banglanewspaper

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। আসনভিক্তিক প্রার্থী বাছাইয়ে এরইমধ্যে প্রায় ১৫০ আসনে বিএনপি-জামায়েতের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এছাড়া বাকি ১৫০ আসনের প্রতিটিতে ৩ জন করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম বিবেচনায় রয়েছে। জোটের শরিকদের জন্য বরাদ্ধকৃত আসনও অনেকটাই চূড়ান্ত। 

 

দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে দলের হাইকমান্ডেও। বিশেষ করে বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা দলের সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীর তালিকা তৈরি শুরু করেছেন। সেখানে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে- ক্লিন ইমেজের অধিকারী নেতাদের। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে এবার বেশ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

 

আগামীর প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির ৫০৬ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্থায়ী কমিটি সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাহী কমিটির সদস্যদের নাম রয়েছে। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সেখানে অবস্থানরত বেশ কয়েকজন প্রার্থী তালিকা অনেকটাই গুছিয়ে এনেছেন। দলের চেয়ারপার্সনের সঙ্গে এ নিয়ে ঢাকা-লন্ডন দফায় দফায় আলোচনা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। তবে শেষ মুহূর্তে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন নতুন করে আসন বিন্যাস করলে প্রার্থী তালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হতে পারে বলেও জানা গেছে। এরইমধ্যে চূড়ান্ত হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচনের আবহ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলের হাই কমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পাবেন। তবে শারীরিক অসুস্থতা এবং আইনি জটিলতায় যদি শেষ মুহূর্তে কেউ প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে না পারেন সেজন্য সব আসনেই বিকল্প প্রার্থীর নাম বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

 

২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে জামায়াত ইসলামী (নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে) ১০ এবং বাকি ১৮ দলকে ১০-১২টি আসন দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। লন্ডনে অবস্থানরত ছাত্রদলের একজন সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং দলের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

 

প্রাপ্ত তথ্য মতে, গতবছরের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলরা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ৬ আগস্ট দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার অনুমোদিত কমিটির নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপির আগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মোট সদস্য ৩৮৬ জন থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে ৫০৬ সদস্য বিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে ঘোষণা করা হয়েছে সর্বমোট ৫০২ জন সদস্যের নাম। এদের মধ্যে অনেকেই আগামীতে পাবেন জোটের মনোনয়ন।

 

অপর একটি সূত্র মতে, এবার ঢাকার বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপির পুরনো প্রার্থী বদলের আভাস রয়েছে। দলে নিষ্ক্রিয়রা আগামীতে মনোনয়ন পাবেন না এমন খবর রয়েছে তৃণমূলে।

 

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই। লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমান সাজাপ্রাপ্ত আসামি। দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবারো ফেনীর একটিসহ ৫টি আসনে প্রার্থী হবেন। তিনি সিলেট-১ আসনেও প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে পারেন। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান সিলেটে এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান ফরিদপুরের একটি আসনে আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এমন ভাবনা রয়েছে দলের হাই কমান্ডে।

 

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, তরিকুল ইসলাম, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস (ঢাকা-৯), গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ঢাকা-৩), ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিজ নিজ এলাকায় মনোনয়ন অনেকটাই চূড়ান্ত। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিঞার মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা রয়েছে।

 

বিএনপি চেয়ারপার্সনের ৭৩ উপদেষ্টার মধ্যে উকিল আবদুস সাত্তার, তাহমিনা রুশদি লুনা (সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াছ আলীর স্ত্রী), ফজলুর রহমান (কিশোরগঞ্জ), ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান (ঢাকা-২০), আমান উল্লাহ আমান (ঢাকা-২), মিজানুর রহমান মিনু, জয়নাল আবেদীন ভি পি, আফরোজা খান রীতা (মানিকগঞ্জের হরিরামপুর), আবুল খায়ের ভুঁইয়া, মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, জয়নুল আবদিন ফারুক ও অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারের মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা নেই বলে জানা গেছে।

