়িতে ফেরার পথে খানিকটা পথ হেঁটেই ফিরুন।  শারীরিক সক্ষমতা থাকলে অফিস কিংবা বাড়িতে লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়িতেই চড়ুন। হাড় ও হার্ট দুটিই ভালো থাকবে।

হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুকি কমাতে হাঁটাহাটির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সাইফ উল্লাহ। 

যে কোনো বয়সের মানুষের শরীর ঠিক রাখতে হলে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সব ব্যায়াম সব বয়সের জন্য উপযোগী নয় এবং সব ব্যায়াম করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। হাঁটা এমন একটি ব্যায়াম, যা সব বয়সের জন্য মানানসই। সহজে করা যায়। হাঁটার উপকারিতাও অনেক। এর চেয়ে সহজ ব্যায়াম আর নেই। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়াম কম খরচে শরীর ভালো রাখা যায়। ঘরে-বাইরে যে কোনো জায়গায় করা যায়। ব্যক্তির শারীরিক ক্ষমতা অনুযায়ী এর তীব্রতা বাড়ানো-কমানো যায়। উপযুক্ত পোশাক এবং এক জোড়া ভালো জুতা ছাড়া কোনো অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ে না।

ডায়াবেটিস রোগীর উপকার

ডায়াবেটিস রোগীর ব্যায়ামের বিকল্প নেই। সকাল-সন্ধ্যা নিয়মিত হাঁটাচলা, হাট-বাজারে কোথাও গেলে অল্প দূরত্বে রিকশা বা গাড়ি ব্যবহার না করা। অল্প কয়েক তলার জন্য লিফট ব্যবহার না করে হেঁটে ওঠা বা নামার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে পাঁচ দিন বা সপ্তাহে মোট ১৫০ মিনিট হাঁটলে এবং শরীরে ওজন সাত শতাংশ কমালে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার আশংকা কমে প্রায় ৫৮ ভাগ। যদি ডায়াবেটিস হয়েই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতেও হাঁটা বিশেষ কার্যকর। হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের পেশিতে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং রক্তের সুগার কমে, ওষুধ কম লাগে।

স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস

মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোকের অন্যতম একটি রিস্ক ফ্যাক্টর হচ্ছে অলস জীবনযাপন করা, স্থূলতা বা অতিরিক্ত মোটা হওয়া। হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীরের মেদ কমে যায়, ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে আসে। দৈনিক এক ঘণ্টা করে সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ৫০ ভাগ কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণ

অনেকেই শরীরের ওজন কমাতে শুধু ডায়েটিং করেন। কিন্তু হাঁটাহাঁটি না করে বা অলস জীবনযাপন করে শুধু ডায়েট কন্ট্রোলের মাধ্যমে ওজন কমানো সম্ভব নয়। দীর্ঘ মেয়াদি ওজন নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল চাবিকাঠি স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং নিয়মিত হাঁটাচলা।

হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা

নিয়মিত হাঁটার ফলে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। হৃদযন্ত্র স্বল্প চেষ্টায় শরীরে বেশি পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে পারে এবং ধমনির ওপরও চাপ কম পড়ে। উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার আশংকা কম থাকে। হাঁটার মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত হাঁটলে শরীরে জমে থাকা মেদ কমে। রক্তে মন্দ কোলেস্টেরল বা লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন কমে যায়। এই মন্দ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ধমনির গায়ে জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। যারা সপ্তাহে অন্তত তিন ঘণ্টা অথবা দৈনিক আধা ঘণ্টা করে হাঁটেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম। হাঁটার ফলে ভালো কোলেস্টেরল বা হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন বাড়ে। ফলে রক্তনালিতে ব্লক সহজেই হয় না। রক্তনালির দেয়াল শক্ত হয়ে যায় না। তাই হৃদরোগের কারণে মৃত্যু ঝুঁকি কমে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ কমে যায় স্ট্রোকের ঝুঁকিও।

হাঁটা ও কর্মক্ষমতা

হাঁটার সময় হৃৎস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি এবং রক্ত সরবরাহ বাড়ে। এগুলো বেশি কর্মক্ষম থাকে। হাঁটার ফলে পেশিতে রক্ত সরবরাহ বাড়ে ফলে পেশির শক্তি বাড়ে। শরীরের ওজন কমে। শরীর থাকে ফিট। নিজেকে বেশি শক্তিশালী মনে হয়। সার্বিকভাবে শরীরের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যতম চাবিকাঠি হচ্ছে নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাঁটাচলা অনেকটা উচ্চ রক্তচাপরোধী ওষুধের মতো কাজ করে। হাঁটার ফলে উচ্চরক্তচাপ হয় না এবং আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপ থাকলে তা কমিয়ে রাখে।

টিপস

* হাঁটা শুরু করার প্রথম ৫-১০ মিনিট এবং শেষের ৫-১০ মিনিট আস্তে হেঁটে শরীরকে ওয়ার্ম আপ এবং ওয়ার্ম ডাউন করুন।

* হাঁটার আগে এবং পরে একটু পানি পান করুন।

* খাওয়ার পরপরই হাঁটবেন না। ৪৫ মিনিট থেকে ৬০ মিনিট অপেক্ষা করুন।

* দুপুরে রোদে হাঁটবেন না। সকাল বা বিকালের একটি সময় বেছে নিন।

* হাঁটা শেষ করে এক থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে কিছু খেয়ে নিন।

* হাঁটায় উপকারিতা পেতে অবশ্যই সপ্তাহে অন্তত তিন বা চার দিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে হাঁটতে হবে। হাঁটতে হবে যথেষ্ট দ্রুত, যেন শরীরটা একটু ঘামে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে

কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি হাঁটা চলার মাধ্যমে কমানো সম্ভব বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সার স্টাডিতে প্রকাশিত আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে হাঁটার ফলে খাদ্যনালির নিন্মাংশের ক্যান্সারের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ হ্রাস পায়। দীর্ঘমেয়াদি কোষ্টকাঠিন্য দূর হয়। কোলন বা বৃহদান্ত্রের ক্যান্সারের আশংকাও কমে যায়।

হাড়ের ক্ষয়রোগ রোধে

পোস্ট মেনপোজাল (রজঃনিবৃত্তি পরবর্তী) নারী এবং বয়স্ক পুরুষদের সাধারণ রোগ হচ্ছে অষ্টিও পোরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়রোগ। এ রোগে হাড় দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। সামান্য আঘাত বা অল্প উচ্চতা থেকে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটাচলা এ ক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রজঃনিবৃত্তি-পরবর্তী বয়সে যেসব নারী প্রতিদিন অন্তত এক মাইল হাঁটেন, তাদের হাড়ের ঘনত্ব কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি। হাঁটার ফলে যেমন হাড় ক্ষয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়, তেমনি আর্থ্রাইটিসসহ হাড়ের নানা রোগ হওয়ার আশংকাও কমে যায়।

মানসিক স্বাস্থ্য

হাঁটলে মস্তিষ্কে ভালো লাগার কিছু পদার্থ এনড্রফিন, ডোপামিন, সেরেটোনিন নিঃসরণ হয়। ফলে মন-মেজাজ ভালো থাকে। হাঁটার ফলে মনে ভালো লাগার অনুভূতি জাগে, মানসিক চাপ কম বোধ হয়। এনড্রফিন নামক রাসায়নিকের ক্রিয়া বেড়ে গেলে ঘুম আরামদায়ক হয়। প্রতিদিন ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচ দিন হাঁটার ফলে বিষণœতার উপসর্গ ৪৭ শতাংশ হ্রাস পায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে নারীরা সপ্তাহে অন্তত দেড় ঘণ্টা হাঁটেন তাদের বোধশক্তি ৪০ মিনিটের কম হাঁটা নারীদের তুলনায় বেশি।

হাঁটার উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। যে কোনো ধরনের হাঁটাই উপকারী।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
রাতে গোসল করলে সেসব উপকার

banglanewspaper

অনেকের রাতে ভালো ঘুম হয় না, কিংবা ঘুম আসতে দেরি হয়। নানা রকম চেষ্টাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। ঘুমের সমস্যার থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি অতি সহজ সরল উপায় রয়েছে, তাহলো গোসল থেরাপি। তবে শুধুমাত্র ভালো ঘুমের ওষুধই নয়, এই থেরাপির রয়েছে আরও অনেক সুফল।

সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে যেমন গোসলের জুড়ি নেই, তেমনই ত্বকের জন্যেও এই গোসল থেরাপি জাস্ট পারফেক্ট। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করলে ত্বকের উপর জমে থাকা ধুলো ময়লা পরিষ্কার হয়ে যায়। ত্বকের রোমকূপ খুলে যায়, ফলে আরও বেশি রিফ্রেশড লাগে দিন শেষে। আর যদি গোসলের জলে দুধ মিশিয়ে নিতে পারেন, তাহলে তো কথাই নেই। ত্বকের জেল্লাও বেড়ে যাবে কয়েকগুণ। প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে বেশ খানিকটা সময় নিয়ে গোসল করতে পারলে তার প্রভাব পড়ে আপনার ব্লাড প্রেশারেও। স্ট্রেস কমানোর পাশাপাশি আপনার রক্তচাপও কমাতে সাহায্য করবে।

শরীরে ঘাম জমে থাকলে নানা রকম ফাঙ্গল ইনফেকশন হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। এছাড়াও কাজ থেকে ফেরার পর গোসল মাংসপেশি রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। তাছাড়া মাসল পেইনও কমায়।

প্রতি রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে গোসলের পানিতে ওডিকোলন বা এসেনশিয়াল অয়েলের কয়েক ফোঁটা ফেলে গোসল সারলে ইনসমনিয়ার থেকেও মুক্তি পাবেন।

ট্যাগ:

লাইফস্টাইল
জিরা ভেজানো পানি খাওয়ার ৫ উপকারিতা

banglanewspaper

জিরা আমাদের রান্নার কাজে ব্যবহৃত অন্যতম মসলা। রান্নায় জিরা ব্যবহারের প্রধান কারণ স্বাদ ও গন্ধ বাড়ানো বলে মনে হলেও এর রয়েছে আরও অনেক উপকারিতা। নিয়মিত জিরা খেলে তা আমাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হজমের সমস্যা দূর, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও রক্তস্বল্পতা দূর করার পাশাপাশি সাহায্য করে ওজন কমাতে। সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে নানাভাবে কাজ করে জিরা। 

জিরায় আছে আয়রন, তামা, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, জিঙ্ক ও পটাশিয়াম। বিভিন্ন অসুখে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে জিরা ব্যবহার করা হয়। আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ উপকারী হলো জিরা ভেজানো পানি। প্রতিদিন একগ্লাস জিরা ভেজানো পানি পান করলে তা আমাদের নানা উপায়ে উপকার করে থাকে। এটি সকালবেলা খালি পেটে খেলে বেশি উপকার পাবেন। জেনে নিন সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি খেলে কী হয়-

বদহজম দূর করে

অনেকের ক্ষেত্রেই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে, অন্ত্রে গ্যাস জমে গিয়ে পেট ফুলে যায়। যে কারণে পেট ফুলে শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং পেট ভার হয়ে থাকার মতো অনুভূতি হয়। সেইসঙ্গে পেট ব্যথা বা পেটে অস্বস্তি হতে পারে। এমন সমস্যাকে সাধারণ মনে হলেও ভোগান্তি কম কিছু হয় না। তাই এ থেকে মুক্তি পেতে জিরা ভেজানো পানি পানের অভ্যাস করুন। বদহজমের সমস্যা দূর করতে জিরা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। 

ওজন কমায়

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাদের সেই কাজে সাহায্য করতে পারে জিরা। জিরা ভেজানো পানি হজম ভালো হতে সাহায্য করে এবং শরীর থেকে সব ধরনের দূষিত পদার্থ বের করে দেয়। যদি আপনার পাচনতন্ত্র ঠিক থাকে তাহলে সহজেই শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের হয়ে যায়। এ কারণে ফ্যাট ও ওজন দুটোই দ্রুত কমে। নিয়মিত সকালে খালি পেটে জিরা ভেজানো পানি খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে জিরা কার্যকরী। এতে আছে পটাশিয়াম, আয়রন এবং ফাইবার। আপনি যদি নিয়মিত জিরা ভেজানো পানি পান করেন তবে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দ্রুত শক্তিশালী করে তুলবে। এটি নানা ধরনের রোগের সঙ্গে লড়াই করার পাশাপাশি ঘনঘন অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ভয় কমিয়ে দেয়।

নিয়ন্ত্রণে রাখে ডায়াবেটিস

যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তাদের জন্য উপকারী একটি পানীয় হতে পারে জিরা ভেজানো পানি। এটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর জন্য খুবই কার্যকরী। জিরা আমাদের শরীরের ইনসুলিন উত্‍পাদন বাড়িয়ে তোলে। সেইসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখে শর্করার মাত্রা। এর ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে ডায়াবেটিস। 

নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন জিরা ভেজানো পানি। এতে থাকে উচ্চ পটাশিয়াম। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা আমাদের শরীরের ক্রিয়াকলাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়াও জিরা ভেজানো পানি খেলে তা লবণের ক্ষতিকর প্রভাবগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তচাপ।

ট্যাগ: