banglanewspaper

বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের শার্শায় শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সলমন দাস (৪৩) কে মারপিট করে আহত করেছে। আহত সলমন উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামের জুরান দাসের ছেলে। পরে রাগের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় দলীয় ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সলমনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ঘরের টিভিসহ অন্যান্য আসবাবপত্র। তছনছ করে ঘরে রক্ষিত জমি বিক্রয়ের নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৮ভরি স্বর্ণালংকার, ৩টি দামি মোবাইল লুট করে নিয়ে যায়।                                            

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত আনুমাণিক সাড়ে ৯ টার দিকে সলমনসহ আরো অনেকে উলাশী বাজারের খোকার চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিল। এসময় ইউপি সদস্য মিলন ও সঙ্গীরা এসে ভিডিও দেখার নাম করে মারপিট শুরু করে দেয়। মারপিটের একক পর্যায়ে সলমনের হাতে থাকা টর্চলাইটে মাথায় আঘাত লেগে রক্ত বের হয়। এই ঘটনায় বেশী উত্তেজিত হয়ে তার ক্যাডার ও লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য ভাইপো আশিক, মমিন, আশরাফুল, বেবি, পার্কের ম্যানেজার শরীফ, জিল্লু-১, জিল্লু-২, লালচাঁন, ড্রাইভার ভূট্টোসহ আরো অনেককে নিয়ে সলমনের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর চালায়। সলমনকে না পেয়ে এক পর্যায়ে তার বাবা, স্ত্রী ও দুই মেয়েকে লাঞ্চিত করে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে। তবে পুলিশ আসার আগেই তারা সরে পড়ে।    

 

সলমন দাস বলেন, রাজু আমার বিরুদ্ধে কথা লাগানোয় আমাকে করেছে। বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ঘরের টিভিসহ অন্যান্য আসবাবপত্র। তছনছ করে ঘরে রক্ষিত জমি বিক্রয়ের নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, ৮ভরি স্বর্ণালংকার, ৩টি দামি মোবাইল লুট করে নিয়ে গেছে। আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে গেছে। এখন আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এর আগে ২০১৬ সালে এই বাহিনীর সদস্যরা আমার শালি মায়া মারিয়া কর্মকারকে আগুন ধরিয়ে মারার চেষ্টা করেছে। ঐ মামলায় এখনও কোন আসামী ধরা না  পড়ায় শঙ্কায় থাকি।        

উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আয়নাল হক বলেন, আমি ঘটনাটি শুনার সাথে পুলিশকে জানাই এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌছাই। আমার পরিষদের সদস্য মিলন একটি পার্ক চালায়। ঐ পার্কে অনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করি আমি। এ ঘটনাকে উদ্দেশ্য করেই মূলত : এইসব। সলমনের বাড়ির ঘটনায় শার্শা থানা পুলিশ ৮ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে জানতে পেরেছি।                                

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিয়ার রহমান বলেন, ঘটনাটি শুনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে যেয়ে জেনে বুঝে জড়িত ৮ জনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়ে দিয়েছি এবং ১৭জনের নামে মামলা হয়েছে।  মামলা নং:১৭ এবং তারিখ : ০৯.০৯.১৮। 

ট্যাগ: banglanewspaper বেনাপোল