banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) দেশের সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে কাজ করে। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের (অধ্যাপক আব্দুল মান্নান) যদি  নিজের ‘পিএইচডি’ না থাকে তাহলে তিনি কিভাবে নেতৃত্ব দিবেন। কারণ তার নেতৃত্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের শুধু পিএইচডিই নয়; পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতাও আছে।

সাম্প্রতিক এই নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় বেশ আলোচনা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর কামরুল হাসান মুন্না তার ফেসবুকে একটি স্টাটার্স দিয়েছেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন রেখেছেন ‘ইউনিভার্সিটি গ্র্যান্টস কমিশনের চেয়ারম্যানকে একজন "জনাব" ভাবা যায়?’ তার কথার জবাবে পক্ষে বিপক্ষে অনেকে বিভিন্ন কমেন্টস করেছেন।

সুশান্ত দাস লিখেছেন, আমি তর্ক করার জন্য বলছি না। আমি বরং মনে করি শিক্ষকতা ও গবেষণা ক্ষেত্রে পি এইচ ডি করা অবশ্যই প্রয়োজন, তাতে যদি কিছু অপদার্থ পি এইচ ডি হয় তাও। সাধারণ এর জন্য সাধারণ নিয়ম অবশ্যই থাকবে আবার অসাধারণ দেখার চোখ না থাকলে, সাধারণ রাই নিয়ম হয়ে যায়। কি জন্যে পি এইচ ডি করতে বলছি সেটা না বুঝে গোল্ডেন এ প্লাস পাবার মত অবস্থা না হয়। গোল্ডেন এ প্লাস যারা তাদের অনেকেই অসাধারণ, কিন্তু সবাই অসাধারণ নয়। সেজন্য বলি, নিয়মটা কেন সেটা জানা না থাকলে কি বিপত্তি হতে সেটা স্মরণ রাখার জন্যই বলা। ক্লাসে ফার্স্ট বয় সব সময় ফার্স্ট নয়।

প্রফেসর কামরুল হাসান মুন্না আরো লিখেছেন, ‘যেই প্রতিষ্ঠান (ইউজিসি) এমন সব প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিবে সেইসব প্রতিষ্ঠান কেমন? সাধারণত আশা করা হয় সেইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগনের সবার শুধু পিএইচডিই নয় পোস্ট-ডক্টরাল অভিজ্ঞতা থাকবে। তারা সবাই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক বা গবেষক হবে বলে আশা করা স্বাভাবিক। এমনসব প্রতিষ্ঠানের যিনি নেতৃত্ব দিবেন তার নিজের পিএইচডি-ই নাই।’

তিনি আরো লিখেছেন, ‘ফলে তার হাত দিয়ে যত নিয়মকানুন তৈরী হবে সেগুলোতে পিএইচডি, পোস্ট-ডক আর গবেষণা অবহেলিত থাকবে এটা স্বাভাবিক। এইজন্যই দেখি উনার আমলে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিয়োগ-প্রোমোশনের যেই সার্বজনীন নিয়ম করা হয়েছে তাতে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক অভিজ্ঞতাটাকে মারাত্মকভাবে অবহেলা করা হয়েছে।’

প্রফেসর কামরুল হাসান মুন্না লিখেছেন, ‘আগে নিয়ম ছিল পিএইচডি ডিগ্রী থাকলে তিনটি ইনক্রিমেন্ট দেওয়ার সেটা এখন বিশ্ববিদ্যালয় লেভেলে নেই। কিন্তু সরকারি কলেজগুলোতে এখনো আছে। ইনক্রিমেন্ট বড় কথা নয়। স্বাভাবিক, উনার নেতৃত্বে নিশ্চই এমন নিয়ম করা হবে না যাতে উনি নিজেই undermined হন। বিষয়টা হলো উচ্চতর ডিগ্রীধারি আর উচ্চতর ডিগ্রীবিহীনকে এক কাতারে বিচার করা। এটা কেবল একটি উদাহরণ দিলাম।’

এসময় তিনি পরমাণু শক্তি কমিশনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর নিয়ে বলেছেন।

প্রফেসর কামরুল হাসানের কথা পরিপেক্ষিতে জামাল উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন, ‘স্বাভাবিক, উনার নেতৃত্বে নিশ্চয়ই এমন নিয়ম করা হবে না যাতে উনি নিজেই undermind হন।"-----এ প্রসঙ্গে একটা কবিতার চরণ মনে পড়লো--"কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে।’

মো. সাজ্জাদুর রহমান লিখেছেন, ‘এরপরেও যদি প্রথমজন (ইউজিসি চেয়ারম্যান) একটু দলবাজিটা কমিয়ে নিজের কাজ করতেন, তাহলেও উপকার হতে পারতো। নিয়মিত বস্তাপচা কলাম লিখে নিজের দাসত্ব প্রমানই যেন মূল দায়িত্ব তার।’

ট্যাগ: ইউজিসি চেয়ারম্যানের