banglanewspaper

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল এলাকায় অবস্থিত রুবা ক্লিনিকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় আয়েশা বেগম (২৭) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে রোগীর স্বজনরা।

রোগীর স্বজন বাবু জানান, ফুফাতো বোন শার্শা উপজেলার সামটা গ্রামের আলমগীর ড্রাইভারের স্ত্রী আয়শা বেগমের মঙ্গলবার ভোরে প্রসব বেদনা উঠলে স্বজনরা বাগআঁচড়া সাতমাইল এলাকায় ডাক্তার আহসান হাবীব রানা ও তার স্ত্রী ডাক্তার জেরিন আফরোজ নিপুর মালিকানাধীন রুবা ক্লিনিকে ভর্তি করে।

দিনভর ডাক্তারদ্বয় ভুল চিকিৎসা দেওয়ার এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টায় রোগী  মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। স্বজনরা কিছু বুঝে উঠার আগেই ডাক্তাররা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তড়িঘড়ি করে রোগীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু ততক্ষণে রোগী মারা গেছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, পূর্বে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন বিয়ে রেজিষ্টার হাফিজুর রহমানের স্ত্রী সন্তান প্রসব করার জন্য এই ক্লিনিকের শরনণাপন্ন হলেও ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসায় মারা যান। ডাক্তারে ভুল চিকিৎসায় একের পর এক রোগীর মৃত্যু হলেও দাম্ভিকতার সহিত চালিয়ে যাচ্ছেন এই চিকিৎসা। সেবার নামে চলছে গলাকাটা বাণিজ্য।

সুচিকিৎসা দেওয়ার নাম করে অবৈধভাবে গড়ে উঠা এ ক্লিনিক খুলে বসে এলাকার সহজ সরল নিরীহ রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ আছে এই হাসপাতালটি চলছে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের মোটা অংকের মাসোহারা দিয়ে। ফলে সাধারণ মানুষ টাকা খরচ করেও উপযুক্ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত ও স্বীকার হচ্ছেন ভুল চিকিৎসার।

বাংলাদেশ সরকারের দি মেডিকেল প্রাকটিস এন্ড প্রাইভেট ক্লিনিক ল্যাবরেটরীজ রেজুলেশন অডিন্যান্স ১৯৮২ মোতাবেক বেসরকারী ক্লিনিকে যে সব জনবল, চিকিৎসা যন্ত্রাংশ এবং পরিবেশ বজায় থাকার কথা এ ক্লিনিকে তার লেশ মাত্র নেই। দশ বেডের জন্য অনুমতি থাকলেও এ ক্লিনিকে রয়েছে ৪০টি বেড। যা আইনত দন্ডনীয়।

এ ক্লিনিকে মারাত্মক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর অস্বাস্থ্যকর অবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। এখানে নেই কোন সিনিয়র স্টাফ নার্স। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে পেটে ভাতে মেয়েদের দিয়ে চলে সিনিয়র স্টাফ নার্সের কাজ। এই ক্লিনিকে অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা আরও শোচনীয়।

অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও আলোর ব্যবস্থা নেই। অথচ এখানে চলছে বড় বড় সব অপারেশন। ফলে রোগী ক্লিনিক ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় ভুগে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। এসব অব্যবস্থা অনিয়ম অস্বাস্থ্যকর ভুল ও অপচিকিৎসার বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ মোটা অংকের টাকা পেয়ে দেখেও না দেখার ভান করে নিশ্চুপ রয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। 

এ ব্যাপারে ডাক্তার আহসান হাবীব রানা বলেন, আমি সাময়িক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছি। আমার ক্লিনিকে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি। এলাকার একটি কুচক্রী মহল আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে।

এ ব্যাপারে বাগআঁচড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত)  হুমায়ন কবীর জানান, লোকমুখে বিষয়টি শুনেছি। কেউ কোন অভিযোগ দিলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ট্যাগ: Banglanewspaper শার্শা ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা প্রসূতির মৃত্যু

খুলনা
পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে যোগ দিতে সাইকেলে রওনা দিলেন 'স্বপ্নবাজ মোকসেদ'

banglanewspaper

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল পৌরসভার পোড়াবাড়ি গ্রাম থেকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু স্বচক্ষে দেখতে বাইসাইকেল চালিয়ে রওনা দিয়েছেন স্বপ্নবাজ মোকসেদ আলী (৫০)।

মোকসেদ আলী নামের এই স্বপ্নবাজ পোড়াবাড়ি গ্রামের মৃত পাতলাই সরদারের ছেলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙালির স্বপ্ন ও আবেগের এই পদ্মা সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শামিল হয়ে তিনি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকতে চান। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে বিশ্বের বুকে আরও একবার মাথা উঁচু করে দেওয়া দৃশ্যমান এই পদ্মা সেতু ছুঁয়ে দেখতে নিজের ব্যবহারের পুরাতন বাইসাইকেল নিয়ে তিনি রওনা হয়েছেন।

জানা যায়, ২০ জুন সোমবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে ফজরের নামাজ শেষ করে যাত্রা করেন মোকসেদ। তিনি বাই-সাইকেলযোগে ইতোমধ্যেই পদ্মা সেতুর খুব কাছেই অবস্থান করছে বলে তার পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বেনাপোলের সুশীল নাগরিক মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফারুক হোসেন উজ্জ্বল বলেন, এই সেতু শুধু বেনাপোলবাসীর নয় সমস্ত বাঙালি ও বাংলার অদম্য স্বপ্ন। ‘পদ্মা বহুমুখী সেতু’ উদ্বোধন কোটি হৃদয়ের আশা আকাঙ্ক্ষার বাস্তব প্রতিফলন। এই সেতু উদ্বোধনের প্রতীক্ষায় এমন কোটি কোটি মোকসেদ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমি বেনাপোলবাসীর পক্ষ থেকে তার সুস্থতা কামনা করছি এবং তিনি তার স্বপ্ন পূরণ করে সহি-সালামতে ফিরে আসুক সেই কামনা করি।

(২২ জুন) বুধবার সকালে মোকসেদ আলী মুঠোফোনে জানান, আমি স্বপ্নের পদ্মা সেতু থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে আছি। তার পুরাতন সাইকেল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার সাইকেল পুরানো হলে কী হবে খুব চলে। পদ্মা সেতু সম্পর্কে কিছু বলতে বললে তিনি বলেন, আমার বহু দিনের স্বপ্ন আমি সামনে দাঁড়িয়ে স্বচক্ষে আমার নিজের টাকায় বানানো পদ্মা সেতু দেখব।

প্রধানমন্ত্রীকে কিছু বলতে চান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি অশিক্ষিত মানুষ তেমন কথা বলতে পারি না, আমি শুধু দোয়া করি তিনি যেন আরও অনেক দিন বেঁচে থাকেন’।

ট্যাগ:

খুলনা
কুষ্টিয়ায় আরও ১৭ মৃত্যু

banglanewspaper

কুষ্টিয়া করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন করোনা পজিটিভ ছিল এবং ৬ জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মেজবাউল আলম।

তিনি জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ১৭৯ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী এবং ৫৭ জনের উপসর্গসহ মোট ২৩৬ জন ভর্তি রয়েছে।

এদিকে পিসিআর ল্যাব এবং জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ।

ট্যাগ:

খুলনা
বিধিনিষেধের মধ্যে ইজিবাইকে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৬

banglanewspaper

সারা দেশে শুরু হওয়া ১৪ দিনের কঠোরতম বিধিনিষেধের মধ্যেই বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৬ যাত্রী নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও একজন। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে বৈলতলী প্রাইমারি স্কুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফকিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল আনাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ওসি জানান, পণ্যবোঝাই একটি পিকআপ মোংলার দিকে যাচ্ছিল। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইককে চাপা দেয় পিকআপটি। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ইজিবাইকের ৬ যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। 

এ ব্যাপারে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক গোলাম সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৬ জনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে একজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে এলাকাবাসী।

ট্যাগ:

খুলনা
কুষ্টিয়ায় ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করলেন হানিফ

banglanewspaper

করোনা মহামারি পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করে দিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ।

জানা যায়, গত ৬ ও ৭ মে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় প্রায় এক কোটি টাকা বাজেটে কুষ্টিয়া মহিনি মিল মাঠ ও শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে ১১ হাজার অসহায় কর্মহীন মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ। খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে এক কোটি টাকার পুরোটা খরচ হয়নি। এখান থেকে উদ্বৃত্ত টাকা দিয়েই মূলত ১০০টি অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করেন আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।


কুষ্টিয়ায় করোনা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীর ব্যবস্থা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেন মাহবুবউল আলম হানিফ।

এদিকে কুষ্টিয়ায় করোনা পরিস্থিতি খুবই নাজুক। পরিস্থিতি বিবেচনায় কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে পু‌রো জেলায়। প্রতিদিন সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান এই করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করতে কুষ্টিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এই অবস্থায় সাংসদ মাহবুবউল আলম হানিফের উদ্যোগে সরবরাহকৃত অক্সিজেন সিলিন্ডার অনেক উপকারে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগ:

খুলনা
লকডাউনের চতুর্থ দিনে খুলনায় ৬০ মামলা

banglanewspaper

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিতকরণে খুলনা নগরীতেও প্রশাসন রয়েছে কঠোর অবস্থানে। 

সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৭ এপ্রিল) লকডাউনের চতুর্থ দিনেও কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। এদিন খুলনা জেলাজুড়ে অভিযান পরিচালনা করে ৬০টি মামলায় ৩৮ হাজার সাতশো টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের সূত্রে জানা যায়, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের নির্দেশে এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইউসুপ আলীর তত্ত্বাবধানে এদিন সমগ্র খুলনা জেলায় কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়।

খুলনা মহানগরে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে দিনব্যাপী মোট ছয়টি টিম অভিযান পরিচালনা করে ৪৪ মামলায় ২৬ হাজার চারশো টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া বটিয়াঘাটা, দাকোপ, পাইকগাছা ও দিঘলিয়া উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেন স্ব-স্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনাররা (ভূমি)। এসব অভিযানে উপজেলায় মোট ১৬ মামলায় ১২ হাজার তিনশো টাকা জরিমানা করা হয়। ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ এবং ‘দণ্ডবিধি, ১৮৬০’ এর সংশ্লিষ্ট ধারার বিধান মোতাবেক অর্থদণ্ড প্রদান করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করেন পুলিশ, আনসার, এপিবিএন ও র‍্যাবের সদস্যরা। করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ: