banglanewspaper

ইতিহাস বিকৃতি আমাদের অস্তিত্বের সাথে সম্পর্কিত। বিস্মৃতিও আমাদের জাতিসত্ত্বার অন্যতম ঐতিহ্য। এমনি একটি অমার্জনীয় বিস্মৃতির কথা তুলে ধরবো।
 
১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ শহীদ জননী জাহানারা ইমামকে সামনে রেখে আমরা ক’জন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণ আদালত অনুষ্ঠান করেছিলাম। সেদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অকুণ্ঠ সমর্থনের কারনে ঘাতক যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মৃত্যুদন্ডতূল্য গণরায় দেয়া হয়েছিল। 

পরের বছর আমাদের দৃষ্টিটা পাকিস্তানী গণহত্যার দিকে বেশি নিবেদিত হলেও আমরা আরও ১৪ জন যুদ্ধাপরাধীকে ক্রমান্বয়ে সনাক্ত করেছিলাম। এ’সবই সম্পাদিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির ব্যানারে। সেদিন ৭১ এর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আহ্বায়িকা শহীদ জননী জাহানারা ইমামই জাতীয় সমন্বয় কমিটির আহ্বায়িকা ছিলেন বলে এই দুই কমিটির পার্থক্যটা তখন এবং এখনও অনেকেই অনুধাবনে ব্যর্থ। ১৯৯৩ সালে আমরা গণহত্যার কালরাত্রি উদ্যাপনের সূচনা করি। তারই অংশ হিসাবে আমরা পিলখানা ও রাজারবাগে সন্ধ্যায় অনুষ্ঠান সমাপ্ত করে রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গণহত্যার কালরাত্রিতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান করি। এই তিনটি বিষয়ে শহীদ জননীর নেতৃত্বে স্টীয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত হয় এবং সিদ্ধান্ত কালে অধ্যাপক আবদুল মান্নান চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক এমপি, কাজী আরেফ আহমেদ, সৈয়দ হাসান ইমাম, নূরুল ইসলাম নাহিদ ও অধ্যক্ষ আহাদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত হয় যে প্রথম অনুষ্ঠানটি হবে পিলখানায় তদানিন্তন বিডিআর এর প্রধান কার্যালয়ে। বিএনপির বৈরী শাসনামলে আমরা পিলখানায় আলোর উৎসব সম্পন্ন করে রাজারবাগে উপস্থিত হই। রাজারবাগের অনুষ্ঠানেও আমরা পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতা পাই; পুলিশ বাহিনী আজও সে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে। পিলখানায় এমন অনুষ্ঠান আজতক হচ্ছে কিনা জানিনা। রাত ১১.১০ মিনিটে হাজার হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ২৫শে মার্চ কালরাত্রি অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারপর হাজার হাজার ছাত্র জনতা মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর মিছিল নিয়ে জগন্নাথ হলের গণ কবরে সমবেত হয়। সেখানে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সভাপতিত্বে আবারও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদ মিনারের সভা ও জগন্নাথ হলের সভা থেকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে ২৫ মার্চের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সেদিন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিন্তু বিবিধ প্রতিকূলতার কারণে তা বিস্মৃতির তলে তলিয়ে যায়। জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধীদের বিচারের পাশাপাশি ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসাবে স্বীকৃতির প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। দেশের অভ্যন্তরে এখন এই দিনটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে পালন করছে তবে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এখনো সমাদৃত এবং রাত ৯টায় সর্বত্র এক মিনিট আলো নিভিয়ে স্মরণ তার অংশ বিশেষ। পরের বছর অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে আমরা বিউগলের করুণ সুরে কিংবা যানবাহনের ভয়ার্ত হর্ণ বাজিয়ে দিনটি স্মরণের পদক্ষেপ নিয়েছিলাম। এই কর্মসূচিটি হারিয়ে গেছে।

লেখক: অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী,
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও
উপাচার্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

 

 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী মুক্তিযোদ্ধা উপাচার্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ উপাচার্য ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