banglanewspaper

জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতি আসনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ হিসেবে জরিপের পর জরিপ চলছে আওয়ামী লীগে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার এসব জরিপ প্রক্রিয়ায় জড়িত ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জরিপে বর্তমান সংসদের ৫০ এমপি ও ১৭ মন্ত্রীর জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে অন্তত দেড়শ’ এমপির অবস্থা নাজুক। তবে প্রধানমন্ত্রীর কড়া ঘোষণার পর প্রায় সবাই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সময় দিচ্ছেন। বৈঠকে বসছেন উঠানে উঠানে। হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনেকে মাটি কাটছেন শ্রমিকদের সঙ্গে, হাসপাতালের মেঝে পরিস্কার করছেন।

আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, অনেক অজনপ্রিয় নেতাদের হাতেও নৌকার টিকিট উঠবে। কেন্দ্রীয় নেতা ও বর্তমান মন্ত্রীদের মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। না হলে নির্বাচনী মাঠে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রতি জেলায় অন্তত দু’একটি আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হবে বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র। এর কারণ হিসেবে তারা বলছে, নির্বাচনী মাঠে উত্তাপ ও আলোচনা ছড়ানো এবং কর্মীদের চাঙ্গা রাখার জন্য হলেও প্রতি জেলায় অন্তত একটি আসনে প্রার্থী বদল করার সিদ্ধান্ত আছে আওয়ামী লীগ হাই কমান্ডের। সে হিসাবে ৬৪ জেলায় অন্তত ৮০ থেকে ৯০টি আসনে নতুন মুখ আসতে পারে। আবার চার থেকে পাঁচটি আসনে বর্তমান এমপিদের আসন পরিবর্তন হতে পারে। বার্ধক্যের কারণে বাদ পড়বেন বেশ কয়েক বর্তমান এমপি। বিভিন্ন জরিপে জনপ্রিয়তায় ধস যে ৫০ এমপির তারা হলেন- নীলফামারী-৩ আসনের গোলাম মোস্তফা, লালমনিরহাট-৩ আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ (দুলাল), রংপুর-২ আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী, রংপুর-৫ এইচ এন আশিকুর রহমান, গাইবান্ধা-২ মাহাবুব আরা বেগম গিনি, গাইবান্ধা-৫ ফজলে রাব্বী মিয়া, ঠাকুরগাঁও-২ দবিরুল ইসলাম, দিনাজপুর-১ মনোরঞ্জন শীল গোপাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ গোলাম রব্বানী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস, নওগাঁ-৫ আবদুল মালেক, রাজশাহী-৩ আয়েন উদ্দিন, নাটোর-২ শফিকুল ইসলাম শিমুল, সিরাজগঞ্জ-৩ গাজী ম ম আমজাদ হোসেন মিলন, সিরাজগঞ্জ-৪ তানভীর ইমাম, পাবনা-১ শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আজিজুল হক আরজু, ঝিনাইদহ-৩ নবী নেওয়াজ, যশোর-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৬ ইসমাত আরা সাদেক, মাগুরা-১ মে. জে. এটিএম আবদুল ওয়াহহাব (অব.), খুলনা-১ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-৩ মন্নুজান সুফিয়ান, খুলনা-৬ শেখ মো. নূরুল হক, বরগুনা-২ শওকত হাচানুর রহমান (রিমন), বরিশাল-২ তালুকদার মো. ইউনুস, বরিশাল-৫ বেগম জেবুন্নেছা আফরোজ, ভোলা-২ আলী আজম, টাঙ্গাইল-৩ আমানুর রহমান খান রানা, টাঙ্গাইল-৭ একাব্বর হোসেন, জামালপুর-২ ফরিদুল হক খান, জামালপুর-৫ রেজাউল করিম হীরা, ময়মনসিংহ-৩ নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ-৬ মোসলেম উদ্দিন, ময়মনসিংহ-১১ মোহাম্মদ আমানউল্লাহ, নেত্রকোনা-১ ছবি বিশ্বাস, নেত্রকোনা-৩ ইফতিখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু, কিশোরগঞ্জ-২ সোহরাব উদ্দিন, ঢাকা-১৪ আসলামুল হক, ঢাকা-৫ হাবিবুর রহমান মোল্লা, গাজীপুর-৩ রহমত আলী, মুন্সীগঞ্জ-১ সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, নরসিংদী-৫ রাজি উদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৩ এমএ মান্নান, নোয়াখালী-১ এইচএম ইব্রাহীম, নোয়াখালী-৬ আয়েশা ফেরদাউস, লক্ষ্মীপুর-৪ মো. আব্দুল্লাহ, চট্টগ্রাম-১৬ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, শরীয়তপুর-১ বিএম মোজাম্মেল হক, শরীয়তপুর-২ শওকত আলী।

শরিক ও টেকনোক্রেট বাদে আওয়ামী লীগের নির্বাচিত মন্ত্রী ৪০ জন। এর মধ্যে জনপ্রিয়তায় ভালো অবস্থানে রয়েছেন ঝালকাঠি-২ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, ভোলা-১ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কিশোরগঞ্জ-১ জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, নোয়াখালী-৫ যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, দিনাজপুর-৫ আসনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-১ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, গাজীপুর-১ মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নীলফামারী-২ সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জান নূর, ঢাকা-১২ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া-১ মৎস্যমন্ত্রী ছায়েদুল হক, চাঁদপুর-২ ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মাদারীপুর-২ নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে জামালপুর-৩ পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম।

কোন্দল মিটিয়ে দলীয় কর্মীদের মাঠে নামাতে পারলে জিতে আসতে পারবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, লালমনিরহাট-২ আসনে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ। ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিক। বাকি মন্ত্রীদের মধ্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধারে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন কারণে বাকি মন্ত্রীদের জনপ্রিয়তায় ধস। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন মনোনয়ন বঞ্চিতও হতে পারেন।

আসন পরিবর্তন হতে পারে ঢাকা-৮ এ। বর্তমান এমপি রাশেদ খান মেননকে জোটের প্রার্থী করা হতে পারে বরিশালের কোনো আসনে। জাহাঙ্গীর কবীর নানককেও মনোনয়ন দেয়া হতে পারে বরিশালের কোনো একটি আসনে। আর ভোলা-১ আসনের এমপি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ তার নিজের আসনে যেমন জনপ্রিয়; আরো বেশি জনপ্রিয় ভোলা-২ আসনে। নেত্রকোনায় উপমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের আসনে আসতে পারেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। সূত্রঃ মানবকণ্ঠ।

ট্যাগ:

রাজনীতি
সাংবাদিকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শামীম ওসমান

banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পেশাগত কাজে নারায়ণগঞ্জে যাওয়া সাংবাদিকদের মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন আলোচিত এই সংসদ সদস্য।

রবিবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে হঠাৎ করে শহরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন শামীম ওসমান। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের বাইরে এনায়েতনগর ইউনিয়নে ভোটার ছিলেন। ফলে সবার ধারণা ছিল সিটি নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

আপনি একাধিকবার আপনার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন, কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই রাজনীতিক বলেন, ‘এর আগে জাতীয় নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভোট দিয়েছি। এবার সিটি নির্বাচনে মনে হয়েছে আমার একটি ভোট দেওয়া দরকার, তাই আমি এখানকার ভোটার হয়েছি। অনেকেই আমার বাড়ি থেকে কাউকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন, এ কারণে আমি আগে থেকেই নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে নিয়েছিলাম। আমি চাইনি পলিটিক্স উত্তরাধিকারী সূত্রে হোক, পলিটিক্স যোগ্যতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘ভালো ভোট হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য কার অবদান কী, কাদের কী অবদান সেটা আসলে বিষয় না। আমি প্রথমে সাংবাদিকদের থ্যাংকস জানাবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকেও থ্যাংকস। এখানে মাত্র পাঁচ লাখ ভোটের নির্বাচন কভার করার জন্য এতসংখ্যক সংবাদকর্মীরা এসেছেন। কোথাও সমস্যা হলে দ্রুত আপনাদের টিম চলে গেছে। সাংবাদিকদের কারণে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।’

সাংসদ বলেন, ‘সাংবাদিকরা যে পরিশ্রমটা করেছেন নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু ভোটের জন্য সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। দোয়া করা ছাড়া আর কিছু আমার দেওয়ার নেই। আল্লাহ আপনাদের পিতামাতাকে হেফাজত করুন। যারা বেঁচে নেই তাদের শান্তিতে রাখুন।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
ইভিএমে কারচুপির জন্য পরাজিত হয়েছি: তৈমূর

banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, ইভিএমে কারচুপির কারণে তিনি পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া তার পক্ষের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে পরাজিত হলেও নিজেকে জনগণের ভালোবাসায় জয়ী বলে দাবি করেন।

রবিবার রাতে নিজ বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর বলেন, ‘এটা আমাদের নয়, সরকারের পরাজয়। একা খেলা দরকার ছিল, খেইলা দিছি। আমি না দাঁড়ালে নির্বাচনইতো হতো না। কোনো সমস্যা নেই, আল্লাহ ভরসা।’

ইভিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ ও স্লো ছিল। অনেক লোক ভোট দিতে পারেনি। ইভিএমের কারচুপির জন্য আমাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা নির্বাচনে আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। আমার লোকজন বাড়িতে থাকতে পারেনি। এটিএম কামালের মতো লোককে ঘেরাও করা হয়েছে গ্রেপ্তারের জন্য।’

তৈমূর বলেন, ‘ঢাকার মেহমানদের অতিরঞ্জিত কথার পরে গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির নানককে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, ১২ ও ১৩নং ওয়ার্ড তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ১৩নং ওয়ার্ডে আমি থাকি, আমার ভাই তিনবারের কাউন্সিলর। আর ১২নং ওয়ার্ড সরকারি এমপির ওয়ার্ড। আমি বললাম সরকারই যদি তার এমপির কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তাহলে আমার কিছু করার নেই। আমার কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।’

পরাজিত প্রার্থী বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসায় আমরা জয়ী, তাদের প্রতি, মিডিয়ার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রতিটি ঘটনা আমি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আমার সমন্বয়ককে কাগজসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার মাধ্যমেই শুরু হয় এবং আমার লোকজন প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হতে থাকে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন হেফাজতের মামলা দেওয়া হয়েছে সবাইকে। এদের মধ্যে হিন্দু লোকও আছে। এখন দেখা যায় মুসলমান তো করেই, হিন্দুরাও হেফাজত করে। আজ সকাল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বন্দরের সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার চিফ এজেন্টের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় একটা মানুষ স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে কীভাবে ঠিক থাকতে পারে। তারপরেও জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিজয়ী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৈমূর বলেন, ‘তার বিষয়ে আগেও মন্তব্য করিনি, এখনো করবো না। এটা খেলা হয়েছে সরকার বনাম জনগণ, সরকার বনাম তৈমুর আলম খন্দকার। আমি সিটি করপোরেশনের জন্য কী করেছি তা তাকে জিজ্ঞেস করেন। নারায়ণগঞ্জবাসী এগুলো জানে।’

এ সময় বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া এই নেতা দাবি করেন, বিএনপি আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে।

ট্যাগ:

রাজনীতি
নারায়ণগঞ্জ সিটিসহ পরবর্তী নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ হবে: কাদের

banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ পরবর্তী নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সারাদেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অত্যন্ত আনন্দমুখর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আশা করছি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ পরবর্তী নির্বাচনসমূহ সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে ওসতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং কমিশনের কাজে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না। ভোটারদের নিরাপত্তা বিধান এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এবং আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে সরকার সর্বদা কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর। আশা করি, আগামীতে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে কমিশন এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আরও তৎপর থাকবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলসমূহের সংলাপ চলমান রয়েছে। স্টেকহোল্ডার হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আগামী ১৭ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নিবে। একটি অর্থবহ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শক্তিশালী কমিশন গঠনে আওয়ামী লীগের মতামত ও প্রস্তাবনা সংলাপে উপস্থাপন করা হবে। আমরা মনে করি, পারস্পরিক আলোচনা যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। সংঘাত, সহিংসতা, জনমতবিরোধী তৎপরতা গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে আলাপ-আলোচনা, সংলাপ, পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্র বিকাশের পথকে কুসুমিত করে। যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে না, তারা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিতে শ্রদ্ধাশীল নয়; তারা সংলাপে আস্থা রাখে না। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করতে চায়।’

বিএনপি নেতারা বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশের নামে সন্ত্রাস ও সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কেউ কেউ আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলছেন; ডাইরেক্ট অ্যাকশনের হুমকি দিচ্ছেন। আসলে পায়ের নিচে মাটি নেই বলে এসব তাদের নিজেদের ওপর ঝেঁকে বসা ভয় তাড়ানোর নির্জীব হুংকার। আত্মবিশ্বাস হারানো এক ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক দলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, কাদের নিয়ে তারা যুদ্ধ করবেন? কেন যুদ্ধ করবেন? তাদের যুদ্ধ কী লুটপাট, দুর্নীতি আর অরাজকতা সৃষ্টির জন্য? আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগও প্রস্তুত। যারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণকারী, দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষক, উগ্র-সাম্প্রদায়িকতার ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত এবং যারা স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক অপরাজনীতির উত্তরাধিকার তাদেরকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যেকোনো ধরনের আস্ফালনকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করা হবে।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
স্ত্রীসহ বিএনপি মহাসচিব করোনায় আক্রান্ত

banglanewspaper

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা। তবে শারীরিকভাবে দুজনই সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তারা দুজনই বর্তমানে উত্তরার বাসায় আছেন।

জানা গেছে, সোমবার করোনার পরীক্ষার পজিটিভ রিপোর্ট পান মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা। মঙ্গলবার রিপোর্ট পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুজনই উত্তরার বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

করোনা সংক্রমণের প্রায় দুই বছরে বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্য্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ্রীয় নেতা খুররম খান চৌধুরী, খন্দকার আহাদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ বেশ কয়েকজন নেতা মারা গেছেন।

ট্যাগ:

রাজনীতি
আর যাই বলুন গডমাদার বলবেন না: শামীম ওসমান

banglanewspaper

সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে গডফাদার আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটির নৌকার মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে মুখ খুললেন শামীম ওসমান। আলোচিত এই সংসদ সদস্য অনুরোধ করেছেন, ‘আর যাই বলা হোক, তাকে যেন ‘গডমাদার’ না বলা হয়।

সোমবার দুপুরে নানা ইস্যু নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে প্রচারণার সময় শামীম ওসমান এবং তার ভাই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে নিয়ে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি শামীম ওসমানকে গডফাদার বলে মন্তব্য করেন।

আইভীর এমন বক্তব্য নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে চুপ থাকলেও আইভীর মন্তব্যের পর কথা বলেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এই সংসদ সদস্য গতকাল বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে আইভীর এমন বক্তব্য দেওয়াসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে করবেন তিনি।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- সেলিনা হায়াৎ আইভী আপনাকে গডফাদার বলে বক্তব্য দিয়েছেন। জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘একই লোক আমাকে একদিন বললেন গডফাদার। একদিন আগে বললেন ব্রাদার। তারও একদিন আগে বললেন ভাই। এখন কেউ যদি কিছু বলে শান্তি পায় তাতে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু দয়া করে গডমাদার বলবেন না।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সাংসদ বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি অন্তর দিয়ে, আবেগ দিয়ে। কে কী বললো আমি কেয়ার করি না। কেউ কিছু বলে শান্তি পেলে বলুক, বলতে দেন। আমি নীলকণ্ঠের মতো, সব হজম করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত সমালোচনা সহ্য করে, বিষ হজম করে যদি রাজনীতি করতে পারেন আমরা কেন পারবো না।’

শামীম ওসমান ও নাসিম ওসমানের প্রার্থী তৈমূর নৌকার প্রার্থী আইভীর এমন বক্তব্যের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, আসলে নির্বাচন করতে গেলে অনেক সময় স্ক্রু ঢিলা হয়।

ট্যাগ: