banglanewspaper

বিশ্বে স্তন ক্যান্সার মহিলাদের ক্যান্সার জনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন। সাধারণত ৫০ বছরের বেশী বয়সীদের এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শুধু মাত্র মহিলাদেরই স্তন ক্যান্সার হয় তা কিন্তু নয়, পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হাওয়ার ঝুকি রয়েছে। এ ক্যান্সারে আক্রান্তের হার প্রতিনিয়তই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আশার কথা হল, প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে ও নিয়মিত সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৯০% রোগীই ৫ বৎসর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারেন।

স্তন ক্যান্সার কি?
স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠে তখন স্তন ক্যান্সার হতে দেখা যায়। পুরুষের থেকে মহিলাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি বেশি থাকে।

স্তন ক্যান্সারের লক্ষন
১। স্তন কিংবা বগলে চাকা বা দলা অনুভব করা। ঋতুচক্রের সময় অনেক মহিলার ক্ষেত্রে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দেয় এবং ঋতুচক্র পরবর্তী সময়ে তা চলেও যায়, এতে ভয়ের কিছু নেই তবে এই লক্ষণ স্থায়ী হলে তা পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। স্তন ক্যান্সার জনিত এ ধরনের চাকা বা দলায় সাধারনত কোন ব্যথা অনুভূত হয় না তবে এক ধরনের খোঁচা লাগে এমন অনুভূতি হতে পারে।
২। হাতের নিচে অর্থাৎ বগলের কোথাও নির্দিষ্ট কোন কারন ছাড়াই ফুলে ওঠা।
৩। স্তনের কোথাও লালচে ভাব কিংবা ব্যথা অনুভব করা।
৪। স্তনের কোন অংশ অস্বাভাবিক ভাবে দেবে যাওয়া।
৫। স্তনের আকার, রঙ, ত্বকের মসৃণতা কিংবা তাপমাত্রায় তারতম্য পরিলক্ষিত হওয়া। স্তনের ত্বকে লালচে আভা এবং কমলা লেবুর খোসার মত অমসৃণতা দেখা দিলে তা এডভান্সড ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ। এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের পরামর্ষ নেয়া প্রয়োজন।
৬। স্তনবৃন্তে (Nipple) বিশেষ কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়া, যেমন- স্তনবৃন্ত দেবে যাওয়া, চুলকানি, জ্বালা পোড়া, খুস্কি অথবা ক্ষত কিংবা ঘা এর উপস্থিতি।
৭। স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ। এ ক্ষেত্রে স্তনবৃন্ত থেকে পরিস্কার, রক্ত যুক্ত কিংবা অন্ন কোন রঙের পাতলা অথবা আঠালো তরল নিঃসরণ হতে পারে।
৮। চামড়ার নিচে কোন ধরনের গুটি অনুভব করা।

৯। স্তনে এমন যেকোনো ধরনের পরিবর্তন যা দৃশ্যতই অস্বাভাবিক।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি
১. জেনেটিক রিস্ক ফ্যাক্টর- স্তন ক্যান্সার হওয়ার একটি কারণ হলো উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া ক্রুটিযুক্ত ‘জিন’। যেসব অস্বাভাবিক জিন স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়, তাদের মধ্যে আছে BRCA1 এবং BRCA2 জিন।

২. পারিবারিক ইতিহাস
• একই পরিবারের দুই বা তার বেশি নিকটাত্মীয়ের স্তনের ক্যান্সার।
• একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অন্যান্য ক্যান্সার- বিশেষ করে মলাশয় ও ভ্রুণকোষের ক্যান্সার, সেইসাথে স্তন ক্যান্সার।
• ৪০ বছরের কমবয়সী একজন নিকটাত্মীয়ের স্তন ক্যান্সার।
• স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত এমন একজন আত্মীয়, যার দুই স্তনেই এ রোগ হয়েছে।
৩. ব্যক্তিগত ইতিহাস
যেসব মহিলার এক স্তনে ক্যান্সার হয়েছে, তাদের অন্য স্তনে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

স্তন ক্যান্সারের অন্যান্য ঝুঁকি
১. সন্তানহীনতা বা বেশি বয়সে সন্তান হওয়া।
২. খুব অল্প বয়সেই ঋতুস্রাব হওয়া কিংবা ঋতুবন্ধ বেশি বয়সে হওয়া।
৩. গর্ভনিরোধক বড়ি ব্যবহার। যারা ১০ বছরের বেশি সময় আগে বড়ি খাওয়া বন্ধ করেছেন তাদের বেলায় সম্ভবত ঝুঁকি নেই।
৪. হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি (HRT)।
৫. শিশুকে বুকের দুধ পান না করানো।
৬. অ্যালকোহল ব্যবহার।
৭. স্থূলতা, অধিক চর্বিজাতীয় খাবার ও শারীরিক কর্মহীনতা। ক্যান্সার সংক্রামক রোগ নয় এবং একজনের রোগ আরেকজনের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

স্তন ক্যান্সার শনাক্তে যেসব টেস্ট করা হয়-
১. ম্যামোগ্রাম
২. আলট্রাসনোগ্রাম
৩. ফাইন নিডল অ্যাম্পিরেশন সাইটোলজি
৪. নিডল (কোর) বাইয়োপ্সি
৫. এক্সিসন বাইয়োপ্সি

উপরি উক্ত পরীক্ষায় যদি দেখা যায় আপনার স্তন ক্যান্সার হয়েছে, তাহলে চিকিৎসক আরো কিছু পরীক্ষা করে দেখতে চাইবেন ক্যান্সার শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়েছে কি না। যেমন-

১. লিভার আলট্রাসাইন্ড স্ক্যান
২. হাডের স্ক্যান
৩. সিটি স্ক্যান
৪. এমআরআই স্ক্যান
৫. পিইটি স্ক্যান।

ম্যামোগ্রাম
চল্লিশোর্ধ বয়সী মহিলাদের প্রতি বছর একবার ম্যামোগ্রাম করানো উচিত। যদিও ম্যামোগ্রাম কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার নির্ণয় করতে ব্যর্থ হয়, তবুও স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ে এটি একটি খুব ভালো পদ্ধতি।

ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন
২০-৪০ বছর বয়সী মেয়েদের প্রতি তিন বছরে একবার কোনো অভিজ্ঞ ডাক্তারের কাছে স্তন পরীক্ষা করানো উচিত এবং চল্লিশোর্ধ বয়সী মহিলাদের প্রতি বছর এ পরীক্ষা করানো উচিত।

ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন
২০ বছর বয়স থেকে মেয়েদের নিজের স্তন নিজেই পরীক্ষা শুরু করা উচিত। এর উপকারিতা এবং সীমাবদ্ধতা সম্পর্কেও জানা উচিত। ব্রেস্ট সেলফ এক্সামিনেশন করার সঠিক পদ্ধতি কোনো ডাক্তারের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে।

ব্রেস্ট বা স্তন ক্যান্সার এর চিকিৎসা:
স্তন ক্যান্সার,ক্যান্সারের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। বিভিন্ন ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের মধ্যে এর আনুপাতিক হার ১০% যা মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ। স্তন ক্যান্সার আক্রমনে নারী জীবন ও কাজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে যা তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে কঠিন সময়। স্তন ক্যান্সার রোগীদের কিভাবে পর্যালোচনা করা উচিত তা রোগী এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়।মডার্ণ ক্যান্সার হাসপাতাল গুয়াংজৌ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শনুযায়ী বায়োইম্যুনোথেরাপি স্তন ক্যান্সার রোগীদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি।

স্তন ক্যান্সারের জন্য সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি:
স্তন ক্যান্সারের জন্য সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অপারেশন, রেডিওথেরাপিএবং কেমোথেরাপি।অপারেশন প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার রোগীদের জন্য প্রধান পদ্ধতি। এর মাধ্যমে ক্যান্সার কোষগুলো ধবংস করে রোগী সুস্থ করা হয় । কিন্তু অপারেশনে কিছু নিজস্ব সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত,টার্মিনাল স্তন ক্যান্সার বা দুর্বল রোগীদের জন্য ক্যান্সার কোষ এক্সসিসন করার সময়ে কিছু স্বাভাবিক টিস্যু অপসারণ করতে হয়। দ্বিতীয়ত, অপারেশনের সাহায্যে ক্ষুদ্র টিউমারগুলো সরানো যায় না এবং এদের পুনরাবৃত্তি ও জীবানু ছড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়ে যায়। সুতরাং, অপারেশনের পরে পুনরায় চেক আপ করা উচিত।

রেডিওথেরাপি স্তন ক্যান্সার চিকিত্সায় শুধুমাত্র প্রধান পদ্ধতি নয়, এটি স্থানীয় চিকিৎসার  পদ্ধতির মধ্যে অন্যতম। অপারেশন সাথে তুলনা করলে রেডিওথেরাপি রোগীর শরীরে তেমন উপযোগী নয়।যদিও এর চিকিত্সামূলক ফলপ্রসূতা বায়োলজিক্যাল রে এর উপর নির্ধারণ করা হয়। বর্তমানে রেডিওথেরাপি এর মাধ্যমে টিউমার পুরোপুরি ধবংস করা যায় না।অপারেশন চিকিৎসা  তুলনায় রেডিওথেরাপি কম কার্যকর।সাধারণত বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি রেডিওথেরাপির সাথে প্রয়োগ করে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জটিলতা কমানো হয় যার ফলে আংশিক ক্ষতি হতে পারে ।

রেডিওথেরাপির মধ্যে কেমোথেরাপি একটি পদ্ধতিগত চিকিৎসা যার শক্তিশালী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে।কেমোথেরাপি ফলে অস্থি মজ্জা এর হেমাটোপোইটিক সিস্টেমকে নষ্ট করতে পারে যার ফলে ডব্লিউ বি সি এবং প্লেটলেট কমে যায়। চিকিৎসাগতভাবে , বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি হেমাটোপোইটিক সিস্টেমের ক্ষতি কমিয়ে কেমোথেরাপি এর অসুবিধা কমাতে পারে।

স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি:
বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি টিউমার চিকিৎসায় শুধুমাত্র আধুনিক প্রযুক্তি নয়।এটি সার্জারি, রেডিওথেরাপি এবং কেমোথেরাপি তুলনায় অনেক পরিণত ও বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তি।বায়োলজিক্যাল ইম্যুনোথেরাপি টিউমার কোষকে সরাসরি ধবংস করে ,মেটাস্টিসিস, পুনরাবৃত্তি থেকে রোধ করতে পারে, এবং জীবনযাপনের মান উন্নত করে।বায়ো ইম্যুনোথেরাপি মাধ্যমে রোগীর রক্ত সংগ্রহ করে,ইমিউনোলজিক সেল (ডিসি-সিআইকে) তৈরি করে যা টিউমার কোষকে চিহ্নিত করে ধবংস করতে সাহায্য করে।তারপর এই সংগৃহীত রক্ত রোগীর শরীরে পুনরায় প্রবেশ করিয়ে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে টিউমার সেলগুলোকে নষ্ট করা হয়।

এদিকে, সমন্বয় চিকিৎসা বায়োইম্যুনোথেরাপি প্রযুক্তি , আধুনিক সার্জারি, কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি ক্যান্সার চিকিত্সায় শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করে। যা শুধুমাত্র অবশিষ্ট ছোট ক্ষতকে সরায় না বরং এর পুনরাবৃত্তি এবং টিউমার স্থানান্তরণ হওয়া থেকে রোধ করে।এরফলে রোগীর রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বাড়ে এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠে।

বর্তমান সময়ে বায়োলজিক্যাল বায়োইম্যুনোথেরাপি কোন আঘাত বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়া এবং ভাল ফলাফলের সঙ্গে টিউমার রোগীদের কাছে গ্রহনযোগ্য হয়েছে।যা শুধুমাত্র সবচেয়ে সক্রিয় এবং প্রতিশ্রুতিশীল থেরাপি বলে সমস্ত স্তন ক্যান্সার চিকিত্সা পদ্ধতির মধ্যে মনে করা হয় কিন্তু এর কার্যকারীতা হল জীবনের মানকে বৃদ্ধি করা।

স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় ফলোআপ
স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষ হলে স্বস্তি বোধ হয় তবে ক্যান্সার আবার ফিরে আসার দুঃশ্চিন্তা থাকে। চিকিৎসা শেষ হয়ে গেলে নিয়মিত ফলোআপ ভিজিটে আসা উচিত। এসব ভিজিটে ডাক্তার কোনো উপসর্গ আছে কি না জানতে চাইবেন, শারীরিক পরীক্ষা করবেন এবং প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, ম্যামোগ্রাম ও সিটিস্ক্যান করতে উপদেশ দেবেন। ক্যান্সার ফিরে এসেছে কি না বা ছড়িয়ে গেছে কি না তা জানার জন্য ফলোআপ প্রয়োজন। প্রথম দিকে এ ভিজিটগুলো তিন-চার মাস অন্তর হয়ে থাকে। তারপর রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে ফলোআপের সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে
স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এড়াতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল করুন।

১। ভুল সাইজের বক্ষবন্ধনী ব্যবহারঃ স্তনের আকার অনুযায়ী সঠিক মাপের ব্রা ব্যবহার করুন। কেননা নয়তো এটি আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দিতে পারে অনেকখানি। স্তনের আকারের চেয়ে বড় মাপের বক্ষবন্ধনী স্তনের টিস্যুগুলোকে ঠিকমত সাপোর্ট দিতে পারে না আবার অতিরিক্ত ছোট বা টাইট ব্রা স্তনের তরলবাহী লসিকাগুলো কেটে ফেলতে পারে।

২। বক্ষবন্ধনী সারাক্ষণ পরে থাকাঃ সারাক্ষণ বক্ষবন্ধনী পরে থাকার কারণে ঘাম নির্গত হবার অসুবিধে, আর্দ্রতা জমে থাকা, সব মিলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। ঘরে থাকার সময়টুকুতে বক্ষবন্ধনী ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।

৩। লেবেল না দেখে ডিওডোরেন্ট কেনাঃ আজকাল কর্মজীবী নারী হোক বা শিক্ষার্থী সারাদিনের বাইরে থাকা আর সেই সাথে ঘামের দূর্গন্ধ এড়াতে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেন প্রায় সবাইই! এতে নিজের ফ্রেশ ভাবটা যেমন বজায় থাকে তেমনি ঘামের গন্ধের কারণে অন্য কারো সামনেও বিব্রত হতে হয় না। কিন্তু এই ডিওডোরেন্ট কেনার সময় খেয়াল রাখুন কী কী উপাদান আছে এতে। এলুমিনাম বেসড উপাদান থাকলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুকি বাড়ায়। ডিওডোরেন্ট যেহেতু আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করেন, তাই কোন কোম্পানির পণ্যটি ব্যবহার করবেন তা আগে একজন স্কিন বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে জেনে নিন।

৪। ন্যাপথলিনের ব্যবহারঃ আলমারির কাপড়চোপড় পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে নেপথলিন তো আমরা ব্যবহার করেই থাকি। অনেকে আবার বাথরুমের দুর্গন্ধ এড়াতে বেসিনের সিঙ্কেও ফেলে রাখেন কয়েকটি। কিন্তু এটি পুরোটাই ক্ষতিকর কেমিকেল দিয়ে তৈরী, যা কেবল পোকামাকড়কে ১০০ মাইল দূরেই রাখে না, বরং আপনার স্তন ক্যান্সারের ঝুকিও বাড়ায় বহুগুণে। এর চেয়ে নিমপাতা শুকিয়ে কাগজে মুড়িয়ে রেখে দিন। একই উপকার পাবেন।

প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিরাময় সম্ভব। সুতরাং স্তন ক্যান্সার মানেই নিশ্চিত মৃত্যু নয়।

ট্যাগ: banglanewspaper স্তন ক্যান্সারে

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
রোগ নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা ‘লাইট থেরাপি’

banglanewspaper

রোগ নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ দিলেন ভারতের চিকিৎসকরা। তারা জানান, আলো বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে কাজ করছে। যদিও লাইট থেরাপি বহুকাল আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতের পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারোপ্যাথি’র ন্যাচারোপ্যাথি ও যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলম এই চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন রোগে কোন কোন আলো ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

শিশু শরীরে প্রভাব বেশি

আলোর প্রভাব শিশুদের উপর খুব বেশি বোঝা যায়। একটি শিশুকে অনেকক্ষণ লাল আলোর মধ্যে রেখে দিলে তার মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হবে। সে রেগে যাবে। নীল আলোয় রাখলে শিশু শান্ত থাকবে। পশুদের ক্ষেত্রেও আলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আলোর রকমফেরে জীব-জন্তুর মেজাজও বদলে যায়। আজকাল অনেকে আবার রোদে রাখা ‘সোলারাইজড’ জল খাচ্ছেন। কেউ ক্রোমোথেরাপির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন অ্যারোমাথেরাপি, ক্রিস্টালস, ম্যাসাজ, যোগাথেরাপি। এই কম্বাইন্ড থেরাপি খুবই কার্যকর।

রোগ সারে নানা রংয়ে

লাল, হলুদ, নীল। এই তিনটি মৌলিক রং। এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়েই যাবতীয় রং তৈরি করা হয়। এক-একটি আলোর এক এক রকম রোগ সারানোর ক্ষমতা। যেমন অ্যানিমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে লাল রং খুব উপযোগী। এই রং স্পাইনাল কর্ডের নিচে থাকা মূলাধার চক্রকে প্রভাবিত করে। বাড়িয়ে দেয় হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন। কিন্তু কখনওই ক্যানসার রোগীর উপর লাল রঙের ক্রোমোথেরাপি প্রয়োগ করা উচিত নয়। এতে হিতে বিপরীত হবে।

কমলা রং পরিপাকতন্ত্রকে পরিপুষ্ট করে হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ‘মাসল ক্র‌্যাম্প’ সারিয়ে দেয়। সৃষ্টিশীল কাজে মনসংযোগের জন্য এই রং খুবই উপযোগী।

স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে হলুদ রং। মনের জোর বাড়াতেও কার্যকরী। ডায়াবেটিস রোগীদের পাকস্থলী ও লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে হলুদ রং। সবুজ রং চোখের জন্য ভাল এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত, এই রং জ্বর সারাতে পারে, হার্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা রাখে। উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, হাপানিতে নীল রং কার্যকর। অনিদ্রা দূর করতে পারে বেগুনি রং।

গবেষণার সূত্র

আলোর এই ক্ষমতা নিয়েই আড়াই হাজার বছর আগে গবেষণা করেছিলেন পিথাগোরাস। খুঁজে বের করেন আলোর রোগ নিরাময়ের আশ্চর্য ক্ষমতা। পরবর্তীকালে যোগবিজ্ঞানীরা আলোর সঙ্গে শরীরের নানা চক্রের মেলবন্ধন ঘটান। ‘ক্রোমোথেরাপি’ নামে নতুন শব্দবন্ধের জন্ম হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে। কোন রঙের

আলো, কোন রোগ সারায়, তার তালিকা তৈরি করেন। ভারত তো বটেই মিশর, চীনেও ‘ক্রোমোথেরাপি’ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই তিন দেশে বিভিন্ন রঙের হলঘর তৈরি হয়। সেখানেই সমবেত চিকিৎসা হত। সেই সব এখন ইতিহাস।

বাক্সে লুকিয়ে থেরাপি

আসলে প্রতিটি রঙের এনার্জি লেভেল, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা। আলোর ব্যবহার শরীরের চক্রগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যে আলোর কম্পন বেশি, সেই আলো তত বেশি গরম। কম্পন কম হলে আলোর প্রভাব ঠান্ডা হয়। এই বিজ্ঞানকে মাথায় রেখেই জানালার কাচের রং ঠিক করা যেতে পারে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, খাবারের রং, পোশাকের রং-ও শরীর-মনের উপর প্রভাব ফেলে। তবে ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞরা ক্রোমোথেরাপির জন্য ক্রোমোথার্মোলিয়াম নামে একটি বিশেষ বাক্স ব্যবহার করেন।

সূর্যের আলো সেই বাক্সের মধ্যে পড়ে সাতভাগে ভাগ হয়ে শরীরের নানা অংশের উপর পড়ে। কোথাও আবার বেডের উপর নানা রঙের আলো লাগানো হয়। সেই বিছানায় রোগীকে শোয়ানো হলে শরীরের নানা অংশে নানা রঙের আলো পড়বে।

জেনে নিন কোন রং কোন রোগ সারাতে সাহায্য করে

লাল: অ্যানিমিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্যারালাইসিস। সবুজ: হাঁপানি, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা, হৃদরোগ। নীল: অনিদ্রা, চিকেন পক্স, কলেরা, মৃগী। কমলা: থাইরয়েডের সমস্যা, পিরিয়ডের সমস্যা, গাউট, ডায়াবেটিস মেলিটাস। হলুদ: কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণ, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, অর্শ। ইন্ডিগো: হাঁপানি, নিউমোনিয়া। বেগুনি: মূত্রথলি ও কিডনির সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, মৃগী, রিউম্যাটয়েড আর্থারাইটিস।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ক্যানসার প্রতিরোধ করে ফুলকপি

banglanewspaper

শীতকালীন সবজি ফুলকপি এখন সারা বছরই মেলে। স্বাস্থের জন্য দারুন উপকারি এটা। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগের নিরাময়। বিশেষ করে ফুলকপি খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। এছাড়াও এটা ক্যানসার প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।

ফুলকপিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান ক্যানসারের স্টেম সেল মেরে টিউমারের বৃদ্ধি আটকায়। ফুলকপির এই উপাদান প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফুলকপি ফাইবার-সমৃদ্ধ। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফুলকপির সালফোরাফেন রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন। এটি এক ধরনের ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখে(ছবি সৌজন্যে : Pixabay)

ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন, ভিটামিন সি ও ফোলাট ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।

এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। যা হাড় শক্ত রাখে। ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার হজমে সাহায্য করে।

কিডনি রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে ফুলকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস।

এই সবজিতে থাকা সালফোরাফেন রেটিনা নষ্ট হওয়া রোধ করে। উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় ফুলকপি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করতে পারে।

ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ডার্ক স্পট কাটাতে সাহায্য করে।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
সাপের কামড়ে বছরে দেশে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু

banglanewspaper

প্রতিবছর দেশে প্রায় ছয় হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায় এমনটা তথ্য জানিয়ে প্রাণহানি কমাতে সব হাসপাতালে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া সাপের বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রবিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন তথ্য জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস বা এনসিডি) শাখা আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনুমিত পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে প্রতিবছর সাপের কামড়ে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ও ৭ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। মূলত বর্ষাকালে গ্রামের মানুষকেই সাপ কামড়ে থাকে বেশি। বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন ও প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। তাই সাপে কাটা রোগীকে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রতি বছর আনুমানিক সাত লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। আর সাপের কামড়ে মারা যান ছয় হাজার মানুষ। সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

সাপে কামড়ানো রোগীকে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসারও পরামর্শ দেন জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে এসে অপচিকিৎসায় সময় নষ্ট করলে রোগী মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।

জাহিদ মালেক বলেন, সাপের বাসস্থান মানুষ দখল করে নিচ্ছে। সাপের বসবাসের জায়গা আমরা রাখছি না। ফলে সাপ মানুষের বসতিতে চলে আসছে এবং তখনই দংশনের ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকাল, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের সময় সাপের দংশন বৃদ্ধি পায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের বিষধর সাপের মধ্যে কোবরা সাপ বেশি কামড়ায়। বর্ষা, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের ফলে সাপের আবাসস্থল ভেসে গেলে সাপ মানুষের বাড়িতে চলে আসে। গ্রামের মানুষ যারা মাটিতে ঘুমায় তাদেরকে বেশি কামড়ায়। ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও বাঁশঝাড়ে সাপ বেশি থাকায় এসব স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

সভায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দেশে সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসা, সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা, অপচিকিৎসা ও মানুষের মধ্যে অসচেতনতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এ ফয়েজ বলেন, সাপে কাটা রোগীদের অপচিকিৎসারোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ণ করতে হবে। সাপে কাটা রোগীদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় ঝাড়ফুঁক ও ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

এম এ ফয়েজ বলেন, একটা সময় ছিল যখন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপে কাটা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরাসহ বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ডায়াবেটিস নিরাময়ে তুলসী পাতার আশ্চর্য গুণ

banglanewspaper

ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ তুলসী। এই গাছ লামিয়াসি পরিবারের অন্তর্গত একটি সুগন্ধী উদ্ভিদ। তুলসী পাতার গুণ ও তুলসীর রসে তৈরি ওষুধের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। তুলসী পাতা শুধু নয়, পুরো গাছটাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লাগে।

তুলসীর ভেষজ গুণ অনেক। ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি ভরপুর থাকে তুলসীতে। আর থাকে ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, ক্লোরোফিল। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, জীবাণুনাশক গুণ আছে তুলসী পাতার। যে কোনও সংক্রামক ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া তুলসীর মধ্যে আছে ইউজেনল, সিট্রোনেল্লোল, লিনালোল নামক এসেনশিয়াল ওয়েল। এই উপাদানগুলোর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ আছে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা যে কোনও প্যাথোজেনের সংক্রমণে শরীরে যে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, তাকে কমাতে পারে এই এসেনশিয়াল ওয়েল।

প্রাচীনকালে তুলসি পাতা নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। বর্তমানে একটি সমীক্ষা বলছে তুলসী পাতা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে নিয়মিত তুলসী পাতার রস খুব কার্যকরী। এতে শর্করার স্তর ঠিক থাকে, যার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম হয়।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া এই সমীক্ষা টাইপ টু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীদের উপর করা হয়। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে ডায়াবিটিসের ওষুধ খেতে বলা হয়, বাকিদের তার বদলে রোজ দেওয়া হয় ২৫০ মিলিগ্রাম তুলসির নির্যাসযুক্ত ক্যাপসুল।

সমীক্ষা শেষে দেখা যায়, ইনসুলিন ও ওষুধের উপর নির্ভর না করে কেবল তুলসী খেয়েই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তারা। কাজেই ইনসুলিনের ক্ষরণে তুলসীর যে ভূমিকা আছেই, তাতে আর সংশয় থাকে না।

তুলসী পাতা ভাল করে ধুয়ে নিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। এর ফলে তুলসীতে থাকা যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ গুণ সহজেই আপনার শরীরে প্রবেশ করবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও তুলসীর কোনও জুড়ি নেই।

চা খেতে ভালবাসেন? তাহলে দিনে অন্তত একবার তুলসী পাতা দিয়ে চা বানান। পানি গরম করে তাতে কয়েকটি তুলসী পাতা ফুটতে দিন। মিনিট তিনেক পর সেই পানি ফুটে গেলে ছেঁকে খান।

রান্নাতেও তুলসী পাতা ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের রান্নায় তুলসী পাতা দিলে স্বাদ বাড়বে, সেই রকম রান্নায় তুলসী পাতা দিন।

তুলসী পাতা ভেজানো পানিও শরীরের জন্য উপকারি। রাতে এক গ্লাস পানিতে তুলসী পাতা ভিজিয়ে রেখে চাপা দিয়ে দিন। পরের দিন সকালে সেই তুলসী ভেজানো পানি খেয়ে নিন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
করোনা টিকা নেওয়ার পর পেইনকিলার কেন?

banglanewspaper

অন্যান্য টিকার মতো করোনার টিকা নিলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই মৃদু প্রকৃতির এবং এসবের স্থায়িত্ব এক সপ্তাহের বেশি নয়। উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো- ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা-ফোলা বা লাল হওয়া, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, শীতশীত অনুভূতি, ক্লান্তি ও বমিভাব।

যারা করোনার টিকা নেওয়ার পর হাতে ব্যথা অনুভব করেন তাদের একটা প্রবণতা হলো- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পেইনকিলার (ব্যথানাশক ওষুধ) সেবন করা। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের পেইনকিলার রয়েছে। একেক পেইনকিলার একেক স্বাস্থ্য সমস্যায় কার্যকর ও নিরাপদ।

তাই টিকা নেওয়ার আগে জেনে নিন, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?

১. টিকা নেওয়ার পর হাত ফুলে যাচ্ছে সঙ্গে হচ্ছে বিরাট ব্যথা। হাত তোলা যাচ্ছে না। সামান্য গুঁতো লাগলে প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। চিন্তার কিছু নেই। এটিকে কোভিড আর্ম বলা হয়। ব্যথা কমাতে পেনকিলার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের পরামর্শ, নিজের থেকে কমতে দিন ব্যথা। তবে আরাম পেতে বরফ দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে হাতের ব্যায়াম করুন। কিছু সহজ স্ট্রেচিংয়ের ব্যায়াম করতে পারেন। এতে ব্যথা অনেকটা কম বোধ হবে। 

২. কেন হয় হাতে ব্যাথা? বিশেষজ্ঞদের কথায় ভ্যাকসিন যে আপনার শরীরে কাজ করছে এটি তার প্রমাণ বলা যেতে পারে। আপনি যখন ভ্যাকসিনের কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, এর অর্থ হ'ল আপনার অনাক্রম্যতা কাজ করছে। ভ্যাকসিন ভাইরাসের একটি অনুকরণ এবং তাই এটি যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তার প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং শরীরকে প্যাথোজেন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। যেহেতু COVID ভ্যাকসিনগুলি ইনট্রামাসকুলার ইনজেকশনগুলির মাধ্যমে দেওয়া হয় অর্থাৎ সরাসরি পেশীগুলিতে ইনজেকশন দেওয়া হয়। যত ছড়িয়ে পড়ে, তার ফলে ব্যথা হয়। যেহুতু হাতে দেওয়া হয়, তাই সেখানেই ব্যথা বেশি হয়। ইনজেকশন ঠিকঠাক ভাবে না দিলে ব্যথা বেশি হতে পারে। 

৩. জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে খুব জ্বর থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিত পারেন। তবে এই জ্বর সাধারণত দেড় দিন থাকবে। তার চেয়ে বেশি জ্বর থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. টিকা নেওয়ার পর তেল-মশলা দেওয়া রান্না বা প্রসেস্‌ড ফুড না খাওয়াই ভাল। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে দিনভর। তার পরেও বমি-বমি ভাব লাগলে লেবু-জল, আদা চা বা পিপারমেন্ট টি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে  স্মুদির মতো পানীয় খেতে পারেন। ক্লান্তি দূর হবে। উষ্ণ গরম পানীয় খান। স্যুপ খেতে পারেন। 

৫. তবে টিকা নেওয়ার পরদিন বিশ্রামে থাকাই ভাল বলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বিশ্রাম পেলে ক্লান্তিভাব কাটার পাশাপাশি গা-হাতের ব্যথাও অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া গরম জলে লবণ মিশিয়ে গোসল করতে পারেন। আবার দিনের শেষে জলে বাথ সল্ট মিশিয়ে পা ডুবিয়ে বেশ খানিকটা সময় বসে থাকলে আরাম পেতে পারেন।

ট্যাগ: