banglanewspaper

ওমর ফারুক, বান্দরবান: “শান্তি চুক্তির সকলধারা সরকার বাস্তবায়ন করবে। পাহাড়ের কান্না শেখ হাসিনা শুনতে পেরেছিলেন বলেই পার্বত্য শান্তিচুক্তি করা হয়েছিল। সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে”।

আজ (২১ডিসেম্বর) ১৪০তম রাজপূণ্যাহ্ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আমূল উন্নয়ন হয়েছে। যা কোন সরকার করে দেখাতে পারেনি’।

এদিকে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসে প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় উপলক্ষে এ উৎসব ও মেলার আয়োজন করে থাকে বোমাং রাজা। এবার বোমাং সার্কেলের ১১৭তম রাজা ইঞ্জিনিয়ার উ চ প্রু প্রজাদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করবেন। মেলায় রাজার অর্ন্তগত ১১৪মৌজার হেডম্যান ও কার্বারীরা রাজাকে খাজনা প্রদান করে থাকে। এর মধ্যে আরো রয়েছে নতুন জুমের ফসল, গৃহপালিত হাঁস-মুরগী, নিজেদের বানানো ঐতিহ্যবাহী বিশেষ পানীয়, টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিষপত্র। আর রাজা দুরদুরান্ত থেকে আগত এসব প্রজাদের মনোরঞ্জনের জন্য মেলার আয়োজন করে থাকে।

এ উপলক্ষে বান্দরবান রাজার মাঠে তিনদিন ব্যাপী মেলাও বসেছে এবার। এতে থাকবে নাগরদোলা, পুতুল নাচ, সার্কাস, মৃত্যুকুপ বিচিত্রানুষ্ঠানসহ হরেক রকমের পসরা সাজিয়ে বসবে দোকানীরা। ঐতিহ্যবাহী এ মেলা দেখতে প্রতিবছর বান্দরবানে ভীড়জমে প্রচুর দেশী বিদেশী পর্যটকের। রাজবাড়ী সূত্রে জানা যায়, ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকায় বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটি রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল গঠিত। প্রায় ২০০ বছর আগে রাজা সাইক্নো এর আমল থেকে রাজপূণ্যাহ মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

খাজনা আদায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পকিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ড. আবদুর রাজ্জাক এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশেসিং এম.পি, ২৪পদাতিক ডিভিশনের জিওসি জাহাংগীর কবির তালুকদার পিএসসি, বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেড জুবায়ের সালেহীন পিএসসি, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যা শৈ হ্লা, জেলা ও দায়রা জজ লা মং, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক ও পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ।

ট্যাগ: Banglanewspaper বান্দরবান রাজপূণ্যাহ শুরু পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন সেতুমন্ত্রী