banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ (শ্রীপুর): আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার ১২তম দিন পেরিয়ে গেলেও গাজীপুরের ৫টি আসনের বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা এখনও মাঠে নামতে পারেনি বলে জানিয়েছে নেতারা।

প্রথম অবস্থায় ব্যাপক ভাবে নামার ইঙ্গিত দিলেও দিন যতই গড়াচ্ছে ততই তারা মাঠ থেকে নিজেদের গুছিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে। তবে তারা এই অবস্থার জন্য দায়ী করেছে পুলিশী মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানীকে।

এদিকে প্রচারণার সুষ্ঠ পরিবেশের দাবীতে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট প্রতিনিয়ত অভিযোগ দিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবী প্রতি খেয়াল দিচ্ছেনা কমিশন এবং এখনও পরিবেশ ফিরিয়ে দিলে বাকী সময়েই তাঁরা ঘুরে দাড়াবে আশা তাদের।

গাজীপুর ১ আসনের বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী তানভীর আহমদ সিদ্দিকীর প্রচারণা গত কয়েকদিন ধরেই নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে মুঠোফোনে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বয়স হয়েছে, অনেক উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনে প্রাথী হয়েছিলাম। কিন্তু গত বুধবার শফিপুর বাজারে প্রচারণার সময় আমার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা হয়। পরে আবার দলীয় নেতাকর্মীদের নামেই ২টি মামলা হয়। কোনভাবেই তিনি প্রচারণায় নামতে পারছেন না, নানা ধরনের  চিন্তায় তাঁর মন এখন ভালো নেই বলে জানান তিনি।

গাজীপুর ২ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের নির্বাচন সমন্বয়কারী ডা: মাজাহারুল ইসলাম বলেন, তফসিল ঘোষনার পর থেকে আমাদের উপর এতই পুলিশী হয়রাণী বেড়েছে যে আমাদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে, রাতে বাড়ি থাকা যাচ্ছে না। নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও অনেক সংগ্রাম করে কৌশলগত ভাবে প্রচারণার কাজ করছি। পুলিশী ভয়ে কর্মী বাহিনীও প্রচারণায় আসছে না।

এদিকে গত ১৫ ডিসেম্বর ঐক্যফ্রন্টের পথসভাকে কেন্দ্র করে  নতুন করে নেতাকর্মীদের নামে মামলা হওয়ায় আমরা রিটার্নিং অফিসার বরাবর অভিযোগও করেছি, কিন্তু কোন সমাধান পাচ্ছি না।

গাজীপুর ৩ আসনের ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ইকবাল সিদ্দিকী জানান,গত ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচন পরিচালণা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ ২ নেতা আব্দুল মোতালেব ও হুমায়ুন কবির সরকারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে, পরেরদিন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক পীরজাদা রুহুল আমীনকে টেংরা বাজারের এক পথসভা থেকে গ্রেপ্তার করে।

এছাড়াও তফসিল ঘোষনার পরে পুরোনো কয়েকটি গায়েবী মামলার চার্জশীট আদালতে প্রদান করে পুলিশ, যাতে শত শত নেতাকর্মীর নাম নতুন ভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নির্বাচনে আমাদের নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিল যাদের তারাই এখন প্রতিপক্ষ হিসেবে দাড়িয়েছে। আসলে সুষ্ঠ পরিবেশ না হলে নির্বাচনী প্রচার চালানো যায় না।

গাজীপুর ৪ আসনের প্রার্থী বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান জানান,তিনি প্রচারনা শুরু করলেই বাধা দেয়া হয়। চলতি মাসেই দলীয় নেতাকর্মীদের নামে ৩ টি গায়েবী মামলা  দেয়া হয়েছে,আসামী করা হয়েছে প্রায় ২০০ জনকে। মাইক ভাংচুর করা হচ্ছে, পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে এমন অবস্থায় কিভাবে প্রচারণা সম্ভব?

গাজীপুর ৫ আসনেও বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলূল হক মিলনকে গত ১৩ ডিসেম্বর তার নিজ বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। যদিও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় পরোয়ানা ছিল। তাকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা নেমে এসেছে। তবে তাঁর স্ত্রী শম্পা হক নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষে তাঁর স্বামীর মুক্তি কামনা করে বলেছেন আমরাও সমান সুযোগ চাই।

এ বিষয়ে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির জানান, গাজীপুরের ৫টি আসনে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ যথেষ্ট ভালো রয়েছে। তবে যারা অভিযোগ করেছেন তাদের অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রচারণা গাজীপুর বিএনপি