banglanewspaper

মো: মোজাম্মেল ভূইয়া, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: টার্কি জাতের মুরগি পালন করে সফলতা পেয়েছে ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মাছিহাতা ইউনিয়নের তরুণ খামারি মো ইকরাম চৌধুরী ও তার সহধর্মিনী মলি চৌধুরী।

২০১৭ সালের ফেব্রয়ারী মাসে মাত্র ২০টি টার্কি বাচ্চা নিয়ে খরম শাহ্ টার্কি হ্যাচারী নামে এই খামার শুরু করলেও এখানে এখন প্রায় ৩ শতাধিক টার্কি রয়েছে। আর এই টার্কি মুরগি বিক্রি ও বাচ্চা উৎপাদন করেই আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তার পরিবার।

স্বামী-স্ত্রীর এই টার্কি খামার দেখে এবং তা লাভজনক হওয়ায় আশপাশের অনেকেই টার্কি চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠছেন।

ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার মাছিহাতা ইউনিয়নের চিনাইর গ্রামের খরম শাহ্ টার্কি হ্যাচারীর মালিক মো ইকরাম চৌধুরী বলেন, আমি দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলাম প্রবাস থেকে দেশে ফিরে যুব উন্নয়ন সুলতানপুর ব্রাক্ষণবাড়িয়া শাখা হতে ৩ মাস ব্যাপী একটা প্রশিক্ষণ নিয়ে ৬৩ তম ব্যাচের ৬৮ জন ছাত্র-ছাত্রির মধ্যে আমি প্রথম স্থান অর্জণ করেছিলাম।

সমাজের একজন অবহেলিত মানুষ ছিলাম কিন্ত ভাগ্যের চাকা ঘুরে দাড়িয়েছে আমার টার্কি পালন করে। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে দিন দিন বাড়তে থাকে টার্কি মুরগির সংখ্যা। বর্তমানে আমার খামারে ৩ শতাধিক টার্কি রয়েছে।

তিনি বলেন টাকির খাবারের জন্য কোনো সমস্যা হয় না। দানাদার খাবারের সঙ্গে সবুজ ঘাস, লতাপাতা, পোকা-মাকড় এমনকি সবজিও খেতে পছন্দ করে। টার্কির রোগবালাই খুবই কম। একটি টার্কি মুরগি বছরে প্রায় ১২০ থেকে দেড়শটি পর্যন্ত ডিম দেয়। ডিম থেকে বাচ্চা হওয়ার ৬ মাসের মধ্যে টার্কি আবার ডিম দিতে শুরু করে। ৬ মাসের মেয়ে টার্কির ওজন হয় ৪ থেকে ৬ কেজি

আর পুরুষ টার্কিগুলো প্রায় ৮ থেকে ১৪ কেজি হয়। ইকরাম জানান, হ্যাচারি মেশিনে ৫ দিন পর পর ১০০ + বাচ্চা বের হয়। ১ মাস বয়সী টার্কি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয় জোড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। তার খামার থেকে প্রতিদিন অন্য খামারিরাও বাচ্চা নিয়ে যাচ্ছেন। প্রতি মাসে তার খামার থেকে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার টার্কি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হয়।

তিনি বলেন, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পে টার্কি অন্তর্ভুক্ত হলে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন অতি দ্রত হবে। সারাদেশ বাণিজ্যিকভাবে এই খামারের পরিকল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে, তাহলে দেশের অবহেলিত যুবকরা সফল হবে সেটা আমি মনে করি। টার্কি চাষের জন্য আমি নিজেও এখন অন্যদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি। এবং টার্কি পালন বিষয়ক কর্মশালা করে থাকি নতুনদের জন্য।

এ ব্যাপারে ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গণেশ চন্দ্র মন্ডল বলেন, টার্কি বর্তমানে একটি সফল ব্যাবসা,টার্কি পালন করে বর্তমানে অনেকেই সফল হয়েছে তাই দেশব্যাপী টার্কি পালনে সবাই আগ্রহ। লাভজনক হওয়ায় ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় দিন দিন টার্কি মুরগির চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সব সময়ই টার্কি খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছি।

ট্যাগ: banglanewspaper টার্কি