banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশের দুটি গণমাধ্যমের করা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাকিং নিয়ে এবার সরাসরি গণমাধ্যমে খোলা মেলা কথা বললেন ইউজিসি চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। বৃহস্পতিবার ওই দুটি গণমাধ্যমের স্টুডিওতে এসে সরাসরি তিনি কথা বলেন।

এসময় ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাম্প্রতিক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে করা র‌্যাংকিংয়ে কিছু ভুলভ্রান্তি আছে।’ তবে র‌্যাংকিং অবশ্যই ইতিবাচক। ভূল ত্রুটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে যত গবেষণা হয়েছে, তার কোনোটিই শতভাগ বস্তুনিষ্ট হয়নি। এটাই সত্য।’

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, এই র‌্যাংকিংয়ের একটি বড় দুর্বলতা হলো, ২০১৪ সালের ডেটা ব্যবহার করে ২০১৭ সালে র‌্যাংকিং করা হয়েছে।

এসময় তিনি আরো বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং করা কাজ না। ইউজিসির কাজ উচ্চ শিক্ষার কোয়ালিটি প্রতিষ্ঠিত করা। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এটা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের কোথাও ইউজিসি র‌্যাংকিং করে না। তবে যে কেউ চাইলেই এই র‌্যাংকিং করতে পারে। পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রাইভেট কোম্পানি র‌্যাংকিং করে থাকে।’

প্রসঙ্গত, দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে করা র‌্যাংকিং নিয়ে বিতর্ক চলছে। ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত, গবেষণা প্রকল্প ও অভ্যন্তরীণ কয়েকটি তথ্যে ভর করে দুটি গণমাধ্যমের করা র‌্যাংকিং নিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। ভর্তি মৌসুমে প্রকাশিত এ ধরনের র‌্যাংকিংকে ‘দুরভিসন্ধি’ হিসেবে দেখছেন তারা।

২০১৪ সালের তথ্য দিয়ে ২০১৭ সালের র‌্যাংকিং কতটা গ্রহণযোগ্য? এটিকে অনেক বিশ্ববিদ্যাল বেখাপ্পা বলেছে। র‌্যাংকিং পদ্ধতি, বিবেচ্য বিষয়াদি, গাণিতিক ফলাফলসহ তথ্য-উপাত্ত সবই অস্পষ্ট ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ। বিচারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষতা ও বিচারিক গুণ নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো।

এদিকে এই বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদ সম্মেলন ও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় বসে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি) মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমে বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কে ঢেলে সাজানোর কথা। এমনকি ইউজিসিতে দক্ষ কর্মকর্তার অভাব এবং পিএইচডি ডিগ্রি ব্যাতিত ইউজিসি চেয়ারম্যান বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিয়োগ নিয়েও সরকারের কাছে যাবেন বলে জানিয়েছিল।

এছাড়া র‌্যাংকিং করার আগে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির কারও সাথে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও দাবি তোলে সংগঠনটি।

এদিকে প্রথম দিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান র‌্যাংকিং বিষয়ে এক পাক্ষিক বক্তব্য দিলেও সেটা থেকে সরে এসেছেন বলে মনে করেন এপিইউবি’র সদস্যরা। তারা বলছে ইউজিসির চেয়ারম্যান ভালো মন্দ হিসাব না করেই গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। যা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য খুবই বিব্রতকর।

ট্যাগ: Banglanewspaper বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং ভুলভ্রান্তি আছে ইউজিসি চেয়ারম্যান