banglanewspaper

দেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে দিনদিন। শুধু নারীরাও নয়, পুরুষরাও আক্রান্ত হচ্ছেন স্তন ক্যান্সারে। স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের মূলত দুই ধরণের কারণ দেখা যায়।

প্রথমত, অপরিবর্তনযোগ্য কারণসমূহ এবং পরিবর্তনযোগ্য কারণসমূহ। অপরিবর্তনযোগ্য এই কারণে বলা হচ্ছে যে এই ঝুঁকি সমূহ জেনেটিক, বংশ এবং হরমোনের কারণে হয়ে থাকে। পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি সমূহ পুরোপুরি আমাদের নিজেদের হাতে থাকে। চলুন তবে এই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যাক।

অপরিবর্তনযোগ্য কারণসমূহ :

১. জেনেটিক কারণে কিছু মানুষ স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। বিআরসিএ১, বিআরসিএ২ নামের জিনের মিউটেশন ৫% থেকে ১০% স্তন ক্যান্সারের জন্য দায়ী থাকে।

২. বংশগত কারণে এই স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন অনেকেই। যেমন- মা, খালা, বোন বা মেয়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকাংশে।

৩. মহিলাদের মাসিক শুরু এবং বন্ধের বয়সের ওপরেও এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি নির্ভর থাকে। যাদের ১২ বছর বয়সের পূর্বে মাসিক শুরু এবং ৫০ বছর বয়সের পর মাসিক বন্ধ হয় তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

৪. এস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। যারা দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত এস্ট্রোজেন হরমোনের সংস্পর্শে থাকেন, মাসিক বন্ধ হওয়ার পর মহিলাদের মধ্যে যারা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি গ্রহণ করেন, তাদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৫. লিঙ্গভেদে ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়ে। একজন নারী পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন।

৬. বয়স বাড়ার সাথে স্তন ক্যান্সারের আক্রান্তের সম্ভাবনা বাড়ে বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর এই ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়, যা পরিবর্তন যোগ্য নয় মোটেও।

পরিবর্তনযোগ্য কারণ সমুহ :

১. অনেক বেশি বয়স পর্যন্ত বিয়ে না করা এবং ৩০ বছর বয়সের পর নারীদের প্রথম সন্তানের মা হওয়া কিংবা সন্তান না নেয়া মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়।

২. সন্তানকে নিয়মিত বুকের দুধ না খাওয়ানোর অভ্যাসের কারণে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

৩. যারা অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার খান এবং খাদ্যতালিকায় একেবারেই শাক সবজি রাখেন না তাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেক বেশি। এছাড়াও দীর্ঘসময় টিনজাত খাবার খাওয়া, প্রিজারভড খাবার, কৃত্তিম মিষ্টি ও রঙযুক্ত খাবার খাওয়া নারী ও পুরুষের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের জন্য দায়ী।

৪. অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রম একেবারেই না করা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

৫. দীর্ঘদিন এয়ার ফ্রেশনার, কীটনাশক, অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত কসমেটিক, ডিওডোরেন্ট এবং তেজস্ক্রিয় পদার্থের সংস্পর্শে থাকলে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সম্ভাবনা বাড়ে।

 

স্তন ক্যান্সারের সতর্কতাসূচক লক্ষণঃ

১। স্তন কিংবা বুকে ব্যথাঃ স্তন কিংবা বুকে ব্যথা, ধড়ফড় করা, টনটন করা অথবা ধারালো ছুরির আঘাতের মতো ব্যথা কিংবা অস্বস্তি কোন ভালো লক্ষণ নয়। ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে বেঁচে যাওয়া এক রোগী ডাক্তারের কাছে বর্ণনা করেন, তীব্র ব্যথা যা আসে এবং চলে যায়। আরেকজন এই ব্যথাকে মৃদু বৈদ্যুতিক শকের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, এটা আমার বাম স্তন থেকে প্রবাহিত হয়ে ডান স্তনবৃন্তে যাচ্ছে বলে মনে হয়।

স্তন টিউমার বিভিন্ন ফর্মে হতে পারে। একক পিন্ড অথবা বিক্ষিপ্ত বীজের মতো নির্দিষ্ট আকারহীন একাধিক কর্ষিকার মতো স্তন টিস্যুর মধ্যে ছড়িয়ে থাকতে পারে। এগুলি স্তনবৃন্তের পিছনে কিংবা দুগ্ধ নালীতে থাকতে পারে। এই টিউমারের বৃদ্ধির ফলে ব্যথা অথবা অস্বস্তিবোধ হয়। অনেক সময় স্তন টিউমার চাকা কিংবা মাংসপিন্ডের মতো অনুভূত হয় না। এক্ষেত্রে শতকরা ৩০ ভাগের বেলায় একে সনাক্ত করা কঠিন হয়ে যায়।

এসব ক্ষেত্রে কখন, কিভাবে এবং কোথায় ব্যথা হয় তার প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। ডাক্তারকে এবিষয়ে বিস্তারিত বলতে হবে। ডাক্তার যদি অ্যান্টিবায়োটিক দেয় তাহলে কোর্স পুরো শেষ করবেন। তারপরও ব্যথা না সারলে অন্যান্য টেস্ট করার জন্য তাকে অনুরোধ করুন।

২। স্তনে চুলকানিঃ এই লক্ষণ প্রদাহজনক স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ বলে বিবেচনা করা হয়। এটা আশ্চর্যের বিষয় যে, অনেক নারী এধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার পর, এটাকে চর্মরোগ বিবেচনা করে মাসের পর মাস চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নিয়ে থাকেন।

স্তনে ফুসকুড়ি হলে তীব্র চুলকানি থেকে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে মলম ব্যবহার করেও কোন উপকার পাওয়া যায় না। এধরনের সমস্যায় স্তনের চামড়া আঁশযুক্ত হয়ে যায়। স্তনে টোল খায় অথবা খাঁজের সৃষ্টি হয়। স্তন কুঁচকে যায়।

এক্ষেত্রে দ্রুত বর্ধমান ক্যান্সার টিস্যুর কারণে স্তন টিস্যু দিয়ে লসিকা নালীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। অন্য যেকোন স্তন ক্যান্সারের তুলনায় প্রদাহজনক স্তন ক্যান্সার অনেক বেশি ভয়াবহ।

৩। পিঠের উপরের দিকে, কাঁধে কিংবা ঘাড়ে ব্যথাঃ স্তন ক্যান্সারের অনেক রোগীর ক্ষেত্রে বুকে ব্যথা না করে কাঁধে কিংবা ঘাড়ে, পিঠে ব্যথা করে। এ কারণে অনেকে মেরুদন্ড বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ক্রনিক পিঠে ব্যথার চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। যা ফিজিক্যাল থেরাপি দিয়েও ঠিক করা যায় না।

অনেক স্তন টিউমার গ্রন্থিময় টিস্যুতে বিকশিত হয়, যা বুকের গভীরে প্রসারিত হয়। এই টিউমার বড় হয়ে পাঁজরে কিংবা মেরুদন্ডে চাপের সৃষ্টি করে। ফলে এসব এলাকায় ব্যথার উদ্ভব হয়। এ থেকে পরবর্তীকালে দ্বিতীয় পর্যায়ের হাড়ের ক্যান্সার হতে পারে।

এক্ষেত্রে পিঠের ব্যথা ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। চিকিৎসায় ব্যথা ঠিক না হলে পিঠের স্ক্যান করান।

৪। স্তনের আকার পরিবর্তনঃ স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে জনপ্রিয় ধারণা হলো স্তনে চাকার উপস্থিতি। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত ৪২ বছর বয়সি একজন নারী বলেন, চাকার পরিবর্তে আমার একটি স্তন ডিম্বাকৃতির মতো হয়ে গিয়েছিলো।

এই ধরণের সমস্যা অনুভব করার চেয়ে আয়নার সামনে বেশি দৃশ্যমান হয়। এক্ষেত্রে ব্রা খুলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ভালভাবে আপনার স্তন পর্যবেক্ষণ করুন।

৫। স্তনবৃন্তে পরিবর্তন কিংবা সংবেদনশীলতাঃ সাধারণত টিউমার স্তনবৃন্তের পিছনে অবস্থান করে। ফলে এর আকারের পরিবর্তন ঘটে। পুরুষের স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে প্রায় সময় স্তনবৃন্তের পরিবর্তন দেখা যায়। স্তনবৃন্তের আশপাশের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়। নিপল এ অসামঞ্জস্যতা দেখা যায় ও মোটা হয়ে যায়, স্তনের চামড়ায় ছোট ছোট ছিদ্রের মত দেখা যায়।স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তরা প্রায় সময় লক্ষ করেন তাদের স্তনবৃন্তের সংবেদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে। নিপল থেকে রক্ত, পুঁজ অথবা পানি জাতীয় পদার্থ বের হয়ে আসছে।

আমেরিকান সোসাইটি অব ব্রেস্ট সার্জন সম্প্রতি জানিয়েছে, পুরুষের স্তন ক্যান্সার নারীর তুলনায় দেরীতে সনাক্ত করা যায় এবং এটা মারাত্মক হয়ে থাকে।

৬। বগলে পিন্ড কিংবা ফোলাভাবঃ বগলে কোন ব্যথা হলে আঙ্গুল দিয়ে সতর্কতার সাথে পরীক্ষা করে দেখুন। স্তন থেকে নির্গত লসিকা তরলের মাধ্যমে বগলের লসিকা গ্রন্থিতে প্রথমে স্তন ক্যান্সারের বিস্তৃতি ঘটে। ঠান্ডা, ফ্লু অথবা সংক্রমণের কারণে লসিকা গ্রন্থি ফুলে গেলে অপেক্ষা করুন সেরে যাওয়া পর্যন্ত। যদি এক সপ্তাহের পরও বগলের ফোলা না কমে তাহলে ডাক্তার কে দেখাতে পারেন।

৭। লাল, ফোলা স্তনঃ স্তনে আঘাত লাগলে স্বাভাবিকভাবেই এটি ফুলে যাবে।কিন্ত স্তন যদি গরম অনুভূত হয় কিংবা লালচে রঙ এর হয়ে যায় তাহলে স্তনগ্রন্থির স্ফীতি অথবা প্রদাহ বলে সন্দেহ করতে পারেন। এটা প্রদাহজনক স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এছাড়া স্তনের টিউমারের কারণে স্তন ফুলে যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনি নিজেই ফোলাভাব পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

রোগ নির্ণয় :

রোগ নির্ণয়ের মূল পরীক্ষা হচ্ছে, অনুভূত চাকা বা দলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে হিস্টো বা সাইটোপ্যাথলজি পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের উপস্থিতি শনাক্তকরণ। নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে সূক্ষ্ম সুই ফুটিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা এখন বিশ্বজুড়ে আধুনিক পদ্ধতি হিসেবে প্রচলিত আছে। এই পরীক্ষা পদ্ধতিকে ইংরেজিতে বলা হয় FNAC. এই FNAC পরীক্ষা নির্ভুল করার জন্য নমুনা সংগ্রহ করার সময় আল্ট্রাসনোগ্রাফির সহায়তা নেয়া যেতে পারে। FNAC পরীক্ষায় শত ভাগ নিশ্চিত না হলে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের শুরুতে Frozen Section হিস্টো প্যাথলজি করে নিশ্চিত হয়ে যথাযথ অস্ত্রোপচার করা যায়। কাজেই সনাতন পদ্ধতিতে কেটে নমুনা সংগ্রহ করা, অর্থাৎ Open Biops- করা এখনকার দিনে আর প্রয়োজন হয় না। নমুনা সংগ্রহের আগে ক্ষেত্রবিশেষে স্তনের বিশেষ ধরনের X-ray ম্যামোগ্রাফি কিংবা আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে চাকা বা দলার কিছু বৈশিষ্ট্য যাচাই করা যেতে পারে, যা রোগ নির্ণয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করে মাত্র। কাজেই সুনিশ্চিতভাবে চাকা বা দলা অনুভব করা গেলে প্রথম পরীক্ষা হিসেবে সুই ফুটিয়ে নমুনা সংগ্রহ করাই যৌক্তিক বা বাস্তবভিত্তিক পরীক্ষা। স্তন সমস্যা হলে ঢালাওভাবে গধসড়মৎধঢ়যু করা আদৌ যৌক্তিক নয়, বরং তাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্তনে অপ্রয়োজনীয় রেডিয়েশন প্রবাহের ঘটনা ঘটে, যা পরবর্তীকালে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। আর ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের নিচের মহিলাদের Mammography করাই উচিত নয়। তাই স্তনের ইমেজিং বা ছবির মাধ্যমে নিরীক্ষণ দরকার হলে হাই রেজুলেশন আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা উত্তম ও নিরাপদ। তা ছাড়া ভালো আল্ট্রাসনোগ্রাফি মেমোগ্রাফি থেকে বেশি তথ্য প্রদানে সক্ষম। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাফিকেই প্রথম বিবেচ্য ইমেজিং পরীক্ষা হিসেবে অনুমোদন করি, যদি ইমেজিংয়ের নিতান্তই প্রয়োজন হয়। রোগ নির্ণয়ের পর অনেক পরীক্ষা করা হয়, তা মূলত অসুখের পর্যায় নির্ণয় ও সঠিক চিকিৎসার যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য। অপারেশনের পর টিউমার নমুনা থেকে আরো অনেক পরীক্ষা করা হয়, যেমন- বিভিন্ন ধরনের হরমোন রিসেপ্টর পরীক্ষা, যেগুলো ক্যান্সারের জৈবিক চরিত্র বিশ্লেষণে সহায়ক এবং হরমোন চিকিৎসার যৌক্তিকতা ও ফলাফলপ্রাপ্তির ব্যাপারে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

চিকিৎসা :

সুনিশ্চিতভাবে স্তন ক্যান্সার নির্ণয় হলে সঠিক চিকিৎসা নির্ভর করে কিছু বিষয়ের ওপর। বিষয়গুলো হলো- রোগীর বয়স, ক্যান্সারের আকার-আকৃতি ও অবস্থান, ক্যান্সারের পর্যায় ও বিস্তৃতি, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাপ্রাপ্যতার সুযোগ এবং সর্বোপরি রোগীর ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও পছন্দ ইত্যাদি। আধুনিক বিশ্বে স্তন ক্যান্সার চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয় সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এবং সে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ করেন ব্রেস্ট সার্জন, অনকোলজিস্ট, রেডিও থেরাপিস্ট, প্লাস্টিক সার্জন ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী নিজে। সব বিষয় বিবেচনা করে একটি সুষ্ঠু চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়, যা সমন্বিতভাবে কিংবা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হয়। চিকিৎসার বিভিন্ন পন্থা হলো অস্ত্রোপচার, ক্যামোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোনথেরাপি। প্রাথমিক পর্যায়, অর্থাৎ স্তন ক্যান্সার শুধু স্তন কিংবা স্তনসংলগ্ন বগলের লসিকাগ্রন্থির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চিকিৎসার প্রথম ও মৌলিক ধাপ হিসেবে অস্ত্রোপচার সর্বজনস্বীকৃত। এই অস্ত্রোপচার স্তন সংরক্ষণ করে শুধু টিউমার অপসারণ ও বগলের লসিকাগ্রন্থির নমুনা সংগ্রহ কিংবা টিউমারসহ সমস্ত স্তন কর্তন এবং সেই সাথে বগলের লসিকাগ্রন্থির নমুনা সংগ্রহ বা লসিকাগ্রন্থিগুলোর অপসারণ হতে পারে। কার বেলায় কোন ধরনের অস্ত্রোপচার প্রযোজ্য তা নির্ণিত হয় ক্যান্সারের বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য ও রোগীর ইচ্ছার ওপর। তারপর বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে সম্পূরক চিকিৎসা হিসেবে ক্যামোথেরাপি, রেডিওথেরাপি কিংবা হরমোনথেরাপি দিতে হবে। যদি স্তন ক্যান্সার স্থানীয়ভাবে অগ্রবর্তী বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়, সে ক্ষেত্রে প্রথমেই ক্যামো (নিওঅ্যাডজুভেন্ট) কিংবা রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে টিউমারের বিস্তৃতি নিম্নগামী (ডউন স্টেজিং) করে তার অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর অবশ্যই সম্পূরক চিকিৎসা হিসেবে ক্যামো, রেডিও বা হরমোনথেরাপি দিতে হবে। স্তন ক্যান্সার নির্ণয়ের পর্যায়ে যদি দেখা যায়, রোগ স্তনের বাইরে অনেক অংশেই বিস্তার লাভ করেছে, সে ক্ষেত্রে তা আর নিরাময়যোগ্য পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসার নীতিমালা হলো রোগীর বিভিন্ন ধরনের কষ্টদায়ক উপসর্গ বা উপসর্গগুলোর উপসর্গ ভিত্তিক চিকিৎসা প্রদান করে কষ্ট লাঘব করা। এ ক্ষেত্রে কষ্ট লাঘবের জন্য ক্যামো বা রেডিওথেরাপি, ব্যথানাশক ও অন্যান্য অনুষঙ্গিক চিকিৎসা প্রদান করাই বাঞ্ছনীয়। স্তন ক্যান্সারের এমন অগ্রবর্তী পর্যায়ে রোগ নিরাময়ের চিন্তা করা আদৌ সমীচীন নয়।

প্রতিকার :

স্তন ক্যান্সার প্রতিকার বা প্রতিরোধ করতে হলে আগে উল্লিখিত কারণগুলোর মধ্যে যেগুলো পরিহার বা পরিত্যাগ করা যায় তা পালন করা। তবে সত্যিকার অর্থে প্রাথমিক প্রতিকার বা প্রতিরোধ করা হয়তো সম্ভব নয়। তাই প্রাথমিক প্রতিকারের চেয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়কেই মূলত প্রাধান্য দেয়া উচিত। যারা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি গোত্রের পর্যায়ে পড়েন, তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিয়মিতভাবে যথাযথ পদ্ধতিতে নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা করা উচিত এবং সে পরীক্ষায় সন্দেহজনক কিছু মনে হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ট্যাগ: banglanewspaper স্তন ক্যান্সার

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
রোগ নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা ‘লাইট থেরাপি’

banglanewspaper

রোগ নিরাময়ে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ দিলেন ভারতের চিকিৎসকরা। তারা জানান, আলো বিভিন্ন রোগের দাওয়াই হিসেবে কাজ করছে। যদিও লাইট থেরাপি বহুকাল আগে থেকেই ব্যবহৃত হচ্ছে।

ভারতের পুণের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ন্যাচারোপ্যাথি’র ন্যাচারোপ্যাথি ও যোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলম এই চিকিৎসা পদ্ধতির খোঁজ নিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন রোগে কোন কোন আলো ব্যবহার করা হয় সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

শিশু শরীরে প্রভাব বেশি

আলোর প্রভাব শিশুদের উপর খুব বেশি বোঝা যায়। একটি শিশুকে অনেকক্ষণ লাল আলোর মধ্যে রেখে দিলে তার মধ্যে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হবে। সে রেগে যাবে। নীল আলোয় রাখলে শিশু শান্ত থাকবে। পশুদের ক্ষেত্রেও আলোর প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আলোর রকমফেরে জীব-জন্তুর মেজাজও বদলে যায়। আজকাল অনেকে আবার রোদে রাখা ‘সোলারাইজড’ জল খাচ্ছেন। কেউ ক্রোমোথেরাপির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন অ্যারোমাথেরাপি, ক্রিস্টালস, ম্যাসাজ, যোগাথেরাপি। এই কম্বাইন্ড থেরাপি খুবই কার্যকর।

রোগ সারে নানা রংয়ে

লাল, হলুদ, নীল। এই তিনটি মৌলিক রং। এদের বিভিন্ন অনুপাতে মিশিয়েই যাবতীয় রং তৈরি করা হয়। এক-একটি আলোর এক এক রকম রোগ সারানোর ক্ষমতা। যেমন অ্যানিমিয়া রোগীদের ক্ষেত্রে লাল রং খুব উপযোগী। এই রং স্পাইনাল কর্ডের নিচে থাকা মূলাধার চক্রকে প্রভাবিত করে। বাড়িয়ে দেয় হিমোগ্লোবিনের উৎপাদন। কিন্তু কখনওই ক্যানসার রোগীর উপর লাল রঙের ক্রোমোথেরাপি প্রয়োগ করা উচিত নয়। এতে হিতে বিপরীত হবে।

কমলা রং পরিপাকতন্ত্রকে পরিপুষ্ট করে হজম ক্ষমতাকে বাড়িয়ে দেয়। থাইরয়েড গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বাড়ায়। ‘মাসল ক্র‌্যাম্প’ সারিয়ে দেয়। সৃষ্টিশীল কাজে মনসংযোগের জন্য এই রং খুবই উপযোগী।

স্নায়ুতন্ত্রকে শক্তিশালী করে হলুদ রং। মনের জোর বাড়াতেও কার্যকরী। ডায়াবেটিস রোগীদের পাকস্থলী ও লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে হলুদ রং। সবুজ রং চোখের জন্য ভাল এটা আমরা সবাই জানি। কিন্তু গবেষণায় প্রমাণিত, এই রং জ্বর সারাতে পারে, হার্ট ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা রাখে। উচ্চ রক্তচাপ, মাথাধরা, হাপানিতে নীল রং কার্যকর। অনিদ্রা দূর করতে পারে বেগুনি রং।

গবেষণার সূত্র

আলোর এই ক্ষমতা নিয়েই আড়াই হাজার বছর আগে গবেষণা করেছিলেন পিথাগোরাস। খুঁজে বের করেন আলোর রোগ নিরাময়ের আশ্চর্য ক্ষমতা। পরবর্তীকালে যোগবিজ্ঞানীরা আলোর সঙ্গে শরীরের নানা চক্রের মেলবন্ধন ঘটান। ‘ক্রোমোথেরাপি’ নামে নতুন শব্দবন্ধের জন্ম হয় চিকিৎসাবিজ্ঞানে। কোন রঙের

আলো, কোন রোগ সারায়, তার তালিকা তৈরি করেন। ভারত তো বটেই মিশর, চীনেও ‘ক্রোমোথেরাপি’ ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এই তিন দেশে বিভিন্ন রঙের হলঘর তৈরি হয়। সেখানেই সমবেত চিকিৎসা হত। সেই সব এখন ইতিহাস।

বাক্সে লুকিয়ে থেরাপি

আসলে প্রতিটি রঙের এনার্জি লেভেল, তরঙ্গদৈর্ঘ্য আলাদা। আলোর ব্যবহার শরীরের চক্রগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যে আলোর কম্পন বেশি, সেই আলো তত বেশি গরম। কম্পন কম হলে আলোর প্রভাব ঠান্ডা হয়। এই বিজ্ঞানকে মাথায় রেখেই জানালার কাচের রং ঠিক করা যেতে পারে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, খাবারের রং, পোশাকের রং-ও শরীর-মনের উপর প্রভাব ফেলে। তবে ন্যাচারোপ্যাথি বিশেষজ্ঞরা ক্রোমোথেরাপির জন্য ক্রোমোথার্মোলিয়াম নামে একটি বিশেষ বাক্স ব্যবহার করেন।

সূর্যের আলো সেই বাক্সের মধ্যে পড়ে সাতভাগে ভাগ হয়ে শরীরের নানা অংশের উপর পড়ে। কোথাও আবার বেডের উপর নানা রঙের আলো লাগানো হয়। সেই বিছানায় রোগীকে শোয়ানো হলে শরীরের নানা অংশে নানা রঙের আলো পড়বে।

জেনে নিন কোন রং কোন রোগ সারাতে সাহায্য করে

লাল: অ্যানিমিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্যারালাইসিস। সবুজ: হাঁপানি, অনিদ্রা, হজমের সমস্যা, হৃদরোগ। নীল: অনিদ্রা, চিকেন পক্স, কলেরা, মৃগী। কমলা: থাইরয়েডের সমস্যা, পিরিয়ডের সমস্যা, গাউট, ডায়াবেটিস মেলিটাস। হলুদ: কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণ, কিডনির সমস্যা, ডায়াবেটিস, অর্শ। ইন্ডিগো: হাঁপানি, নিউমোনিয়া। বেগুনি: মূত্রথলি ও কিডনির সমস্যা, ত্বকের সমস্যা, মৃগী, রিউম্যাটয়েড আর্থারাইটিস।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ক্যানসার প্রতিরোধ করে ফুলকপি

banglanewspaper

শীতকালীন সবজি ফুলকপি এখন সারা বছরই মেলে। স্বাস্থের জন্য দারুন উপকারি এটা। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রোগের নিরাময়। বিশেষ করে ফুলকপি খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে। এছাড়াও এটা ক্যানসার প্রতিরোধ করতেও সহায়তা করে।

ফুলকপিতে রয়েছে সালফোরাফেন। এই উপাদান ক্যানসারের স্টেম সেল মেরে টিউমারের বৃদ্ধি আটকায়। ফুলকপির এই উপাদান প্রস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফুলকপি ফাইবার-সমৃদ্ধ। যা হার্টের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। ফুলকপির সালফোরাফেন রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

ফুলকপিতে রয়েছে কোলিন। এটি এক ধরনের ভিটামিন বি। যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভাল রাখে(ছবি সৌজন্যে : Pixabay)

ফুলকপিতে থাকা সালফোরাফেন, ভিটামিন সি ও ফোলাট ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।

এটি ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। যা হাড় শক্ত রাখে। ফুলকপিতে উপস্থিত ফাইবার হজমে সাহায্য করে।

কিডনি রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে ফুলকপিতে থাকা ফাইটোকেমিক্যালস।

এই সবজিতে থাকা সালফোরাফেন রেটিনা নষ্ট হওয়া রোধ করে। উচ্চমাত্রায় ফাইবার থাকায় ফুলকপি রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করতে পারে।

ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন রকমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চামড়ার ডার্ক স্পট কাটাতে সাহায্য করে।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
সাপের কামড়ে বছরে দেশে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু

banglanewspaper

প্রতিবছর দেশে প্রায় ছয় হাজার মানুষ সাপের কামড়ে মারা যায় এমনটা তথ্য জানিয়ে প্রাণহানি কমাতে সব হাসপাতালে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এছাড়া সাপের বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রবিবার এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে এমন তথ্য জানান মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস বা এনসিডি) শাখা আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অনুমিত পরিসংখ্যান অনুসারে দেশে প্রতিবছর সাপের কামড়ে ৬ হাজার মানুষের মৃত্যু ও ৭ লাখেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়। মূলত বর্ষাকালে গ্রামের মানুষকেই সাপ কামড়ে থাকে বেশি। বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন ও প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। তাই সাপে কাটা রোগীকে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘প্রতি বছর আনুমানিক সাত লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। আর সাপের কামড়ে মারা যান ছয় হাজার মানুষ। সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

সাপে কামড়ানো রোগীকে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসারও পরামর্শ দেন জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সাপে কামড়ানোর পর দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে এসে অপচিকিৎসায় সময় নষ্ট করলে রোগী মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়।

জাহিদ মালেক বলেন, সাপের বাসস্থান মানুষ দখল করে নিচ্ছে। সাপের বসবাসের জায়গা আমরা রাখছি না। ফলে সাপ মানুষের বসতিতে চলে আসছে এবং তখনই দংশনের ঘটনা ঘটছে। বর্ষাকাল, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের সময় সাপের দংশন বৃদ্ধি পায়।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বিভিন্ন ধরনের বিষধর সাপের মধ্যে কোবরা সাপ বেশি কামড়ায়। বর্ষা, বন্যা ও বৃষ্টিপাতের ফলে সাপের আবাসস্থল ভেসে গেলে সাপ মানুষের বাড়িতে চলে আসে। গ্রামের মানুষ যারা মাটিতে ঘুমায় তাদেরকে বেশি কামড়ায়। ঝোপঝাড়, জঙ্গল ও বাঁশঝাড়ে সাপ বেশি থাকায় এসব স্থান এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

সভায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দেশে সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসা, সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা, অপচিকিৎসা ও মানুষের মধ্যে অসচেতনতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এম এ ফয়েজ বলেন, সাপে কাটা রোগীদের অপচিকিৎসারোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ণ করতে হবে। সাপে কাটা রোগীদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় ঝাড়ফুঁক ও ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

এম এ ফয়েজ বলেন, একটা সময় ছিল যখন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপে কাটা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সরবরাহ করা হচ্ছে। এ চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরাসহ বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
ডায়াবেটিস নিরাময়ে তুলসী পাতার আশ্চর্য গুণ

banglanewspaper

ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছ তুলসী। এই গাছ লামিয়াসি পরিবারের অন্তর্গত একটি সুগন্ধী উদ্ভিদ। তুলসী পাতার গুণ ও তুলসীর রসে তৈরি ওষুধের আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে। তুলসী পাতা শুধু নয়, পুরো গাছটাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় লাগে।

তুলসীর ভেষজ গুণ অনেক। ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি ভরপুর থাকে তুলসীতে। আর থাকে ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন, ক্লোরোফিল। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, জীবাণুনাশক গুণ আছে তুলসী পাতার। যে কোনও সংক্রামক ব্যাধির প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

এছাড়া তুলসীর মধ্যে আছে ইউজেনল, সিট্রোনেল্লোল, লিনালোল নামক এসেনশিয়াল ওয়েল। এই উপাদানগুলোর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ আছে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা যে কোনও প্যাথোজেনের সংক্রমণে শরীরে যে তীব্র প্রদাহ বা ইনফ্ল্যামেশন তৈরি হয়, তাকে কমাতে পারে এই এসেনশিয়াল ওয়েল।

প্রাচীনকালে তুলসি পাতা নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত। বর্তমানে একটি সমীক্ষা বলছে তুলসী পাতা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখতে নিয়মিত তুলসী পাতার রস খুব কার্যকরী। এতে শর্করার স্তর ঠিক থাকে, যার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম হয়।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া এই সমীক্ষা টাইপ টু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত রোগীদের উপর করা হয়। এদের মধ্যে ৫০ শতাংশকে ডায়াবিটিসের ওষুধ খেতে বলা হয়, বাকিদের তার বদলে রোজ দেওয়া হয় ২৫০ মিলিগ্রাম তুলসির নির্যাসযুক্ত ক্যাপসুল।

সমীক্ষা শেষে দেখা যায়, ইনসুলিন ও ওষুধের উপর নির্ভর না করে কেবল তুলসী খেয়েই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন তারা। কাজেই ইনসুলিনের ক্ষরণে তুলসীর যে ভূমিকা আছেই, তাতে আর সংশয় থাকে না।

তুলসী পাতা ভাল করে ধুয়ে নিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। এর ফলে তুলসীতে থাকা যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ গুণ সহজেই আপনার শরীরে প্রবেশ করবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও তুলসীর কোনও জুড়ি নেই।

চা খেতে ভালবাসেন? তাহলে দিনে অন্তত একবার তুলসী পাতা দিয়ে চা বানান। পানি গরম করে তাতে কয়েকটি তুলসী পাতা ফুটতে দিন। মিনিট তিনেক পর সেই পানি ফুটে গেলে ছেঁকে খান।

রান্নাতেও তুলসী পাতা ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের রান্নায় তুলসী পাতা দিলে স্বাদ বাড়বে, সেই রকম রান্নায় তুলসী পাতা দিন।

তুলসী পাতা ভেজানো পানিও শরীরের জন্য উপকারি। রাতে এক গ্লাস পানিতে তুলসী পাতা ভিজিয়ে রেখে চাপা দিয়ে দিন। পরের দিন সকালে সেই তুলসী ভেজানো পানি খেয়ে নিন।

ট্যাগ:

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
করোনা টিকা নেওয়ার পর পেইনকিলার কেন?

banglanewspaper

অন্যান্য টিকার মতো করোনার টিকা নিলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, যা অস্বাভাবিক কিছু নয়। অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই মৃদু প্রকৃতির এবং এসবের স্থায়িত্ব এক সপ্তাহের বেশি নয়। উল্লেখযোগ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো- ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা-ফোলা বা লাল হওয়া, জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, শীতশীত অনুভূতি, ক্লান্তি ও বমিভাব।

যারা করোনার টিকা নেওয়ার পর হাতে ব্যথা অনুভব করেন তাদের একটা প্রবণতা হলো- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পেইনকিলার (ব্যথানাশক ওষুধ) সেবন করা। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের পেইনকিলার রয়েছে। একেক পেইনকিলার একেক স্বাস্থ্য সমস্যায় কার্যকর ও নিরাপদ।

তাই টিকা নেওয়ার আগে জেনে নিন, এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির থেকে মুক্তি পাবেন কীভাবে?

১. টিকা নেওয়ার পর হাত ফুলে যাচ্ছে সঙ্গে হচ্ছে বিরাট ব্যথা। হাত তোলা যাচ্ছে না। সামান্য গুঁতো লাগলে প্রাণ বেরিয়ে যাচ্ছে। চিন্তার কিছু নেই। এটিকে কোভিড আর্ম বলা হয়। ব্যথা কমাতে পেনকিলার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তাদের পরামর্শ, নিজের থেকে কমতে দিন ব্যথা। তবে আরাম পেতে বরফ দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে হাতের ব্যায়াম করুন। কিছু সহজ স্ট্রেচিংয়ের ব্যায়াম করতে পারেন। এতে ব্যথা অনেকটা কম বোধ হবে। 

২. কেন হয় হাতে ব্যাথা? বিশেষজ্ঞদের কথায় ভ্যাকসিন যে আপনার শরীরে কাজ করছে এটি তার প্রমাণ বলা যেতে পারে। আপনি যখন ভ্যাকসিনের কোনও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া অনুভব করেন, এর অর্থ হ'ল আপনার অনাক্রম্যতা কাজ করছে। ভ্যাকসিন ভাইরাসের একটি অনুকরণ এবং তাই এটি যখন শরীরে প্রবেশ করে তখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তার প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং শরীরকে প্যাথোজেন থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। যেহেতু COVID ভ্যাকসিনগুলি ইনট্রামাসকুলার ইনজেকশনগুলির মাধ্যমে দেওয়া হয় অর্থাৎ সরাসরি পেশীগুলিতে ইনজেকশন দেওয়া হয়। যত ছড়িয়ে পড়ে, তার ফলে ব্যথা হয়। যেহুতু হাতে দেওয়া হয়, তাই সেখানেই ব্যথা বেশি হয়। ইনজেকশন ঠিকঠাক ভাবে না দিলে ব্যথা বেশি হতে পারে। 

৩. জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল খেতে পারেন। তবে খুব জ্বর থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিত পারেন। তবে এই জ্বর সাধারণত দেড় দিন থাকবে। তার চেয়ে বেশি জ্বর থাকলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. টিকা নেওয়ার পর তেল-মশলা দেওয়া রান্না বা প্রসেস্‌ড ফুড না খাওয়াই ভাল। প্রচুর পরিমাণে জল খেতে হবে দিনভর। তার পরেও বমি-বমি ভাব লাগলে লেবু-জল, আদা চা বা পিপারমেন্ট টি খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া মাঝে মাঝে  স্মুদির মতো পানীয় খেতে পারেন। ক্লান্তি দূর হবে। উষ্ণ গরম পানীয় খান। স্যুপ খেতে পারেন। 

৫. তবে টিকা নেওয়ার পরদিন বিশ্রামে থাকাই ভাল বলছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বিশ্রাম পেলে ক্লান্তিভাব কাটার পাশাপাশি গা-হাতের ব্যথাও অনেকটা কমে যাবে। এছাড়া গরম জলে লবণ মিশিয়ে গোসল করতে পারেন। আবার দিনের শেষে জলে বাথ সল্ট মিশিয়ে পা ডুবিয়ে বেশ খানিকটা সময় বসে থাকলে আরাম পেতে পারেন।

ট্যাগ: