banglanewspaper

যৌন সহিংসতা, সাংস্কৃতিক ও জাতভেদের কারণে হয়রানি এবং মানবপাচারে ভারতের রেকর্ড এখন সবচেয়ে খারাপ। অর্থাৎ, ভারত এখন পৃথিবীতে নারীদের জন্য সবচেয়ে কম নিরাপদ দেশ। থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের বৈশ্বিক এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। নারীদের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যাচাইয়ের জন্য ৫৫৮ জন নারী বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়েছে এই ফাউন্ডেশন।

পরিস্থিতির উন্নয়নে ব্যর্থ হওয়ায় ভারত নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হয়ে উঠেছে। ২০১১ সালে সর্বশেষ জরিপে ভারতের অবস্থান ছিল চতুর্থ। ভারতের অবস্থান আফগানিস্তান (২য়), সিরিয়া (৩য়) এবং সোমালিয়ারও নিচে। মানব উন্নয়ন সূচকে এবং সার্বিক নারী নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের অবস্থান যথেষ্ট নিচে নেমে গেছে।

যে ছয়টি ক্যাটেগরিতে জরিপ চালানো হয়েছে, তার সবগুলোতেই প্রথম পাঁচটি দেশের মধ্যে ভারত রয়েছে। চার নম্বরের নিচে ভারত কখনও নামতে পারেনি।

থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মনিক ভিলা ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়াস্পেন্ডকে জানান, ‘ভারতে মাত্র ১০ শতাংশ নারীর জমির মালিকানা রয়েছে, অথচ পৃথিবীতে এই হার ২০ শতাংশ। নারী হত্যার হার ভারতে সবচেয়ে বেশি। ২৭ শতাংশ মেয়ের এখানে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যায়, যে হার পৃথিবীতে সর্বোচ্চ। এসব বিষয় বিবেচনা করলে ভারতের আসল অবস্থা বোঝা যায়।’

ভিলা আরও বলেন, ‘ভারত এখন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়ছে। পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে নারীকে এখনও নিম্নতর হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

ভারতে নারী ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক সংবাদের শিরোনাম হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া জেলায় আট বছর বয়সী আসিফা এবং ঝাড়খান্ডে মানব পাচারবিরোধী কর্মী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।

সরকার ধর্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তি কঠোর করেছে এবং শিশু ধর্ষণকারীদের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করেছে। কিন্তু এতে করে ধর্ষণের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে ইন্ডিয়াস্পেন্ডের এক রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অবনতিশীল পরিস্থিতি

২৬ জুন থমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশনের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দিক থেকে ভারত এমনিতেই সবার উপরে রয়েছে। কিন্তু এ মাত্রা আরও বাড়ছে। পাঁচ বছর আগে দিল্লিতে বাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার পর সারা ভারত উত্তাল হয়ে ওঠে এবং সরকার সে সময় এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপরও এই অপরাধ বেড়ে চলেছে।’

২০১১ সালে যখন জরিপ চালানো হয়, তখন ভারতের অবস্থান ছিল চার নাম্বারে। তার নিচে ছিল আফগানিস্তান, কঙ্গো ও পাকিস্তান। ভারতের র‍্যাঙ্কিংয়ের এই অবনতির কারণ ছিল মূলত নারীদের ভ্রুণ হত্যা, শিশু হত্যা ও মানবপাচারের কারণে।

সাত বছর পরে ২০১৮ সালে এসে জরিপে বলা হচ্ছে, তিনটি প্রধান ইস্যুতে ভারত এখন পৃথিবীতে নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ। ইস্যুগুলো হলো:

যৌন সহিংসতা: এরমধ্যে রয়েছে বাসস্থানে ধর্ষণ, ধর্ষণ মামলায় ন্যায়বিচারের অভাব, যৌন হয়রানি এবং যৌনতাকে দুর্নীতির সাথে গুলিয়ে ফেলার মতো বিষয়।

সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কৃষ্টি: এরমধ্যে রয়েছে নারীদের যৌনাঙ্গ কর্তন, বাল্যবিবাহ ও জোরপূর্বক বিয়ে, শারীরিক নির্যাতন এবং মেয়ে শিশু ও মেয়ে ভ্রুণ হত্যা।

মানব পাচার: গৃহকর্মী, বলপূর্বক শ্রমে ব্যবহার এব জোর করে বিয়ে দেয়ার মতো বিষয় রয়েছে এতে।

২০১৬ সালে প্রতি ঘণ্টায় নারীদের বিরুদ্ধে ৩৯টি পর্যন্ত অপরাধের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। ২০০৭ সালে এই সংখ্যা ছিল ২১টি। ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর ইন্ডিয়াস্পেন্ডের রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সরকার নারীদের বিরুদ্ধে আইনি বৈষম্য দূর করতে ব্যর্থ হয়েছে। বৈবাহিক ধর্ষণ এবং খাপ পঞ্চায়েত রীতি, যেখানে ইচ্ছেমতো বিয়ের জন্য মেয়ে বেছে নেয়া হয়- এ বিষয়গুলোকে অপরাধ সাব্যস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।

নারীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য কী পদক্ষেপ নেয়া দরকার, এ প্রশ্নের জবাবে ভিলা বলেন, ‘তিনটি বিষয় রয়েছে: লিঙ্গ সমতার ব্যাপারে ছেলেদের শিক্ষা দেয়া, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উভয় ক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান আইনের সঠিক প্রয়োগ করা।’

ট্যাগ: banglanewspaper ভারত

নারীমেলা
নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে রাজধানীতে চলছে উদ্যোক্তা হাট

banglanewspaper

‘আনিসুল হক কোহর্ট ফর গ্রোথ অব উইমেন অন্টপ্রেনিউরস’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে শুরু হয়েছে আনিসুল হক কোহর্ট উদ্যোক্তা হাট। দুই দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নিয়েছেন ৩০ নারী উদ্যোক্তা।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে উদ্যোক্তা হাট উদ্বোধন করেন চার নারী উদ্যোক্তা। বুধবারও এ হাট চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বিকালে হাট পরিদর্শন করেন আনিসুল হক ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক। তিনি হাটের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং ফান্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। নারী উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সফল করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

হাটের উদ্বোধন করেন গুটিপার উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি, প্রজেক্ট সেকেন্ড হোমের স্বত্বাধিকারী সুমনা শারমীন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার বিউটি আক্তার এবং বিডিওএসএন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। হাটে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বিষয়ে একটি উন্মুক্ত আড্ডা পরিচালনা করেন শাহীন’স হেল্পলাইনের ফাউন্ডার ও সিইও মো. আমিনুল ইসলাম শাহীন।

একইসঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে উদ্যোক্তাদের হিসাব সংরক্ষণে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠান এসএমই ভাই-এর সঙ্গে বিডিওএসএন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

সারা বছর একরেট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়ামুল করিম টিপু বলেন, নতুন ধারার পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সারা বছর একরেট কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বেশি ভাগ ক্রেতায় মধ্যবিত্তরা। আমরা উদ্যোক্তা হাটে অংশগ্রহণ করেছি অনুপ্রেরণার গল্প কল সেন্টারের অপরাজিতা উপন্যাস উপহার দেবার মাধ্যমে। এই অনুপ্রেরণার বইটি তুলে দেওয়া হয়েছে আমাদের হার না মানা অপরাজিতাদের হাতে। সামনে উদ্যোক্তা হাট মেলার সঙ্গে বড়ভাবে থাকব।

হাটের দ্বিতীয় দিন বেলা ১১টায় নারী উদ্যোক্তার নিজস্ব ব্র্যান্ডিং বিষয়ে একটি আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে। আড্ডা পরিচালনা করবেন ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনারস বাংলাদেশের ফাউন্ডার ও সিইও মির্জা মুহাম্মদ ইলিয়াস। এ ছাড়া বিকেলে ব্র্যান্ডিং বিষয়ে একটি আড্ডা থাকছে।

উদ্যোক্তা হাটে ৩০ জন নারী উদ্যোক্তা ৩০টি স্টলে তাদের পণ্য ও সেবা নিয়ে বসেছেন। উদ্যোগগুলো হলো পারফেকশন অব পরিণীতা, রঙ্গীমা, ধবল, ফাইনফেয়ার ক্র্যাফট, বাঙালি, ফারহানাস ড্রিম, ডিএস ক্রিয়েশন, শ্রদ্ধা, অ্যানেক্স লেদার, সিজনস বুটিক, আমরা পারি, আই ক্লে, প্রয়াস, আইকনিক ক্রিয়েশন, ট্যাম ক্রিয়েশন, পূর্ণতা ক্র্যাফট, শাবাব লেদার, স্যানট্রেন্ড, এআরবি ডিজাইন, একাত্তর সোর্সিং লিমিটেড, ফ্রেন্ডস কনসালটেন্সি, কাদম্বরী এক্সক্লুসিভ, আশা ফুড, জে বি কালেকশন, বি. টেক কন্সট্রাকশন অ্যান্ড কনসাল্টিং, ওয়াসি ক্রাফট, সাতরঙ, এক্সট্রা মাইলেজ কেয়ার, নন্দন কুটির ও জি স্পাইস। এছাড়া বিশেষ সেবা হিসেবে ব্যাংক এশিয়া, এসএমই ভাই, বিকাশ, মেডিমেটের স্টল থাকছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দিতে সারা বছর একরেট ই কর্মাস প্রতিষ্ঠানটি তাদের পক্ষ থেকে কল সেন্টারের অপরাজিতা উপন্যাসটি উপহার দেন।

প্রকল্প সহযোগিতায় রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আনিসুল হক স্টাডি সেন্টার, ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রোপ্রেনিওরশিপ ডিপার্টমেন্ট এবং নাগরিক টিভি। হাটের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার প্রথম আলো। এ ছাড়া পার্টনার হিসেবে আছে টেকশহর ডটকম, ঢাকা এফএম, টেকভিশন টোয়েন্টিফোর ডটকম, স্বজন এবং নিজল ক্রিয়েটিভ। এ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে আনিসুল হক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এবং চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব প্লাটফর্ম।

ট্যাগ:

নারীমেলা
গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ নারীই যেসব ভুল করেন

banglanewspaper

নারীদের গর্ভাবস্থায় শরীরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এ সময় হরমোনের মাত্রা ওঠানামা থেকে শুরু করে ওজন, স্তন ও শরীরের অন্যান্য অংশের পরিবর্তন ঘটে। তাই এ সময় শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। অনেকেরই গর্ভাবস্থায় করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই গর্ভাবস্থায় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন—

খাবার এড়িয়ে চলা

গর্ভাবস্থায় বারবার ক্ষুধা ও বমি বমি ভাব অনুভব করা স্বাভাবিক। এ সময় বিভিন্ন খাবারের প্রতি লোভ হতে পারে। আবার অনেকেই খাবার দেখলে নাক সিঁটকায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬-১০ জন নারী গর্ভাবস্থায় খাবার এড়িয়ে যান।

তবে প্রথম কয়েক মাসে খাবার এড়িয়ে যাওয়ার ভুল করবেন না। কারণ প্রথম কয়েক মাসে শিশুর অত্যাবশ্যক অঙ্গ গঠন ও বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই সে সময় আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

ওজন বেড়ে গেলে দুশ্চিন্তা

গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়বেই। কারণ তখন স্বাস্থ্যকর খাবার ও বেশি খাওয়া হয়। এমনকি হরমোনের মাত্রা ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ায় ওজন বেড়ে যায়। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বরং এ সময় সামান্য স্ট্রেস ও উদ্বেগ আপনার ও শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। এ কারণে মন শান্ত রাখা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাবার স্ট্রেস এড়াতে সাহায্য করে।

ওষুধ গ্রহণ

গর্ভাবস্থায় পেশি ব্যথা, ফোলাভাব, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা ও আরও অনেক কিছুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা কমানোর জন্য কখনো চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ খাবেন না।

শারীরিক কার্যকলাপ না করা

গর্ভাবস্থায় অনেকেই কায়িক শ্রম থেকে বিরত থাকেন। তবে এ সময় হালকা ব্যায়াম ও হাঁটা শিশুর স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে পারে। গর্ভাবস্থায়ে সব সময় বসে শুয়ে থাকা উচিত নয়। এতে শরীর আরও ফুলে যেতে পারে। তাউ নিজেকে যতটা সম্ভব সক্রিয় রাখা উচিত।

দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা না নেওয়া

স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা ও ডেলিভারির জন্য অবশ্যই ভালো স্বাস্থ্যসেবা জরুরি। নিয়মিত চেকআপ ও শারীরিক সুস্থতার জন্য এ সময় দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিতে হবে। কোন হাসপাতালে ডেলিভারি করাবেন কিংবা কোন ডাক্তারকে দেখাবেন এসব বিষয়ে দেরি করবেন না।

উপরের এসব সাধারণ ভুল ছাড়াও, বেশ কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো গর্ভবতীদের বিরত থাকতে হবে। যেমন- ধূমপান, অ্যালকোহল পান বা ক্যাফেইন গ্রহণ করবেন না। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। কম ঘুম গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি বাড়ায়।

ট্যাগ:

নারীমেলা
শোকে-শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করল পুনাক

banglanewspaper

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

'শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ' শ্লোগানে আজ (রবিবার) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে পুনাক কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে পৈশাচিক ও নারকীয় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়নি, বরং যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি নবীন রাষ্ট্রের এক অসাধারণ পথচলাকেও থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুনাক সভানেত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সপরিবারে খুন হন তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে অন্য অনেকেই উপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন পুলিশের এক অকুতোভয় সদস্য এএসআই সিদ্দিকুর রহমান। তিনি সেদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ঘাতকদের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।

জীশান মীর্জা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যেমন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বীর পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশেকে স্বাধীন করতে পুলিশ সদস্যরাই সর্বপ্রথম বুক পেতে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের সামনে। তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে সেই সংগঠন যার সদস্যরা কখনো এ দেশের সাথে, এ দেশের ইতিহাসের সাথে বেঈমানি করেনি।

এএসআই সিদ্দিকুর রহমানের এ অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম সাহসিকতা (মরোণোত্তর) প্রদান করেন। এ মহতি উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান পুনাক সভানেত্রী।

অনুষ্ঠানে পুনাকের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এর আগে দোয়া মাহফিল শেষে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যসহ সব শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ট্যাগ:

নারীমেলা
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর

banglanewspaper

করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী নারীরা চাকরি হারিয়েছে, আয় কমে গেছে এবং একইসঙ্গে বৈষম্য, শোষণ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, কর্মজীবী নারী, নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট লন্ডনের আয়োজনে ‘ভার্চুয়াল মিটিং অব কমনওয়েলথ মিনিস্টারস ফর উইমেনস অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ কোভিড-১৯’ বিষয়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের উইমেনস অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ডাক্তার,নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ৮০ ভাগ নারী, যারা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্য দিয়ে করোনাকালে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছে যার ফলে তাদের পরিবারের নারী ও শিশু খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও আম্পান ও বন্যায় প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।

ভার্চুয়াল সভায় কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড বলেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নারীদের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

ট্যাগ:

নারীমেলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক বৈঠক

banglanewspaper

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে “শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়)” শীর্ষক বিষয়ে কসবা উপজেলা চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকাল ৩.০০ ঘটিকায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকে জেলা তথ্য অফিসার(ভারপ্রাপ্ত)  দীপক চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এডভোকেট মো: আনিসুল হক ভূঁঞা, সাবেক চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ,কসবা।বিশেষ অতিথি মোছা: রাহেলা বেগম,প্রধান শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মো: আলমগীর, প্রধান শিক্ষক, লতুয়ামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাছলিমা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিয়া সুলতানা ডলি, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম আখন্দ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাসুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা আজাদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা সুলতান, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি এডভোকেট মো: আনিসুল হক ভূঁঞা, সাবেক চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ,কসবা বলেন যোগ্য স্বামীর আশায় না থেকে নিজেকে যোগ্য করে তোলোন কেননা যোগ্যতাই আপনাকে মুক্তি দেবে তাছাড়া সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে এবং যৌতুক এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ,অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ,মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব, স্যানিটেশন, পরিবেশ ও জন্ম নিবন্ধন, মাদক ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ,নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা র্কাযক্রমসমূহ,শিশুর পানিতে ডুবা প্রতিরোধ,পরিবেশ সুরক্ষা ও র্দুযোগকালীণ নারী ও শিশুর সচেতনতা বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

শিশু ও নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক প্রথা উচ্ছেদে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বিশেষ অতিথি মোছা: রাহেলা বেগম,প্রধান শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মো: আলমগীর, প্রধান শিক্ষক, লতুয়ামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাছলিমা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিয়া সুলতানা ডলি, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম আখন্দ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাসুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা আজাদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা সুলতান, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বক্তব্য প্রদান করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে ৫০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন । পরিশেষে জেলা তথ্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দীপক চন্দ্র দাস উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের যারযার অবস্থান থেকে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কুসংস্কার দূরীকরণে জনসচেতনা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে উঠান বৈঠক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

ট্যাগ: