banglanewspaper

এম.পলাশ শরীফ: শরণখোলায় পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে নেশা জাতক দ্রব্য মিশ্রিত ট্যাং শরবত পান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি স্কুল ছাত্রী তামান্না আক্তার।

জানা গেেছ উপজেলা খোন্তাকাটা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণি পড়ুয়া ছাত্রী তামান্না আক্তার (১৩) গত শনিবার রাত আনুমানিক ৭.৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে তাঁর নিজ বসতবাড়ি এলাকায়।

পরিবার সূত্র জানায়, তামান্না আক্তার তাঁর চাচা বেল্লালের ঘরে টিভি দেখার সময় প্রতিবেশি পাচারকারী সদস্য মিনারা বেগম (৩০) তাঁর মেয়ে সুমির জন্য ছন্দ লেখার কথা বলে তাকে তাঁর ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। ছন্দ লেখা শেষ হলে মিনারা বেগম তাকে এক গ্লাস ট্যাং শরবত দেয়।

তা পান করে তামান্না আক্তার গুরুতর মরণাপন্ন অসুস্থ হয়ে পড়লে পরবর্তীতে তাকে রাত ১১ টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দু’দিন প্রাথমিক চিকিৎসায় রেখে গতকাল তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। বিষয়টি পরিকল্পিত ও রহস্য জনক।

এ ব্যাপারে পাচারকারী মিনারাকে প্রশ্ন করলে তাঁর সহযোগি প্রতিবেশি অপর পাচারকারী সদস্য হেলাল হাং (৪০) কে দোষারোপ করে বলে তামান্নার সাথে তাঁর পূর্ব শত্রুতা আছে। তাঁর জের ধরে তাকে নেশায় অচেতন করে খারাপ কোন উদ্দেশ্য চরিতার্থের জন্য সে হয়তো আমার অজান্তে পূর্বেই পানিতে নেশা দ্রব্য মিশিয়ে রেখেছিল এবং এ কথাও স্বীকার করে যে, পানিতে নেশাজাত দ্রব্য মেশানোর ব্যাপারে কিছুদিন পূর্বে হেলাল আমাকে কাজটি করতে বলেছিল। কিন্তু তাতে আমি রাজি হয়নি।

এদিকে, এ অপকর্মে উভয় জড়িত থাকার বিষয়টিতে এলাকার একাধিক ব্যক্তিবর্গ জানান, তারা উভয়ই পাচারকারী। তারা কিছুদিন পর পর ভারতে যাওয়া আসা করে এবং সার্টার ভাঙার কাজেও প্রতিনিয়ত তারা নিয়োজিত আছে বলেও জানা যায়। তামান্নার সাথে পূর্ব শত্রুতার বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর পিতা মোঃ হাসান হাং জানান, ইতোপূর্বে পাচারকারীদ্বয় আমার মেয়ে তামান্নাকে ফুঁসলিয়ে মিনারা বেগমের ভাইয়ের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সাইনবোর্ড পর্যন্ত গেলে তাঁর স্কুলের প্রধান শিক্ষক

আবুল কালাম তামান্নাকে উদ্ধার করে তাঁর পিতার হাতে তুলে দেয়। একাধিকবার মেয়েকে ভারত পাচারে ব্যর্থ হলে শত্রুতা মূলক ভাবে ওই পাচারকারী হেলাল এ কাজটি করছে বলে অনেকের ধারনা। এ সংবাদটি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে হেলাল মুহূর্তেই পালিয়ে ভারত পাড়ি দিয়েছে বলে গোপন সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে তামান্না আক্তারের পিতা প্রতিকার পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন শরণখোলা শাখায় একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

ট্যাগ: Banglanewspaper শরণখোলা পাচারকারী খপ্পরে স্কুল ছাত্রী