banglanewspaper

ইবি প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্ত:বিভাগ ও আন্ত:হল ফুটবল প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। উদ্বোধনী ম্যাচে ৪-১ গোলে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগগে হারিয়েছে আইন বিভাগ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাবলার সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের পরিচালক ড. সোহেল রানা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. মো: শাহিনুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো: সেলিম তোহা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. রিজওয়ানুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর সাজ্জাদ হোসেন, ইবিসাসের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। 

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. শাহিনুর রহমান বলেন, দেহ ও মন সুস্থ রাখতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীদের উচিত খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করা। কারণ খেলাধুলা শিক্ষার্থীদেরকে যাবতীয় খারাপ কাজ যেমন, মাদকাসক্ত, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদসহ নৈতিকতা বিরোধী কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখে।

উল্লেখ্য, এবারের ফুটবল টুর্নামেন্টে বায়োমেডিকেল এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩২ টি বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 ইবি

শিক্ষাঙ্গন
১০ হাজার টাকা দিলাম, দেখি আমাকে গ্রেপ্তার করে কি না: ড. জাফর ইকবাল

banglanewspaper

উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় টাকা দেওয়ায় কয়েক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন সাবেক অধ্যাপক ড. জাফর ইকবাল। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমি দেখতে চাই সিআইডি আমাকে অ্যারেস্ট করে কি না।’

‘এখানে শিক্ষার্থীরা সবাই বাইরে থেকে শীতে কষ্ট করছে। তাদের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। কোনো মেডিকেল টিম তাদের জন্য নেই।’

বুধবার ভোর ৪টার কিছু আগে শাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে পৌঁছেন ড. জাফর ইকবাল। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিয়ে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেন। শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

আর্থিক সহায়তা দেওয়ায় সাবেক শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করে জাফর ইকবাল বলেন, ‘যারা আন্দোলনকারীদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা খুবই নিন্দনীয়। ছাত্রদের সাহায্য করে যদি অ্যারেস্ট হতে হয়, তাহলে আমি হব। বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকীর একটা স্মারকগ্রন্থ লেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আমাকে ১০ হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হয়েছে। আমি এই সম্মানীর টাকাটা আন্দোলনের ফান্ডে দিচ্ছি। এ টাকা দিয়ে তোমাদের তেমন কিছু হবে না জানি। কিন্তু আমি দেখতে চাই সিআইডি আমাকে অ্যারেস্ট করে কি না।’

শিক্ষার্থীদের সব অভিযোগ ও দাবি শোনার পর ড. জাফর ইকবাল বলেন, ‘তোমরা আমাকে গণমাধ্যমের সামনে কথা দিয়েছ, এ অনশন ভাঙবে। তোমাদের জীবন অনেক মূল্যবান। একজন মানুষের জন্য তোমরা জীবন দিয়ে দেবে, এটা মানা যায় না। গ্রেপ্তার সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থীর বিষয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু মামলা করা হয়ে গেছে, তাদের তো আদালতে তোলা হবে। আশ্বাস পেয়েছি ছাত্রদের জামিন দেওয়া হবে।’

মঙ্গলবার রাত ৯টায় স্ত্রী ইয়াসমিন হককে নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন ড. জাফর ইকবাল।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
অনশন ভাঙার দিনে জামিন পেলেন শাবির সাবেক পাঁচ শিক্ষার্থী

banglanewspaper

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙার দিনেই জামিন হলো সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রাক্তন পাঁচ শিক্ষার্থীর।

বুধবার সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২-এর বিচারক মো. সুমন ভূইয়া পাঁচজনের জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন।

জামিন পাওয়া প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হলেন টাঙ্গাইলের সখীপুরের দারিপাকা গ্রামের হাবিবুর রহমান খান, বগুড়ার শিবগঞ্জের লক্ষ্মীকোলা গ্রামের রেজা নুর মুইন, ঢাকার মিরপুর মাজার রোড এলাকার বাসিন্দা এ কে এম মারুফ হোসেন, কুমিল্লার মুরাদনগরের নিয়ামতপুর গ্রামের ফয়সাল আহমেদ ও খুলনার সোনাডাঙ্গার ছাত্তার বিশ্বাস রোড এলাকার এ এফ এম নাজমুল সাকিব ।

আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের অর্থ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল৷

শাবিপ্রবির প্রাক্তন এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ এফ এম নাজমুল সাকিবের করোনা শনাক্ত হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

তাকে ছাড়া বাকি চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পাঁচজনের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামির পক্ষে জামিন শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী কানন আলম।

আইনজীবী বলেন, আদালতে জামিন শুনানির পর বিচারক সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে জামিন মঞ্জুরের আদেশ দেন। শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন আইনজীবী মাহফুজুর রহমান ও আবু ফাহাদ।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকালে ঢাকা থেকে পাঁচজনকে সিলেটে আনা হয়। তাদের ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে আটক করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানায় লায়েক আহমদ নামের এক ব্যক্তি একটি মামলা করেন। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার বিকালে চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়।

গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। পরদিন রবিবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। ১৫ জানুয়ারি বিকালে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা করে, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাসহ অন্তত অর্ধশত আহত হন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় শাবি কর্তৃপক্ষ।

তবে তা উপেক্ষা করে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কিলোতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন শুরু করেন। প্রায় ২৮ জন শিক্ষার্থী অনশনে যোগ দেন। বুধবার সকালে তাদের অনশন ভাঙান অধ্যাপক জাফর ইকবাল।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
ভিসি ফরিদকে সরানো হবে কি না আলোচনা করে সিদ্ধান্ত

banglanewspaper

আবাসিক হলের কয়েকটি সমস্যা নিরসনের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের ছাত্রীরা। সেই আন্দোলনের দুদিন পরই যোগ হয় হলটির প্রভোস্ট কমিটির পদত্যাগের দাবিও। ছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে নামেন ছাত্ররাও। আন্দোলন দমনে প্রশাসনের হুমকি-ধামকি, ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশের লাঠিপেটায় ফুঁসে ওঠেন শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ উপাচার্যের বিতর্কিত মন্তব্যে আন্দোলনে নতুন মোড় নেয়। দাবি ওঠে উপাচার্যের পদত্যাগের। শেষ পর্যন্ত ‘উপাচার্য হটাও’ দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও চারজন। টানা সাতদিন অনশনের পর অবশেষে নমনীয় হন শিক্ষার্থীরা। অনশন ভাঙলেও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

শাবিপ্রবির চলমান ইস্যু নিয়ে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকার হেয়ার রোডে নিজ বাসভবনে প্রেস ব্রিফিং করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে সরানো হবে কি না? তবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি শিক্ষামন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ করেন। উপাচার্যকে সরানোর ব্যাপারে ভিন্ন একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। তাকে রাখা হবে নাকি সরানো হবে, তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উপাচার্যকে সরিয়ে দেওয়াটাই একমাত্র সমাধান নয় জানিয়ে দীপু মনি বলেন, ‘একজন উপাচার্যকে সরানো হলে সেখানে অন্যজন আসবেন। উপাচার্য থাকলেন নাকি থাকলেন না, তাতে কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান হবে না। উপাচার্যকে সরানোর পরও যদি শিক্ষার্থীদের সমস্যা থেকে যায়, তাহলে তাদের কোনো লাভ হবে না। তাই শিক্ষার্থীদের সমস্যা চিহ্নিত করে, তা সমাধানে গুরুত্বসহকারে নজর দিতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাদের সব দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন করবো। তারা অনশন ভেঙেছেন, এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি। তারা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, আমরাও তাদের আস্থার প্রতিদান দেবো।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সরকার সবাই একপক্ষ। এখানে দুইপক্ষ বলে কিছু নেই। এ ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় সহিংসতা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। তবে এখানে তা ঘটেনি, তারা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছে।’

শিক্ষার্থীরা চাইলে আলোচনায় বসতে সিলেট যাবেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে কিছুটা ভেঙে পড়েছেন। তারা একটু গুছিয়ে উঠুক। তারা চাইলে কিছুদিন পর আমি সেখানে (শাবিপ্রবিতে) যেতে পারি। শিক্ষার্থীরা চাইলে আমরা যে কোনো সময় তাদের সঙ্গে বসবো।’

দীপু মনি বলেন, ‘শাবিপ্রবির পুরো বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন আমরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছি। অনশন যারা করেছিলেন এবং আন্দোলনে ছিলেন, তারা সবাই মিলে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, শিক্ষার্থীরা অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে এখানেই আন্দোলনের ইতি টানবেন। আমরা তাদের দাবি-দাওয়া খতিয়ে দেখে সমাধানের ব্যবস্থা করবো।’

শাবিপ্রবি সংকটের মধ্য দিয়ে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সমস্যা সমাধানের সুযোগ পেয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণ ও সমস্যা সব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধী যেই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু সমস্যা উঠে এসেছে। সেগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের সুযোগ পেলাম আমরা। এটা শুধু শাবিপ্রবিতে নয়, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের সংকটের সমাধান করা হবে।’

আন্দোলনে অর্থায়নের অভিযোগে গ্রেফতার পাঁচ শিক্ষার্থীকে জেলে পাঠানো হয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাদের জামিন হয়েছে। তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টা আমরা দেখবো।’

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
ছায়া-সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, উপাচার্যের শুভেচ্ছা

banglanewspaper

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে’ শীর্ষক ছায়া-সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকদের পরাজিত করে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিতার্কিকরা বিজয়ী হন।

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এসএম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরাফাত আলী সিদ্দিক ও সাংবাদিক আতিকা রহমান।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ বিজয়ী হওয়ায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ডিবেটিং ক্লাবের প্রতিটি সদস্যকে বিশেষ করে সকল বিতার্কিককে উপাচার্য অধ্যাপক ড. অবদুল মান্নান চৌধুরী আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 

সেই সঙ্গে এটিএন বাংলার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। 

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের জন্য প্রস্তাবিত খসড়া আইনে অনেক অপূর্ণতা রয়েছে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে—এটি শুধু সার্চ কমিটি গঠনের জন্য। তিনি বলেন, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ভিত্তিতে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা উচিত।

ড. এ.টি.এম. শামসুল হুদা বলেন, আইনটি যাতে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একটি ভালো আইনের জন্য প্রয়োজনে সময় নেওয়া যেতে পারে। তাড়াহুড়ো করে ত্রুটিপূর্ণ আইন প্রণয়ন কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও অযোগ্যতার সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে। যাদের সম্পর্কে অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে বিবেচনায় না নেওয়া উচিত। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনাররা কোনো দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের আইনানুগ বিচার হওয়া উচিত।

বর্তমান নির্বাচন কমিশন সদিচ্ছা থাকলে ভালো নির্বাচন করতে পারতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের পারফর্মেন্স সন্তোষজনক নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য সুখকর না হলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অধিকতর গ্রহণযোগ্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে গত ৫০ বছরে দেশে নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য কোনো আইন তৈরি হয়নি। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে সুশাসন ব্যাহত হয়। দুর্নীতির কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তির ঘটনা খুবই কম। অথচ পাকিস্তান আমলেও সিভিল সার্ভিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের শাস্তি হতো। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। তিনি বলেন, ইসি নিয়োগের খসড়া আইনটির অনুলিপি কোথায় আছে এখনো কেউ বলতে পারছে না। যা জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। অংশীজন, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের যাচাই বাছাই ও মতামত ছাড়া আইনটি পাস হলে এর গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। 

প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি ও সনদ বিতরণ করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, সাংবাদিক আরাফাত আলী সিদ্দিক ও সাংবাদিক আতিকা রহমান।

ট্যাগ:

শিক্ষাঙ্গন
‘সংক্রমণ আরও বাড়লে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত’

banglanewspaper

করোনাভাইরাস ইস্যুতে এখনই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিষয়ে ভাবছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সংক্রমণ আরো বেড়ে গেলে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেবে।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী একথা বলেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, 'আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। দু-এক দিনের মধ্যে কভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসব।'

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে যাতে ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়া যায় সেটার প্রস্তুতি রাখার জন্য ডিসিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ভার্চুয়াল ক্লাস নেওয়া সম্ভব নয় সেখানে অ্যাসাইনমেন্টের ওপর নির্ভর করতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জীবনযাপন যতখানি সম্ভব স্বাভাবিক রেখে করোনা মোকাবিলা করতে চাই। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যদি করোনার সংক্রমণ বাড়ার কারণে ক্লাস নেওয়া সম্ভব না হয়, সেক্ষেত্রে তো অনলাইন ক্লাসে যেতেই হবে। এখনো আমরা অনলাইন ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট চালু রাখছি যাতে কেউ পিছিয়ে না পড়ে। তবে যেখানে অনলাইন ক্লাস সম্ভব না, সেখানে অ্যাসাইনমেন্ট চালু থাকবে।

দীপু মনি বলেন, করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে আমরা দেখি, কতটা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে কতটা পজিটিভ পাওয়া যাচ্ছে। ওমিক্রনকে অনেকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন। তবে ভুলে গেলে চলবে না আমাদের দেশে ওমিক্রনের চেয়ে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। কাজেই আমাদের স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।

এ সময় তিনি জানান, সোমবার পর্যন্ত ১২-১৮ বছর বয়সী ৮৫ লাখ শিক্ষার্থী করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে।
 

ট্যাগ: