banglanewspaper

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান বলেছেন, আওয়ামী লীগেরও দেড় বছর আগে এই ছাত্রলীগের জন্ম। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও আদর্শবাদী সংগঠন। যেই সংগঠন মানুষের অধিকার ও স্বপ্নের পূরণের  কথা বলে। স্বপ্নের কথা বলেই ক্রান্ত হোন না সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেন। বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগকে সেইভাবে তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে সকল আন্দোলনে ছাত্রলীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন । সোমবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল মিলনায়তনে রাবি ছাত্রলীগ এ নবীন বরণের আয়োজন করে। নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে ফুল, শিক্ষা উপকরণ ও বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। 
 
আব্দুস সোবহান আরও বলেন, ‘তোমাদের দেখে ইচ্ছে করে আবার তোমাদের মত হয়ে যেতে। আসলে সম্ভব তো না, আর ফিরে আসা যাবে না। এখনও মনে হয় এই যে তরুণ-তরুণী আমার সামনে বসে আছে এত সুন্দর মুখবয়ব। এই বয়সে কত পরিবর্তন দেখেছি। তোমরা অনেকদিন বেঁচে থাকবে, অনেক পরিবর্তন দেখতে পারবে। মনে পড়ে যায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের কথা,‘দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না, সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।’ সোনার খাঁচার দিনগুলি এভাবেই শেষ ফুরিয়ে যায়। আমরা চলে যাচ্ছি, এই জায়গায় তোমরা আসবে। তোমাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে দেশ। তোমরা আগামীর ভবিষ্যত ও জাতির বিবেক।’

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলা সৃষ্টি করেছেন। তখন যারা এটা মেনে নেয় নি। তারাই পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপিতে আসে। জামায়াতের প্রয়াত আমীর গোলাম আজমকে মায়ের সঙ্গে দেখা করানো নাম করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে নিয়ে এসে নাগরিকত্ব দেওয়ারও ব্যবস্থা করেছিলেন। পরবর্তীতে নাগরিকত্বও পেয়েছিলেন তার স্ত্রীর (খালেদা জিয়ার) হাতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু তাই-ই নয়, জামায়াত-শিবিরের যেই নারকীয় উত্থান সেটাকে আমি দানবের উত্থান বলবো। সেই বিষবৃক্ষের উত্থান বাংলাদেশে ঘটিয়েছে জিয়াউর রহমান। স্বেচ্ছায়-সজ্ঞানে জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধার নামটি ব্যবহার করেছিলেন কারণ তিনি একটা ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার কার্যক্রম রাজাকার-আলবদরের চেয়েও ঘৃণিত ও জঘন্য হওয়ার যেকারণে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমরা স্বীকার করি না ও বলিও না। জাতিও তাকে কোনদিন স্বীকৃতি দেবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাকদ ফয়সাল আহমেদ রুনুর স ালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য আনন্দ কুমার সাহা, চৌধুরী ড. মো. জাকারিয়া ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ফারিহা জামান অর্ণা বক্তব্য দেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর ড. লুৎফর রহমান, জনসংযোগ প্রশাসক প্রভাষ কুমার কর্মকার, ছাত্র উপদেষ্টা লায়লা আরজুমান বানুসহ সহ¯্রাধিক নবীন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

নবীন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিক বিভাগের নাদিম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরর্  ফাতেমা তুজ জোহরা, ইসলামের ইতিহাস বিভাগের রাশেদুল ইসলাম ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নূরজাহান বক্তব্য দেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 রাবি