 

জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল নোমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, ড. ওসমান ফারুক, আবদুল মান্নান ও গিয়াস কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত। এ ছাড়া সিনিয়ির যুগ্ম মহাসচিব (দপ্তরের দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মজিবুর রহমান সারোয়ার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন ও হাবিব উন নবী খান সোহেল, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহা, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আসাদুল হাবিব দুলু ও শামা ওবায়েদ, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক এহসানুল হক মিলন, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, পল্লী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক এ্যাড গৌতম চক্রবর্তী, সহশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহশ্রমিকবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান (বিএনপির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা চৌধুরী তানভীর আহম্মেদ সিদ্দিকী দলত্যাগ করায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর), সহউপজাতিবিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) মনিষ দেওয়ান, নির্বাহী কমিটির সদস্য আলী আজগর লবি, সহপরিবার কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি ডা. দেওয়ান সালাউদ্দিন বাবু (ঢাকা-১৯), নির্বাহী কমিটির সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মনোনয়ন অনেকটাই চূড়ান্ত বলে জানা গেছে।

 

অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় পাবনা-১, ফরিদপুর-৩ এবং শেরপুর-১ আসনে জামায়াতকে আর ছাড় দিতে হবে না বলে মনে করে বিএনপি। অন্যদিকে একই মামলায় মাওলানা আবদুস সোবহান ও এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ায় পাবনা-৫ ও রংপুর-২ নিয়ে বিএনপির ভাবনা কমেছে। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হওয়ায় পিরোজপুর-১ আসনটি নিয়ে জটিলতা কমলেও তার পুত্র উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীকে মনোনয়ন দেয়া হতে পার বলে বিএনপিতে আলোচনা আছে। তবে ওই আসন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারকেও ছেড়ে দেয়া হতে পারে। কুমিল্লা-১১ আসনে মরহুম কাজী জাফর আহমদের মেয়ে জয়া কাজী, মৌলভীবাজার-২ আসনে নওয়াব আলী আব্বাস এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনে এ এইচ এম গোলাম রেজার নাম আলোচনায় রয়েছে। কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও চট্টগ্রাম-১৪ আসনে আ ন ম শামসুল ইসলামকে এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী করা হতে পারে।

 

তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন এমন কয়েকজনকেও ছাড় দেয়ার চিন্তা আছে বিএনপিতে। তখনকার ফলাফলে জামায়াত দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল এমন ৩২টি আসনের মধ্যে আছে ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-১ ও ৬, নীলফামারী-২ ও ৩, লালমনিরহাট-১, রংপুর-১ ও ২, গাইবান্ধা-১, ৩ ও ৪, সিরাজগঞ্জ-৪, পাবনা-১ ও ৫, চুয়াডাঙ্গা-২, ঝিনাইদহ-৩, যশোর-১ ও ২, বাগেরহাট-৩ ও ৪, খুলনা-৫ ও ৬,সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৪, পিরোজপুর-১, শেরপুর-১, সিলেট-৫ ও ৬, কুমিল্লা-১১, কক্সবাজার-২ ও চট্টগ্রাম-১৪।

 

অন্যদিকে বাকি ১৮ দলকে ১০ থেকে ১২টি আসন ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবছে বিএনপি। দলটির নেতাদের মতে, অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৩টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি সর্বোচ্চ দুটি, বিজেপি দুটি, জাগপা একটি, জমিয়তে ওলামা ইসলাম একটি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) একটি ও মুসলিম লীগ একটি আসনে ছাড় পেতে পারে। বাকি বেশির ভাগ দলের নিবন্ধন নেই, নেতাদের আসনও নেই। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনে অলি আহমদ, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ এবং লক্ষীপুর-১ আসনে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিমের মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত। এ ছাড়া প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল করিম আব্বাসীর জন্য নেত্রকোনা-১, আবদুল গণির জন্য মেহেরপুর-২ ও আবু ইউসুফ খলিলুর রহমানের জন্য জয়পুরহাট-২ আসনে মনোনয়ন চাইবে এলডিপি। বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১ এবং জমিয়তে ওলামা ইসলামের চেয়ারম্যান মুফতি মোহম্মদ ওয়াক্কাস যশোর-৫ আসন থেকে জোটের প্রার্থী হতে পারেন। দিনাজপুর-৩ আসন থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন সদ্য মরহুম জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্ত্রী রেহানা প্রধান।

 

কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমানের জন্য পাবনা-১ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ইকবাল হাসান মাহমুদের জন্য নারায়ণগঞ্জ-২ আসন জোট নেত্রীর কাছে চাইবে দলটি। বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি নীলফামারী-১, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-৫ এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান পিরোজপুর-২ আসনে জোটের প্রার্থী হতে চান। সূত্রঃ ভোরের কাগজ।

আরও পড়ুন- 

-> বিএনপির সমাবেশে জুয়া খেলায় মত্ত কর্মীরা

 

-> ‘আওয়ামী লীগে এবার মনোনয়ন পাবেন না যারা’

ট্যাগ:

রাজনীতি
২৫ ইউপি ও তিন পৌরসভায় আ.লীগের প্রার্থী যারা

banglanewspaper

ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলা পরিষদ, তিনটি পৌরসভা ও ২৫টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করেছে আওয়ামী লীগ।

রোববার (২৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোববার বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় এ প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

তালিকা দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

ট্যাগ:

রাজনীতি
‘সবার মুখে হাসি আর বিএনপির মুখে শ্রাবণের মেঘ’

banglanewspaper

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকে সবার মুখে আনন্দের হাসি। আর বিএনপির মুখে শ্রাবণের আকাশের মেঘ। এত ষড়যন্ত্র, এত কূটচাল তারপরও শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু করে ফেললেন। মির্জা ফখরুলের মন খারাপ, বুকে বড় ব্যথা, বড় বিষ জ্বালা। জ্বালায়-জ্বালায় মরছে তারা।

শনিবার (২৫ জুন) মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীতে আওয়ামী লীগের জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এ পদ্মার পাড়ে কত ছেলে তার অসুস্থ মাকে নিয়ে অপেক্ষা করেছে। কিন্তু ফেরি আসেনি। পরে মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে। পদ্মায় আটকা পড়ে কত ছেলে তারা বাবার জানাজায় যেতে পারেনি। অনেকে বলে, পদ্মা সেতুর জন্য এত টাকা, এত টোল, কিন্তু এ এলাকার মানুষ জানে পদ্মা সেতু তাদের কত প্রয়োজন। যারা বিষয়টি জানে না তারা পদ্মা সেতুর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে না।

‘আজ পদ্মা সেতুর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তার নাম যুক্ত করেননি। কিন্তু যত দিন এখানে চন্দ্র ও সূর্য উদয় হবে, তত দিন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আপনাকে স্মরণ করবে। বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে, শেখ হাসিনার মুখের দিকে চেয়ে আপনারা পৈতৃক ফসলি জমি দিয়েছেন। পদ্মার পাড়ের মানুষের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শত বাধা আসলেও প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু বানাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন। সেজন্য আপনারা আজ এখানে একত্রিত হয়েছেন।

ট্যাগ:

রাজনীতি
ফের করোনায় আক্রান্ত মির্জা ফখরুল

banglanewspaper

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফের করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় বিএনপি মহাসচিবের কোভিড-১৯ পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে বলে নিশ্চিত করেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য খায়রুল কবির খান।

তিনি বলেন, শুক্রবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়। আজ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর দেখা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। মির্জা ফখরুল ডা. রায়হান রাব্বানীর তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পরিবারের পক্ষ মির্জা ফখরুলের দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যদিও তিনি করোনা ভ্যাকসিনের বুস্টার (তৃতীয়) ডোজ নিয়েছিলেন।

ট্যাগ:

রাজনীতি
৭৩ বছর পেরোলেও আ.লীগ এখন টগবগে : নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

banglanewspaper

পথচলা ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আওয়ামী লীগ এখনো টগবগে যুবক বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আ.লীগ মানে বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানে আ.লীগ। আওয়ামী লীগের ৭৩ বছরের পথচলা বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) শিল্পকলা একাডেমির সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ আন্তর্জাতিক পর্ষদ ও বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ’ আয়োজিত ‘শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর জয়-বিশ্বের বিস্ময়’ শীর্ষক আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, প্রতিটি সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নিজেকে সংস্কার করেছে। সমাজ, দেশ ও জাতির কথা চিন্তা করে আওয়ামী লীগ চলতে পেরেছে। সামনে এগিয়ে চলার জন‍্য নেতৃত্ব তৈরি করেছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন একটি দেশ দিয়েছেন আর তার কন‍্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়ন ও মর্যাদার জায়গায় নিয়ে গেছেন।

খালিদ মাহমুদ বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। তিনি পদ্মা সেতু করতে চেয়েছেন; ষড়যন্ত্রকারীরা টেনে ধরতে চেয়েছেন। ষড়যন্ত্রকারীরা পারেননি। শেখ হাসিনা পেরেছেন। তাঁর নেতৃত্বে উন্নয়নের বিষয় নিয়ে তৃতীয় বিশ্বের লোকজন গবেষণা করবে-এটা আওয়ামী লীগের নেতি-কর্মীদের জন‍্য অহংকার।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত‍্যার পর দেশ অন্ধকার যুগে চলে গিয়েছিল। বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছিল। সে জায়গা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নে কোথায় গেছে-তাবত দুনিয়া সেটি দেখছে। একমাত্র পদ্মা সেতু নিয়ে ৮০ লাখ কন্টেন্ট তৈরি হয়েছে।

কবি আসলাম সানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব‍্য রাখেন অধ‍্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, শিশু সাহিত‍্যিক সুজন বড়ুয়া, ড. শাহাদাত হোসেন নিপু, কবি বাপ্পী রহমান, কবি আসাদুজ্জামান, মিডিয়া ব‍্যক্তিত্ব সুজন হালদার।

ট্যাগ:

রাজনীতি
আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ ড. ইউনূসের, সাফ জবাব বিএনপির

banglanewspaper

বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সেতু বিভাগ।

একই দিন বেলা ১১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন সেতু বিভাগের উপসচিব দুলাল চন্দ্র সূত্রধর। কিন্তু আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করেননি রিজভী।

এদিন বিকেলে গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তারা এই অনুষ্ঠানে যাবেন না।

তিনি বলেন, যারা এদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বেগম খালেদা জিয়াকে পদ্মায় ডুবিয়ে মারতে চায়, যারা এদেশের সবচেয়ে প্রতিথযশা এবং এদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সম্মান অর্জন করে আনা ব্যক্তি গোটা পৃথিবীতে যিনি নন্দিত মানুষ ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তাকে চুবিয়ে মারতে চায়, তাদের আমন্ত্রণে বিএনপির কোনো নেতা বা কোনো কর্মী কখনোই যেতে পারে না।

আমন্ত্রণপত্রে বিএনপির সাতজন শীর্ষ নেতার নাম থাকলেও দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম ছিল না।

আমন্ত্রণ পাওয়া বিএনপির শীর্ষ নেতারা হলেন- দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

এ বিষয়ে রিজভী বলেন, সরকারের তিনজন কর্মকর্তা পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমরা সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করিনি।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুতে ১ টাকার জায়গায় ৩ টাকা ব্যয় করা হয়েছে, সব টাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের পকেটে গেছে, বিদেশে পাচার হয়েছে। নৈতিকভাবে বিএনপি কোনো অন্যায়ের সমর্থন করে না। এ জন্য এই অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৫ জুন বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগ: