banglanewspaper

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি: চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার মাঠে মাঠে দেখা দিয়েছে ধানের শীষ। একদিকে এলো মেলো বাতাসে যেমন দুলছে সদ্য বের হওয়া ধানের শীষ তেমন অন্য দিকে বাতাসের তালে তালে কৃষকের অন্তরে দোল খাচ্ছে দু’চোখ ভরা স্বপ্ন। সব কিছু মিলে কৃষকের স্বপ্নটা যেন জমিগুলোর ধানের শীষেই। তারা বলছেন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবার ধানের খুব ভাল ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। 

রাণীনগর উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে এবার সাড়ে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মাঠে কোন রোগ বালায় দেখা যায়নি। ফলে সুস্থ্য সবল ধান রয়েছে মাঠ জুরে। ইতি মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ধানসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় ৪৫ শতাংশ ধানের শীষ বের হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যেই ধান পাকা শুরু হবে। বিগত রোপা-আমন মৌসুমে অনু খাদ্যের অভাবে ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগে ধান লাল বর্ণ হয়ে ব্যপক ক্ষতি হয়। এতে চরম লোকসানের কবলে পরেন কৃষকরা। 

লোকসান কাটিয়ে উঠতে কৃষকরা কোমড় বেধে মাঠে নামেন ইরি-বোরো ধান চাষে। তারা আশা করছেন ধানের যে রকম গঠন দেখা যাচ্ছে তাতে বিগত সময়ের চাইতে এবার বেশি ফলন হবে। ফলন এবং বাজারে ধান বিক্রিতে কৃষকরা যদি ন্যায্য মূল্য পান তাহলে রোপা-আমন মৌসুমের লোকসান কাটিয়ে উঠে কিছু লাভবান হতে পারবেন তারা। 

রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক, বড়িয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিমসহ অন্যান্য কৃষকরা জানান, সময় মতো জমিতে সার-কিটনাশক প্রয়োগ এবং সঠিক পরিচর্জার কারনে ধান খুব ভাল রয়েছে। সময় মতো ধান ঘড়ে তুলতে পারলে এবার লাভবান হবেন বলে আশা করছেন তারা।

এ ব্যাপারে রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে। কৃষি অফিসের সর্বোচ্চ তদারকি, কৃষকদের সঠিক দিক নির্দেশনা এবং সুস্থ্য সবল বীজের কারণে বিগত বছরের তুলনায় এবার ধানে কোনরুপ রোগ বালায় নেই। আবহাওয়া ভাল থাকলে এবার কৃষকরা কাংক্ষিত ফলন পাবেন এবং  সম্ভাব্য যে লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অতিক্রম হতে পারে বলে জানান তিনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 রাণীনগর