banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (ময়মনসিংহ): প্রচারনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন নেত্রকোণা-৩ ( কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ও ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান মানিক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতিকের আশায় কেন্দ্রে লভিং ছাড়াও এলাকায় গণসংযোগ, পথ সভা, শোডাউন, নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময়সহ সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে চলেছেন তিনি। প্রচারনায় ক্ষেত্রে এবার নৌকায় পাল উড়িয়ে কেন্দুয়া-আটপাড়া বাসীকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্যালেন্ডার ঘরে ঘরে পৌছে দেওয়া হচ্ছে।  যোগ করেছেন পরিবর্তন ও উন্নয়নের আশায় সাধারণ ভোটাররাও তাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, বিগত সময়ে যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে কেন্দুয়া-আটপাড়াবাসী। তাই বর্তমান সময়ে নতুন নেতৃত্ব আসলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড এই আসনে সঠিক ভাবে বাস্তবায়িত হবে। আওয়ামীলীগ রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন বলে উল্লেখ করে ৭৫’র ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারে হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারীদের অগ্রনায়ক মানিক বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনে যোগ্য ব্যাক্তিকে মনোনয়ন দিবে। দলের জন্য আমার অনেক ত্যাগ রয়েছে। তাই আশা করছি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ বিবেচনায় আমাকে মূল্যায়ন করবেন। 

সাবেক চলচিত্র প্রযোজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মানিক আরো বলেন,আমি মনোনয়ন পেলে ব্যাপক ভোটে বিজয়ী হব। এবং সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমি আমার সর্বাত্মক দিয়ে সাধারন মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাব।
তিনি আরো বলেন যদি আমি কোন কারণে মনোনয়ন না পাই তাহলে দল যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার হয়ে কাজ করব।

এ দিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সাধারন ভোটাররা জানান,কেন্দুয়া-আটপাড়া রাজনীতির ময়দানে অল্প সময়ে এলাকার মানুষকে তিনি কাছে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটাররা তাকে আপন ভাবতে শুরু করেছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে যে কয়েকজন এগিয়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন মানিক। দলীয় নেতাকর্মীরা তার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষও তাকে ব্যাপক সাড়া দিচ্ছেন। এই যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিলে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বলে দাবী করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে তারা প্রত্যাশা করেন, যোগ্য ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক দেওয়ার জন্য।

১৯৫৫ সালে ১২ জানুয়ারী বাবা-মায়ের কোল আলোকিত করে কেন্দুয়া উপজেলার দলপা ইউনিয়নের কুনিহাটি গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন জাতির শ্রেষ্ট সন্তান সাইদুর রহমান মানিক।

কুনিহাটির পাশের গ্রাম বর্তমানে নেত্রকোনার সদর উপজেলার চন্দনকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা জীবন শুরু হয় তাঁর।
বেখৈরহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পঞ্চম ও বেখৈরহাটি এনকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬ষ্ট শ্রেণি পাশ করে তিনি নেত্রকোণা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ৮ম শ্রেনি পাশ করেন।

পরে কিশোরগঞ্জের আজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে ১৯৭০ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭২ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজ হতে এইচএসসি এবং ১৯৭৬ সালে বিএ পাশ করেন। ১৯৭৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে (ল) এলএলবি ও ১৯৮০ সালে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস ডিগ্রী লাভ করেন।

কিশোরগঞ্জের আজিমউদ্দিন স্কুলে অধ্যায়নকালে স্বাধীকার আন্দোলনের ঐতিহাসিক ঘটনা ৬৯’র গণউভে¦াস্থান সক্রিয় অংশ গ্রহণের মধ্যদিয়ে ছাত্ররাজনীতি জড়িয়ে পড়েন সাইদুর রহমান মানিক। 

দেশ স্বাধীনতা আন্দোলনে গেরীলা প্রশিক্ষণ নিয়ে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি পড়াশোনা মনোযোগী হন। গুরুদয়াল কলেজে স্নাতক শ্রেনিতে অধ্যায়ন কালে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুসহ সপরিবারে হত্যার সংবাদ পেয়ে এডভোকেট গোলাম হায়দার চৌধুরীর নেত্বত্বে তারা ২০ জন বন্ধু মিলে সকাল ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরে প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। ইতিহাসে এটাই হল বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সপরিবারে হত্যার প্রথম প্রতিবাদ মিছিল। মিছিল নিয়ে কিছু দুর এগোতেই পুলিশ তাদের চত্রভঙ্গ করে দেয়। তাদের বিরুদ্ধে জারী হয় হুলিয়া। যার ফলে এবছর তার ফাইনাল পরীক্ষা দেয়া হলো। 

অনেক দিন তাদের থাকতে হয় আত্মগোপনে ও পরের বছর ১৯৭৬ সালে চদ্দ্রবেশে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিএ (স্নাতক) ডিগ্রী অর্জন করেন। এ অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনবিভাগে ভর্তি হন। সফলতা সাথে এলএলবি পাশ করে জগনাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। এদিকে ১৯৭৮ সালে উত্তরা ব্যাংকে তিনি কর্মে যোগদেন। চাকুরী ইস্তফা দিয়ে ১৯৮০ সালে আইনপেশার পাশাপাশি চলচিত্রে যোগদেন। তার প্রযোজনা ৩৪টি পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা ছায়াছবি নির্মিত হয়েছে এবং পরান পাখি নামে সিনেমার তিনি একাই পরিচালনা ও প্রযোজনা করেন।

তিনি ২০১২-১৩ মেয়াদে চলচিত্র প্রযোজনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ঢাকাস্থ কেন্দুয়া সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক,ঢাকাস্থ নেত্রকোণা সমিতির সাধারণ সম্পাদক,ময়মনসিংহ বিভাগ বাস্তবায়ন কমিটির কোষাদক্ষ ও ঢাকা বারে ২০১৬-১৭ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন এবং দ্বায়িত্ব পালনে ব্যাপক সুনাম কুঁড়িয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের এই সিনিয়র আইনজীবি বর্তমানে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু কেন্দ্রীয় আইনজীবি পরিষদের আহবায়ক কমিটির সদস্য,বৃহত্তর ময়মনসিংহ আইনজীবি পরিষদের সভাপতি ও ময়মনসিংহ সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি দেশের নামকরা বিভিন্ন সংগঠন ও  প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন।

 

 

ট্যাগ: Banglanewspaper নেত্রকোণা আসন সাইদুর রহমান

ময়মনসিংহ
সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর রস

banglanewspaper

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে শীতের সকালে গ্রামে-গ্রামে এমন কি ছোট-বড় বাজারগুলোতে গাছিরা মাটির কলসি ভারে করে খেজুরের রস বিক্রি করতো। সময়ের বিবর্তনে সে চিত্র পাল্টে আজ তা হারিয়ে যেতে বসেছে। এক সময় গ্রামে-গঞ্জের রাস্তাগুলোতে অনেক খেজুর গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে উপজেলার  প্রায় রাস্তাগুলো খেজুর গাছশূন্য। ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার ঐতিহ্য সু-স্বাদু খেজুর রস। 

শীতকালে খেজুর রসের তৈরি নানা প্রকার পিঠা-পায়েস ছিল হালুয়াঘাটের মানুষের নবান্নের সেরা উপহার। খেজুর রস থেকে তৈরি খেজুরের গুড় দিয়ে ভাপা পিঠা খাওয়ার মজা-ই ছিলো অন্যরকম। এখন খেজুর রস না পাওয়ায় সেই চিরন্তন আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ। শীতকালে খেজুরের রস থেকে তৈরি ঝুলা গুর ও পাটি খেজুরের গুর পাওয়া গেলেও তা স্বাদে-গন্ধে আর আগের মতো নয়। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা এতে বিভিন্ন উপকরণের মিশ্রণে এটি যে কত নম্বর করে ফেলেছে তা আর পরখ করার উপায় নেই। 

জুগলী ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের গাছি  করিম মিয়া বলেন, "গ্রামে এখন খেজুর গাছ নেই বললেই চলে। পুরো গ্রামে যে কয়েকটি গাছ আছে, পরিচর্যার অভাবে সেগুলোতেও ভালো রস আরহণ করতে পারছি না।"

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হালুয়াঘাট উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, খেজুরের রস ও গুড়ের চাহিদা থাকলেও দিনকে দিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে। সরকারী পৃষ্ঠ পোষকতায় যেভাবে তাল গাছ লাগানো হচ্ছে আশা করি সেভাবেই যদি খেজুর গাছ লাগানো হতো তাহলে ভোক্তার চাহিদা পরিপূর্ণ হতো বলে আমি মনে করি।
 

ট্যাগ:

ময়মনসিংহ
রাতে জামালপুরগামী কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি, নিহত ২ যাত্রী

banglanewspaper

ঢাকা থেকে জামালপুরগামী একটি কমিউটার ট্রেনে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দলের আক্রমণে নিহত হয়েছেন দুই রেলযাত্রী। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও একজন।

বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা পার হওয়ার পর ডাকাত দলের কবলে পড়ে।

ডাকাতের হামলায় মারা যাওয়া দু’জন যাত্রীর মধ্যে একজন হলেন- জামালপুর শহরের ইকবালপুর এলাকার মো. ওয়াহিদের ছেলে মো. নাহিদ (৪০) এবং মৃত অপরজন অজ্ঞাত (৪০) পরিচয়ের পুরুষ ব্যক্তি। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রুবেল (২২) নামের অপর এক যাত্রী। তিনি জেলার ইসলামপুর উপজেলার মাঝপাড়া গ্রামের হীরু মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ট্রেনযাত্রীদের বরাতে রেলওয়ে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে তারা ঢাকা থেকে কমিউটার ট্রেন জামালপুরে যাচ্ছিল। ট্রেনটি ময়মনসিংহের গফরগাঁও রেলস্টেশন ছাড়ার পর ট্রেনের ছাদের যাত্রীদের অনেকেই ডাকাতদলের কবলে পড়েন। ৪/৫ জনের ডাকাতদলটি অনেক যাত্রীর কাছ থেকে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনসেট লুট করে ট্রেনের ইঞ্জিনের দিকে চলে যায়। এরপর ট্রেনটি রাত আনুমানিক পৌনে ৯টার পর ময়মনসিংহ রেলস্টেশন ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই যাত্রী ফারুক ও নাহিদসহ বেশ কয়েকজন ট্রেনের ছাদে ডাকাতদের খুঁজতে যান। তারা ডাকাতদের চিনতে পেরে কিছু বলার আগেই ডাকাতরা তাদের ওপর হামলা করে। ডাকাতরা নাহিদ ও অপর একজনকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে রুবেল মিয়াকেও ছুরিকাঘাত করে মারাত্মক আহত করে। এতে ওই তিন যাত্রী গুরুতর আহত অবস্থায় ট্রেনের ছাদেই পড়ে থাকেন।

রাত ১০টার দিকে ট্রেনটি জামালপুর রেলস্টেশনে পৌঁছলে গুরুতর আহত তিন যাত্রীকে ছাদ থেকে নামিয়ে জামালপুর সদর হাসপাতালে নেয় রেলওয়ে থানা পুলিশ। তাদের মধ্যে নাহিদ ও অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার মো. জাকিউল আলম খান। গুরুতর আহত রুবেল জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  

রেল পুলিশের জামালপুর থানার (জিআরপি) এসআই সোহেল রানা বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে জামালপুর সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মৃত দুই ব্যক্তির মরদেহ জামালপুর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

ময়মনসিংহ
গফরগাঁওয়ে মুখে বিষ ঢেলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

banglanewspaper

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য মারধর করে মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক রয়েছেন।

নিহত গৃহবধূর নাম দিলরুবা খাতুন (৩০)। তিনি উপজেলার সালটিয়া ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে।

জানা যায়, গত দশ মাস আগে উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের খারুয়া বড়াইল গ্রামের মোনায়েম মাস্টারের ছেলে মনিরুজ্জামান খাঁন মানিকের সঙ্গে পারিবারিকভাবে দিলরুবার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে দিলরুবার ওপর নির্যাতন করে আসছিল তার স্বামী মানিক। বিয়ের কিছুদিন পর দিলরুবা তার বাবার কাছ থেকে এক লাখ এনে দিলেও স্বামী মানিক আরও দুই লাখ টাকা দাবি করে আসছিল।

নিহত দিলরুবার পরিবারের দাবি, গত ৩০ জুন (বুধবার) মানিক যৌতুকের জন্য স্ত্রীর মুখে বিষ ঢেলে হত্যার চেষ্টা করে। পরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মুমুর্ষূ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে দিলরুবা মারা যান।

গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অনুকূল সরকার জানান, এ ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ট্যাগ:

ময়মনসিংহ
মাদ্রাসাশিক্ষকের কাছে কাবিননামা চেয়ে পোশাকশ্রমিকের অনশন

banglanewspaper

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিয়ের কাবিননামার দাবিতে মাদ্রাসাশিক্ষকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেছেন পোশাকশ্রমিক এক প্রেমিকা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামে। অনশনকারী ওই নারীর বাড়ি দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের কোরাজ মিয়ার কন্যা। কামরুন্নাহার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকার রোয়া ফ্যাশনের একজন পোশাকশ্রমিক।

অন্যদিকে অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের নাম রফিকুল ইসলাম। তিনি চকপাড়া গ্রামের আকাবর আলীর ছেলে। রফিকুল স্থানীয় পানবর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও দুই সন্তানের জনক।

এ ঘটনার পর থেকে রফিকুল ইসলাম গা-ঢাকা দিয়েছেন।

এর প্রতিকার চেয়ে কামরুন্নাহার ইতোমধ্যে ইউএনও এবং থানা পুলিশে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মঙ্গলবার বিকালে কামরুন্নাহার বলেন, তার সাথে শিক্ষক রফিকুল ইসলামের ছোট বোন আলেয়া (২৭) পোশাক কারখানায় চাকরি করত। সে সুবাদে রফিকুল ইসলাম তার বোনের কাছে গাজীপুরে মাঝে-মধ্যে বেড়াতে আসত। এক পর্যায়ে রফিকুলের সাথে তার মন দেয়া-নেয়া শুরু হয়। এ সম্পর্ক চলে প্রায় ৭ বছর। এই সময়ের মধ্যে রফিকুল তাকে জানায়নি সে বিবাহিত। প্রেম চলার সময়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে রফিকুলকে বিয়ে করার জন্য বললে সে এক মৌলভী দিয়ে বিয়ে পড়ান, কিন্তু ওই সময়ে কাবিননামা সম্পন্ন হয়নি। গত ১৭ মে কাবিননামা করে দিতে বললে জেলার শ্রীবরদী উপজেলার কুরুয়া বাজারের মন্টু নামে এক কাজীর মাধ্যমে একটি কাবিননামা তৈরি করা হয়। এ সময় ওই কাজীর কাছে কাবিননামার নকল চাইলে সে আগামী ৮ দিন পর তা দেয়া হবে বলে জানায়। নির্দিষ্ট সময় পর কাবিনের নকল আনতে ওই এলাকায় গেলে ওই কাজীর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। পরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ৭ জুন ঝিনাইগাতীর ইউএনও এবং থানা পুলিশে লিখিত অভিযোগ করা হয়। এছাড়া কাবিননামার দাবিতে অনশন শুরু করি।

রফিকুল ইসলামের ছোট বোন আলেয়া জানান, কামরুন্নাহার ঝিনাইগাতীতে তার ভাইয়ের গ্রামের বাড়িতেও বেড়াতে আসত। বিয়ের কাবিন না হলেও সংসার করেন তারা। এক পর্যায়ে কামরুন্নাহার বিয়ের কাবিনের জন্য চাপ দিলে রফিকুল নানাভাবে টালবাহানা শুরু করেন। উপায়ান্ত না পেয়ে কামরুন্নাহার অনশন শুরু করেন। এ ঘটনার পর থেকে তার ভাই গা-ঢাকা দিয়েছেন।

এক প্রশ্নের জাবাবে আলেয়া বলেন, আমার বান্ধবীকে বিয়ে করবে বলে ভাই রফিকুল স্ত্রী ও সন্তানদের কথা কামরুন্নাহারকে না জানাতে অনুরোধ করেন। তার স্ত্রী ঝিনাইগাতী শহরে থাকে আর গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবাকে দেখার মতো কেউ নেই। এ কারণে বাড়িতে একজন কাজের লোকের দরকার। তাই কামরুন্নাহারকে সে বিয়ে করতে চেয়েছিল।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মনিনুর রহমান উকিল অনশনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে মাদ্রাসাশিক্ষক রফিকুল ইসলাম ইসলাম এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন।

থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ ফায়েজুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলেন, ঘটনাস্থল যেহেতু গাজীপুর- তাই মামলা সেখানেই হওয়ার কথা। তারপরও এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

