banglanewspaper

পপি চৌধুরী:নিজের লেখা বই ছাপাতে গিয়ে প্রতারিত হয়ে ২০০৫ সালে গড়ে তুলেছিলাম নিজের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “প্রীতম প্রকাশ”। ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছি অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। প্রকাশনা সম্পর্কে বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকলেও একাকী নিজের অক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে এগিয়ে নিয়ে এসেছি ২০১৯ সাল পর্যন্ত।

প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা তিনশ-র অধিক । নিজের প্রথম বই ছাপার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে নতুনদেরকে প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করে এসেছি সবসময়। নতুনদের পাশাপাশি লেখক সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, ড. আশরাফ সিদ্দিকীর ন্যায় অনেক নামকরা লেখকের বইও প্রকাশিত হয়েছে আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে।

প্রকাশকদের সংগঠন পুস্তক প্রকাশক সমিতি এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি- এই দুটি সংগঠনেরই সদস্য আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান "প্রীতম প্রকাশ"। বাংলাবাজারে নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে ক্রয় করা একটি দোকানও আছে। ২০০৮ সাল থেকে নিউইয়র্কে মুক্তধারা আয়োজিত বইমেলায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করে আসছে প্রীতম প্রকাশ (কেবলমাত্র ২০১৮ ব্যতীত)।

তবে যতবার আমি নিজে সশরীরে নিউইয়র্ক বইমেলায় অংশ নিয়েছি প্রতিবারই একজন নারী প্রকাশক হিসেবে আমার প্রতি তাদের বৈষম্যমূলক আচরণ লক্ষ্য করেছি। এর পূর্বে ২০১৫ সালে মেলার ২য় দিনে সকাল বেলা লেখক-প্রকাশকদের একটি আড্ডা ছিল। বইয়ের দোকান ঢেকে রেখে সেখানে সবার অংশগ্রহণ ছিল বাধ্যতামূলক। তাই আমিও সেখানে উপস্থিত ছিলাম একমাত্র নারী প্রকাশক হিসেবে।

অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছিলেন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশের একজন পরিচিত ছড়াকার। তিনি উপস্থিত সকল পুরুষ প্রকাশকদের ২/৩ বার করে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিলেও আমি কিছু বলার জন্য বেশ কয়েকবার হাত তুললেও তিনি আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেননি। তা লক্ষ্য করে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার তাকে বলেন মাইক্রোফোনটি আমাকে দেয়ার জন্য, কিন্তু তারপরও ঐ ছড়াকার আমাকে কিছু বলার সুযোগ দেননি।

তার সাথে আমার কখনও কোন বিরোধ ছিল না, বরং তিনি আমাকে একজন প্রকাশক হিসেবে ভালো করেই চিনতেন। তার এই আচরণে সেদিন আমি কষ্ট পেয়েছিলাম এবং অনুষ্ঠান শেষে আমি তার এই আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। তাদের এই বৈষম্যমূলক আচরণের পরও বইমেলায় অংশগ্রহণ করেছি শুধুমাত্র বইয়ের প্রতি ভালোবাসার টানে। তবে এরপর মঞ্চ কিংবা আলোচনা সভা এড়িয়ে চলেছি সবসময়।

এবারও আমার সাথে চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে । মেলার ৩য় দিন দুপুর বেলা মেলা কমিটির দুজন এসে আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিয়ে যান। সারাদিন বই নিয়ে তীর্থের কাকের মত বসে থাকলেও সন্ধ্যা সাতটার দিকে যখন মেলাস্থানটিতে কিছু দর্শক সমাগম হয়েছে ঠিক তখনই মেলা কমিটির একজন সব প্রকাশককে ডাকতে এলেন উপরে যাওয়ার জন্য।

কারণ এবার মেলায় আগত প্রকাশকদের মধ্য থেকে একজনকে পুরস্কৃত করা হবে। না গেলেও একটু পরে আবারও মেলা কমিটি থেকে আরেকজন ডাকতে আসেন এবং বলেন মাত্র ১০ মিনিটের জন্য সকল প্রকাশককে উপরের অনুষ্ঠানস্থলে যেতে হবে। এরপর অনেকটা বাধ্য হয়ে উপরে যাই।

উপরে যাওয়ার পর এক এক করে সকল প্রকাশক এবং তাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করে তাদের মঞ্চে ডাকেন নিউ ইয়র্কের পরিচিত লেখক হাসান ফেরদৌস। সেখানে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশকদের পাশাপাশি এমন অনেক প্রকাশকও ছিলেন যাদের প্রকাশনার বয়স এখনও দুবছর হয়নি। তাদেরকে মঞ্চে ডাকা হলেও একটিবারও আমার নাম কিংবা ১৫ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত আমার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের নাম নেওয়া হয়নি।

দর্শকসারীতে অনেক নামকরা সাংবাদিক, পত্রিকার সম্পাদক এবং একসময়ের প্রতিষ্ঠিত নারী-সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন যারা দীর্ঘদিন থেকে আমাকে প্রকাশক হিসেবে চিনেন তারাও এ বিষয়ে কিছু বললেন না। বিষয়টি আমাকে খুবই মর্মাহত করে।

যখন মঞ্চের কাজ শেষে সকলে মঞ্চ থেকে নামতে যাবেন তখন এগিয়ে যাই মঞ্চের দিকে। এক মিনিট কথা বলার সুযোগ চাই আমি। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক লেখক হাসান ফেরদৌস বার বার বলতে থাকেন- “না না আপনি এভাবে মঞ্চে আসতে পারেন না... এভাবে কিছু বলতে পারেন না।” আমি বুঝে যাই, ওনারা আমাকে কথা বলার সুযোগ দেবেন না। তখন আমি প্রতিবাদ জানিয়ে বলি, “আপনারা অন্য প্রকাশকদের সাথে আমাকে নীচে থেকে উপরে ডেকে এনেছেন, সকল প্রকাশককে মঞ্চে ডেকেছেন অথচ একটিবার আমার নাম বা আমার প্রকাশনার নামটি উচ্চারণ করার প্রয়োজন মনে করলেন না, সেকী আমি নারী বলে? আপনারা আমাকে একজন প্রকাশক হিসেবে উপযুক্ত সম্মান দিলেন না তাই আজ থেকে এই বইমেলা বর্জন করলাম আমি।”

এরপর আমি নীচে এসে এই বইমেলার মূল আয়োজক মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিত সাহাকে বলি, “দাদা, আপনি যদি আমাকে প্রকাশকই মনে না করেন তাহলে আর কখনও আমায় ডাকবেন না বইমেলায় অংশ নিতে।” তারপর আমি চলে যাই আমার স্টল গোটাতে।

 একটু পরে বিশ্বজিত সাহা এসে রাগত ভাবে ধমকের সুরে বার বার বলতে থাকেন- “আপনি কাজটি ঠিক করেন নি এভাবে ওখানে (উপরে) কথা বলে।” আমি বলি- “আপনারা আমাকে ডেকে নিয়ে একজন নারী হিসেবে বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন আর আমি তার প্রতিবাদ করায় এখন বলছেন আমি অন্যায় করেছি !” আমার একথার জবাবে বিশ্বজিত সাহা অসৌজন্যমূলক ভাবে বলেন “আপনি নারী নিয়ে ব্যবসা করবেন না।”

বিশ্বজিত সাহা সবসময় প্রচার করে বেড়ান যে প্রবাসে তিনি দেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার কাজ করছেন। আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে, যে মানুষ বা যে সংগঠনটি একজন নারীকে সঠিক সম্মান দিতে জানে না সে কিভাবে দেশের সংস্কৃতি প্রবাসে তুলে ধরার প্রতিনিধিত্ব করেন!

তার আরো কিছু বৈষম্যমূলক আচরণের কথা আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই:

বাংলাদেশ থেকে যে সকল প্রকাশক এবার বইমেলায় অংশ নিতে এসেছেন তাদের জন্য স্টল ফ্রি হলেও আমার কাছে ৫০০ ডলার স্টল ভাড়া চাওয়া হয়, বলা হয় আমি যেহেতু নিউ ইয়র্কে থাকি তাই আমাকে এই ভাড়া দিতে হবে। অথচ আমার প্রকাশনাটি বাংলাদেশে অবস্থিত, সেখানে আমার নিজস্ব একটি দোকান আছে এবং একজন কর্মচারীও আছে।

এই বইমেলা উপলক্ষ্যে ৬০ কেজি বই আনতে বিশ্বজিত সাহাকে দিতে হয়েছে ২১৫ ডলার। অনেক বাদ-প্রতিবাদের পর ১০০ ডলার ডোনেশন দেয়ার বিনিময়ে আমাকে স্টল দেয়া হয়। এদেশে নির্ধারিত ছুটি ছাড়া ছুটি নিলে বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়, তারপরও বইমেলায় অংশ নেওয়ার জন্য আমাদের কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়েছিলাম।

কিন্তু আমার বইয়ের স্টলটি দেয়া হয়েছিল একেবারে শেষপ্রান্তে শাড়ি-কাপড়ের দোকান ঘেষে। মেলা কমিটির এসকল আচরণ আমাকে বিব্রত ও মর্মাহত করেছে। আমার প্রতি করা তাদের সকল অন্যায়ের প্রতিবাদ স্বরূপ ততক্ষনাৎ আমি এই মেলা বর্জন করে মেলাস্থল থেকে আমার প্রকাশনার স্টলটি গুটিয়ে নিয়ে চলে আসি।

লেখক

পুস্তক প্রকাশক ও পত্রিকা-সম্পাদক

ট্যাগ: bdnewshour24 নারী প্রকাশক

নারীমেলা
শোকে-শ্রদ্ধায় বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করল পুনাক

banglanewspaper

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

'শোক থেকে শক্তি, শোক থেকে জাগরণ' শ্লোগানে আজ (রবিবার) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে পুনাক কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে জাতির জন্য এক কলঙ্কজনক অধ্যায় এবং পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে পৈশাচিক ও নারকীয় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়নি, বরং যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি নবীন রাষ্ট্রের এক অসাধারণ পথচলাকেও থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুনাক সভানেত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন সপরিবারে খুন হন তখন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে অন্য অনেকেই উপস্থিত থাকলেও বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন পুলিশের এক অকুতোভয় সদস্য এএসআই সিদ্দিকুর রহমান। তিনি সেদিন নিজের জীবনের পরোয়া না করে বঙ্গবন্ধুকে বাঁচাতে ঘাতকদের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছিলেন।

জীশান মীর্জা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে যেমন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধ গড়ে তুলেছিল রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বীর পুলিশ সদস্যরা। বাংলাদেশেকে স্বাধীন করতে পুলিশ সদস্যরাই সর্বপ্রথম বুক পেতে দিয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বুলেটের সামনে। তিনি বলেন, পুলিশ হচ্ছে সেই সংগঠন যার সদস্যরা কখনো এ দেশের সাথে, এ দেশের ইতিহাসের সাথে বেঈমানি করেনি।

এএসআই সিদ্দিকুর রহমানের এ অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে তাঁকে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদক বিপিএম সাহসিকতা (মরোণোত্তর) প্রদান করেন। এ মহতি উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান পুনাক সভানেত্রী।

অনুষ্ঠানে পুনাকের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

এর আগে দোয়া মাহফিল শেষে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ভবনে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যসহ সব শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ট্যাগ:

নারীমেলা
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান মহিলা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর

banglanewspaper

করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী নারীরা চাকরি হারিয়েছে, আয় কমে গেছে এবং একইসঙ্গে বৈষম্য, শোষণ ও সহিংসতার শিকার হচ্ছে। করোনা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, কর্মজীবী নারী, নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সহায়তা এবং নারীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থা, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা ।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট লন্ডনের আয়োজনে ‘ভার্চুয়াল মিটিং অব কমনওয়েলথ মিনিস্টারস ফর উইমেনস অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফ কোভিড-১৯’ বিষয়ে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের উইমেনস অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে এসব কথা বলেন তিনি

ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের ডাক্তার,নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের ৮০ ভাগ নারী, যারা অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্য দিয়ে করোনাকালে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বিদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রবাসী দেশে ফিরে এসেছে যার ফলে তাদের পরিবারের নারী ও শিশু খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়াও আম্পান ও বন্যায় প্রায় ৬ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে।

ভার্চুয়াল সভায় কমনওয়েলথ সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড বলেন কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নারীদের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ ও জেন্ডার ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে যেতে হবে।

ট্যাগ:

নারীমেলা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশু ও নারী উন্নয়ন বিষয়ক বৈঠক

banglanewspaper

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে “শিশু ও নারী উন্নয়নে সচেতনতামূলক যোগাযোগ কার্যক্রম (৫ম পর্যায়)” শীর্ষক বিষয়ে কসবা উপজেলা চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকাল ৩.০০ ঘটিকায় উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উঠান বৈঠকে জেলা তথ্য অফিসার(ভারপ্রাপ্ত)  দীপক চন্দ্র দাস এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এডভোকেট মো: আনিসুল হক ভূঁঞা, সাবেক চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ,কসবা।বিশেষ অতিথি মোছা: রাহেলা বেগম,প্রধান শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মো: আলমগীর, প্রধান শিক্ষক, লতুয়ামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাছলিমা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিয়া সুলতানা ডলি, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম আখন্দ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাসুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা আজাদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা সুলতান, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি এডভোকেট মো: আনিসুল হক ভূঁঞা, সাবেক চেয়ারম্যান,উপজেলা পরিষদ,কসবা বলেন যোগ্য স্বামীর আশায় না থেকে নিজেকে যোগ্য করে তোলোন কেননা যোগ্যতাই আপনাকে মুক্তি দেবে তাছাড়া সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়তে হলে সমাজ থেকে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করতে হবে এবং যৌতুক এবং বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ,অটিজম ও শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ,মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং নিরাপদ মাতৃত্ব, স্যানিটেশন, পরিবেশ ও জন্ম নিবন্ধন, মাদক ও জঙ্গীবাদ প্রতিরোধ,নারীর ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা র্কাযক্রমসমূহ,শিশুর পানিতে ডুবা প্রতিরোধ,পরিবেশ সুরক্ষা ও র্দুযোগকালীণ নারী ও শিশুর সচেতনতা বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

শিশু ও নারী নির্যাতন, বাল্য বিবাহ ও যৌতুক প্রথা উচ্ছেদে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে সচেতনতার প্রতি গুরুত্বারোপ করে বিশেষ অতিথি মোছা: রাহেলা বেগম,প্রধান শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,মো: আলমগীর, প্রধান শিক্ষক, লতুয়ামুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তাছলিমা আক্তার,সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজিয়া সুলতানা ডলি, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আমিনুল ইসলাম আখন্দ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাসুম আহমেদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা আজাদ, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইয়াছমিন আক্তার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সামসুন নাহার, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তানজিনা সুলতান, সহকারী শিক্ষক, চন্ডিদ্বার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বক্তব্য প্রদান করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে ৫০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন । পরিশেষে জেলা তথ্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) দীপক চন্দ্র দাস উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের যারযার অবস্থান থেকে সমাজের তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন কুসংস্কার দূরীকরণে জনসচেতনা সৃষ্টির আহ্বান জানিয়ে উঠান বৈঠক সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

ট্যাগ:

নারীমেলা
"প্রযুক্তি-ই হোক নারী মুক্তির দিশা" প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন

banglanewspaper

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহায়তায় এবং আব্দুল জলিল ফাউন্ডেশন নওগাঁর
উদ্যোগে প্রযুক্তি-ই হোক নারী মুক্তির দিশা প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন হয়েছে।

বুধবার সকালে শহরের ঠিকানা কমিউনিটি সেন্টারে আব্দুল জলিল ফাউন্ডেশনের সভাপতি তাজুল ইসলাম তোতার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব বারিষ্টার নিজাম উদ্দীন জলিল জন, এম,পি,নওগাঁ-৫। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজান হোসেন এবং উপ পরিচালক জেলা সমাজ সেবা কার্যালয় নূর মোহম্মদ। এসময় শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হাবীব রাজন বলেন, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ।

এদেশের উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ আমাদের দেশের জনগোষ্ঠীর প্রায় অর্ধেকই নারী। তাই নারী সমাজকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের উন্নয়নের পথে হাঁটতে হবে। নারীরা উন্নত দেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের শামিল করতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তির যথোপযুক্ত ব্যবহার নারীকে তার অধিকার রক্ষায় যেমন এগিয়ে নিতে পারে, তেমনি তার ক্ষমতায়নেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আইসিটির ক্রমবর্ধমান বিকাশের পাশাপাশি একজন নারী শিক্ষিত হলে এবং তাকে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে উন্নয়ন সম্ভব।

প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে নারীর ক্ষমতায়ন, নতুন প্রযুক্তি ভিত্তিক দক্ষতা ও আইসিটি পেশায় প্রবেশ করার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে ‘নারীদের উন্নয়ন এবং অর্থনীতির উন্নতি’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। আমরা নওগাঁতে আব্দুল জলিল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রযুক্তি-ই হোক নারী মুক্তির দিশা প্রকল্পের আওতায় ১৫০ জন নারীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বালম্বী করা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।
 

ট্যাগ:

নারীমেলা
যোগ্যতা অর্জন করলে নারী পুরুষের প্রাপ্যতার ক্ষেত্র একই: মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী

banglanewspaper

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেছেন, ‘এখন নারীরা দুর্বল আমি মানি না। প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, নারীরা বিচারপতি, ডিসি, এসপি, ওসি-সবই হচ্ছেন। যোগ্যতা অর্জন করলে নারী পুরুষের প্রাপ্যতার ক্ষেত্র একই। সরকার ৩৫টি ক্যাটাগরিতে ৩৯ হাজার নারীকে চাকরি দিয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে মুজিব বর্ষে এক লাখ নতুন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

শনিবার দুপুরে রাজশাহীর পবা উপজেলা হলরুমে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মীসভায় প্রধান অতিতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী বান্ধব সরকার। সরকার সামাজিক নিরাপত্তার যে কাজগুলো করেছে তার মধ্যে বৈপ্লবিক অবস্থান তৈরি করেছে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু, বৃদ্ধি ও প্রসারিত করার মধ্য দিয়ে। বিধবা ভাতা, বয়স্কভাতা অর্থাৎ পিছিয়ে পড়া অবহেলিত, উপার্জন নেই এমন ব্যক্তি বিশেষকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার প্রয়াস বর্তমান সরকার নিয়েছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে আরও বেগবান ও বলিষ্ঠ করা। আমরা স্বপ্ন দেখেছিলাম স্বাধীনতা, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যমূলক সমাজ বিনির্মাণে। সে জায়গায় ক্রমান্বয়ে আমরা দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রকৃত অর্থে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে গণমানুষের রাষ্ট্রে আমরাই পরিণত করব।

তিনি বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে সমাজের বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু করেছিল। এখন তারাই জয়িতা হচ্ছেন। স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারই একমাত্র নারীবান্ধব সরকার। শেখ হাসিনার আমলে নারীরা অনেকে ক্ষমতাবান হয়েছে।

সন্তানদের শিক্ষা ও নাগরিক সনদে বাবার পাশাপাশি মায়ের নামও লিপিবদ্ধ হয়েছে। এই সরকারের আমলে নারীরা রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সকল নারী-পুরুষ নিয়ে সর্বত্র শহর করবেন। এটাই আওয়ামী লীগের মূল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।

ট্যাগ: