banglanewspaper

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন আগামী বছরের মার্চ মাসে হতে পারে। সেই সময়সীমাকে ধরে আগামী মাসের মধ্যে নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হবে।

গতকাল রবিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান।

এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপাচার্য কার্যালয়সংলগ্ন অধ্যাপক আবদুল  মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আলোচনা শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য আখতারুজ্জামান, দুই উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টর। সভা শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (দুটি অংশ) নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, সামনে আমাদের অনেক বড় একটি বিষয় আছে। সেটি নিয়ে আলোচনা করার জন্য আমাদের আজকের সভাটি ডাকা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রীতি-নীতি ও মূল্যবোধ নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা আলোচনা করেছেন। তারা যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন সেগুলো আমাদের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা নোট করেছেন। সেগুলো আলোচনা পর্যালোচনা করে প্রতিটি বিষয় কীভাবে সমাধান করা যায় সেগুলোর দিকে আমরা এগুব।

‌উপাচার্য বলেন, ডাকসু নির্বাচন কবে নাগাদ হতে পারে, সম্ভাব্য তারিখ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক সহবস্থানসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা যে বক্তব্যগুলো দিয়েছে সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করব। কোনটা কীভাবে আলোচনা করা যায়, সেগুলো আমরা দেখব। এ ধরনের বৈঠক হয়তো আরো লাগবে, এটা প্রথম সভা।

আখতারুজ্জামান বলেন, একটি ভালো বিষয় হলো তাদের মধ্য থেকে হটকারী কোনো চিন্তার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখিনি। তারা বলেছে, যৌক্তিক উপযুক্ত সময়ে ডাকসু নির্বাচন করা দরকার। সবাইকে এক করে যেন করতে পারি এ ধরনের পরামর্শ আছে। কেউ বলছে, মার্চের মধ্যে করা যায় কি না। কেউ বলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর করতে। তবে সবাই একটি বিষয়ে এক হয়েছে যে আমরা যেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনটা করি।

কবে নাগাদ নির্বাচন দেওয়া হবে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে একটা নির্দেশনা আমাদের আগেই দেওয়া আছে। নির্বাচনী কাজের পরিধি নিয়ে আমাদের প্রভোস্ট কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটি এরই মধ্যে একটা নির্দেশনা দিয়েছে। সেক্ষেত্রে ২০১৯ সালের মার্চ মাস আমাদের টার্গেট আছে। সে থেকে তো আমাদের সরে যেতে বলেনি শৃঙ্খলা কমিটি ও প্রভোস্ট কমিটি। এ লক্ষ্যে আমরা আছি। এই নিরিখে আমাদের প্রাধ্যক্ষবৃন্দ ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য কাজ করছেন। অক্টোবরের মধ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রণয়ন করব। এটা জটিল কঠিন কাজ। এটা করতে পারলে আমরা অনেক এগিয়ে যাব।

হলে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের সহাবস্থানের দাবির বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সহাবস্থানের জন্য যা যা করা দরকার প্রাধ্যক্ষবৃন্দ তা করবেন। এগুলো নতুন কিছু নয়। সবাই অভিজ্ঞ। সবাই যা করা দরকার, তা করবেন। হলে সহাবস্থান ও মধুর ক্যান্টিনে রাজনৈতিক চর্চা সবার জন্য উন্মুক্ত। আমাদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা নেই। ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর জন্য উন্মুক্ত, সেগুলোতে কারো জন্য বাধা নেই।

ট্যাগ: bdnewshour24 ঢাবি ভিসি