ট্যাগ:

ময়মনসিংহ
করোনায় গরিব-দুস্থ'র পাশে 'কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশন'

banglanewspaper

মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি: প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এমন সংকট মুহুর্তে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছে কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশন।

গত শনিবার থেকে উপজেলার গৃহবন্দি ও কর্মহীন ভিক্ষুক,দিনমজুর, হতদরিদ্র ও তৃতীয় লিঙ্গ মানুষজনের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে আসছেন। কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া এলাকায় কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশনের কার্যালয় প্রাঙ্গণে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে গরীব,দুস্থ ও তৃতীয় লিঙ্গ মানুষজনের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কল্যাণী হাসান।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ কর্মহীন মানুষের মূখে খাবার তুলে দেয়ার প্রচেষ্টা থেকেই খাদ্যসামগ্রী হিসেবে চাল,ডাল ও আলুসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করছে বলে জানা গেছে। তাছাড়া তাদেরকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা উপকরণ হিসেবে মাক্স ও সাবান দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়ার পর পরই কল্যাণী তার ফেইসবুক ওয়ালে স্বোচ্ছার হতে দেখা যায়। তার ফাউন্ডেশনে কর্মীদের দিয়ে তৈরী করাচ্ছেন মাক্স। তার এই মাক্স তৈরীর কর্মজজ্ঞে রয়েছে কয়েকজন টেইলার্সকর্মী।

তিনি হেন্ড মাইক নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচার ও তার ফাউন্ডেশনের তৈরী মাক্সসহ সাবান কয়েক হাজার মানুষের মাঝে বিতরণ করে করছেন। সুবিধা ভোগীরা জানায়,করোনাভাইরাসের জন্য আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনা। আমাদের আয়-রোজগার বন্ধ। ঘরে খাওন নাই। সবাই ঘরে থাকতে কয়, খাওনের কথা কেউ কয় না। কল্যাণী আপা আমাদের কিছু চাল,ডাল ও আলু দিয়ে সাহায্য করেছে আল্লা যেন তারে ভাল রাখেন। কেন্দুয়া পৌর শহরের সাউদপাড়া মহল্লার মেয়ে কল্যাণী। [ads]

তিনি একজন স্কুল শিক্ষক,সংগঠক,ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী। লেখাপড়া শেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। শিক্ষককতার পাশাপশি কেন্দুয়া বাজারে রয়েছে একটি স্বর্ণের ব্যবসা। তিনি কেন্দুয়া উপজেলা আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সভাপতি দ্বায়িত্বে থেকে কেন্দুয়া উপজেলার নারী সমাজকে জাগ্রত করছেন। বেসরকারী এনজিও স্বাবলম্বী উন্নয়ন সমিতি দ্বারা পরিচালিত নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দুয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদকের দ্বায়িত্বে থেকে নির্যাতিত নারী সমাজের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন তিনি। দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে। সামাজিক কর্মকান্ডে স্বীকৃতি হিসেবে জয়ীতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি ‘কল্যানী যুব ফাউন্ডেশন’ নামে সংগঠন গড়ে তুলেন।

ইতিমধ্যে সংগঠনটি উপজেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কল্যাণী হাসান বলেন, মানবসেবার ব্রত হয়ে ‘কল্যাণী যুব ফাউন্ডেশন’ গঠন করেছি। সমাজের অসহায় ও সুবিধাবি ত মানুষগুলো অনেক কিছু থেকেই বি ত হয়। বিপদে-আপদে তাদের পাশে দাড়াঁনোই সংগঠনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। করোনাভাইরাসের কারণে বহু দরিদ্র শ্রেণির মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ছে আমারা প্রথমে তাদেরকে মাক্স ও সাবান দিয়েছি এখন দেখছি তাদের ঘরে খাবার নেই তাই খাবারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি।

এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষকে মাক্স-সাবান ও ৫ শতাধিক মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন বলে জানান কল্যাণী। তার স্বামী কেন্দুয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি কামরুল হাসান ভূইঁয়া এই কাজে উৎসাহ জোগান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, যতদিন দেশে করোনার প্রভাব থাকবে ততদিন তার প্রচাররণা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। তিনিসহ তার কর্মীদের জন্য সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন। 

ট্যাগ: