banglanewspaper

পপি চৌধুরী:নিজের লেখা বই ছাপাতে গিয়ে প্রতারিত হয়ে ২০০৫ সালে গড়ে তুলেছিলাম নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “প্রীতম প্রকাশ”। ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছি অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। প্রকাশনা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকলেও একাকী নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে নিয়ে এসেছি ২০১৯ সাল পর্যন্ত।

প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিনশ-র অধিক । নিজের প্রথম বই ছাপার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নতুনদেরকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করে এসেছি সবসময়। নতুনদের পাশাপাশি লেখক সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর ন্যায় অনেক নামকরা লেখকের বইও প্রকাশিত হয়েছে আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে।

প্রকাশকদের সংগঠন পুস্তক প্রকাশক সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি- এই দুটি সংগঠনেরই সদস্য আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান "প্রীতম প্রকাশ"। বাংলাবাজারে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয় করা একটি দোকানও আছে। ২০০৮ সাল থেকে নিউইয়র্কে মুক্তধারা আয়োজিত বইমেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে প্রীতম প্রকাশ (কেবলমাত্র ২০১৮ ব্যতীত)।

তবে যতবার আমি নিজে সশরীরে নিউইয়র্ক বইমেলায় অংশ নিয়েছি প্রতিবারই একজন নারী প্রকাশক হিসেবে আমার প্রতি তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ লক্ষ্য করেছি। এর পূর্বে ২০১৫ সালে মেলার ২য় দিনে সকাল বেলা লেখক-প্রকাশকদের একটি আড্ডা ছিল। বইয়ের দোকান ঢেকে রেখে সেখানে সবার অংশগ্রহণ ছিল বাধ্যতামূলক। তাই আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম একমাত্র নারী প্রকাশক হিসেবে।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছিলেন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের একজন পরিচিত ছড়াকার। তিনি উপস্থিত সকল পুরুষ প্রকাশকদের ২/৩ বার করে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিলেও আমি কিছু বলার জন্য বেশ কয়েকবার হাত তুললেও তিনি আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেননি। তা লক্ষ্য করে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার তাকে বলেন মাইক্রোফোনটি আমাকে দেয়ার জন্য, কিন্তু তারপরও ঐ ছড়াকার আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেননি।

তার সাথে আমার কখনও কোন বিরোধ ছিল না, বরং তিনি আমাকে একজন প্রকাশক হিসেবে ভালো করেই চিনতেন। তার এই আচরণে সেদিন আমি কষ্ট পেয়েছিলাম এবং অনুষ্ঠান শেষে আমি তার এই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। তাদের এই বৈষম্যমূলক আচরণের পরও বইমেলায় অংশগ্রহণ করেছি শুধুমাত্র বইয়ের প্রতি ভালোবাসার টানে। তবে এরপর মঞ্চ কিংবা আলোচনা সভা এড়িয়ে চলেছি সবসময়।

এবারও আমার সাথে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে । মেলার ৩য় দিন দুপুর বেলা মেলা কমিটির দুজন এসে আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিয়ে যান। সারাদিন বই নিয়ে তীর্থের কাকের মত বসে থাকলেও সন্ধ্যা সাতটার দিকে যখন মেলাস্থানটিতে কিছু দর্শক সমাগম হয়েছে ঠিক তখনই মেলা কমিটির একজন সব প্রকাশককে ডাকতে এলেন উপরে যাওয়ার জন্য।

কারণ এবার মেলায় আগত প্রকাশকদের মধ্য থেকে একজনকে পুরস্কৃত করা হবে। না গেলেও একটু পরে আবারও মেলা কমিটি থেকে আরেকজন ডাকতে আসেন এবং বলেন মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সকল প্রকাশককে উপরের অনুষ্ঠানস্থলে যেতে হবে। এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে উপরে যাই।

উপরে যাওয়ার পর এক এক করে সকল প্রকাশক এবং তাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে তাদের মঞ্চে ডাকেন নিউ ইয়র্কের পরিচিত লেখক হাসান ফেরদৌস। সেখানে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশকদের পাশাপাশি এমন অনেক প্রকাশকও ছিলেন যাদের প্রকাশনার বয়স এখনও দুবছর হয়নি। তাদেরকে মঞ্চে ডাকা হলেও একটিবারও আমার নাম কিংবা ১৫ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম নেওয়া হয়নি।

দর্শকসারীতে অনেক নামকরা সাংবাদিক, পত্রিকার সম্পাদক এবং একসময়ের প্রতিষ্ঠিত নারী-সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন যারা দীর্ঘদিন থেকে আমাকে প্রকাশক হিসেবে চিনেন তারাও এ বিষয়ে কিছু বললেন না। বিষয়টি আমাকে খুবই মর্মাহত করে।

যখন মঞ্চের কাজ শেষে সকলে মঞ্চ থেকে নামতে যাবেন তখন এগিয়ে যাই মঞ্চের দিকে। এক মিনিট কথা বলার সুযোগ চাই আমি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লেখক হাসান ফেরদৌস বার বার বলতে থাকেন- “না না আপনি এভাবে মঞ্চে আসতে পারেন না... এভাবে কিছু বলতে পারেন না।” আমি বুঝে যাই, ওনারা আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন না। তখন আমি প্রতিবাদ জানিয়ে বলি, “আপনারা অন্য প্রকাশকদের সাথে আমাকে নীচে থেকে উপরে ডেকে এনেছেন, সকল প্রকাশককে মঞ্চে ডেকেছেন অথচ একটিবার আমার নাম বা আমার প্রকাশনার নামটি উচ্চারণ করার প্রয়োজন মনে করলেন না, সেকী আমি নারী বলে? আপনারা আমাকে একজন প্রকাশক হিসেবে উপযুক্ত সম্মান দিলেন না তাই আজ থেকে এই বইমেলা বর্জন করলাম আমি।”

এরপর আমি নীচে এসে এই বইমেলার মূল আয়োজক মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিত সাহাকে বলি, “দাদা, আপনি যদি আমাকে প্রকাশকই মনে না করেন তাহলে আর কখনও আমায় ডাকবেন না বইমেলায় অংশ নিতে।” তারপর আমি চলে যাই আমার স্টল গোটাতে।

 একটু পরে বিশ্বজিত সাহা এসে রাগত ভাবে ধমকের সুরে বার বার বলতে থাকেন- “আপনি কাজটি ঠিক করেন নি এভাবে ওখানে (উপরে) কথা বলে।” আমি বলি- “আপনারা আমাকে ডেকে নিয়ে একজন নারী হিসেবে বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন আর আমি তার প্রতিবাদ করায় এখন বলছেন আমি অন্যায় করেছি !” আমার একথার জবাবে বিশ্বজিত সাহা অসৌজন্যমূলক ভাবে বলেন “আপনি নারী নিয়ে ব্যবসা করবেন না।”

বিশ্বজিত সাহা সবসময় প্রচার করে বেড়ান যে প্রবাসে তিনি দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার কাজ করছেন। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, যে মানুষ বা যে সংগঠনটি একজন নারীকে সঠিক সম্মান দিতে জানে না সে কিভাবে দেশের সংস্কৃতি প্রবাসে তুলে ধরার প্রতিনিধিত্ব করেন!

তার আরো কিছু বৈষম্যমূলক আচরণের কথা আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই:

বাংলাদেশ থেকে যে সকল প্রকাশক এবার বইমেলায় অংশ নিতে এসেছেন তাদের জন্য স্টল ফ্রি হলেও আমার কাছে ৫০০ ডলার স্টল ভাড়া চাওয়া হয়, বলা হয় আমি যেহেতু নিউ ইয়র্কে থাকি তাই আমাকে এই ভাড়া দিতে হবে। অথচ আমার প্রকাশনাটি বাংলাদেশে অবস্থিত, সেখানে আমার নিজস্ব একটি দোকান আছে এবং একজন কর্মচারীও আছে।

এই বইমেলা উপলক্ষ্যে ৬০ কেজি বই আনতে বিশ্বজিত সাহাকে দিতে হয়েছে ২১৫ ডলার। অনেক বাদ-প্রতিবাদের পর ১০০ ডলার ডোনেশন দেয়ার বিনিময়ে আমাকে স্টল দেয়া হয়। এদেশে নির্ধারিত ছুটি ছাড়া ছুটি নিলে বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়, তারপরও বইমেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আমাদের কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়েছিলাম।

কিন্তু আমার বইয়ের স্টলটি দেয়া হয়েছিল একেবারে শেষপ্রান্তে শাড়ি-কাপড়ের দোকান ঘেষে। মেলা কমিটির এসকল আচরণ আমাকে বিব্রত ও মর্মাহত করেছে। আমার প্রতি করা তাদের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরূপ ততক্ষনাৎ আমি এই মেলা বর্জন করে মেলাস্থল থেকে আমার প্রকাশনার স্টলটি গুটিয়ে নিয়ে চলে আসি।

লেখক

পুস্তক প্রকাশক ও পত্রিকা-সম্পাদক

ট্যাগ: bdnewshour24 নারী প্রকাশক

নারীমেলা
নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে রাজধানীতে চলছে উদ্যোক্তা হাট

banglanewspaper

‘আনিসুল হক কোহর্ট ফর গ্রোথ অব উইমেন অন্টপ্রেনিউরস’ প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে শুরু হয়েছে আনিসুল হক কোহর্ট উদ্যোক্তা হাট। দুই দিনব্যাপী এ মেলায় অংশ নিয়েছেন ৩০ নারী উদ্যোক্তা।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে উদ্যোক্তা হাট উদ্বোধন করেন চার নারী উদ্যোক্তা। বুধবারও এ হাট চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত।

বিকালে হাট পরিদর্শন করেন আনিসুল হক ফাউন্ডেশনের ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ভাইস চ্যান্সেলর ড. রুবানা হক। তিনি হাটের বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি অংশ নেওয়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং ফান্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। নারী উদ্যোক্তাদের আরও বেশি সফল করার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

হাটের উদ্বোধন করেন গুটিপার উদ্যোক্তা তাসলিমা মিজি, প্রজেক্ট সেকেন্ড হোমের স্বত্বাধিকারী সুমনা শারমীন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারার বিউটি আক্তার এবং বিডিওএসএন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। হাটে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন বিষয়ে একটি উন্মুক্ত আড্ডা পরিচালনা করেন শাহীন’স হেল্পলাইনের ফাউন্ডার ও সিইও মো. আমিনুল ইসলাম শাহীন।

একইসঙ্গে নারী উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করতে উদ্যোক্তাদের হিসাব সংরক্ষণে সহায়তা করা প্রতিষ্ঠান এসএমই ভাই-এর সঙ্গে বিডিওএসএন একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।

সারা বছর একরেট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়ামুল করিম টিপু বলেন, নতুন ধারার পণ্যের মূল্য নির্ধারণে সারা বছর একরেট কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের বেশি ভাগ ক্রেতায় মধ্যবিত্তরা। আমরা উদ্যোক্তা হাটে অংশগ্রহণ করেছি অনুপ্রেরণার গল্প কল সেন্টারের অপরাজিতা উপন্যাস উপহার দেবার মাধ্যমে। এই অনুপ্রেরণার বইটি তুলে দেওয়া হয়েছে আমাদের হার না মানা অপরাজিতাদের হাতে। সামনে উদ্যোক্তা হাট মেলার সঙ্গে বড়ভাবে থাকব।

হাটের দ্বিতীয় দিন বেলা ১১টায় নারী উদ্যোক্তার নিজস্ব ব্র্যান্ডিং বিষয়ে একটি আড্ডার আয়োজন করা হয়েছে। আড্ডা পরিচালনা করবেন ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনারস বাংলাদেশের ফাউন্ডার ও সিইও মির্জা মুহাম্মদ ইলিয়াস। এ ছাড়া বিকেলে ব্র্যান্ডিং বিষয়ে একটি আড্ডা থাকছে।

উদ্যোক্তা হাটে ৩০ জন নারী উদ্যোক্তা ৩০টি স্টলে তাদের পণ্য ও সেবা নিয়ে বসেছেন। উদ্যোগগুলো হলো পারফেকশন অব পরিণীতা, রঙ্গীমা, ধবল, ফাইনফেয়ার ক্র্যাফট, বাঙালি, ফারহানাস ড্রিম, ডিএস ক্রিয়েশন, শ্রদ্ধা, অ্যানেক্স লেদার, সিজনস বুটিক, আমরা পারি, আই ক্লে, প্রয়াস, আইকনিক ক্রিয়েশন, ট্যাম ক্রিয়েশন, পূর্ণতা ক্র্যাফট, শাবাব লেদার, স্যানট্রেন্ড, এআরবি ডিজাইন, একাত্তর সোর্সিং লিমিটেড, ফ্রেন্ডস কনসালটেন্সি, কাদম্বরী এক্সক্লুসিভ, আশা ফুড, জে বি কালেকশন, বি. টেক কন্সট্রাকশন অ্যান্ড কনসাল্টিং, ওয়াসি ক্রাফট, সাতরঙ, এক্সট্রা মাইলেজ কেয়ার, নন্দন কুটির ও জি স্পাইস। এছাড়া বিশেষ সেবা হিসেবে ব্যাংক এশিয়া, এসএমই ভাই, বিকাশ, মেডিমেটের স্টল থাকছে। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দিতে সারা বছর একরেট ই কর্মাস প্রতিষ্ঠানটি তাদের পক্ষ থেকে কল সেন্টারের অপরাজিতা উপন্যাসটি উপহার দেন।

প্রকল্প সহযোগিতায় রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আনিসুল হক স্টাডি সেন্টার, ইনোভেশন অ্যান্ড অন্ট্রোপ্রেনিওরশিপ ডিপার্টমেন্ট এবং নাগরিক টিভি। হাটের অ্যাসোসিয়েট পার্টনার প্রথম আলো। এ ছাড়া পার্টনার হিসেবে আছে টেকশহর ডটকম, ঢাকা এফএম, টেকভিশন টোয়েন্টিফোর ডটকম, স্বজন এবং নিজল ক্রিয়েটিভ। এ প্রকল্পে সহযোগিতা করছে আনিসুল হক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন) এবং চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব প্লাটফর্ম।

ট্যাগ:

নারীমেলা
গর্ভাবস্থায় বেশিরভাগ নারীই যেসব ভুল করেন

banglanewspaper

নারীদের গর্ভাবস্থায় শরীরে ব্যাপক পরিবর্তন আসে। এ সময় হরমোনের মাত্রা ওঠানামা থেকে শুরু করে ওজন, স্তন ও শরীরের অন্যান্য অংশের পরিবর্তন ঘটে। তাই এ সময় শরীরের বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি। অনেকেরই গর্ভাবস্থায় করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। তাই গর্ভাবস্থায় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন—

খাবার এড়িয়ে চলা

গর্ভাবস্থায় বারবার ক্ষুধা ও বমি বমি ভাব অনুভব করা স্বাভাবিক। এ সময় বিভিন্ন খাবারের প্রতি লোভ হতে পারে। আবার অনেকেই খাবার দেখলে নাক সিঁটকায়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬-১০ জন নারী গর্ভাবস্থায় খাবার এড়িয়ে যান।

তবে প্রথম কয়েক মাসে খাবার এড়িয়ে যাওয়ার ভুল করবেন না। কারণ প্রথম কয়েক মাসে শিশুর অত্যাবশ্যক অঙ্গ গঠন ও বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই সে সময় আপনাকে অবশ্যই বিভিন্ন খনিজ ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

ওজন বেড়ে গেলে দুশ্চিন্তা

গর্ভাবস্থায় ওজন বাড়বেই। কারণ তখন স্বাস্থ্যকর খাবার ও বেশি খাওয়া হয়। এমনকি হরমোনের মাত্রা ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ায় ওজন বেড়ে যায়। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

বরং এ সময় সামান্য স্ট্রেস ও উদ্বেগ আপনার ও শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলবে। এ কারণে মন শান্ত রাখা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাবার স্ট্রেস এড়াতে সাহায্য করে।

ওষুধ গ্রহণ

গর্ভাবস্থায় পেশি ব্যথা, ফোলাভাব, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা ও আরও অনেক কিছুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা কমানোর জন্য কখনো চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ খাবেন না।

শারীরিক কার্যকলাপ না করা

গর্ভাবস্থায় অনেকেই কায়িক শ্রম থেকে বিরত থাকেন। তবে এ সময় হালকা ব্যায়াম ও হাঁটা শিশুর স্বাস্থ্যও ভালো রাখতে পারে। গর্ভাবস্থায়ে সব সময় বসে শুয়ে থাকা উচিত নয়। এতে শরীর আরও ফুলে যেতে পারে। তাউ নিজেকে যতটা সম্ভব সক্রিয় রাখা উচিত।

দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা না নেওয়া

স্বাস্থ্যকর গর্ভাবস্থা ও ডেলিভারির জন্য অবশ্যই ভালো স্বাস্থ্যসেবা জরুরি। নিয়মিত চেকআপ ও শারীরিক সুস্থতার জন্য এ সময় দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নিতে হবে। কোন হাসপাতালে ডেলিভারি করাবেন কিংবা কোন ডাক্তারকে দেখাবেন এসব বিষয়ে দেরি করবেন না।

উপরের এসব সাধারণ ভুল ছাড়াও, বেশ কিছু অভ্যাস আছে যেগুলো গর্ভবতীদের বিরত থাকতে হবে। যেমন- ধূমপান, অ্যালকোহল পান বা ক্যাফেইন গ্রহণ করবেন না। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার যেমন- প্রক্রিয়াজাত ও চিনিযুক্ত খাবার খাবেন না। পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন। কম ঘুম গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি বাড়ায়।

ট্যাগ:

নারীমেলা
শোকে-শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করল পুনাক

banglanewspaper

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

'শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ' শ্লোগানে আজ (রবিবার) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে পুনাক কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে পৈশাচিক ও নারকীয় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়নি, বরং যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি নবীন রাষ্ট্রের এক অসাধারণ পথচলাকেও থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুনাক সভানেত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সপরিবারে খুন হন তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে অন্য অনেকেই উপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন পুলিশের এক অকুতোভয় সদস্য এএসআই সিদ্দিকুর রহমান। তিনি সেদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ঘাতকদের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।

জীশান মীর্জা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যেমন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বীর পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশেকে স্বাধীন করতে পুলিশ সদস্যরাই সর্বপ্রথম বুক পেতে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের সামনে। তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে সেই সংগঠন যার সদস্যরা কখনো এ দেশের সাথে, এ দেশের ইতিহাসের সাথে বেঈমানি করেনি।

এএসআই সিদ্দিকুর রহমানের এ অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম সাহসিকতা (মরোণোত্তর) প্রদান করেন। এ মহতি উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান পুনাক সভানেত্রী।

অনুষ্ঠানে পুনাকের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এর আগে দোয়া মাহফিল শেষে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যসহ সব শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ট্যাগ:

নারীমেলা
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর

banglanewspaper

করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী নারীরা চাকরি হারিয়েছে, আয় কমে গেছে এবং একইসঙ্গে বৈষম্য, শোষণ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, কর্মজীবী নারী, নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট লন্ডনের আয়োজনে ‘ভার্চুয়াল মিটিং অব কমনওয়েলথ মিনিস্টারস ফর উইমেনস অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ কোভিড-১৯’ বিষয়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের উইমেনস অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ডাক্তার,নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ৮০ ভাগ নারী, যারা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্য দিয়ে করোনাকালে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছে যার ফলে তাদের পরিবারের নারী ও শিশু খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও আম্পান ও বন্যায় প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।

ভার্চুয়াল সভায় কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড বলেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নারীদের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

ট্যাগ:

নারীমেলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক বৈঠক

banglanewspaper

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে “শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়)” শীর্ষক বিষয়ে কসবা উপজেলা চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকাল ৩.০০ ঘটিকায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকে জেলা তথ্য অফিসার(ভারপ্রাপ্ত)  দীপক চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এডভোকেট মো: আনিসুল হক ভূঁঞা, সাবেক চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ,কসবা।বিশেষ অতিথি মোছা: রাহেলা বেগম,প্রধান শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মো: আলমগীর, প্রধান শিক্ষক, লতুয়ামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাছলিমা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিয়া সুলতানা ডলি, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম আখন্দ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাসুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা আজাদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা সুলতান, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি এডভোকেট মো: আনিসুল হক ভূঁঞা, সাবেক চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ,কসবা বলেন যোগ্য স্বামীর আশায় না থেকে নিজেকে যোগ্য করে তোলোন কেননা যোগ্যতাই আপনাকে মুক্তি দেবে তাছাড়া সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে এবং যৌতুক এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ,অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ,মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব, স্যানিটেশন, পরিবেশ ও জন্ম নিবন্ধন, মাদক ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ,নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা র্কাযক্রমসমূহ,শিশুর পানিতে ডুবা প্রতিরোধ,পরিবেশ সুরক্ষা ও র্দুযোগকালীণ নারী ও শিশুর সচেতনতা বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

শিশু ও নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক প্রথা উচ্ছেদে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বিশেষ অতিথি মোছা: রাহেলা বেগম,প্রধান শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মো: আলমগীর, প্রধান শিক্ষক, লতুয়ামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাছলিমা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিয়া সুলতানা ডলি, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম আখন্দ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাসুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা আজাদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা সুলতান, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বক্তব্য প্রদান করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে ৫০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন । পরিশেষে জেলা তথ্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দীপক চন্দ্র দাস উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের যারযার অবস্থান থেকে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কুসংস্কার দূরীকরণে জনসচেতনা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে উঠান বৈঠক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

ট্যাগ: