banglanewspaper

আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশে থাকবে তরুণদের নাম। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন এই দলে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর‌্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নিজ নিজ সংসদীয় আসনের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা অর্জনে তারা এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতার নজর এখন এলাকার দিকে।

এসব নেতা নির্বাচন সামনে রেখে অনেক দিন আগে থেকে এলাকায় যাওয়া-আসা করছেন। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের জনসংযোগ বেড়েছে। রাজধানী বা অন্যান্য শহরে বসবাসরত এসব নেতা একটু সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। তারা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিয়মিত এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতাদের অনেকে এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন। মনোনয়নের দৌড়ে পুরনো প্রার্থীদের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি আছেন ছাত্রলীগ কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাও।

মনোনয়নপ্রত্যাশী এসব আলোচিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সচিব আব্দুল মালেক (পটুয়াখালী-১), সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪) ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন (চট্টগ্রাম-১৫), কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাউসার (নরসিংদী-৫), নেত্রকোনা থেকে আাওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সিলেট থেকে মিসবাহউদ্দিন সিরাজ।

ফরিদপুর-১ আসনে সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক ‘এই সময়’ সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন। পিরোজপুর-১ আসনে আলোচিত হয়ে উঠেছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সাকিব বাদশা।

আলোচিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর), নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, হাসান আলী (সিরাজগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান স্বপন, চয়ন ইসলাম (সিরাজগঞ্জ-৫) ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন (গাইবান্ধা-৫), ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর-৪)।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জন নওগাঁয়-৫ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নড়াইল-১ আসন কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নারী সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, সাইফুজ্জামান শিখর (মাগুরা-১), শাহে আলম (বরিশাল-২), মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-১), শফি আহমেদ (নেত্রকোনা-৪), অজয় কর খোকন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আসনে আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশী।

ঢাকার আসনগুলোতে নতুনদের মধ্যে আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন পনিরুজ্জামান তরুণ (ঢাকা-১), ড. আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. আবু কাউসার, যুবলীগের ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট (ঢাকা-৮), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন (ঢাকা-১৪), যুবলীগের মঈনুল হোসেন খান নিখিল, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু (ঢাকা-১৫)।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যেকোনো একটি আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা-১৩ আসনে।

এ ছাড়া আলোচনায় আছেন শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-১), নারী সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরজাহান বেগম মুক্তা (চাঁদপুর-৫), মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), জহিরউদ্দীন মাহমুদ লিপটন (ফেনী-৩)। সাবেক ছাত্রনেতা ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান (পিরোজপুর-৩), নারী সংসদ সদস্য সেলিনা আক্তার লিটা, এমদাদুল হক (ঠাকুরগাঁও-৩), জামালপুরের ইসলামপুর থেকে নারী সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ, বিশ্বনাথ সরকার বিটু (রংপুর-২), সাফিয়া রহমান (রংপুর-৩), রাশেক রহমান, জাকির হোসেন সরকার (রংপুর-৫), কামাল আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট মমতাজ (নীলফামারী-২) মাজহারুল হক প্রধান, আনোয়ার সাদাত সম্রাট (পঞ্চগড়-১), আব্দুল মালেক চিশতি (পঞ্চগড়-২)।

মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা সবাই নিজের যোগ্যতা ও বিজয়ের ব্যাপারে আস্থাশীল। তারা বলছেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তাদের একটা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেলে তারা নিজের আসনটি দলীয় সভাপতিকে উপহার দিতে পারবেন।

নিজের মনোনয়নের প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি জনগণের কল্যাণের জন্য। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে সেই কল্যাণের ক্ষেত্র অনেক বৃদ্ধি পায়। আর সংসদীয় রাজনীতিতে একজন রাজনীতিবিদের পরিপূর্ণতা আসে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে। আমি সেই লক্ষ্যে এলাকার উন্নয়নে কাজ করছি। দলের কাছে মনোনয়নপ্রত্যাশী। আশা করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।’

মনোনয়নের জন্য দলের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রাখছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই জনগণের সঙ্গে কাজ করছি। নেত্রী আমাকে মহানগরে বড় দায়িত্ব দিয়েছেন। এখন যদি তিনি আমাকে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেন, আশা করি আমি তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারব। তবে সবকিছুই নেত্রীর ওপর নির্ভর করবে।’

তৃণমূলে গ্রহণযোগ্য, সৎ, পরীক্ষিতদের আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে- দলীয় প্রধানের এই বক্তব্য উল্লেখ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু বলেন, ‘সেই হিসাবে আমি বলতে পারি ৩২ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে আমার। দীর্ঘদিন রাজনীতি করার কারণে এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক রয়েছে। আমি একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী।’

জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, ‘আমি এলাকার উন্নয়নের কাজ করছি। নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় ভালো আমার। যদি নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আসনটি আমি তাকে উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি।’

নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘এলাকার জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে চাই সব সময়ই। দলের হয়েই জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করি। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নেব।’

আগামী নির্বাচনে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানান দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দলীয় সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ। তিনি বলেন, ‘নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে সারা দেশে আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী বাছাই করব।’

তিনি বলেন, ‘এলাকায় জনপ্রিয় নেতারাই এবার মনোনয়ন পাবেন। এ জন্য তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গ্রহণযোগ্যতাও থাকতে হবে। এর বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ তো থাকবেই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশাহ জানান, ‘স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আমি কাজ করছি। দলকে গুছিয়ে রেখে এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করছি। আগামী নির্বাচনে আমাদের নেত্রী আমার উপর আস্থা রাখবে বলেই আমি বিশ্বাস করি।’ -ঢাকাটাইমস। 

ট্যাগ:

রাজনীতি
সাংবাদিকদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ শামীম ওসমান

banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান। এজন্য তিনি সাংবাদিকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, পেশাগত কাজে নারায়ণগঞ্জে যাওয়া সাংবাদিকদের মা-বাবার জন্যও দোয়া করেন আলোচিত এই সংসদ সদস্য।

রবিবার বিকাল পৌনে চারটার দিকে হঠাৎ করে শহরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন শামীম ওসমান। তিনি গত সংসদ নির্বাচনে সিটি করপোরেশনের বাইরে এনায়েতনগর ইউনিয়নে ভোটার ছিলেন। ফলে সবার ধারণা ছিল সিটি নির্বাচনে তার ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই।

আপনি একাধিকবার আপনার ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন, কারণ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের এই রাজনীতিক বলেন, ‘এর আগে জাতীয় নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভোট দিয়েছি। এবার সিটি নির্বাচনে মনে হয়েছে আমার একটি ভোট দেওয়া দরকার, তাই আমি এখানকার ভোটার হয়েছি। অনেকেই আমার বাড়ি থেকে কাউকে প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন, এ কারণে আমি আগে থেকেই নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে নিয়েছিলাম। আমি চাইনি পলিটিক্স উত্তরাধিকারী সূত্রে হোক, পলিটিক্স যোগ্যতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘ভালো ভোট হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য কার অবদান কী, কাদের কী অবদান সেটা আসলে বিষয় না। আমি প্রথমে সাংবাদিকদের থ্যাংকস জানাবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকেও থ্যাংকস। এখানে মাত্র পাঁচ লাখ ভোটের নির্বাচন কভার করার জন্য এতসংখ্যক সংবাদকর্মীরা এসেছেন। কোথাও সমস্যা হলে দ্রুত আপনাদের টিম চলে গেছে। সাংবাদিকদের কারণে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে।’

সাংসদ বলেন, ‘সাংবাদিকরা যে পরিশ্রমটা করেছেন নারায়ণগঞ্জে সুষ্ঠু ভোটের জন্য সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। দোয়া করা ছাড়া আর কিছু আমার দেওয়ার নেই। আল্লাহ আপনাদের পিতামাতাকে হেফাজত করুন। যারা বেঁচে নেই তাদের শান্তিতে রাখুন।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
ইভিএমে কারচুপির জন্য পরাজিত হয়েছি: তৈমূর

banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, ইভিএমে কারচুপির কারণে তিনি পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া তার পক্ষের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে পরাজিত হলেও নিজেকে জনগণের ভালোবাসায় জয়ী বলে দাবি করেন।

রবিবার রাতে নিজ বাস ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তৈমূর বলেন, ‘এটা আমাদের নয়, সরকারের পরাজয়। একা খেলা দরকার ছিল, খেইলা দিছি। আমি না দাঁড়ালে নির্বাচনইতো হতো না। কোনো সমস্যা নেই, আল্লাহ ভরসা।’

ইভিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ত্রুটিপূর্ণ ও স্লো ছিল। অনেক লোক ভোট দিতে পারেনি। ইভিএমের কারচুপির জন্য আমাদের পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা নির্বাচনে আমার পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন। আমার লোকজন বাড়িতে থাকতে পারেনি। এটিএম কামালের মতো লোককে ঘেরাও করা হয়েছে গ্রেপ্তারের জন্য।’

তৈমূর বলেন, ‘ঢাকার মেহমানদের অতিরঞ্জিত কথার পরে গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির নানককে যখন জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি বলেছিলেন, ১২ ও ১৩নং ওয়ার্ড তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ১৩নং ওয়ার্ডে আমি থাকি, আমার ভাই তিনবারের কাউন্সিলর। আর ১২নং ওয়ার্ড সরকারি এমপির ওয়ার্ড। আমি বললাম সরকারই যদি তার এমপির কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তাহলে আমার কিছু করার নেই। আমার কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নেই।’

পরাজিত প্রার্থী বলেন, ‘জনগণের ভালোবাসায় আমরা জয়ী, তাদের প্রতি, মিডিয়ার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। প্রতিটি ঘটনা আমি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আমার সমন্বয়ককে কাগজসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার মাধ্যমেই শুরু হয় এবং আমার লোকজন প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হতে থাকে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা দেখবেন হেফাজতের মামলা দেওয়া হয়েছে সবাইকে। এদের মধ্যে হিন্দু লোকও আছে। এখন দেখা যায় মুসলমান তো করেই, হিন্দুরাও হেফাজত করে। আজ সকাল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বন্দরের সমন্বয়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার চিফ এজেন্টের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় একটা মানুষ স্বতন্ত্র দাঁড়িয়ে কীভাবে ঠিক থাকতে পারে। তারপরেও জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’

বিজয়ী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তৈমূর বলেন, ‘তার বিষয়ে আগেও মন্তব্য করিনি, এখনো করবো না। এটা খেলা হয়েছে সরকার বনাম জনগণ, সরকার বনাম তৈমুর আলম খন্দকার। আমি সিটি করপোরেশনের জন্য কী করেছি তা তাকে জিজ্ঞেস করেন। নারায়ণগঞ্জবাসী এগুলো জানে।’

এ সময় বিএনপির পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া এই নেতা দাবি করেন, বিএনপি আমার রক্তের সাথে মিশে গেছে।

ট্যাগ:

রাজনীতি
নারায়ণগঞ্জ সিটিসহ পরবর্তী নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ হবে: কাদের

banglanewspaper

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ পরবর্তী নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সারাদেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অত্যন্ত আনন্দমুখর এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা আশা করছি, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ পরবর্তী নির্বাচনসমূহ সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।’

নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে ওসতুমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং কমিশনের কাজে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করে না। ভোটারদের নিরাপত্তা বিধান এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এবং আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে সরকার সর্বদা কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করতে বদ্ধপরিকর। আশা করি, আগামীতে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে কমিশন এবং আইন শৃঙ্খলাবাহিনী আরও তৎপর থাকবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পরবর্তী নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলসমূহের সংলাপ চলমান রয়েছে। স্টেকহোল্ডার হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আগামী ১৭ জানুয়ারি সংলাপে অংশ নিবে। একটি অর্থবহ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শক্তিশালী কমিশন গঠনে আওয়ামী লীগের মতামত ও প্রস্তাবনা সংলাপে উপস্থাপন করা হবে। আমরা মনে করি, পারস্পরিক আলোচনা যেকোনো জটিল সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারে। সংঘাত, সহিংসতা, জনমতবিরোধী তৎপরতা গণতন্ত্রের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। অন্যদিকে আলাপ-আলোচনা, সংলাপ, পরমতসহিষ্ণুতা গণতন্ত্র বিকাশের পথকে কুসুমিত করে। যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করে না, তারা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও প্রচলিত গণতান্ত্রিক রীতি-নীতিতে শ্রদ্ধাশীল নয়; তারা সংলাপে আস্থা রাখে না। বরং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করতে চায়।’

বিএনপি নেতারা বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সমাবেশের নামে সন্ত্রাস ও সহিংসতার উস্কানি দিচ্ছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কেউ কেউ আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলছেন; ডাইরেক্ট অ্যাকশনের হুমকি দিচ্ছেন। আসলে পায়ের নিচে মাটি নেই বলে এসব তাদের নিজেদের ওপর ঝেঁকে বসা ভয় তাড়ানোর নির্জীব হুংকার। আত্মবিশ্বাস হারানো এক ক্ষয়িষ্ণু রাজনৈতিক দলের প্রলাপ ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বিএনপির উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানতে চাই, কাদের নিয়ে তারা যুদ্ধ করবেন? কেন যুদ্ধ করবেন? তাদের যুদ্ধ কী লুটপাট, দুর্নীতি আর অরাজকতা সৃষ্টির জন্য? আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগও প্রস্তুত। যারা মানুষের মৌলিক অধিকার হরণকারী, দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষক, উগ্র-সাম্প্রদায়িকতার ধারক ও বাহক হিসেবে পরিচিত এবং যারা স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা ও স্বেচ্ছাচারিতামূলক অপরাজনীতির উত্তরাধিকার তাদেরকে জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের যেকোনো ধরনের আস্ফালনকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিহত করা হবে।’

ট্যাগ:

রাজনীতি
স্ত্রীসহ বিএনপি মহাসচিব করোনায় আক্রান্ত

banglanewspaper

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার স্ত্রী রাহাত আরা। তবে শারীরিকভাবে দুজনই সুস্থ আছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তারা দুজনই বর্তমানে উত্তরার বাসায় আছেন।

জানা গেছে, সোমবার করোনার পরীক্ষার পজিটিভ রিপোর্ট পান মির্জা ফখরুলের স্ত্রী রাহাত আরা। মঙ্গলবার রিপোর্ট পেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুজনই উত্তরার বাসায় আইসোলেশনে আছেন। তারা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

করোনা সংক্রমণের প্রায় দুই বছরে বিএনপির অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসুর মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

এছাড়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে দলের ভাইস চেয়ারম্য্যান কামাল ইবনে ইউসুফ, কেন্দ্রীয় নেতা খুররম খান চৌধুরী, খন্দকার আহাদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল খান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানসহ বেশ কয়েকজন নেতা মারা গেছেন।

ট্যাগ:

রাজনীতি
আর যাই বলুন গডমাদার বলবেন না: শামীম ওসমান

banglanewspaper

সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে গডফাদার আখ্যা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটির নৌকার মেয়রপ্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা নিয়ে মুখ খুললেন শামীম ওসমান। আলোচিত এই সংসদ সদস্য অনুরোধ করেছেন, ‘আর যাই বলা হোক, তাকে যেন ‘গডমাদার’ না বলা হয়।

সোমবার দুপুরে নানা ইস্যু নিয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে প্রচারণার সময় শামীম ওসমান এবং তার ভাই জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানকে নিয়ে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি শামীম ওসমানকে গডফাদার বলে মন্তব্য করেন।

আইভীর এমন বক্তব্য নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গণে বেশ উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরু থেকে চুপ থাকলেও আইভীর মন্তব্যের পর কথা বলেন শামীম ওসমান। নারায়ণগঞ্জের আলোচিত এই সংসদ সদস্য গতকাল বলেছিলেন তার বিরুদ্ধে আইভীর এমন বক্তব্য দেওয়াসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে সোমবার সংবাদ সম্মেলনে করবেন তিনি।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল- সেলিনা হায়াৎ আইভী আপনাকে গডফাদার বলে বক্তব্য দিয়েছেন। জবাবে শামীম ওসমান বলেন, ‘একই লোক আমাকে একদিন বললেন গডফাদার। একদিন আগে বললেন ব্রাদার। তারও একদিন আগে বললেন ভাই। এখন কেউ যদি কিছু বলে শান্তি পায় তাতে আমার সমস্যা নেই। কিন্তু দয়া করে গডমাদার বলবেন না।’

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এই সাংসদ বলেন, ‘আমরা রাজনীতি করি অন্তর দিয়ে, আবেগ দিয়ে। কে কী বললো আমি কেয়ার করি না। কেউ কিছু বলে শান্তি পেলে বলুক, বলতে দেন। আমি নীলকণ্ঠের মতো, সব হজম করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এত সমালোচনা সহ্য করে, বিষ হজম করে যদি রাজনীতি করতে পারেন আমরা কেন পারবো না।’

শামীম ওসমান ও নাসিম ওসমানের প্রার্থী তৈমূর নৌকার প্রার্থী আইভীর এমন বক্তব্যের জবাবে শামীম ওসমান বলেন, আসলে নির্বাচন করতে গেলে অনেক সময় স্ক্রু ঢিলা হয়।

ট্যাগ: