banglanewspaper

উত্তর: নারীদের চেহারা সতরের অন্তর্ভক্ত কি না এ বিষয়ে ফকীহগণের মধ্যে মতভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। কোরআনুল কারীমে বলা হয়েছে- ‘তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়।’ (সূরা-২৪ নূর, আয়াত: ৩১)।

অর্থাৎ শরীরের যে অঙ্গ আপনা-আপনি প্রকাশ হয়ে পড়ে বা স্বাভাবিক কাজ-কর্ম ও চলা-ফেরা করার সময় শরীরের যে যে অঙ্গ স্বভাবত খুলেই যায় (তা সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়), এগুলো ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো প্রকাশ করায় কোনো গুনাহ নেই। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)।

এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন: এতে বুঝানো হয়েছে শরীরের উপরের কাপড়, যেমন: বোরকা ও লম্বা বড় ওড়নী বা চাদর ইত্যাদি।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এতে বুঝানো হয়েছে মুখমণ্ডল এবং হাতের পাতা ও পায়ের পাতা। কেননা নারী প্রয়োজনবশত: বাইরে যেতে হলে কিংবা চলা-ফেরা বা লেন-দেন করতে হলে মুখমণ্ডল ও হাতের তালু আবৃত রাখা খুবই দুরূহ। এ তাফসীর মতে মুখমণ্ডল ও হাতের পাতা বেগানা পুরুষের সামনে প্রয়োজনে প্রকাশ করা জায়েজ।

উপরোক্ত বিষয়ে ফিকাহবিদগণের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কিন্তু এ প্রশ্নে সাবাই একমত যে, মুখমণ্ডল ও হাতের পাতার প্রতি দৃষ্টিপাত করার কারণে যদি ফিতনা বা অনর্থ সৃৃষ্টি হওয়ার আশাঙ্কা থাকে তাবে এগুলো দেখাও জায়েজ নয় এবং নারীর জন্য এগুলো প্রকাশ করাও জায়েজ নয়।

এ হুকুম বদনিয়ত কাম ভাব নিয়ে দেখা বিষয়ে। (তফিসীর ইবনে কাসীর)। এমনিভাবে এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, সতর আবৃত করা যা সর্বসম্মতভাবে নামাজে ও নামাজের বাইরে ফরজ, তা থেকে মুখমণ্ডল ও হাতের পাতা ব্যতিক্রমভুক্ত। এগুলো খোলা অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ দুরুস্ত হবে। (তাফসীরে মাআরিফুল কোরআন)।

মহিলাদের চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত না হলেও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত। আল্লামা শামী (র.)নামাজের শর্তাবলী অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন ‘যুবতী নারীদের পুরুষের সামনে মুখমণ্ডল খোলা থেকে বিরত রাখা হবে। এই নির্দেশ এই জন্য নয় যে, তাদের মুখমণ্ডল সতরের অন্তর্ভুক্ত। বরং ফেতনায় জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। (শামী ২/৯৭)

মুফতি তাকী ওসমানী (দা. বা.) হদিস ও ফকীহগণের দীর্ঘ মতামত পর্যলোচনা করে বলেন ‘চার মাজহাবের অভিমতগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে সবকয়টি মাজহাবই এই বিষয়ে একমত যে, কামবাসনা পূরাণার্থে কিংবা ফেতনায় জড়িয়ে যাওয়ার শংকাযুক্ত অবস্থায় নারীদের মুখমণ্ডলের ওপর দৃষ্টিপাত করা হারাম।

বিশেষত বর্তমান এই চারিত্রিক অধঃপতনের যুগে এখন সর্বত্র ফেতনা ফাসাদের ছড়ছড়ি। এই জন্য হানাফী মাজহাবের মুতাআখখিরিন ওলামায়ে কেরাম সাধারণভাবে প্রয়োজন ছাড়া কোনো নারীর মুখমণ্ডলের ওপর দৃষ্টিপাত নিষিদ্ধ করেছেন। (তাকমিলায়ে ফাতহুল মূলহীম খণ্ড- ৪/ পৃষ্ঠা ২৬১)।

ট্যাগ: bdnewshour24 ইসলাম

ধর্ম
বরকত কী? মানুষ কেন বরকত কামনা করবে?

banglanewspaper

বরকত বহুল প্রচলিত একটি আরবি শব্দ। ক্ষেত্র বিশেষ এর অনেক অর্থ হয়। কোরআন-সুন্নাহর অনেক জায়গায় এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। বেশিভাগ সময় মানুষ বিভিন্ন কাজে বরকত কামনা করেন। কিন্তু এ বরকত কী? আর মানুষ কেনই বা সব সময় সব কাজে বরকত কামনা করে?

স্থান-কাল-পাত্রভেদে আরবি শব্দ ‘বরকত’-এর অনেক অর্থ হয়ে থাকে। যার প্রতিটি অর্থই কল্যাণের। আল্লামা রাগিব ইস্পাহানি রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, বরকত বলা হয় ঐ জিনিসকে যাতে মহান আল্লাহর কল্যাণ নিহিত থাকে। কোরআনুল কারিমে এ শব্দটির ব্যবহার হয়েছে এভাবে-

১. وَ هٰذَا کِتٰبٌ اَنۡزَلۡنٰهُ مُبٰرَکٌ

‘আর এ কিতাব (কোরআন) কল্যাণময় করে অবতীর্ণ করেছি।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৯২)

২. وَ لَوۡ اَنَّ اَهۡلَ الۡقُرٰۤی اٰمَنُوۡا وَ اتَّقَوۡا لَفَتَحۡنَا عَلَیۡهِمۡ بَرَکٰتٍ مِّنَ السَّمَآءِ وَ الۡاَرۡضِ

‘আর যদি জনপদের অধিবাসীবৃন্দ বিশ্বাস করত ও সাবধান হত, তাহলে তাদের জন্য আমি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর কল্যাণ-দ্বার উন্মুক্ত করে দিতাম।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ৯৬)

৩. وَ بٰرَکۡنَا عَلَیۡهِ وَ عَلٰۤی اِسۡحٰقَ ؕ وَ مِنۡ ذُرِّیَّتِهِمَا مُحۡسِنٌ وَّ ظَالِمٌ لِّنَفۡسِهٖ مُبِیۡنٌ

‘তাকে এবং ইসহাককে আমি ‘সমৃদ্ধি’ দান করেছিলাম; তাদের উভয়ের বংশধরদের মধ্যে কিছু সৎকর্মপরায়ণ এবং কিছু নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী।’ (সুরা সাফফাত : আয়াত ১১৩)

৪. وَّ جَعَلَنِیۡ مُبٰرَکًا اَیۡنَ مَا کُنۡتُ ۪ وَ اَوۡصٰنِیۡ بِالصَّلٰوۃِ وَ الزَّکٰوۃِ مَا دُمۡتُ حَیًّا

যেখানেই আমি থাকি না কেন, তিনি আমাকে বরকতময় করেছেন, তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন আজীবন নামায ও যাকাত আদায় করতে।’ (সুরা মারইয়াম : আয়াত ৩১)

কোরআন-সুন্নাহয় বরকত শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যার প্রতিটিই কল্যাণের, প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির। বরকতের আরও যেসব অর্থ হতে পারে; তাহলো-

> বরকত মানে- ‘আল্লাহর দ্বীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখা।’

> বরকত অর্থ- ‘সম্মান ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি’। অর্থাৎ আল্লাহ বান্দার সব বিষয়ে প্রবৃদ্ধি ও সফলতা দান করেন।

> বরকত অর্থ- ‘মানুষের জন্য কল্যাণকর হওয়া’।

> বরকত মানে- কল্যাণের শিক্ষক।

> বরকত মানে- সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ।’ (ফাতহুল কাদির)

ক্ষেত্রভেদে বরকতের অর্থ কেমন হবে; এক নেককার ব্যক্তির কথায় তা সুন্দরভাবে ফুটে ওঠেছে। তাহলো-

এক নেককার বান্দা দোয়া করছেন- ‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার রিজিকে বরকত দান করুন।

তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল, আপনি কেন এভাবে দোয়া করছেন কেন? বরং আপনি বলুন- হে আল্লাহ! আপনি আমাকে রিজিক দান করুন।

নেককার বান্দা তখন বললেন- ‘আল্লাহ তাআলা তার প্রত্যেক সৃষ্টির রিজিকের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু আমি চাই, রিজিকে বরকত। কারণ বরকত হল, আল্লাহ তাআলার একটি গোপন সৈনিক; যার কাছে ইচ্ছা তিনি তা প্রেরণ করেন। এরপর-

১. এই ‘বরকত’ যদি সম্পদে প্রবেশ করে; তাহলে তা সম্পদ বৃদ্ধি করে দেয়।

২. এই ‘বরকত’ যদি সন্তান-সন্ততির মধ্যে প্রবেশ করে; তাহলে তাদেরকে সংশোধন করে দেয়।

৩. এই ‘বরকত’ যদি শরীরে প্রবেশ করে; তাহলে তা শরীরকে শক্তিশালী করে দেয়।

৪. এই ‘বরকত’ যদি সময়ে প্রবেশ করে; তাহলে সময়কে সমৃদ্ধ করে দেয়।

৫. আর এই ‘বরকত’ যদি হৃদয়ে প্রবেশ করে; তাহলে তাতে এনে দেয় সুখ ও শান্তির ছোঁয়া।’

সুতরাং হে আল্লাহ! আপনি আমাদের যা কিছু দিয়েছেন তাতে ‘বরকত’ দান করুন।

যখনই মানুষের কাজে বরকত থাকে না তখন মানুষের সব কাজ দুশ্চিন্তায় অতিবাহিত হয়। এ জন্যই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় নিজের জন্য ও অন্যের জন্য বরকতের দোয়া করতেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, আবদুর রাহমান ইবনু আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহু গায়ে (বা পোশাকে) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলুদ রং-এর চিহ্ন দেখে প্রশ্ন করেন- কি ব্যাপার! তিনি বললেন, আমি এক নারীকে একটি খেজুর আঁটির অনুরূপ পরিমাণ সোনার বিনিময়ে বিয়ে করেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘তোমাকে আল্লাহ তাআলা বারকত দিন। আর ওয়ালিমার আয়োজন কর; তা একটি ছাগল দিয়ে হলেও।’ (তিরমিজি, ইবনে মাজাহ, বুখারি ও মুসলিম)

এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রিয় নাতি হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বরকত লাভের দোয়া শিক্ষা দিয়েছিলেন। হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বিতর নামাজে পঠিত লম্বা দোয়ার অংশ ছিল-

وَبَارِكْ لِيْ فِيْمَا أَعْطَيْتَ

‘ওয়া বারিক লি ফি-মা আ’তাইতা’

অর্থ : (হে আল্লাহ!) তুমি আমাকে যা দান করেছ, তার মধ্যে বরকত দাও! (তিরমিজি)

হজরত হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুরো দোয়াটি হলো-

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ فَإِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! যাদেরকে তুমি হেদায়াত করেছো আমাকেও তাদের সাথে হেদায়াত কর, যাদের প্রতি উদারতা দেখিয়েছ তুমি তাদের সঙ্গে আমার প্রতিও উদারতা দেখাও। তুমি যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছ তাদের সঙ্গে আমার অভিভাবকত্বও গ্রহণ কর। তুমি আমাকে যা দান করেছ তার মধ্যে বারকাত দাও। তোমার নির্ধারিত খারাবি হতে আমাকে রক্ষা কর। কেননা তুমিই নির্দেশ দিতে পার, তোমার উপর কারো নির্দেশ চলে না। যাকে তুমি বন্ধু ভেবেছ সে কখনও অপমানিত হয় না। তুমি কল্যাণময়, তুমি সুউচ্চ।’ (তিরমিজি, ইবনে খুজাইমা, আবু দাউদ)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সব কাজে সব সময় বরকত কামনা করা। কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা অনুযায়ী জীবন-যাপনে বরকতের আশা করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সব সময় সব কাজে বরকত কামনা করার তাওফিক দান করুন। বরকতময় জীবন যাপনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ট্যাগ:

ধর্ম
যে ৫ আমল করলে আপনি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবেন

banglanewspaper

পৃথিবীতে যারা ভাল কাজ করবে তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ। তেমনি যারা মন্দ কাজ করবে তাদের জন্য রয়েছে ভয়ঙ্কর স্থান জাহান্নাম। এটা পাপিষ্ঠ ও অবিশ্বাসীদের ঠিকানা। যেখানে গুনাহগারদের শাস্তি দেওয়া হবে। কিছু পাপিষ্ঠ সেখানে শাস্তি পেয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর অবিশ্বাসীরা চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। চিরস্থায়ী শাস্তি ভোগ করবে।

জাহান্নাম এমন একটি বিশাল এলাকা, যেখানে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির জন্য ভিন্ন ভিন্ন এলাকা নির্ধারিত আছে। সেগুলোকে প্রধানত সাত ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলোকে জাহান্নামের নামও বলা হয়ে থাকে। সেগুলো হলো- ১. নার তথা আগুন। ২. জাহান্নাম তথা আগুনের গর্ত। ৩. জাহিম তথা প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন। ৪. সায়ির তথা প্রজ্বলিত শিখা। ৫. সাকার তথা ঝলসানো আগুন। ৬. হুতামাহ তথা পিষ্টকারী। ৭. হাবিয়া তথা অতল গহ্বর।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে জাহান্নামের আগুনের উত্তাপের কিছু বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এক আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এটা তো লেলিহান অগ্নি, যা গায়ের চামড়া খসিয়ে দেবে।’ (সুরা মাআরিজ, আয়াত : ১৫-১৬)

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক হাজার বছর জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়েছে। ফলে তার আগুন রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। অতঃপর পুনরায় এক হাজার বছর উত্তাপ দেওয়ার ফলে এটি সাদা রং গ্রহণ করেছে। তারপর আরও এক হাজার বছর উত্তাপ দেওয়ার ফলে এর আগুন কৃষ্ণবর্ণ হয়ে গেছে। সুতরাং জাহান্নাম এখন সম্পূণরূপে গাঢ় কালো তমসাচ্ছন্ন।’ (তিরমিজি শরিফ)

জাহান্নামের আগুনের উত্তাপ কখনো প্রশমিত হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতঃপর তোমরা (আজাব) আস্বাদন করো, আমি তো তোমাদের শাস্তি কেবল বৃদ্ধিই করব।’ (সুরা নাবা, আয়াত : ৩০)

যে পাঁচ আমল করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি মিলবে

☼ আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহ রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার সম্মান রক্ষা করে, সে আল্লাহর কাছে এ অধিকার পায় যে— তিনি তাকে দোজখ থেকে মুক্ত করে দেন।’ (মুসনাদে আহমদ, সহিহুল জামে, হাদিস : ৬২৪০)

☼ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আল্লাহ রাসুল (সা.) বলেন, ‘আদম সন্তানের মধ্যে প্রত্যেক মানুষকে ৩৬০ গ্রন্থির ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে। (আর প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে প্রদেয় সদকা রয়েছে।) সুতরাং যে ব্যক্তি ‘আল্লাহু আকবার’ বলল, ‘আল হামদুলিল্লাহ’ বলল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলল, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলল, ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলল, মানুষ চলার পথ থেকে পাথর, কাঁটা অথবা হাড় সরাল কিংবা ভালো কাজের আদেশ করল অথবা মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করল (এবং সব মিলে ৩৬০ সংখ্যক পুণ্যকর্ম করল), সে ওই দিন এমন অবস্থায় সন্ধ্যা যাপন করল যে সে নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূর করে নিল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২২০)

☼ আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘সুবহানাল্লাহ’ ৩৩ বার, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ ৩৩ বার, ‘আল্লাহু আকবার’ ৩৩ বার পাঠ করে, এরপর একবার ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ পাঠ করে, ওই ব্যক্তির সব পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও তা সাগরের ফেনার সমতুল্য হয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১২৩৯)

☼ ‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সে জান্নাতবাসী হবে।’ (নাসায়ি, হাদিস : ৫/৩৩৯; সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস : ৯৭২)

☼ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা জাহান্নাম থেকে বাঁচ, যদিও খেজুরের এক টুকরো সদকাহ করে হয়। আর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ভালো কথা বলে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৪১৩)

ট্যাগ:

ধর্ম
যেভাবে চাকরি করলে সওয়াব পাওয়া যায়

banglanewspaper

 

চাকরি জীবিকা উপার্জনের একটি অন্যতম মাধ্যম। জীবিকার জন্য বেশির ভাগ মানুষের প্রথম পছন্দ চাকরি। সেখানে ব্যর্থ হলে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অন্য পেশায় যায়। চাকরি হলো নির্দিষ্ট বেতনের বিনিময়ে অন্যের কাজ করা বা কারো অধীনে ক্রিয়া সম্পাদন করা। মূলত চাকরি নিয়োগকর্তা কর্তৃক আরোপিত লিখিত বা মৌখিক শর্তাবলি পালনের চুক্তি। ইসলামে চুক্তি পালনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী চাকরি করলে চাকরিতে ব্যয়িত সময় ও সেবা প্রদান ইবাদতে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

এক. চাকরির ক্ষেত্র বৈধ হওয়া

চাকরিকে ইবাদতে পরিণত করতে প্রথম যে বিষয়টি প্রয়োজন, তা হলো চাকরির ক্ষেত্র বৈধ হওয়া। চাকরির ক্ষেত্র বৈধ না হলে উপার্জিত অর্থ-সম্পদও বৈধ হবে না। কাজেই চাকরি নির্বাচন করার সময়ই এমন চাকরি পরিহার করতে হবে, যা ইসলামে অনুমোদিত নয়। যেমন—সুদি কারবারের ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বা মাদকদ্রব্য প্রস্তুতকরণ, পরিবহন, পরিবেশনসংক্রান্ত চাকরি ইসলামে অনুমোদিত নয়।

জাবির (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের হিসাবরক্ষক এবং তার সাক্ষীদ্বয়ের প্রতি লানত করেছেন এবং তিনি বলেছেন, তারা সবাই সমান অপরাধী।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪১৭৭)
আরেকটি হাদিসে এসেছে, ইবনে উমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মদ, মদ পানকারী, পরিবেশনকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদনকারী, যে উৎপাদন করায়, পরিবহনকারী, যার জন্য পরিবহন করা হয় সবার প্রতি আল্লাহ লানত করেছেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬৭৬)

দুই. চাকরির কারণে মৌলিক ইবাদতে অসুবিধা না হওয়া

চাকরি আর অর্থের মোহে পড়ে আল্লাহকে ভুলে গেলে হবে না; বরং ইসলামের মৌলিক ইবাদত-বন্দেগি যেমন—নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত যথাসময়ে আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ হতে এবং নামাজ কায়েম ও জাকাত প্র্রদান হতে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেদিনকে যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৭)

তিন. পেশাদারি ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা

চাকরির ক্ষেত্রে সাধ্যমতো পেশাদারি ও বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পবিত্র কোরআন থেকে বোঝা যায়, চাকরিজীবীর মধ্যে দুটি গুণ থাকা একান্ত প্রয়োজন। এক. কাজের শক্তি-সামর্থ্য তথা পেশাদারি। দুই. বিশ্বস্ততা। শুয়াইব (আ.)-এর দুই কন্যা মুসা (আ.)-এর কাজের শক্তি-সামর্থ্য এবং বিশ্বস্ততা প্রত্যক্ষ করেছিল। এরপর মুসা (আ.) সম্পর্কে  পিতাকে বলেছিল, ‘তাদের একজন বলল, হে পিতা! তুমি একে (মুসা) মজুর নিযুক্ত করো, কারণ তোমার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ২৬)

চার. সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা

বেশির ভাগ চাকরিজীবীকে প্রতিদিন অনেকের মুখোমুখি হতে হয়। ছাত্ররা শিক্ষকদের, যাত্রীরা যান পরিচালনাকারীদের এবং অন্য সেবাগ্রহীতারা সেবাপ্রদানকারীদের দ্বারস্থ হয়। চাকরিজীবীদের তাদের কাছে আসা সবার সঙ্গে উত্তম ও শোভনীয় আচরণ একান্ত কাম্য। এটি উত্তম ইবাদতও বটে।

আবু দারদা (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কিয়ামতের দিন কর্মবিচারের পাল্লায় বান্দার সবচেয়ে ভারী ও মূল্যবান আমল হবে সুন্দর আচরণ। আর সুন্দর আচরণের অধিকারী মানুষ শুধু তার সুন্দর আচরণের কারণে নফল নামাজ ও রোজা পালন করার সওয়াব অর্জন করবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৩)   

পাঁচ. দায়িত্ব পালনে অবহেলা না করা

ইচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা ইসলামে বৈধ নয়। কর্তব্যে অবহেলা বিভিন্নভাবে হতে পারে। যেমন—ইচ্ছা করে দায়িত্ব পালন না করা, অযথা কালক্ষেপণ, বিলম্বে কর্মস্থলে উপস্থিতি, নির্ধারিত সময়ের আগে প্রস্থান, সেবা প্রদানে অলসতা ইত্যাদি। কর্তব্যে অবহেলার জন্য প্রত্যেককে আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল; আর তোমরা প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৮৫৩; মুসলিম, হাদিস : ৪৮২৮)

ছয়. ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে দূরে থাকা

সব চাকরিজীবীরই কিছু ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা প্রভাব খাটিয়ে অন্যায়ভাবে স্বার্থ হাসিল করা ক্ষমতার সুস্পষ্ট অপব্যবহার। এভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কারো ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করা বা পদ-পদবি ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে অর্থ উপার্জন করা ইসলামের দৃষ্টিতে বড় অন্যায় ও জুলুম। চাকরিকে ইবাদত হিসেবে পরিগণিত করতে হলে এসব পরিহার করতে হবে।

আবু হুমাইদ আস-সাঈদি (রা.) বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) আসদ গোত্রের ইবনে লাতবিয়া নামক এক ব্যক্তিকে জাকাত উসুলের জন্য কর্মচারী নিযুক্ত করে কোথাও পাঠালেন। তিনি সেখান থেকে ফিরে এসে বললেন, এগুলো আপনাদের অর্থাৎ রাষ্ট্রের আর এগুলো আমাকে উপহার দেওয়া হয়েছে। এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) মিম্বারে দাঁড়ালেন। আল্লাহর প্রশংসা করে বললেন, ‘সে কর্মচারীর কী হলো, যাকে আমি দায়িত্ব দিয়ে পাঠালাম, আর সে বলে, এগুলো আপনাদের এবং এগুলো আমাকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে? সে তার ঘরে বসে থেকে দেখে না কেন, তাকে উপহার দেওয়া হয় কি না?’ (বুখারি, হাদিস : ২৪৫৭; মুসলিম, হাদিস : ৪৮৪৩)
সাত. দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতা পরিহার করা

কর্তব্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন কারো কাছ থেকে চাকরিজীবী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপহার গ্রহণ বৈধ নয়। এর মাধ্যমে কর্তব্য পালনে প্রভাব বিস্তার করা হয়। এভাবে সেবাপ্রার্থীদের ফাইল আটকে রেখে অর্থ দাবি করা বা অর্থ প্রদানের পরিবেশ তৈরি করে অর্থ আদায় করা অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতি, যা ইসলামে নিষেধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ কোরো না।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯)

পরিশেষে বলা যায়, উল্লিখিত বিষয়াবলি চাকরির ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রথমত চাকরিতে কাটানো পুরো সময় ইবাদত হিসেবে পরিগণিত হবে, দ্বিতীয়ত, চাকরিজীবীরা জনসাধারণের দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত হবে। তৃতীয়ত, তাদের প্রতি জনগণের আস্থা-বিশ্বাস সৃষ্টি হবে। চতুর্থত, দেশ দুর্নীতিমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ হবে।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ট্যাগ:

ধর্ম
রাত পোহালে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা

banglanewspaper

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা আগামীকাল সোমবার মহা ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে। ১৫ অক্টোবর শুক্রবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই উৎসব।দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে পূজা মণ্ডপগুলো বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে।

রবিবার সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে দুর্গা দেবীর বোধন অনুষ্ঠিত হয়। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মণ্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ১১ অক্টোবর ষষ্ঠী, ১২ অক্টোবর সপ্তমী, ১৩ অক্টোবর অষ্টমী, ১৪ অক্টোবর নবমী এবং ১৫ অক্টোবর দশমী।

এবার সারাদেশে ৩২ হাজার ১১৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঢাকা মহানগরে পূজা হবে ২৩৮টি। যা গতবারের চেয়ে চারটি বেশি।

দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সারাদেশে ৩১ হাজার ৩৯৮টি ও ২০২০ সালে ৩০ হাজার ২১৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। আর চলতি বছর সারাদেশে ৩২ হাজার ১১৮টি মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা। গত বছরের চেয়ে এবার পূজার সংখ্যা বেড়েছে এক হাজার ৯০৫টি। ঢাকা মহানগরে এ বছর পূজা হবে ২৩৮টি, যা গত বছরের চেয়ে চারটি বেশি। এ বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্গাপূজা উপলক্ষে তিন কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন, যা গতবারের চেয়ে এক কোটি টাকা বেশি।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও বিডিআর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ এবং র‌্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

স্বাস্থ্যবিধি মানার অনুরোধ ধর্ম মন্ত্রণালয়ের

এদিকে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রাজধানীসহ সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোর পুরোহিত বা ঠাকুর এবং পূজামণ্ডপে আগত পূজারিদের জন্য মাস্ক পরিধান অপরিহার্য করা হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা-উদযাপনের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে আগামী ১১ অক্টোবর হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবজনিত কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ পূজামণ্ডপে আরোপিত বিধি-নিষেধ বিশেষ করে মাস্ক পরিধান আবশ্যিকভাবে অনুসরণীয়। এছাড়াও যেসব মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, সেগুলোর প্রবেশ পথে সাবান পানি দিয়ে হাত ধোয়া কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়াজনে সব পূজামন্ডপের প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা করতে হবে।

ট্যাগ:

ধর্ম
ঈদুল আজহা কবে, জানা যাবে আজ

banglanewspaper

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের পূর্ব সাহানে আজ রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে (বাদ মাগরিব) ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল শনিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ ও ১৪৪২ হিজরি সনের পবিত্র জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা টেলিফোন নম্বর : ৯৫৫৯৪৯৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭ এবং ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১ ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্যাগ: