banglanewspaper

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি : আজ ভোর ৩টায় গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের অর্ঘ বিশ্বাস (২০) নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সে তার বাস ভবনের ৫ তলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে।

তার বাবার নাম অরবিন্দু বিশ্বাস, তার বাসা খুলনার সদরের কাকলিবাগ এলাকায়। আত্মহত্যা করার আগে অর্ঘের ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, ক্লাসে উপস্থিত না থাকার কারণে প্রথম বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টার পরীক্ষায় বসতে দেয়া হয়নি তাকে। আর এই কষ্টেই সে আত্মহত্যা করে।

পাঠকদের জন্য তার স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো :

প্রিয় বাংলাদেশ,

আশা করি ভালো আছো। তোমার মেরুদন্ডহীন সিস্টেমের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মানলাম। বোকার মতো শিরদাঁড়াটা সোজা রেখে জীবনটা পার করার যে জেদ ছিল সেটা তোমার মেরুদন্ডহীনতার তন্ত্রে হার মেনে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিতি থেকে এবং সিজিপিএ’র জন্য পড়াশোনা করে মেধাবী তকমা পাওয়া কিংবা দুর্ঘটনায় বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর পর মিডিয়ার প্রচারের স্বার্থে মেধাবী খেতাব নেওয়ার কোন ইচ্ছা ছিল না। শুধু শুধু গাধার মতো কোন ইস্যু পেলে চেঁচিয়ে বারবার তোমার মেরুদন্ডহীনতা বোঝানো ছাড়া বোধ হয় আমি আর কিছু পারতাম না।

তোমার মেধাবী সূর্য সন্তানদের দেখে আমার বড় আফসোস হয়। দেখ, কীভাবে তারা তাদের মেধাগত যোগ্যতাবলে তোমার সিস্টেমের সাথে সুন্দরভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তারা আমাদের কী বলে জানো? যুক্তিবাদী বেয়াদব। আমরা ডিপার্টমেন্ট-এর বদনাম করি, দল করে সুন্দর সাজানো একটা ডিপার্টমেন্টকে নষ্ট করি। সিনিয়র ভাইদের সাথে ঘুরে ঘুরে স্যারদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করি।

কাল সারা রাত অনেক ভাবলাম বুঝলে। সত্যি বলতে কী, আমার এখন মনে হচ্ছে আমরা এই “যুক্তিবাদী বেয়াদবেরা” আসলেই তোমার ক্ষতি করছি। পদ্মা ব্রীজ হচ্ছে, দেশে কর্মসংস্থান বাড়ছে, আধুনিকায়ন হচ্ছে। সুশাসন এবং আইন ব্যবস্থায় গুম, হত্যা, সংখ্যালঘু নির্যাতন হচ্ছে, কোটি কোটি টাকা লোপাট হওয়ার পরও মন্ত্রী মহোদয় সেটা হাতের ময়লার মতো উড়িয়ে দেন। প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। দলীয় এবং নিয়োগ বানিজ্যের কল্যাণে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বিশাল সংখ্যাক ডিপ্রেসড শিক্ষার্থী তৈরী করছেন। গর্ব করার জন্য বহিঃবিশ্বে তোমার বংশদ্ভূত সন্তানেরা রয়েছেন যারা নিজেদের উন্নতির স্বার্থে তোমাকে ত্যাগ করে অন্য দেশকে আপন করে নিয়েছে।

তোমার মেরুদন্ডহীন বিদ্বান সূর্য সন্তানেরা তোমার এত উন্নতি করছে সেখানে আমি তোমার কি উপকার করছি বল? তোমার টাকায় পড়ে, খেয়ে তোমার সিস্টেমের বিরোধিতা করছি, তোমার সাথে বেঈমানী করছি। দেখে নিও, আর করব না। সেদিন ভিসি স্যার এবং চেয়ারম্যান স্যারের কাছে মাফ চাইনি। আজ তোমার কাছে মাফ চাইছি। তোমার আর কোন ক্ষতি করব না। আর তোমার বিরোধিতা করব না। সোজা হওয়া এই মেরুদন্ড ভেঙ্গে নোয়াতে পারব না। সেটা আমার দাঁড়া হবে না। সেজন্য অন্য পথটা বেছে নিলাম।

ভয় পেয় না। ধর্মান্ধতায় অন্ধ, ক্ষমতাবলে ভীত, অর্থ মোহে ঘুমন্ত এই বালির নিচে মাথা ঢুকিয়ে থাকা উটপাখি সদৃশ জাতি কোনদিনও তোমার ভেঙ্গে পড়ে থাকা মেরুদন্ড সোজা করার চেষ্টা করে তোমাকে যন্ত্রণা দিবে না। আমার মতো যেসব “বেয়াদবেরা” তোমার সিস্টেম বাগের কারনে ভুল করে জন্মেছে তারাও আস্তে আস্তে তোমার সিস্টেমের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারবে। আশাকরি পৃথিবীতে তুমি তোমার উন্নতির ধারা বজায়ে রাখবে।

ভাল থেক।

ইতি
যুক্তিবাদী বেয়াদব

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের এখনই টিকা নয়: শিক্ষামন্ত্রী

banglanewspaper

১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের এখনই করোনার টিকা দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। এছাড়া করোনার কারণে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের চিন্তাভাবনা নেই বলেন জানান তিনি।

রবিবার সাভারের লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রথম বিশেষ বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। দুই মাস মেয়াদী এই কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের টিকাদান কর্মসূচিটাও খুব জোরদারভাবে চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে সেই টিকাদান কর্মসূচিতে ভাটা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমরা পর্যালোচনা করছি, পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা এখনো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের সংক্রমণের খবর পাইনি। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও এ বিষয়ে নজর রাখছে। আমরা জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগে আছি, আমরা এখনো ভাবছি না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার কথা।

দীপু মনি বলেন, সরকারি-বেসরকারি সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ভ্যাকসিন নিতে পারবে। টিকাকেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদানের চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, যতদূর সম্ভব জীবন স্বাভাবিক রেখে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই করোনা মোকাবিলা করতে হবে। সেটাই সিদ্ধান্ত। অতএব আমরা এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কথা ভাবছি না। তবে যদি তেমন বড় প্রয়োজন দেখা দেয় তখন আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

বিপিএটিসির রেক্টর রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোর্স উপদেষ্টা মহসীন আলী, প্রশিক্ষণার্থী নবীন কর্মকর্তাগণসহ বিপিএটিসির অন্যান্য কর্মকর্তারা।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
‘শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়া সরকারের অনন্য কৃতিত্ব’

banglanewspaper

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি বলেছেন, বছরের প্রথমদিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে ধরা শেখ হাসিনার সরকারের অনন্য কৃতিত্ব।

ফ্রেন্ডশিপ আয়োজিত ‘কোভিড-১৯ অতিমারীকালীন শিখন ঘাটতি; চরাঞ্চলে ফ্রেন্ডশিপ শিক্ষা কর্মসূচির অভিজ্ঞতা’শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। বুধবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিনামূল্যে সম্পূর্ণ রঙিন পাঠ্যপুস্তক বিতরণ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষাখাত বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। ১৯৭১ সাল স্বাক্ষরতার হার যেখানে ছিল ১৭.৬ শতাংশ, সেটি বর্তমানে ৭৫.৬০ শতাংশে, ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী প্রায় ২ লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনাকালীন শিখনঘাটতি দূর করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কোর্ট ইয়ার্ড সেশন, ফোনকল, এবং হোম ভিজিটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত পাঠসূচিকে অনুসরণ করে অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়েছে। সর্বোপরি শিখন ঘাটতি দূর করার জন্য ‘এক্সিলারেটেড রেমিডিয়াল লার্নিং প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিটিউটের শিক্ষক প্রফেসর আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। সেমিনারে তৃণমূল পর্যায়ের ভিডিওচিত্র ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হয়।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
টিকা ছাড়া আর যাওয়া যাবে না স্কুলে

banglanewspaper

করোনার টিকা না নেয়া শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে না যাওয়ার লিখিত নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় সব শিক্ষার্থীর টিকাদান কার্যক্রম শেষ হবে এবং এরপর থেকেই টিকা না নেওয়া শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।   

নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর টিকা গ্রহণ নিশ্চিতে শনিবার (০৮ জানুয়ারি) নির্দেশনা পাঠিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির নির্দেশনায় বলা হয়, ১২-১৮ বছর বয়সী সব শিক্ষার্থীকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেওয়ার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে গত ৩০ ডিসেম্বর বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের এ গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকার কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে নতুন করে নির্দেশনা দেওয়া হলো।   

নির্দেশনার বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের এক কোটি ১৬ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৪৬ লাখের টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ শেষ হয়েছে। আশা করছি আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে বাকিরাও নিয়ে নেবে।  

‘টিকা গ্রহণ ব্যতিত কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না’- এ নির্দেশনা কবে থেকে কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৫  জানুয়ারির পর থেকেই কার্যকর হবে।  

১২ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের টিকার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্কুলে যাওয়ার বিষয়ে কেবিনেট সেক্রেটারি নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে মাউশি মহাপরিচালক বলেন, আমরা সে অনুযায়ী কাজ করছি। ১৫ জানুয়ারির পর বিষয়টি (টিকা ছাড়া স্কুলে নয়) নিশ্চিত করা হবে।

মাউশির নির্দেশনা:

► ১২-১৮ বছর বয়সী সব শিক্ষার্থী (নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত) ভ্যাকসিন গ্রহণ করবে।

► সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানপ্রধান ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের টিকা কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষককেও টিকা কেন্দ্রে পাঠাবো হবে।

► টিকা গ্রহণ ব্যতিত কোনো শিক্ষার্থী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

► টিকা কার্যক্রম চলমান অবস্থায় সব মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চল, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না।

► জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে ভ্যাকসিনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিতে সচেষ্ট থাকবেন।  

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার সব পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সব অঞ্চলের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সব সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
 

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে আজ রোববার

banglanewspaper

দেশে আবারও করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামীকাল (রোববার) করোনাভাইরাস সংক্রান্ত জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের শনিবার সন্ধ্যায় বলেন, করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল রোববার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী। আগামীকাল রাত ১০টায় ভার্চুয়ালি এ সভা হবে। সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যায় কি না বা খোলা রাখা হলে কি পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন, সেসব বিষয়ে পরামর্শ নেওয়া হবে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে করোনার ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের বিস্তারে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে রয়েছে। ১২ বছরের উপরে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হলেও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের এর আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ঝুঁকি না নিতে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সে বিষয়ে পরামর্শ নিতে জাতীয় পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠক করবেন শিক্ষামন্ত্রী।

বৈঠকে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এর আগে রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শনিবার আমাদের মন্ত্রণালয়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ আছে। আগামীকাল রোববার কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি কমিটির সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক আছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ধারণা ছিল, মার্চে গিয়ে সংক্রমণ বাড়বে। কিন্তু এখন জানুয়ারির গোড়াতেই বাড়তে শুরু করেছে। কাজেই যে পরিকল্পনা, তাতে কিছুটা সমন্বয়ের দরকার হবে। কিন্তু আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে চাই না। বরং আমরা চাই প্রত্যেক শিক্ষার্থী যেন করোনার টিকা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসে। সেটিরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে। হয়তো একটু অসুবিধা হতে পারে। যারা ১২ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থী, তাদের জন্য। সেসব বিষয় নিয়েও আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
ঢাবি শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে আওয়ামীপন্থিদের নিরঙ্কুশ জয়

banglanewspaper

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল একটি সদস্য পদ ছাড়া বাকি সব পদে জয়ী হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল মাত্র একটি পদে জয়ী হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ২০২২ কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে এ ফলাফল ঘোষণা করেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী। তিনি জানান, শিক্ষক সমিতির ১ হাজার ৩৯৮ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৩৫১ জন এ নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন।

এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নীল দলের আইন অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. রহমত উল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ৯৪৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাদা দলের প্রাণ রসায়ন ও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। তিনি পেয়েছেন ৩৯২ ভোট। সহ-সভাপতি হিসেবে ৮২৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ পেয়েছেন ৫১২ ভোট।

৮৫০ ভোট পেয়ে কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. আকরাম হোসেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আল-আমিন পেয়েছেন ৪৩৭ ভোট। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিউটের অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া। তিনি পেয়েছেন ৯৭০ ভোট। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম পেয়েছেন ৩৮১ ভোট। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ৮২২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ড. মো. আবদুর রহিম। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. দাউদ খান পেয়েছেন ৪৬১ ভোট।

সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু জাফর মো. শফিউল আলম ভূঁইয়া, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ইসতিয়াক মঈন সৈয়দ, রোবোটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. লাফিফা জামাল, গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান (সাদা দল), তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন মুন্সী, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মঈন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফিরোজ আহমেদ।

ট্যাগ: